×
News Details
ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র

সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির তীব্র আপত্তির মুখে আইন সংশোধনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইনের এ সংশোধনের ফলে একই পরিবার থেকে চারজন কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে পরিচালক পদে টানা থাকার মেয়াদ বাড়িয়ে নয় বছর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন। বিলটি পাসের প্রতিবাদে জাতীয় পার্টির সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে একাধিক সংসদ সদস্য বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতকে সমূলে ধ্বংস করতে এ বিল আনা হয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে গঠিত দশম জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউট করল। এর আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো, বিচারপতিদের বেতন-ভাতা এবং বিমানের সাবেক এমডি জামাল উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে তারা ওয়াকআউট করেছিলেন। তবে গতকাল বিলটি পাসের পর তারা আবারও সংসদের বৈঠকে যোগ দেন।

আইন সংশোধনের উদ্যোগের পর থেকেই এ নিয়ে আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের আপত্তি ছিল। আইনের খসড়া প্রণয়নের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এভাবে পারিবারিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে মত দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আর্থিক খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি টিকল না। গত ১২ সেপ্টেম্বর সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত 'ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল, ২০১৭' উত্থাপন করেন। বিল উত্থাপনের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির সাংসদ ফখরুল ইমাম বক্তব্য দেন। এরপর অর্থমন্ত্রী বিলটি উত্থাপনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। পরে ফখরুল ইমামের আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এর আগে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভায় বিলের বিপক্ষে মত দিলেও পরে ইতিবাচক রিপোর্ট দেওয়া হয়।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় সদস্য ও স্বতন্ত্র সদস্যদের একাধিক জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।

গতকাল সংসদের বৈঠকে বিলটির সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, এই বিল পাস হলে ব্যাংকিং খাতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যান যারা হন তারা নিজেদের স্বার্থে নামে-বেনামে ঋণ নেন। এই ঋণ এক পর্যায়ে খেলাপি হয়ে পড়ে। এই খেলাপি ঋণ আর কখনোই পরিশোধ হয় না। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের এই সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব না হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে কখনোই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না। সামনে দেশের জন্য মহা অশনিসংকেত বলে দাবি করে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, কয়েকজন লুটেরার জন্য আইন সংশোধন করা যায় না। 

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বিলটির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ব্যাংককে কেউ নিজের বলে দাবি করতে পারেন না। পরিচালকদের স্বার্থেই এই আইন করা হচ্ছে। এই অর্থমন্ত্রী যখন বলেন- ব্যাংকিং খাতে 'পুকুর নয়, সাগর চুরি হয়েছে', যখন বলেন, 'অল আর রাবিশ'- সেটা তিনি দেশপ্রেম থেকেই বলেন। তাকে বোঝানোর কিছু নেই। যখন এই সংসদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সবাইকে কেনা গেলেও আমাকে কেনা যায় না।' তাই আইনটি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিতে চাই। বিলটি বাতিল করলে জাতি উপকৃত হবে।

বিরোধীদলীয় হুইপ নূরুল ইসলাম ওমর বলেন, পাকিস্তান আমলের মতো ২২ পরিবার সৃষ্টি করতে এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। একই ব্যক্তি এক পদে দীর্ঘদিন থাকলে আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। আমানতকারীদের স্বার্থহানি হয়। বিরোধী দলের সদস্য নূরুল ইসলাম মিলন বলেন, দেশের ব্যাকিং খাত ধ্বংসের মুখোমুখি। বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকের কথা মানুষ জানে। আর্থিক খাত সমূলে ধ্বংস করতে এ বিলটি আনা হয়েছে। মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা রাখতে ভয় পান।

রওশন আরা মান্নান বলেন, সারাদেশের মানুষ আজ ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই সংশোধনী ব্যাংকের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। পরিচালকদের আত্মীয়-স্বজনরাই শুধু ঋণ পাবে। খেলাপির সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। ব্যাংক মালিকদের চাপে এই আইন করা হচ্ছে।

নূরে হাসনা লিলি চৌধুরী বলেন, দেশে আজ ব্যাংকিং খাতের যে পরিস্থিতি তাতে এ নিয়ে আলোচনার মনমানসিকতা আর নেই। আবারও ২২ পরিবার তৈরির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। 

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রস্তাবটি দেড় থেকে দুই বছর ধরে আলাপ-আলোচনার পরে মন্ত্রিসভায় পাস করা হয়। এরপর সংসদীয় কমিটির সুপারিশকৃত আকারে সংসদে এসেছে। তাই এ পর্যায়ে আর যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ নেই। তাই সাংসদদের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। 

এ পর্যায়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও কাজী ফিরোজ রশীদ দাঁড়ালে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, এ পর্যায়ে ফ্লোর দেওয়ার সুযোগ নেই। এর প্রতিবাদে রাত পৌনে ৮টার দিকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। পরে সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনার জন্য স্পিকার আহ্বান জানালেও তারা আর ফিরে আসেননি। জাপা সদস্যদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি পাস হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, কমিটির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ২৯ অক্টোবর কমিটির বৈঠকে বলেছিলেন- এক পরিবার থেকে চারজন একটানা নয় বছর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এ বিষয়গুলো পুনর্বিবেচিত হওয়া দরকার। কমিটির অন্য সদস্যরাও সভাপতির বক্তব্যকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, বিলটি পাস হলে ব্যাংক খাত আরও বেশি পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে। আরেক সদস্য বেগম আখতার জাহানের মত ছিল বিলটি পাস হলে ব্যাংক খাত পরিবারকেন্দ্রিক হবে, মানুষের আস্থা হারাবে এবং এ খাতে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত ২১ নভেম্বর কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই বিলটি পাসের সুপারিশ করে দেয় সংসদীয় কমিটি।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো পরিবারের কেউ পৃথকভাবে ব্যবসা করলে এবং নিজেই করদাতা হলে তাকে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল বলা যায় না। বর্তমান বিধানে একক পরিবার থেকে পরিচালক পদে নিয়োগযোগ্য সদস্য সংখ্যা দু'জনে সীমিত। একক পরিবার থেকে দু'জনের স্থলে চারজনকে সুযোগ দেওয়া হলে এ সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। 

এতে আরও বলা হয়, 'কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী প্রথম পর্ষদের মেয়াদ এক বছর এবং পরে প্রতি বছর এক-তৃতীয়াংশ পরিচালকের পদত্যাগের বিধান রয়েছে। ফলে পরিচালকরা ধারাবাহিকভাবে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। নতুন ব্যাংকগুলোর সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে সব ক্ষেত্রেই যাতে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ নয় বছর পর্যন্ত পরিচালক পদে থাকতে পারে সেজন্য এ সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।' 

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ পাস হওয়ার পর থেকে বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালকদের মেয়াদ-সম্পর্কিত ধারাটি পাঁচবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০১৩ সালে।

আইন করে এভাবে ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ব্যাংক খাত এমনিতেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে এক পরিবার থেকে চারজন এবং টানা ৯ বছর পরিচালক থাকার সুযোগ দিতে আইনের এ সংশোধন অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি ব্যাংক খাতে সুশাসনের পরিপন্থী। এর ফলে ব্যাংকের পর্ষদে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, ব্যাংক এবং অন্য কোম্পানি আলাদা। অন্য কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের টাকায় ব্যবসা পরিচালিত হয়। আর ব্যাংকে যে টাকা থাকে তার বেশিরভাগই আমানতকারীদের। ফলে কোনো ব্যাংকে পুরোপুরি পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে আমানতকারীর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যথাযথ সেবা নিশ্চিত না হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ব্যাংক কোম্পানি আইন এভাবে সংশোধন না করতে তারা পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, আইন যেহেতু পাস হয়েই গেছে সেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কঠোর হতে হবে। একজন পরিচালক বা ব্যবস্থাপক অন্যায় করলে তাকে শুধু বিদায় করলে হবে না, তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আইন সংশোধনের উদ্যোগের পর থেকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশিষ্ট এই ব্যাংকার সমকালকে বলেন, এ সংশোধনীর পক্ষে ছিলেন ব্যাংকের মুষ্টিমেয় কয়েকজন পরিচালক। শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক কিংবা ব্যাংকের কর্মীদের কারও সমর্থন ছিল না। অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে যারা এ বিষয়ে কথা বলেছেন, তাদেরও কোনো সমর্থন ছিল না। দেশব্যাপী প্রতিবাদ সত্ত্বেও এ আইন পাস করার কী প্রয়োজনীয়তা ছিল, তা বোধগম্য নয়। এ আইন পাসের কারণে পরিণতি আরও খারাপ হবে বলে তিনি মনে করেন।

ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) গত বছরের মার্চে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিভিন্ন ধারায় সংশোধনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব জমা দেয়। পরে এই প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত উপেক্ষা করে পরে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা থেকে সংশোধনের প্রস্তাব পাস করা হয়। 

source : somokal

অসাধু চক্র গুজব ছড়াচ্ছে

আসন্ন মুদ্রানীতি ও ব্যাংকঋণ-আমানতের অনুপাত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে একটি অসাধু গোষ্ঠী ফায়দা লুটতে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আর এই তথ্যে প্রভাবিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছে বিনিয়োগকারীরা। এ ছাড়া সরকারি ব্যাংকের জমা রাখা অর্থ ফিরিয়ে দিতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) শেয়ার বিক্রিতেও নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগগিরই বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে। অসাধুচক্রের তথ্যে প্রভাবিত না হয়ে বিনিয়োগ করতে হবে।

ক্রমাগত নিম্নমুখী পুঁজিবাজার নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠক করেছে পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা। মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে বৈঠক করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

চলতি মাসের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রথম তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরবর্তী সময়ে ক্রমাগতভাবে নিম্নমুখী হয় বাজার। গত  রবিবার ডিএসইতে মূল্যসূচকে বড় পতন ঘটে। যদিও গত সোমবার ডিএসইর সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের বৈঠক শেষে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক হোসেন সাদেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবির কাছে আমানতের একটি অংশ জমা রাখে। আর আইসিবি সেই অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলারে বলা হয়েছিল সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার কমাতে হবে। এই বিষয়ে দীর্ঘদিন কোনো আলোচনা নেই; কিন্তু হঠাৎ করেই আইসিবির কাছে থাকা ডিপোজিট ফেরত চাইতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক আইসিবির কাছে টাকা চাইলে, আইসিবি শেয়ার বিক্রি করছে। প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিতে হয়েছে। যার জন্যই বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার তুলে নিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও গভর্নরের কাছেও যাবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, কম সুদে ঋণ দিয়ে ব্যাংকের কাছে এখন তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের কাছে টাকা নেই। যার জন্য বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করছে ব্যাংক। সঞ্চয়পত্রেরও সুদের হার বেশি, ১২ শতাংশ। তবে মানুষ কেন পুঁজিবাজারে আসবে? অনেকে আবারও ব্যাংক আমানত রাখতে ছুটছে। এই ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমাতে হবে আর বেশি সুদে ব্যাংকের আমানত গ্রহণও বন্ধ করতে হবে। আইসিবির কাছে ব্যাংকের ডিপোজিট বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো বর্তমানে মোট ডিপোজিটের ১৫ শতাংশ জমা রাখতে পারে। তবে আমরা চাচ্ছি এই ডিপোজিটের পরিমাণ ৫০ শতাংশ করা হোক। এতে আইসিবির সক্ষমতা আরো বাড়বে।’

মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুদ্রানীতিতে যেন কোনো নেতিবাচক বিষয় না আসে সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ে কারো সঙ্গে কিছুই আলোচনা করে না। আমরা কথা বলা বা আলোচনার চেষ্টা করেছি; কিন্তু করতে পারিনি। ব্যাংকের এক্সপোজার মার্ক টু মার্ক হতে হবে। আমি যে টাকা দিয়ে শেয়ার কিনব সেটাই এক্সপোজার ধরতে হবে। শেয়ার কেনার পর যদি দাম বেড়ে যায় এখানে কিছুই করার থাকে না। যার জন্য যে দামে শেয়ার কিনে সেটাই এক্সপোজার হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিয়ন্ত্রক। কিন্তু কোনো সমন্বয় নেই। আগে প্রতি মাসে রেগুলেটরদের সমন্বয় সভা হতো, এখন হয় না। সমন্বয় সভা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।

 

source : kalar kontho

 

 

চৌধুরী নাফিজ সারাফাত ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন

নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সারাফাত। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক হিসেবে চৌধুরী নাফিজ সারাফাতের নিয়োগ অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জানানো হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে মহীউদ্দীন খান আলমগীর পদত্যাগের পর দেড় মাসের ব্যবধানে নতুন করে এ পরিবর্তন এল।

ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদে নিযুক্তির বিষয়ে চৌধুরী নাফিজ সারাফাত বণিক বার্তাকে বলেন, ফারমার্স ব্যাংককে পুনর্গঠন করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পর্ষদের শূন্য পদে নিয়োগ দিতে বলেছে। সে নির্দেশনার আলোকে ফারমার্স ব্যাংক পর্ষদ আমাকে পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পর্ষদ আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, একটি ব্যাংকের পরিচালকের প্রথম দায়িত্ব হলো আমানতকারীদের সুরক্ষা দেয়া। পরিচালক হিসেবে আমার দায়িত্ব হবে আমানতকারীদের আমানত সুরক্ষা করা ও তাদের আমানত যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেয়া। 

একই সঙ্গে ব্যাংকটিকে পুনর্গঠন করে পুরোপুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে চাই।

নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংক পরিচালনায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না জানিয়ে চৌধুরী নাফিজ সারাফাত বলেন, ব্যাংকটিতে এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিরা পরিচালনায় আসবেন। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া থেকে যেহেতু নতুন পরিচালকরা আসবেন না, সেহেতু এখন থেকে ব্যাংকটি পেশাদারিত্বের সঙ্গে চালানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যমতে, চৌধুরী নাফিজ সারাফাত ও নতুন একজন পরিচালক নিয়োগের জন্য ফারমার্স ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিচালক হিসেবে তাদের নিয়োগ অনুমোদন দেয়নি ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে গত ২৭ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। একই দিন ব্যাংকটির অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক চিশতীও পদত্যাগ করেন। আরেক পরিচালক ড. মোহাম্মদ আতাহার উদ্দিন ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর বৈঠকে ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদকে চেয়ারম্যান ও মারুফ আলমকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। নতুন করে ব্যাংকটির সবক’টি কমিটি পুনর্গঠন করে ঢেলে সাজানো হয়। এরপর ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম শামীমকে দায়িত্বে অবহেলা ও ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অপসারণ করে।

source : prothom-alo

ব্যবসায়ে বোয়িংকে পেছনে ফেলল এয়ারবাস

উড়োজাহাজ ব্যবসায়ে ২০১৭ সালে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের চেয়ে ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাস ভালো ব্যবসা করেছে। ২০১৭ সালে ১ হাজার ১০৯টি উড়োজাহাজ তৈরির ক্রয়াদেশ পেয়েছে এয়ারবাস। একই সময়ে বোয়িং ৯১২টি উড়োজাহাজ তৈরির ক্রয়াদেশ পেয়েছে।

বোয়িংকে পেছনে ফেলার বছরে এয়ারবাসের ব্যবসা আগের ২০১৬ সালের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। এয়ারবাস হলো ইউরোপের একাধিক দেশের মালিকানাধীন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ১৯৭০ সালের ১৮ ডিসেম্বরে এটি কার্যক্রম শুরু করে। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ১৯১৬ সালে উইলিয়াম বোয়িংয়ের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে। বিক্রি ও আয়ের হিসাবে এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হলো বোয়িং।

গত বছরে ক্রয়াদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও উড়োজাহাজ সরবরাহে অবশ্য এগিয়ে ছিল বোয়িং। সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালে ৭৬৩টি উড়োজাহাজ বিশ্বের বিভিন্ন বিমান সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে এয়ারবাস ক্রেতাদের সরবরাহ করেছে ৭১৮টি বিমান।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অনুষ্ঠিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ প্রদর্শনী দুবাই এয়ার শোতে ৭৭৬টি বিমান তৈরি ও সরবরাহের ক্রয়াদেশ পায় এয়ারবাস। এয়ারবাসের এসব বিমান কিনবে ভারতের ইনডিগো, ইউরোপের উইজ এয়ার হোল্ডিংস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইনস হোল্ডিংস।

২০১২ সাল থেকেই উড়োজাহাজ তৈরির ক্রয়াদেশপ্রাপ্তিতে বোয়িংকে পেছনে ফেলছে এয়ারবাস। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা জন লিয়াইয়ের নেতৃত্বে এ সাফল্য অর্জন করছে এয়ারবাস।

২০১৭ সালে সাত শতাধিক উড়োজাহাজ সরবরাহে এয়ারবাসকে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিশেষ করে এ৩২০ সিরিজের অপেক্ষাকৃত ছোট বিমানের ইঞ্জিন তৈরিতে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এরপরও গত বছর এ সিরিজের ৫৫৮টি বিমান ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছে এয়ারবাস। একই সময়ে এ৩৫০ সিরিজের ৭৮টি বিমান সরবরাহ করেছে ইউরোপীয় কোম্পানিটি। আর এয়ারবাসের সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল সিরিজ এ৩৮০ সিরিজের উড়োজাহাজ হস্তান্তর হয়েছে ১৫টি। 

এয়ারবাসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ফ্যাব্রিস ব্রিগার বলেন, চলতি ২০১৮ সালে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ সরবরাহের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে যাবে। এ বছর এ৩২০ নিও সিরিজের উৎপাদন বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হবে। এটা করতে পারলে এ বছরের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। এই সিরিজের বিমানের ইঞ্জিন তৈরিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্র্যাট অ্যান্ড উইথনি গত বছর সমস্যায় পড়ায় সরবরাহ কমে গিয়েছিল বলে স্বীকার করেন ফ্যাব্রিস ব্রিগার।

source : prothom-alo

বিদেশি সাহায্যের পালে হাওয়া

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধ্বে ২৬৫ কোটি ডলার ছাড় করেছে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা; এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৪ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে দাতাদের অর্থ ছাড় বেশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২৬৫ কোটি (২.৬৫ বিলিয়ন) ডলার ছাড় করেছে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৪ শতাংশ বেশি।

সরকারের উন্নয়ন কাজের গতি বাড়ায় বিদেশি ঋণ-সহায়তা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। দেশে উন্নয়নের এক ধরনের জোয়ার তৈরি হয়েছে। আর এতে সন্তুষ্ট হয়ে ডোনাররা এখন বেশি অর্থ ছাড় করছে।”

একইসঙ্গে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতিশ্রুত অর্থের (পাইপলাইনে থাকা অর্থ) পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলেও তথ্য দেন মুহিত।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সবমিলিয়ে ৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছিল দাতারা। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথমার্ধেই অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৪ শতাংশ বেশি। শফিকুল বলেন, “আমরা আশা করছি এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। এবং অর্থবছর শেষে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি ফরেন এইড পাবে বাংলাদেশ।” ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছিল দাতারা।ইআরডির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত দাতাদের প্রতিশ্রুত ঋণ-সহায়তার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২০৭ কোটি (২২.০৭ বিলিয়ন) ডলার।

এরপর গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাইপলাইনে যুক্ত হয় ১ হাজার ৪৩৬ কোটি (১৪.৩৬ বিলিয়ন) ডলার।চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দাতাদের সঙ্গে প্রায় ৫৬৫ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। সব মিলে পাইপলাইনের আকার ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

source : bdnews24

চাল ও পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

চাল ও পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক পর‌্যায়ে এসেছে বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। জাতীয় সংসদে গতকাল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীলকরণে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগ ও দেশে নতুন পেঁয়াজের উৎপাদন শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের মূল্য কমে স্বাভাবিক পর‌্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য সুবিদ আলী ভূইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পেঁয়াজের দাম প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এবার বন্যার কারণে সেখানে উৎপাদন কম হয়েছে। বাংলাদেশেও বন্যার কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। তাই দাম বেড়েছিল। তবে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা থেকে ৫৫-৬০ টাকায় নেমে এসেছে। তিনি বলেন, চালের দাম বেড়েছিল। কারণ উত্তরাঞ্চল ও হাওড়াঞ্চলে বন্যায় ফসলহানি হয়েছিল। মৌসুম এলেও দাম কমেনি, এটা ঠিক নয়। বর্তমানে চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিতে ৩৯ টাকা।

সংরক্ষিত আসনের লুত্ফা তাহেরের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও দাম কমছে। বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল আছে।

সৌদিতে শ্রমিক পাঠাতে সর্বোচ্চ ব্যয় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, সরকার সম্প্রতি ১৬টি দেশের অভিবাসন ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করেছে। এতে সৌদি আরবে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে (বিনাখরচে) নারী কর্মী পাঠানো হয়। পুরুষ কর্মী পাঠাতে সর্বোচ্চ ব্যয় হয় মাত্র ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এছাড়া সিঙ্গাপুরে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬২ হাজার ২৭০ টাকা ব্যয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হয়।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৬৫টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। ২০১৬ সালে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১। ২০১৭ সালে এটি বেড়ে ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বিদেশে ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৯১৪ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

source : bonik barta

রাইড শেয়ারিং নীতিমালায় সরকারের সায়

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭-এ সায় দিয়েছে সরকার। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উবার, পাঠাওয়ের মতো স্মার্টফোন অ্যাপনির্ভর ট্যাক্সিসেবার ক্ষেত্রে বিআরটিএ থেকে সেবাদানকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মোটরযানের তালিকাভুক্তির সনদ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে এ নীতিমালা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে অনুমোদনবিহীন কোনো মোটরযান রাইড-শেয়ারিং করতে পারবে না। এটি করা হলে সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রচলিত আইনে মামলা করা যাবে।

শফিউল আলম বলেন, দেশে রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উবার বা বিভিন্ন এজেন্সি কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেটাকে আইনি কাঠামোয় আনতে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আট অনুচ্ছেদের এ নীতিমালার আওতায় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে সরকারের তালিকাভুক্ত হবে এবং ১১টি শর্ত মেনে তালিকাভুক্ত করা হবে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন তিনি।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য বিআরটিএ থেকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট এবং মোটরযান মালিককে রাইড শেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নিতে হবে; রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের টিআইএন থাকতে হবে, পাবলিক বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হলে পাবলিক বা প্রাইভেট কোম্পানির সব ধরনের শর্ত মেনে চলতে হবে; যাত্রী চাহিদা, সড়কের নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি, রাইড শেয়ারিং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, সেবাদাতা মোটরযানের সংখ্যার ভিত্তিতে রাইড শেয়ারিং সেবা এলাকা নির্ধারণ করবে বিআরটিএ, রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস এলাকায় অফিস থাকতে হবে; রাইড শেয়ারিং সেবায় যুক্ত হতে বিআরটিএ নির্ধারিত সংখ্যা অনুযায়ী মোটরযান নিয়োজিত করতে হবে, ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত এলাকার জন্য কমপক্ষে ১০০টি, চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য কমপক্ষে ৫০টি এবং দেশের অন্যান্য শহর ও মহানগর এলাকার জন্য কমপক্ষে ২০টি বাহন থাকতে হবে একটি কোম্পানির, ব্যক্তিগত মোটরযান যেমন— মোটরসাইকেল, মোটরকার, জিপ, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় তালিকাভুক্ত হতে পারে; রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে ব্যবহূত মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন— রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স ও তালিকাভুক্তির সনদ হালনাগাদ থাকতে হবে; রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্তির সনদ পাওয়ার পর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযানের মালিক ও চালকের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি করতে হবে, যেখানে সব পক্ষের অধিকার এবং দায়দায়িত্বের বিষয়ে উল্লেখ থাকবে, মোটরযান মালিক বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এক মাস আগে লিখিত নোটিস দিয়ে চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারবে; নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও অনুমোদিত পার্কিং স্থান ছাড়া কোনো রাইড শেয়ারিং মোটরযান যাত্রী তোলার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করতে পারবে না।

এ নীতিমালার অধীনে একজন মোটরযান মালিক একটি মোটরযান রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় পরিচালনার অনুমতি পাবেন। ব্যক্তিগত মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর এক বছর পার না হলে রাইড শেয়ারিং সেবায় নিয়োজিত করা যাবে না।

সনদ পাওয়ার পদ্ধতি: বিআরটিএ থেকে তালিকাভুক্তির সনদ ছাড়া কোনো রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনা করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্তির জন্য বিআরটিএতে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে তালিকাভুক্তির ফি হিসেবে ১ লাখ টাকা, ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন সনদ, ভ্যাট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। এ ফির পরিমাণ সরকার সময় সময় পরিবর্তন করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকায় ব্যক্তিগত যানবাহন দিয়ে যাত্রীসেবা দেয়া শুরু করে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান উবার। তার আগে একইভাবে মোটরসাইকেলে যাত্রীসেবা দেয়া শুরু করে স্যাম। পরে আসে পাঠাও। এসব সেবা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিআরটিএ প্রথমে স্যামকে তাদের কার্যক্রম বন্ধের নোটিস দেয়। পরে উবারকেও একই ধরনের চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশের আইনে তাদের ওই কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এরপর ২৯ নভেম্বর উবার ও স্যামের প্রতিনিধিরা বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন। মোবাইল অ্যাপভিত্তিক যাত্রীসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে খসড়া তৈরি শুরু করে বিআরটিএ। বিআরটিএর এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালককে প্রধান করে একটি কমিটি এ খসড়া নীতিমালা তৈরি করে। গত ২১ জুন এটি বিআরটিএ থেকে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গতকাল তা সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল।

source : bonik barta

টিসিবির ডিলারদের অর্ধেকই মন্ত্রী-সাংসদদের সুপারিশে

সারাদেশে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দুই হাজার ৮৬১ ডিলারের মধ্যে এক হাজার ৩৪৫ জনের নিয়োগ হয়েছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদদের সুপারিশে। এর মধ্যে ৬৯১ জনের কোনো যোগ্যতাই যাচাই-বাছাই করা হয়নি। বাকি ৬৫৪ জনকে সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলেও সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুই হাজার ৮৬১ ডিলারের মধ্যে মাত্র এক হাজার ৪৭১ জনকে ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তথ্য যাচাই করেছেন। বাকিদের নিয়োগ হয়েছে মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশে। এর মধ্যে ৬৯১ জনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্যও যাচাই করা হয়নি। 

বৈঠকে বিভিন্ন পণ্যে ভেজাল, ওজনে কম দেওয়াসহ প্রতারণা মোকাবেলায় ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান চালানোর সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে আরও জানানো হয়, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার বাংলাদেশের বাইরে ১৭টি দেশের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। দেশের বাইরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় নির্দিষ্ট মান বজায় রাখা এবং সংসদীয় কমিটির সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।

কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এনামুল হক, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মো. ছানোয়ার হোসেন ও লায়লা আরজুমান বানু বৈঠকে অংশ নেন।

source : somokal

১০৮ টাকা কেজিতে গরুর মাংস আমদানি

দেশে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি হয়। আমদানিতে এসব মাংসের কেজিপ্রতি দাম দেখানো হয় ১০৮ থেকে ২২৫ টাকা। এই দর বাংলাদেশের বাজারের চেয়ে অনেক কম। ঢাকার বাজারে এখন গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম ৪৮০ টাকার মতো।

হিমায়িত গরুর মাংস আমদানির এ তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) এক প্রতিবেদনে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গরুর মাংস আমদানির বিষয়ে মতামত চেয়ে ট্যারিফ কমিশনের কাছে একটি প্রতিবেদন চেয়েছিল। কমিশন তা তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ট্যারিফ কমিশন গরুর মাংস আমদানির বিষয়ে সাতটি মতামত বা পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশে গরুর খামার বাড়ছে এবং গরুর মাংসের উৎপাদন এখন চাহিদার চেয়েও বেশি হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দাম কমে যাবে। ভারত থেকে হিমায়িত মাংস আমদানি বাড়লে বরং খামারিদের ক্ষতি হতে পারে।

দেশের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ভারত থেকে হিমায়িত মাংস আমদানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছে। গত জুলাই মাসে ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দেয়। ২৮ নভেম্বর এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। এরপর ওই সভায় এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মতামত চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ট্যারিফ কমিশন এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা গরু পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে গরু কেনা, গরু লালন-পালন, গরুর সংকরায়ণ, দুগ্ধজাতীয় খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন ও বিপণন খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি গবাদিপশু পালনে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে গরুর মাংসের দাম কমে যাবে বলে অনুমিত হয়। কমিশন বলছে, হিমায়িত মাংস আমদানি বাড়লে এসব খামারির ক্ষতি হবে। পাশাপাশি ব্যাংকঋণ আদায় কঠিন হবে।

চার বন্ধুর উদ্যোগে দেড় বছর আগে ঢাকার উত্তরখানে একটি খামার গড়ে তোলা হয়েছে। ওই খামারে এখন ৫০টি গরু আছে, বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার মতো। গরুর মাংস আমদানির বিষয়ে জানতে চাইলে ওই খামারের মালিকদের একজন আরিফুর রহমান খান বলেন, দেশে এখন বহু গরুর খামার গড়ে উঠেছে। মাংস আমদানি হলে এসব খামারের মালিকেরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খামারের জন্য গরু কিনতে গিয়ে দেখেছি, গ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন খামারিরা উন্নত জাতের গরু পালন করছেন। দেশে খামারের ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ঘটে গেছে, তা সমীক্ষা ছাড়া বোঝা যাবে না।’

২০ হাজার কেজি মাংস আমদানি!

কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২০ টন বা ২০ হাজার কেজি গরুর মাংস আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে দেশে প্রায় ৫৫ হাজার কেজি গরুর মাংস আমদানি হয়েছিল। তবে তার আগের, অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ১৮ হাজার কেজি গরুর মাংস। এসব মাংস এসেছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে হিমায়িত অবস্থায়।

দেশে গত বছর বেশি মাংস এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কেজি। আর মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৪ হাজার ২০০ কেজি। এ ছাড়া ভারত থেকে এসেছে ৯২০ কেজি। বাকিটা আমদানি হয়েছে অন্যান্য দেশ থেকে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিতে গড় দাম পড়েছে কেজিপ্রতি ২২৫ টাকা। মালয়েশিয়া থেকে আমদানিতে মাংসের দাম গড়ে কেজিপ্রতি ১০৮ টাকা ও ভারত থেকে আমদানিতে ১২০ টাকা পড়েছে।

আমদানি নিষিদ্ধ নয়

বাংলাদেশে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধ নয়। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ অনুযায়ী, দেশে শূকর ছাড়া অন্যান্য পশুর মাংস আমদানি করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে আমদানি করতে হয়। আমদানির ক্ষেত্রে নানা শর্ত আছে। শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো গরু, ছাগল ও মুরগির মাংস এবং মানুষের খাওয়ার উপযোগী অন্যান্য পশুর মাংস আমদানির ক্ষেত্রে মোড়কের গায়ে রপ্তানিকারক দেশের উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুদ্রিত থাকতে হবে। পাশাপাশি পৃথক লেবেল ছাপিয়ে মোড়কের গায়ে লাগানো যাবে না। এ ছাড়া মাংস নানা ধরনের ক্ষতিকর উপাদান, অ্যান্টিবায়োটিক ও রোগমুক্ত বলে সনদ থাকতে হবে। মাংস বন্দরে পরীক্ষা করবে বাংলাদেশি সরকারি সংস্থা।

গরুর মাংস আমদানিতে মোট করভার ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩ শতাংশ।

source : prothom-alo

বাংলাদেশের ক্রয়ে ভারতের রেকর্ড চাল রপ্তানি

বাংলাদেশের ক্রয়ের কারণে গত বছর ভারতের রেকর্ড চাল রপ্তানি হয়েছে। দেশটির ব্যবসায়ীরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ২০১৭ সালে ভারতের চাল রপ্তানি ২২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ১২.৩ মিলিয়ন টন। আশা করা হচ্ছে এ বছরও রপ্তানি বাড়বে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ব্যাপকভাবে চাল আমদানি অব্যাহত রাখায়। এ ছাড়া দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ থাইল্যান্ডের চালের মজুদ কমে গেছে।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের চাল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান শ্রী ললিথার নির্বাহী পরিচালক আদিশঙ্কর বলেন, ২০১৭ সালে পুরো বছরই বাংলাদেশ ভারত থেকে ব্যাপকভাবে চাল কিনেছে। ফলে আফ্রিকা থেকে চাহিদা কিছু কমলেও বাংলাদেশের কারণে আমাদের পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভারতের রপ্তানিকারকরা জানান, বাংলাদেশের ক্রয়ের কারণে ভারতের নন-বাসমতি চাল রপ্তানি গত বছর ৩৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮.৪ মিলিয়ন টন। মোট চাল রপ্তানি হয় ১২.৩ মিলিয়ন টন। এতে ২০১৪ সালের রেকর্ড ১১.৫ মিলিয়ন টন রপ্তানিকে অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ হিসাবে জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের রপ্তানি ধরা হয়েছে, এর পাশাপাশি ডিসেম্বরের রপ্তানি অনুমান করা হয়েছে।

ভারত সাধারণত নন-বাসমতি চাল আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে পাঠায়, আর প্রিমিয়াম বাসমতি চাল রপ্তানি করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে। গত বছর বাংলাদেশ আমদানির ৮০ শতাংশ চালই নিয়েছে ভারত থেকে, যা ২.৪ মিলিয়ন টন।

অল ইন্ডিয়া রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিজয় সেঠিয়া বলেন, এ বছর ভারতের বাসমতি চাল রপ্তানি আগের বছরের মতো কম বেশি ৪ মিলিয়ন টনে থাকবে। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়বে কি না তার পুরোটাই নির্ভর করছে নন-বাসমতি চালের ওপর। আর এ চাল রপ্তানি কেমন হবে তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা থেকে কেমন আমদানি করা হয় তার ওপর।

তিনি বলেন, গত বছর আফ্রিকার দেশগুলো থাইল্যান্ড থেকে ক্রয় বাড়ানোর ফলে দেশটির মজুদ কমে যায়। ফলে ভারতই হয়ে ওঠে রপ্তানির জন্য বড় ভরসা। এ বছরও বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার কাছে থাইল্যান্ডের চেয়ে সুবিধা বেশি পাবে ভারত। 

source : kalar kontho