×
News Details
রাইড শেয়ারিং নীতিমালায় সরকারের সায়

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭-এ সায় দিয়েছে সরকার। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উবার, পাঠাওয়ের মতো স্মার্টফোন অ্যাপনির্ভর ট্যাক্সিসেবার ক্ষেত্রে বিআরটিএ থেকে সেবাদানকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মোটরযানের তালিকাভুক্তির সনদ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে এ নীতিমালা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে অনুমোদনবিহীন কোনো মোটরযান রাইড-শেয়ারিং করতে পারবে না। এটি করা হলে সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রচলিত আইনে মামলা করা যাবে।

শফিউল আলম বলেন, দেশে রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উবার বা বিভিন্ন এজেন্সি কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেটাকে আইনি কাঠামোয় আনতে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আট অনুচ্ছেদের এ নীতিমালার আওতায় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে সরকারের তালিকাভুক্ত হবে এবং ১১টি শর্ত মেনে তালিকাভুক্ত করা হবে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন তিনি।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য বিআরটিএ থেকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট এবং মোটরযান মালিককে রাইড শেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নিতে হবে; রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের টিআইএন থাকতে হবে, পাবলিক বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হলে পাবলিক বা প্রাইভেট কোম্পানির সব ধরনের শর্ত মেনে চলতে হবে; যাত্রী চাহিদা, সড়কের নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি, রাইড শেয়ারিং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, সেবাদাতা মোটরযানের সংখ্যার ভিত্তিতে রাইড শেয়ারিং সেবা এলাকা নির্ধারণ করবে বিআরটিএ, রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস এলাকায় অফিস থাকতে হবে; রাইড শেয়ারিং সেবায় যুক্ত হতে বিআরটিএ নির্ধারিত সংখ্যা অনুযায়ী মোটরযান নিয়োজিত করতে হবে, ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত এলাকার জন্য কমপক্ষে ১০০টি, চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য কমপক্ষে ৫০টি এবং দেশের অন্যান্য শহর ও মহানগর এলাকার জন্য কমপক্ষে ২০টি বাহন থাকতে হবে একটি কোম্পানির, ব্যক্তিগত মোটরযান যেমন— মোটরসাইকেল, মোটরকার, জিপ, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় তালিকাভুক্ত হতে পারে; রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে ব্যবহূত মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন— রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স ও তালিকাভুক্তির সনদ হালনাগাদ থাকতে হবে; রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্তির সনদ পাওয়ার পর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযানের মালিক ও চালকের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি করতে হবে, যেখানে সব পক্ষের অধিকার এবং দায়দায়িত্বের বিষয়ে উল্লেখ থাকবে, মোটরযান মালিক বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এক মাস আগে লিখিত নোটিস দিয়ে চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারবে; নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও অনুমোদিত পার্কিং স্থান ছাড়া কোনো রাইড শেয়ারিং মোটরযান যাত্রী তোলার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করতে পারবে না।

এ নীতিমালার অধীনে একজন মোটরযান মালিক একটি মোটরযান রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় পরিচালনার অনুমতি পাবেন। ব্যক্তিগত মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর এক বছর পার না হলে রাইড শেয়ারিং সেবায় নিয়োজিত করা যাবে না।

সনদ পাওয়ার পদ্ধতি: বিআরটিএ থেকে তালিকাভুক্তির সনদ ছাড়া কোনো রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনা করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্তির জন্য বিআরটিএতে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে তালিকাভুক্তির ফি হিসেবে ১ লাখ টাকা, ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন সনদ, ভ্যাট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। এ ফির পরিমাণ সরকার সময় সময় পরিবর্তন করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকায় ব্যক্তিগত যানবাহন দিয়ে যাত্রীসেবা দেয়া শুরু করে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান উবার। তার আগে একইভাবে মোটরসাইকেলে যাত্রীসেবা দেয়া শুরু করে স্যাম। পরে আসে পাঠাও। এসব সেবা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিআরটিএ প্রথমে স্যামকে তাদের কার্যক্রম বন্ধের নোটিস দেয়। পরে উবারকেও একই ধরনের চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশের আইনে তাদের ওই কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এরপর ২৯ নভেম্বর উবার ও স্যামের প্রতিনিধিরা বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন। মোবাইল অ্যাপভিত্তিক যাত্রীসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে খসড়া তৈরি শুরু করে বিআরটিএ। বিআরটিএর এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালককে প্রধান করে একটি কমিটি এ খসড়া নীতিমালা তৈরি করে। গত ২১ জুন এটি বিআরটিএ থেকে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গতকাল তা সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল।

source : bonik barta

টিসিবির ডিলারদের অর্ধেকই মন্ত্রী-সাংসদদের সুপারিশে

সারাদেশে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দুই হাজার ৮৬১ ডিলারের মধ্যে এক হাজার ৩৪৫ জনের নিয়োগ হয়েছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদদের সুপারিশে। এর মধ্যে ৬৯১ জনের কোনো যোগ্যতাই যাচাই-বাছাই করা হয়নি। বাকি ৬৫৪ জনকে সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলেও সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুই হাজার ৮৬১ ডিলারের মধ্যে মাত্র এক হাজার ৪৭১ জনকে ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তথ্য যাচাই করেছেন। বাকিদের নিয়োগ হয়েছে মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশে। এর মধ্যে ৬৯১ জনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্যও যাচাই করা হয়নি। 

বৈঠকে বিভিন্ন পণ্যে ভেজাল, ওজনে কম দেওয়াসহ প্রতারণা মোকাবেলায় ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান চালানোর সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে আরও জানানো হয়, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার বাংলাদেশের বাইরে ১৭টি দেশের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। দেশের বাইরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় নির্দিষ্ট মান বজায় রাখা এবং সংসদীয় কমিটির সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।

কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এনামুল হক, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মো. ছানোয়ার হোসেন ও লায়লা আরজুমান বানু বৈঠকে অংশ নেন।

source : somokal

১০৮ টাকা কেজিতে গরুর মাংস আমদানি

দেশে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি হয়। আমদানিতে এসব মাংসের কেজিপ্রতি দাম দেখানো হয় ১০৮ থেকে ২২৫ টাকা। এই দর বাংলাদেশের বাজারের চেয়ে অনেক কম। ঢাকার বাজারে এখন গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম ৪৮০ টাকার মতো।

হিমায়িত গরুর মাংস আমদানির এ তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) এক প্রতিবেদনে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গরুর মাংস আমদানির বিষয়ে মতামত চেয়ে ট্যারিফ কমিশনের কাছে একটি প্রতিবেদন চেয়েছিল। কমিশন তা তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ট্যারিফ কমিশন গরুর মাংস আমদানির বিষয়ে সাতটি মতামত বা পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশে গরুর খামার বাড়ছে এবং গরুর মাংসের উৎপাদন এখন চাহিদার চেয়েও বেশি হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দাম কমে যাবে। ভারত থেকে হিমায়িত মাংস আমদানি বাড়লে বরং খামারিদের ক্ষতি হতে পারে।

দেশের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ভারত থেকে হিমায়িত মাংস আমদানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছে। গত জুলাই মাসে ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দেয়। ২৮ নভেম্বর এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। এরপর ওই সভায় এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মতামত চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ট্যারিফ কমিশন এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা গরু পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে গরু কেনা, গরু লালন-পালন, গরুর সংকরায়ণ, দুগ্ধজাতীয় খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন ও বিপণন খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি গবাদিপশু পালনে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে গরুর মাংসের দাম কমে যাবে বলে অনুমিত হয়। কমিশন বলছে, হিমায়িত মাংস আমদানি বাড়লে এসব খামারির ক্ষতি হবে। পাশাপাশি ব্যাংকঋণ আদায় কঠিন হবে।

চার বন্ধুর উদ্যোগে দেড় বছর আগে ঢাকার উত্তরখানে একটি খামার গড়ে তোলা হয়েছে। ওই খামারে এখন ৫০টি গরু আছে, বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার মতো। গরুর মাংস আমদানির বিষয়ে জানতে চাইলে ওই খামারের মালিকদের একজন আরিফুর রহমান খান বলেন, দেশে এখন বহু গরুর খামার গড়ে উঠেছে। মাংস আমদানি হলে এসব খামারের মালিকেরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খামারের জন্য গরু কিনতে গিয়ে দেখেছি, গ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন খামারিরা উন্নত জাতের গরু পালন করছেন। দেশে খামারের ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ঘটে গেছে, তা সমীক্ষা ছাড়া বোঝা যাবে না।’

২০ হাজার কেজি মাংস আমদানি!

কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২০ টন বা ২০ হাজার কেজি গরুর মাংস আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে দেশে প্রায় ৫৫ হাজার কেজি গরুর মাংস আমদানি হয়েছিল। তবে তার আগের, অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ১৮ হাজার কেজি গরুর মাংস। এসব মাংস এসেছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে হিমায়িত অবস্থায়।

দেশে গত বছর বেশি মাংস এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কেজি। আর মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৪ হাজার ২০০ কেজি। এ ছাড়া ভারত থেকে এসেছে ৯২০ কেজি। বাকিটা আমদানি হয়েছে অন্যান্য দেশ থেকে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিতে গড় দাম পড়েছে কেজিপ্রতি ২২৫ টাকা। মালয়েশিয়া থেকে আমদানিতে মাংসের দাম গড়ে কেজিপ্রতি ১০৮ টাকা ও ভারত থেকে আমদানিতে ১২০ টাকা পড়েছে।

আমদানি নিষিদ্ধ নয়

বাংলাদেশে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধ নয়। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ অনুযায়ী, দেশে শূকর ছাড়া অন্যান্য পশুর মাংস আমদানি করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে আমদানি করতে হয়। আমদানির ক্ষেত্রে নানা শর্ত আছে। শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো গরু, ছাগল ও মুরগির মাংস এবং মানুষের খাওয়ার উপযোগী অন্যান্য পশুর মাংস আমদানির ক্ষেত্রে মোড়কের গায়ে রপ্তানিকারক দেশের উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুদ্রিত থাকতে হবে। পাশাপাশি পৃথক লেবেল ছাপিয়ে মোড়কের গায়ে লাগানো যাবে না। এ ছাড়া মাংস নানা ধরনের ক্ষতিকর উপাদান, অ্যান্টিবায়োটিক ও রোগমুক্ত বলে সনদ থাকতে হবে। মাংস বন্দরে পরীক্ষা করবে বাংলাদেশি সরকারি সংস্থা।

গরুর মাংস আমদানিতে মোট করভার ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩ শতাংশ।

source : prothom-alo

বাংলাদেশের ক্রয়ে ভারতের রেকর্ড চাল রপ্তানি

বাংলাদেশের ক্রয়ের কারণে গত বছর ভারতের রেকর্ড চাল রপ্তানি হয়েছে। দেশটির ব্যবসায়ীরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ২০১৭ সালে ভারতের চাল রপ্তানি ২২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ১২.৩ মিলিয়ন টন। আশা করা হচ্ছে এ বছরও রপ্তানি বাড়বে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ব্যাপকভাবে চাল আমদানি অব্যাহত রাখায়। এ ছাড়া দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ থাইল্যান্ডের চালের মজুদ কমে গেছে।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের চাল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান শ্রী ললিথার নির্বাহী পরিচালক আদিশঙ্কর বলেন, ২০১৭ সালে পুরো বছরই বাংলাদেশ ভারত থেকে ব্যাপকভাবে চাল কিনেছে। ফলে আফ্রিকা থেকে চাহিদা কিছু কমলেও বাংলাদেশের কারণে আমাদের পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভারতের রপ্তানিকারকরা জানান, বাংলাদেশের ক্রয়ের কারণে ভারতের নন-বাসমতি চাল রপ্তানি গত বছর ৩৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮.৪ মিলিয়ন টন। মোট চাল রপ্তানি হয় ১২.৩ মিলিয়ন টন। এতে ২০১৪ সালের রেকর্ড ১১.৫ মিলিয়ন টন রপ্তানিকে অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ হিসাবে জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের রপ্তানি ধরা হয়েছে, এর পাশাপাশি ডিসেম্বরের রপ্তানি অনুমান করা হয়েছে।

ভারত সাধারণত নন-বাসমতি চাল আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে পাঠায়, আর প্রিমিয়াম বাসমতি চাল রপ্তানি করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে। গত বছর বাংলাদেশ আমদানির ৮০ শতাংশ চালই নিয়েছে ভারত থেকে, যা ২.৪ মিলিয়ন টন।

অল ইন্ডিয়া রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিজয় সেঠিয়া বলেন, এ বছর ভারতের বাসমতি চাল রপ্তানি আগের বছরের মতো কম বেশি ৪ মিলিয়ন টনে থাকবে। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়বে কি না তার পুরোটাই নির্ভর করছে নন-বাসমতি চালের ওপর। আর এ চাল রপ্তানি কেমন হবে তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা থেকে কেমন আমদানি করা হয় তার ওপর।

তিনি বলেন, গত বছর আফ্রিকার দেশগুলো থাইল্যান্ড থেকে ক্রয় বাড়ানোর ফলে দেশটির মজুদ কমে যায়। ফলে ভারতই হয়ে ওঠে রপ্তানির জন্য বড় ভরসা। এ বছরও বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার কাছে থাইল্যান্ডের চেয়ে সুবিধা বেশি পাবে ভারত। 

source : kalar kontho

৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন তাঁরা

জমি কেনা, বাড়ি তৈরি বা বাড়ি সংস্কারের জন্য সরকারি বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কর্মচারীরা ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

ঋণ পাওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে আইসিবিতে স্থায়ী চাকরি থাকতে হবে। অর্থাৎ যোগ দেওয়ার পর অন্তত তিন বছর পার হতে হবে। ঋণের বিপরীতে সুদ দিতে হবে ব্যাংক হারে।

গত ৩১ ডিসেম্বর জারি হওয়া আইসিবি (কর্মচারী) গৃহনির্মাণ অগ্রিম প্রবিধানমালায় এ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এতে সই করেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ছানাউল হক। মূল আইসিবির কর্মচারীদের জন্যই এই প্রবিধানমালা প্রযোজ্য। আইসিবির সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানিগুলোর কর্মচারীরা এই সুবিধা পাবেন না।

আইসিবিতে স্বামী-স্ত্রী চাকরি করলে একই জমির বিপরীতে ঋণ পাবেন একজন। তবে আলাদা জমির বিপরীতে আলাদা ঋণ মঞ্জুর করার সুযোগও রাখা হয়েছে। সংস্থাটিতে চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা কোনো ঋণ পাবেন না।

মেট্রোপলিটন ও সব সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য সরকারি বেতনকাঠামোর ১ থেকে ৫ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীরা ঋণ পাবেন ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত। জেলা শহর বা পৌর এলাকার জন্য ঋণের সীমা ৮০ লাখ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ের জন্য ৭০ লাখ টাকা।

বেতনকাঠামোর ৬ থেকে ৯ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ঋণ পাবেন মেট্রোপলিটনে ৮৫ লাখ টাকা, জেলায় ৭৫ লাখ টাকা ও উপজেলায় ৬৬ লাখ টাকা। এভাবে তিন পর্যায়ে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৭০, ৬২ ও ৫৫ লাখ টাকা; ১১ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৬২, ৫৫ ও ৪৮ লাখ টাকা; ১২ ও ১৩ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৫৫, ৫০ ও ৪৫ লাখ টাকা; ১৪ থেকে ১৭ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৫০, ৪৫ ও ৪০ লাখ টাকা এবং ১৮ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীরা ৪৫, ৪০ ও ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

ঢাকা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় জমি কিনতে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীদের প্রথম কিস্তিতে অগ্রিম ঋণ দেওয়া হবে সীমার ৬০ শতাংশ। আর জেলা পর্যায়ের জন্য ৫০ শতাংশ এবং উপজেলা পর্যায়ের জন্য ৪০ শতাংশ ঋণ দেওয়া হবে। ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের বেতনধারীদের দেওয়া হবে ৬০ শতাংশ। প্রথম কিস্তির পর বাকি ঋণ দেওয়া হবে তিনটি সমান কিস্তিতে।

গ্রুপভিত্তিক ঋণেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং গ্রুপ হতে হবে ২ থেকে ১০ জনের মধ্যে। গ্রুপের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকলেও ঋণ দেওয়া হবে না। ঋণ দেওয়ার এক বছর পর থেকে কিস্তি নেওয়া শুরু হবে। তবে তৈরি ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে শুরু হবে ছয় মাস পর থেকে।

প্রবিধানে বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী চাকরিতে থাকা অবস্থায় মারা গেলে পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে সুদ মওকুফের প্রস্তাব করতে পারবে আইসিবির পরিচালনা পর্ষদ।

বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৬৮ কোটি কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে। আগের বারের মুনাফা ছিল ৩১৩ কোটি টাকা এবং তার আগের বারের মুনাফা ছিল ৪০৬ কোটি টাকা।

source : prothom-alo

পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বাড়ানোর জন্য সরকার ন্যূনতম মজুরি বোর্ড করেছে। বোর্ডকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

রাজধানীর সচিবালয়ে আজ রোববার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক পোশাকশিল্পের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী পোশাক খাতের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় শ্রমিক লীগের নারীবিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করেন।

মন্ত্রণালয় জানায়, চার সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হচ্ছেন সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। অন্য সদস্যরা হলেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের শ্রম উপদেষ্টা কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু। নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ন্যূনতম মজুরি বোর্ডকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশের আলোকে সরকার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত শ্রমসচিব আফরোজা খান, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বরে তৈরি পোশাকশিল্পে নিম্নতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ কার্যকর হয়। এর মধ্যে মূল মজুরি ৩ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা এবং চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাদ্য ভাতা ১ হাজার ১০০ টাকা। ওই বছরের ডিসেম্বরের আগে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ছিল ৩ হাজার টাকা। একেকটি মজুরিকাঠামো পাঁচ বছরের জন্য গঠন করা হয়।

source : prothom-alo

চলতি বছরের অর্থনীতি বাড়তি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

২০১৮ সালের সব কর্মকাণ্ড নির্বাচনমুখী হবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আর এ কারণেই চলতি বছরে অর্থনীতি বাড়তি ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর- প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির গবেষকেরা এসব মন্তব্য করেন।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০১৮ সালের সব কর্মকাণ্ড নির্বাচনমুখী। ২০১৭ সাল ছিল ব্যাংক খাতে কেলেঙ্কারির বছর। এই খাতে সংস্কার হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। চলতি বছর এমন ম্যাজিক্যাল কিছু ঘটবে না, যাতে বড় ধরনের সংস্কার হবে। সংস্কার করার মতো রাজনৈতিক পুঁজিও নেই। গত বছরের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সঙ্গে চলতি বছরের নির্বাচন বাড়তি ঝুঁকি যোগ করবে। এজন্য রক্ষণশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে হবে। ঋণ কমাতে হবে, টাকার মূল্যমান ঠিক রাখতে হবে, মূল্যস্ফীতি বিশেষ করে চালের দাম কমাতে হবে। নির্বাচনী বছরে বহুমুখী চাপ সামলাতে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা প্রয়োজন।

তিনি ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ‘রক্ষণশীল’ নীতি নেওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেন। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, একটা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৭ সাল শুরু হয়েছিল, সেটা ছিল বিনিয়োগ বাড়ানো। কিন্তু বছর শেষে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বাড়েনি।

তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও সেই তুলনায় দারিদ্র্য কমেনি। সেই অনুযায়ী কর্মসংস্থানও হয়নি। আবার এই সময়ে সম্পদের বৈষম্যও বেড়েছে। ফলে ২০১৭ সালে সার্বিকভাবে সামষ্টিক অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে।

ব্যাংক খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যাংকের সামগ্রিক সূচক আরো খারাপ হয়েছে। খেলাপিঋণের পরিমাণ বেড়েছে, শুধু তাই নয়, ঋণের টাকা কয়েক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার জায়গা প্রশাসনিকভাবে বেশ কিছু ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। মূল প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে রপ্তানি আয় সেই হারে বাড়েনি। ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি হচ্ছে। টাকার মান কমেছে। সার্বিকভাবে সুদ হার কমলেও দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এই সুবিধা পাননি। সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ জনগণের করের টাকা থেকে সরকারি ব্যাংকগুলোতে মূলধন যোগান দিচ্ছে। এখন বেসরকারি ব্যাংক থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে।

মূল প্রবন্ধে রোহিঙ্গা সম্পর্কে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এদের ফিরিয়ে নেওয়ার আলোচনা চলছে। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রতিদিন যদি ৩০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলেও সময় লাগবে কমপক্ষে ৭ বছর এবং এতদিনে খরচ হবে কমপক্ষে ৪৪৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর যদি প্রতিদিন ২০০ জন ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সময় লাগবে কমপক্ষে ১২ বছর এবং এতদিনে খরচ হবে কমপক্ষে ১ হাজার ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বক্তব্য রাখেন।

source : Rigingbd

সংকটে গলদার পোনা উৎপাদন

দেশে গলদা চিংড়ির পোনা সরবরাহের জন্য নিয়োজিত হ্যাচারির উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। অনেক হ্যাচারির উৎপাদন দুই থেকে তিন বছর ধরে বন্ধ। সরকারের হ্যাচারির উৎপাদনও একেবারেই কম। ফলে গলদার পোনার চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বিরাট ফারাক তৈরি হয়েছে।

চাহিদা মেটাতে প্রাকৃতিক উৎস ও ভারত থেকে বেআইনিভাবে আসা পোনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন চাষিরা। এসব পোনায় নানা রকম ভেজাল থাকে। সঠিক সময়ে পাওয়াও যায় না। সব মিলিয়ে রপ্তানিমুখী গলদা চাষের গোড়াতেই বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। সমস্যা সমাধান না হলে গলদা চাষ হুমকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

খুলনার মৎস্য কর্মকর্তা ও হ্যাচারির মালিকেরা জানান, দেশে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে গলদার চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ২৫ হাজার পোনা (পিএল বা পোস্ট লার্ভা) ছাড়তে হয়। ফলে বছরে একবার চাষেই কমপক্ষে ১৩০ কোটি পোনা দরকার। বছরে অন্তত দুই দফায় চাষ করলেও পোনার চাহিদা ২৬০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। মানভেদে প্রতিটি পোনার দাম ২ থেকে ৪ টাকা।

সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, ২০১৬ সালে ১৭টি সরকারি হ্যাচারিতে ৫৫ লাখ গলদা পোনা উৎপাদিত হয়েছে। সে বছর বেসরকারি ১৯টি হ্যাচারি ৪ কোটি ১০ লাখ পোনা উৎপাদন করেছে। গত বছরের হিসাব তাদের কাছে নেই। অবশ্য বেসরকারি সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সেফটি প্রকল্পের জরিপ অনুযায়ী, গলদা পোনা উৎপাদনের ৮০টি হ্যাচারির মধ্যে ৩৭টিই খুলনা বিভাগে। ১৭টি চট্টগ্রাম বিভাগে। গত বছর খুলনার ৩টি হ্যাচারি উৎপাদনে গেলেও শেষ পর্যন্ত কেউ সফল হয়নি। তবে বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনার ৬ টি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ২ টি, গোপালগঞ্জের ১টি ও বগুড়ার ১টি হ্যাচারি ২ কোটি ৬৭ লাখ পোনা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।

জানতে চাইলে বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘হ্যাচারিগুলো গলদার পোনা উৎপাদনে কেন ব্যর্থ হচ্ছে সেটি খুঁজতে আমরা তিন বছর ধরে গবেষণা করছি। তবে এখনো সমস্যার মূলে পৌঁছাতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে নিয়েছি এবং সরকারের ওপর মহলে জানিয়েছি।’

সাধারণত শীতের শেষ দিকে হ্যাচারিগুলোতে গলদা পোনা উৎপাদন শুরু হয়। জানুয়ারিতে হ্যাচারিগুলোয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ধুম লেগে যায়। তবে খুলনা-বাগেরহাট সড়কের পাশে দেড় একর জমির ওপর বাগেরহাট গলদা চিংড়ি হ্যাচারি নামের প্রতিষ্ঠানে গত ৬ জানুয়ারি গিয়ে দেখা গেল কোনো প্রস্তুতি নেই। সুনসান নীরবতা। ভেতরের চৌবাচ্চায় ধুলাবালি জমেছে।

হ্যাচারির কর্মকর্তা স্বরূপ দাস বললেন, তিন বছর ধরে পোনা উৎপাদন হচ্ছে না। পোনা উৎপাদনের সব ব্যবস্থা করার পরও দেখা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই সব পোনা মারা যাচ্ছে। গতবার হ্যাচারির ২৮ ট্যাংকের মধ্যে ১৪ টিতে পোনা উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তবে পোনা না হওয়ায় ৬-৭ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১০ থেকে ১২ লাখ পোনা উৎপাদন হয়েছিল। তারপর কেন হচ্ছে না কিছুই বুঝতে পারছি না।’

বাগেরহাটের শ্রীঘাটের ফুলবাড়ী এলাকায় ব্র্যাকের গলদা চিংড়ি হ্যাচারি-২-এ গিয়ে একই চিত্র দেখা গেল। চলতি মৌসুমে তারা গলদার পোনা উৎপাদনে যাবে না। কারণ গত বছর ৩৫ দিন চেষ্টা করে তাদের ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। ২০১৬ সালে ৩৫ লাখ গলদার পোনা উৎপাদন করা হয়েছিল। বর্তমানে লোকসান কমাতে হ্যাচারির পাশের পুকুরে তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। মূল হ্যাচারি অলস পড়ে আছে।

জানতে চাইলে ব্র্যাক ফিশারিজের বাগেরহাটের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কেন গলদার পোনা উৎপাদন হচ্ছে না, সেটি আমরা আবিষ্কার করতে পারিনি। সরকারের বিষয়টি শিগগিরই খুঁজে বের করা দরকার। কারণ নদীর পোনার ওপর ভরসা করা যায় না। কোনো এক বছর পোনা না পাওয়া গেলে চিংড়ি চাষের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।’

খুলনার ডুমুরিয়ায় অবস্থিত খুলনা গলদা চিংড়ি হ্যাচারিতে বর্তমানে তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদন ও মুরগি পালন হচ্ছে। কারণ তিন বছর ধরে গলদার পোনা হচ্ছে না। হ্যাচারির উদ্যোক্তা বিমল মিত্র বলেন, পোনা উৎপাদন না হওয়ায় প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। কারণ প্রক্রিয়াটি শুরু করতে গেলেই মা চিংড়ি কিনতে হয়। অন্য জায়গা থেকে লবণ পানি আনতে হয়। ট্যাংকের পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও অক্সিজেনের জন্য মেশিন চালাতে হয়। খাবারের পেছনেও প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।

বাগেরহাটের ফকিরহাটের হিটলার গোলদার এক যুগের বেশি সময় ধরে গলদা চিংড়ি চাষ করছেন। তিনি বললেন, ‘পোনার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। নদীর পোনাই আমাদের ভরসা। তবে সব বছর সময়মতো পোনা পাওয়া যায় না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বাজারে গলদার দামও পড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে পাততাড়ি গোটাতে হবে।’

জানতে চাইলে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের গলদা বিশেষজ্ঞ সুকুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ২০১১ সাল থেকে হ্যাচারিতে লার্ভা মারা যাওয়া উপসর্গের প্রাদুর্ভাব ঘটে। হ্যাচারিগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হয়। গত দুই-তিন বছরে সেটি মারাত্মক আকার নিয়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা বিদেশি বিশেষজ্ঞ এনে পরীক্ষা করিয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লার্ভা ও মা চিংড়ি পরীক্ষা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ভাইরাসের কারণে লার্ভা মারা যাচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন।

নির্দিষ্ট কিছু রোগজীবাণুমুক্ত (এসপিএফ) বাগদা চিংড়ির পোনার জন্য কক্সবাজারে একটি হ্যাচারি হয়েছে। এতে ভালো ফল মিলছে। খুলনায় আরেকটি নির্মাণাধীন আছে। একইভাবে গলদার জন্য এসপিএফ হ্যাচারির অনুমোদন দিতে পারে সরকার। এ জন্য থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন সুকুমার বিশ্বাস।

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, পোনা উৎপাদনের জন্য রোগমুক্ত মা গলদা প্রয়োজন। তবে হ্যাচারিগুলো নদী থেকে মা গলদা সংগ্রহ করে। আর নদীগুলো দূষণের কারণে মা গলদা রোগাক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এসপিএফ পদ্ধতিতে পোনা উৎপাদনের একটি নীতিমালা আছে। কোনো হ্যাচারি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নীতিমালা মেনে আবেদন করে তাহলে অনুমতি না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। 

sporce : prothom-alo

‘নো নো নো, অল রাবিশ’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাংলাদেশকে টেনে নামানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ রোববার সচিবালয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

সাংবাদিকেরা অর্থমন্ত্রীর কাছে এ মন্তব্যের বিষয়ে বিশদভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নো নো নো, অল রাবিশ।’

গতকাল শনিবার ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০১৭-২০১৮: প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সিপিডি। সেখানে সিপিডি জানায়, ২০১৭ সাল ছিল ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারির বছর। সিপিডির এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কই, অত বড় কেলেঙ্কারি (হলমার্ক) হয়ে গেল, তখন তো তারা কিছু বলেনি।’

সিপিডি বলেছে, ব্যাংক খাতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নজর দারির ঘাটতি আছে—এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আই হ্যাভ নো কমেন্ট। বাংলাদেশ যে এত সব অর্জন করেছে, এই ব্যাপারে কখনোই সিপিডি কোনো রিকগনাইজ করেনি।’

এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবিরের নেতৃত্বে একটি দল আজ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

source : prothom-alo

ফোরজিতে আগ্রহ ৫ অপারেটরের

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাংলাদেশকে টেনে নামানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ রোববার সচিবালয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

সাংবাদিকেরা অর্থমন্ত্রীর কাছে এ মন্তব্যের বিষয়ে বিশদভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নো নো নো, অল রাবিশ।’

গতকাল শনিবার ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০১৭-২০১৮: প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সিপিডি। সেখানে সিপিডি জানায়, ২০১৭ সাল ছিল ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারির বছর। সিপিডির এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কই, অত বড় কেলেঙ্কারি (হলমার্ক) হয়ে গেল, তখন তো তারা কিছু বলেনি।’

সিপিডি বলেছে, ব্যাংক খাতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নজর দারির ঘাটতি আছে—এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আই হ্যাভ নো কমেন্ট। বাংলাদেশ যে এত সব অর্জন করেছে, এই ব্যাপারে কখনোই সিপিডি কোনো রিকগনাইজ করেনি।’

এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবিরের নেতৃত্বে একটি দল আজ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

source : prothom-alo