×
News Details
নভেম্বরেও বাড়ল রেমিট্যান্স

মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা উদ্যোগের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলেও রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে। গত নভেম্বর মাসে ব্যাংকের মাধ্যমে ১২১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের মাস অক্টোবরের তুলনায় যা চার দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আর আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বরে) রেমিট্যান্স এসেছে ৫৭৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এসেছিল ৫২১ কোটি ডলার। সে বিবেচনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৬ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এর আগে কমার ধারাবাহিকতার মধ্যে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছিল ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরে তা কমেছিল ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে কমার বিষয়ে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে সহজে হুন্ডি হওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এতে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ এজেন্ট অ্যাকাউন্টের লেনদন স্থগিতের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ে কেন জরিমানা করা হবে না, জানতে চেয়ে গত ২২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে।

source : somokal

ফারমার্স পরিচালকদের ২শ' কোটি টাকা দিতে হবে

ফারমার্স ব্যাংকের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে পরিচালকদের অন্তত ২০০ কোটি টাকার জোগান দিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলধন আকারে অথবা আমানত হিসেবে পরিচালকদের এ পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে দিতে হবে। নগদ টাকার চাহিদা পূরণ এবং আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন ঠেকাতে এর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া সংকট কাটিয়ে উঠতে নতুন পর্ষদকে তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফারমার্স ব্যাংকের নতুন পর্ষদকে নিয়ে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ফজলে কবির। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদসহ পর্ষদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে গত সোমবার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক চিশতী পদত্যাগের পর এ বৈঠক ডাকা হয়। ব্যাংকটির পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদকে চেয়ারম্যান এবং মারুফ আলমকে ভাইস চেয়ারম্যান করে নতুন পর্ষদ গঠিত হয়েছে।

বৈঠক শেষে ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আতাহার উদ্দিন বলেন, সংকট কাটাতে ফারমার্স ব্যাংককে তিন মাস সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি বলেন, নতুন পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বৈঠক ডেকেছিল। আগামীতে তারা ব্যাংকটি কীভাবে চালাবেন সে বিষয়ে আলাপ হয়েছে। কীভাবে ব্যাংক চালাতে চান জানতে চাইলে বলেন, বন্ড ইস্যু করা হয়েছে। সেটা শিগগিরই পাওয়া যাবে। পরিচালকরা নিজেরাও কিছু টাকা দেবেন।

আতাহার উদ্দিন বলেন, তারল্য সংকট মেটাতে ফারমার্স ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে শিগগিরই এ বন্ড ইস্যুর অনুমতি পাওয়া যাবে। নতুন পর্ষদ সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে। পদত্যাগকারীদের অনিয়মের বিরুদ্ধে বর্তমান পর্ষদ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের নিয়ে বর্তমান পর্ষদের কিছু করার নেই। বর্তমান পর্ষদের সদস্যরা আগের পর্ষদে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমাদের দায়িত্বের জায়গায় কোনো ঘাটতি হয়নি। দেখেন আমরা কী করি। আমরা কী করতে পারি ভবিষ্যতে সেটা দেখেন।' 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পরিচালকরা এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। নিজেরাও কিছু অর্থ জমা রেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, নতুন পর্ষদ সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং ঋণ আদায় কার্যক্রম আরও বেগবান করবে। একই সঙ্গে ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, বর্তমান পর্ষদ সঠিকভাবে কার্যক্রম চালালে তারল্য সংকট এবং আর্থিক সূচকের উন্নয়ন করতে পারবে।

জানা গেছে, আমানতকারীর আস্থা ফেরানোর মাধ্যমে ব্যাংকটি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে গতকালের বৈঠক থেকে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে বলা হয়, পর্ষদের বর্তমান সদস্যরা আগের পর্ষদেও ছিলেন। ফলে ব্যাংকটির এ অবস্থায় আনার ক্ষেত্রে তারা একেবারে দায় এড়াতে পারেন না। ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম মেনে সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যাংকটির সংকট আরও ঘনীভূত হবে। ফলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের অন্তত ২০০ কোটি টাকা সরবরাহ করতে হবে। না হলে অন্য ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্নিষ্টরা জানান, নানা অনিয়মের কারণে আস্থার সংকটে থাকা ব্যাংকটি অন্য ব্যাংকের তুলনায় উচ্চ সুদে আমানত চেয়েও পাচ্ছে না। উল্টো কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে গত ৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইইএফ ও গৃহায়ন তহবিল থেকে তিনশ' কোটি টাকার আমানত চাইলে তাতে সাড়া মেলেনি। পরে গত ২১ নভেম্বর রেপোর বিপরীতে তারল্য সহায়তা হিসেবে ব্যাংকটিকে স্বল্পমেয়াদে ৯৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়। 

source : smokal