×
News Details
১৫% ভ্যাট নিচ্ছে মোবাইল অপারেটররা দিনে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত ২ কোটি টাকা

বাজেট পাশ হয়েছে গত ৩০ জুন। এরপর ১০ দিন চলে গেছে। অথচ মোবাইল ফোন অপারেটররা ইন্টারনেটের ভ্যাট এখনো কমায়নি। বাজেটে ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এনবিআর থেকে বিশেষ আদেশও (এসআরও) জারি করা হয়েছে। কিন্তু ‘শব্দে’র মারপ্যাচে মোবাইল ফোন অপারেটররা গ্রাহকের পকেট কাটছে। অপারেটরদের কাছ থেকে পাওয়া হিসেবেই দেখা যায়, ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ভ্যাট বাবদ প্রতিদিন অন্তত দুই কোটি টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই অতিরিক্ত টাকা সরকার পাবে না। অপারেটরদের পকেটেই থেকে যাবে। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি একটি চিঠি দিয়েই দায় সেরেছে। তাদের চিঠির জবাব দেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেনি অপারেটররা। টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, ‘এটা না কমানোর জন্য মোবাইল অপারেটররা নানা ধরনের ফন্দিফিকির করছে। এটা তাদের করতে দেওয়া হবে না। এনবিআর এসআরওতে কি লিখেছে সেটার চেয়ে বড় কথা অর্থমন্ত্রী নিজেই লিখে দিয়েছেন ইন্টারনেট সেবার উপর ১০ শতাংশ ভ্যাট কমানো হল।

এরপর আর কোন কথা থাকতে পারে না। আসলে ইন্টারনেটের ভ্যাট থেকে মোবাইল অপারেটররা তাদের খরচপাতির টাকাও রেয়াত সুবিধার নামে কেটে রাখত। এখন আর সেটা পারবে না, এই কারণে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। তারা যদি এটা না করে তাহলে আমরা কঠোর অবস্থানে যাব। আমি অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেটা ঠিক করব। সরকার সাধারণ মানুষকে যে সুবিধা দিয়েছে সেটা নিয়ে তাদের তালবাহানা মেনে নেয়া হবে না।’ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোন ক্ষেত্রে সরকার ভ্যাট বা সরচার্জ বাড়ালে রাতের মধ্যেই সেটা কার্যকর হয়ে যায়। অথচ এগুলো কমানো হলে ‘শব্দের’ মারপ্যাচে বা নানা অযুহাতে এটা কমাতে মোবাইল ফোন অপারেটররা গড়িমসি করে। একইভাবে এবার বাজেটে ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট কমানো হলেও সেটার বাস্তবায়ন ১০ দিনেও হয়নি। অন্যদিকে আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) অপারেটররা বলছে, রেয়াত সুবিধা না থাকায় তাদের পক্ষে ইন্টারনেটের দাম কমানো সম্ভব না। ফলে ‘গ্যাড়াকলে’ পড়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

মোবাইল অপারেটররা বলছে, এনবিআর সিদ্ধান্ত দিলেই তারা বাস্তবায়ন করবেন। এনবিআরের একজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, যেহেতু মোবাইল ফোন অপারেটররা ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে, সেজন্য তারা ‘ইন্টারনেট সেবা সংস্থা’র আওতাভুক্ত। এজন্য তাদের গ্রাহকরাও এ সুবিধা পাবেন। আজকালের মধ্যেই এ বিষয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্টিকরণ জারি করা হবে। সূূত্র জানিয়েছে, মোবাইল অপারেটররা যে সব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইন্টারনেট সেবা ক্রয়ের বিনিময়ে যে ভ্যাট দিচ্ছে, সেটি রেয়াত নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ নামিয়ে আনায় তাদের এ সুবিধা থাকছে না। এনবিআরের ওই কর্মকর্তা বলেন, রেয়াত পাক বা না পাক- গ্রাহক পর্যায়ে এটি কার্যকর করতে হবে। তবে রেয়াতের সঙ্গে যে অর্থ জড়িত, তা খুব বেশি নয়।

ইন্টারনেটে ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে পাস হবার পর ৩০ জুন রাত ১২টার পর থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু গত ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও আগের মতো ১৫ শতাংশ ভ্যাটই কেটে যাচ্ছে অপারেটররা। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটবের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের ভ্যাট বাবদ সরকারকে তারা বছরে অন্তত ১১/১২শ’ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। এই তথ্যকে সঠিক হিসেবে ধরলে প্রতি মাসে অন্তত একশ’ কোটি টাকা তারা ভ্যাট দেন। প্রতিদিন সেটার পরিমান তিন কোটি টাকারও বেশী। ১৫ শতাংশ ভ্যাটে তিন কোটি হলে ১০ শতাংশ ভ্যাটে সেটা হওয়া কথা দুই কোটি টাকা। সেখানে প্রতিদিন অন্তত দুই কোটি টাকারও বেশী তারা গ্রাহকের কাছ থেকে কেটে নিচ্ছে। সরকার ভ্যাট কমানোর ফলে এই টাকা এখন নিতেও পারবে না। সব টাকাই যাবে অপারেটরদের পকেটে। মাঝে পড়ে আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়লেন গ্রাহকরা।

বাজেট পাশের পরদিনই মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটবের (এসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির এনবিআরের একটি চিঠি দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাটের যে প্রজ্ঞাপন তাতে এটি ‘ইন্টারনেট সংস্থার’ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো যেহেতু ইন্টারনেট সংস্থা নয় তাই তারা এর মধ্যে পড়েন না। এ বিষয়ে তিনি এনবিআরের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন। বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ভ্যাটের বিষয়ে তারা কিছু করতে পারছেন না বলেও সাফ জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে মোবাইল ফোন অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারাও একই কথা বলেন। অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র নেতারা বলছেন, ভ্যাট কমালেও এখন রেয়াত সুবিধা না পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে তারা ইন্টারনেটের দাম কমাতে পারবেন না। ভ্যাটের হিসাবে গ্রাহকের কাছ থেকে এখন ৫ শতাংশ নিলেও ইন্টারনেটের সেবা দেয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের খরচ আরও বেড়ে যাবে। এদিকে বাজেট পাশ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি থেকে অপারেটরগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের ভ্যাট কমানোর বিষয়ে অগ্রগতি তাদের জানাতে। অথচ প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও বিটিআরসির সেই চিঠির কোন জবাব অপারেটরগুলো দেয়নি। এমটব এনবিআরকে যে চিঠি দিয়েছে তার একটা অনুলিপি পাঠিয়েই তারা দায়িত্ব শেষ করেছে। বিটিআরসির একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অপারেটরদের এই কার্যকলাপকে ঔদ্ধত্য হিসেবেই দেখছেন। তারপরও বিটিআরসি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গ্রামীণফোনের একজন গ্রাহক জানিয়েছেন, বাজেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট করার পরও তার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাটেই ইন্টারনেট বিক্রি করছে গ্রামীণফোন। গত ১০ দিন ধরেই যে ১৫ শতাংশ করে ভ্যাট নেয়া হচ্ছে এই টাকা সরকারের কোষাগারে কিভাবে যাবে? সরকার তো ভ্যাট ৫ শতাংশ করে দিয়েছে তাহলে অপারেটরগুলো কেনো এখনও ১৫ শতাংশ করে নিচ্ছে। এটি দেখার কি কেউ নেই?

source : Ittfaq

ডলার বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে

সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। আবার কৃত্রিমভাবেও সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে। ফলে ডলার বাজার অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে বেড়েই চলছিল ডলারের দাম। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স তুলনামূলক কম হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ার কারণে ডলারের দাম বাড়ছে। ডলারের দাম বাড়লে রপ্তানিকারকরা লাভবান হন আর ক্ষতিগ্রস্ত হত আমদানিকারকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম আবারও বেড়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে একই থাকার পর প্রতি ডলারে ৫ পয়সা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সায়। গত ২১ মে থেকে ডলার ৮৩ টাকা ৭০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছে যে দামে ডলার বেচাকেনা করে, তা আন্তঃব্যাংক দাম হিসেবে বিবেচিত। টাকা-ডলার বিনিময় হার পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ বা ৩ টাকা ১৬ পয়সা বেড়েছে। আর ২০১৬ সালের জুন শেষে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৭৮ টাকা ৪০ পয়সা। সে হিসাবে দুই বছরে পাঁচ টাকা ৩৫ পয়সা বেড়েছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের বাইরে কার্ব মার্কেটে (খোলা বাজারে) ডলারের দাম আরো বেশি। এদিকে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বাড়লেও আমদানিতে আগের মতোই ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো। তবে এক রকম ঘোষণা দিয়ে আরেক দামে ডলার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে। এর আগে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ার দায়ে বৈদেশিক মুদ্রালেনদেনকারী ২০টি ব্যাংককে সতর্ক করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রপ্তানি ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স একটি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হিসেবে বিবেচিত। আর আমদানির দায় মেটাতে ডলার ব্যয় করতে হয়। তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পুরোটাই ধারণ (ওপেন পজিশন) করেতে পারে না ব্যাংক।

ব্যাংকের মূলধনের ২০ শতাংশের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রাখতে পারে কোন ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত এ সীমা মেনে বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ করতে হয়। যখন কোন ব্যাংকে সীমার অতিরিক্ত ডলার হয়ে যায় তখন অন্য ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তা বিক্রি করে দেয় ওই ব্যাংক। মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে ডলার ক্রয় বিক্রয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ২৩১ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রি করে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভিন্ন চিত্র ছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে মোট ১৯৩ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনেছিল। আর বিক্রি করেছিল মাত্র ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, রপ্তানি, রেমিট্যান্স আয়ের সঙ্গে আমদানি ব্যয়ের একটা অসামঞ্জস্য হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। এর ফলে দাম বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য কাজ করছে। এ বিষয়ে এবিবির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য এবিবির পক্ষ থেকে একটি কমিটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান বলেন, ব্যাংকগুলোর প্রচুর পরিমাণে এলসি (ঋণপত্র) খুলে রেখেছে। সেগুলোর সেটেলমেন্ট করার জন্য প্রচুর ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে অনেকক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এতে বৈদেশিক বানিজ্যে ব্যাংক লাভের বদলে ক্ষতিতে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে দেখা গেছে, সম্প্রতি ইতিবাচক ধারায় ফিরছে রেমিট্যান্স আয়ের প্রবৃদ্ধি।

গেল অর্থবছরে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে খুব কম। প্রায় ১৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে প্রবাসীরা এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। এ সময়ে রপ্তানি আয়েও কাঙ্খিত গতি আসেনি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে আয় করেছে তিন হাজার ৬৬৭ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র পাঁচ দশমিক ৮১ শতাংশ। গত অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল এক দশমিক ৩৫ শতাংশ। যা গত দেড় দশকে এত কম প্রবৃদ্ধি হয়নি। অন্যদিকে গত অর্থবছরের (২০১৭-১৮) দেশের হাওড় অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যার কারণে প্রচুর চাল আমদানি করতে হয়। এজন্য আমদানি বেড়ে যায়। এছাড়াও অন্যান্য পণ্য ও ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিও বেড়েছে।

অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে মোট পণ্য আমদানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি বেড়েছে ৩২ শতাংশ। এমন অবস্থার কারণে মূলত ডলারের চাহিদা বাড়ছে। তবে দেশে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, এখন প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার বা তিন হাজার ২০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। এ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডলারের দাম বৃদ্ধিতে রপ্তানিকারকরা বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন। এতে তারা লাভবান হচ্ছেন। তবে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ, তাদেরকে পণ্য বা যন্ত্রপাতির আমদানিতে বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। https://pipschart.com/

source : Ittafaq

Summit, United power mulling joining Singaporean stock mkt: Nasrul

State minister for power, energy and mineral resources on Tuesday said his ministry is working on drawing the Bangladesh Petroleum Corporation (BPC) into the capital market. Nasrul Hamid disclosed this while speaking as the chief guest at the Bangladesh-Singapore Business Forum. The business forum was jointly organised by the Federation of Bangladesh Chambers of Commerce and Industry (FBCCI) and Singapore Business Federation at a city hotel. At the forum, he called upon the firms of the Southeast Asian nation to invest in the power and energy sector of Bangladesh. Explaining various opportunities in the sector available for global investors, the minister said the country's largest power and energy sector entity has decided to be listed on the share market. "The valuations of our own assets are quite big. The biggest company in Bangladesh is BPC and its turnover has crossed US$ 6.0 billion. We're trying to bring this company into the capital market," he told the forum. Without giving further details, he said two local private sector companies -- Summit and United -- are preparing themselves to be listed on the Singaporean capital market. Describing the nine-year-long "challenging" journey of power and energy sector, he said the country's power generation capacity has risen to over 17,000 megawatts (MW) from 3,000 MW since 2009, thanks to freeing up the industry.

For establishing more plants, the ministry has already acquired 7,000 acres of land at Moheskhali in Cox's Bazar to build the energy hub there, he said. "The Singaporean firms are very much welcome. Service innovation is another area where they (Singaporeans) can help us with their innovating practices," he said. He said many people kept asking for reasons visiting the small country like Singapore but the critics could not imagine the volume of investment Singaporean investors have in their mind for Bangladesh. "We need to side with our eastern friends, which is one of our main objectives," he added. Executive chairman of Bangladesh Investment Development Authority (BIDA) Kazi M Aminul Islam referred to three areas that can help the country achieve economic stability even in the event of global financial downturn.

The areas are firm political will, new generation of energetic business community and continuous improvement of business climate with making large investment in physical infrastructure, he said. "We're doing our best to make it a best investment destination. Singaporean investors should grab it and help the economy grow like Singapore," he added. Citing positive reports of global rating agencies regarding Bangladesh, FBCCI president Md. Shafiul Islam Mohiuddin said the country has many potential sectors like clothing, leather goods, fisheries and agro products. Besides, the nation of 160 million consumers offers a "lucrative" place for investment and Singaporean investors should grab the opportunities to harness both fiscal and non-fiscal benefits, Mr. Islam said.

Chairman of Singapore Business Forum Teo Siong Seng hailed the bilateral relationship between the countries alongside Bangladesh's recent socioeconomic progress. The bilateral trade deficit was US$ 2.11 billion in favour of Singapore as of financial year of 2016-2017. Singapore is also one of the major FDI (foreign direct investment) sources for Bangladesh, he said. FBCCI senior vice-president Sheikh Fazle Fahim moderated the function. President of Bangladesh Business Chamber of Singapore (BDCham) M Shahiduzzaman, head of global banking of Standard Chartered Bank Enamul Huque and vice chairman of Singapore Indian Chamber of Commerce and Industry Prasoon Mukharjee also spoke at the event.

source : Financial Express

আগামী বছর থেকে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে

রাজধানীর অদূরে পূর্বাচল নতুন শহরে আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্রদর্শনী কেন্দ্র হচ্ছে। এর নাম হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র। এ জন্য ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রদর্শনী কেন্দ্রেই ২০১৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান তথ্য জানান। সভায় প্রকল্পটি সংশোধন করে পাস করা হয়। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৭৯৬ কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। মেয়াদও আড়াই বছর বাড়ানো হয়েছে।

একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশোধনের পর এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। এর মানে ২০২০ সালের মধ্যে প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পে চীন সরকার ৬২৫ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেবে। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রকল্প সম্পর্কে এম এ মান্নান বলেন, ‘যদিও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে এর আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালের মধ্যেই প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণ করে দিতে সম্মত হয়েছে চীন। সব অবকাঠামো চীনে নির্মিত হবে, পূর্বাচলে শুধু বসানো হবে। ফলে দ্রুত সময়েই এটা নির্মিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সময়ে প্রদর্শনী কেন্দ্র বা এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। চীন সরকারও আমাদের আশ্বাস দিয়েছে যে ২০১৯ সালের মধ্যেই এটি নির্মিত হবে।’ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ, সেন্টারের পরিসর বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে একনেক সভায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। আজকের একনেক সভায় এ প্রকল্পটিসহ মোট ছয়টি প্রকল্প পাস করা হয়। এতে মোট খরচ হবে ২ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশজ উৎস বা স্থানীয় মুদ্রায় দেওয়া হবে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। আর প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ৫২৫ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো দেবে ২২৫ কোটি টাকা। একনেকে অনুমোদিত ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে চারটি নতুন প্রকল্প।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ২৫২ কোটি টাকার মাইজদী-রাজগঞ্জ-ছয়ানী-বসুরহাট-চন্দ্রগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা; ২১৭ কোটি টাকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য লিংক প্রকল্প; ১৭০ কোটি টাকার বাংলাদেশের ৩৭টি জেলার সার্কিট হাউসের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ; ৬৬০ কোটি টাকার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন; ৩১৭ কোটি টাকার সারা দেশের পুরোনো খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদির মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।

source : prothom-alo

চীনা কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আসে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘আমার দরজায় প্রতিদিন অন্তত ১০টি চীনা কোম্পানি টোকা দেয়। তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আসে।’ সিঙ্গাপুরের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নসরুল হামিদ। বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ প্রস্তাবের উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, সিঙ্গাপুর হতে পারে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত অংশীদার। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, উৎপাদনের পর এবার বিদ্যুৎ সঞ্চালনেও বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে সরকার। এ জন্য আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার কাজ চলছে।

নসরুল হামিদ বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছরে চার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার সমান। ইতিমধ্যে চীন, জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে। তিনি সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীদের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের বৈশ্বিক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এনামুল হক তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও সুবিধা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, সিঙ্গাপুর ইন্ডিয়ান চেম্বারের সহসভাপতি প্রসূন মুখার্জিসহ বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

source : prothom-alo

বাজাজের যন্ত্রাংশ বাজারজাত করবে রানার

বাংলাদেশে এখন থেকে বাজাজ মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ বাজারজাত করবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রানার ট্রেডপার্ক। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি এলপিজি ও ডিজেলচালিত থ্রি হুইলারের আসল যন্ত্রাংশও বাংলাদেশে বাজারজাত করবে প্রতিষ্ঠানটি। রানার অটোমোবাইলসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় রানার ট্রেড পার্ক লিমিটেডের মাধ্যমে সারা দেশে বাজাজের আসল যন্ত্রাংশ পাওয়া যাবে। এরই মধ্যে রানারের ওয়্যারহাউজে এসব যন্ত্রাংশ এসে গেছে। রানার গ্রপ অফ কোম্পানিজের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, ভারতের শীর্ষ অটোমেটিভ ব্র্যান্ড বাজাজের সঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং ব্র্যান্ডের এই সম্পর্ক দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

এ দেশের রাস্তায় ১০ লাখের বেশি মোটরসাইকেল ও থ্রি হুইলার চলাচল করে যেখানে উন্নতমানের বিক্রয়োত্তর সেবায় আসল যন্ত্রাংশের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রানার ট্রেড পার্ক লিমিটেড সেই চাহিদা পূরণে চেষ্টা করবে। রানার ট্রেড পার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকেশ শর্মা বলেন, আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে রানার সারা দেশের প্রত্যেকটি প্রান্তে বাজাজ মোটরসাইকেলের ‘জেনুইন পার্টস’ পৌছে দেবে। এক্ষেত্রে রানার নানা উদ্ভাবনী পদ্ধতি অবলম্বন করবে। ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল ছাড়াও এসব পার্টস গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেও কিনতে পারবেন। এসব পার্টের ডেলিভারি সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টার মধ্যে দেওয়া হবে। বাজাজের তিন চাকার মালমাল পরিবহন যান ও চার চাকার যাত্রী পরিবহন গাড়ি ‘কিউট’ বাজারে আনে রানার অটোমোবাইলস। বাজাজের নতুন এসব যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও ডিজেল।

source : prothom-alo

এডিবির অর্থ ছাড়ের গতি বেশ ভালো

‘বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তার অর্থ ছাড়ের গতি বেশ ভালো’ এমন মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রোববার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিবি ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা ছাড় করেছে। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে সেটা দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছি। ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ২০ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো এডিবি। ইতিমধ্যে ১০ কোটি ডলার দিয়েছে। বাকি অর্থ চলতি অর্থবছর দেবে বলে আশা করছি।’

source : banglanews24

এ মাসেই জাতীয় গ্রিডে আসছে এলএনজি: জ্বালানি উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম জানিয়েছেন, চলতি মাসেই আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আগামী ১৫ জুলাই পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হবে। সেদিন থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। তবে এখনই বাড়বে না গ্যাসের দাম। ধীরে ধীরে দাম বাড়ানো হবে। আমদানি ব্যয় মেটাতে দেওয়া হবে ভর্তুকি। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে 'স্ট্র্যাটেজিক এনার্জি সেক্টর ডায়ালগ, ডেটারমিনিং বাংলাদেশ'স ইনফ্রাস্টাকচার নিডস ফর টুডে অ্যান্ড টুমরো' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত পাইপ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। লাইনটি গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত। আরও একটি পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে। জ্বালানি উপদেষ্টা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে এলএনজিবাহী জাহাজটি মাস খানেক আগে বাংলাদেশে এসে পৌঁছালেও তা থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা যায়নি।

সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। তৌফিক-ই-ইলাহী জানান, এলএনজি আমদানিতে কাতার ও ওমানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এলএনজি আমদানি ব্যয়বহুল। এ খাতে শিল্পোদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত হওয়ায় শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, উৎপাদন বাড়বে। ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। এলএনজি আমদানিতে গ্যাসের দাম বাড়বে কি-না- এ প্রশ্নে তৌফিক-ই-ইলাহী জানান, ধীরে ধীরে দাম বাড়ানো হবে। হঠাৎ করে দাম বাড়লে অনেকেই সহ্য করতে পারবেন না। তাই শুরুতে কম দামে গ্যাস দিতে গিয়ে কিছুটা ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে। এশিয়ান ইনফ্রাস্টাকচার ব্যাংক (এআইআইবি) ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী, বিদ্যুৎ সচিব ডা. আহমেদ কায়কাউস ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন। স্বাগত বক্তৃতা করেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদ-ই সাত্তার।

source : somokal

অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাবে আপত্তি পরিকল্পনা কমিশনের

আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ২৩৯ কিলোমিটারের এ রেললাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তর করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এ ব্যয় প্রস্তাবকে অস্বাভাবিক বলে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। জিটুজি পদ্ধতিতে চীন সরকার এ প্রকল্পে ১০ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। বাকি পাঁচ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়ার কথা। কমিশন বলছে, প্রকল্পে যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক ও বেশি। কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে সমকালকে বলেন, এ প্রকল্প পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিয়েই বাস্তবায়ন সম্ভব। অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে টাকা লুটপাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব কারণেই অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হচ্ছে। ঋণের টাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পনা কমিশন আরও বলছে, আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ লাইন হলে ট্রেন চলাচলের হার (ফ্রিকোয়েন্সি) বাড়বে না। এ রুটে ডাবল লাইন এবং ডুয়েলগেজ নির্মাণ করা হলে এ প্রকল্প থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্যথায় সরকারের এ বিশাল বিনিয়োগে জনগণের তেমন কোনো সুবিধা হবে না। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পে ব্যালাস্ট (পাথর), স্লিপার, রেলসহ অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ ও ব্যয় চলমান সমজাতীয় অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় অনেক বেশি। সব মিলিয়ে প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় সমজাতীয় চারটি প্রকল্পের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি। এত ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সমীচীন হবে না বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও এ প্রকল্পে আপত্তি তুলে এক চিঠিতে বলেছেন, এটা ডাবল লাইন ও ডুয়েলগেজ হওয়া উচিত। শুধু ডুয়েলগেজ করে কোনো লাভ হবে না। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে উন্নত দেশের চেয়েও বেশি।

নিউইয়র্কের একটি রাস্তা নির্মাণের চেয়ে বাংলাদেশে একটি রাস্তা নির্মাণে খরচ বেশি পড়ে বলে মন্তব্য করা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অন্যদিকে আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরে চলমান প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কিলোমিটারপ্রতি ছয় কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা ঢালারপর পর্যন্ত নতুন রেলপথ। এছাড়া মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে মিটারগেজ রেললাইনের সমান্তরাল আরেকটি ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণে ব্যয় মাত্র আট কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের ভৌত কাজের জন্য প্রতিযোগিতা ছাড়া এক ঠিকাদারের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতেও পরিকল্পনা কমিশন আপত্তি জানিয়েছে। কমিশনের মতে, চীনের অন্যান্য দরদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্যও দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ওই প্রকল্পে অনেক বেশি ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়। এ কারণে শেষ পর্যন্ত চীনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে আসাম ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ১৮৯৮ সালে প্রথম করিমগঞ্জ-শাহবাজপুর-কুলাউড়া-আখাউড়া-চট্টগ্রাম সেকশনে রেললাইন স্থাপিত হয়। শাহবাজপুর-কুলাউড়া-আখাউড়া সেকশনটি ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের একটি সাব-রুট। মহীশ্মসান (ভারত) ও শাহবাজপুরের (বাংলাদেশ) মধ্যে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের (এলওসি) আওতায় সেকশনটি পুনর্বাসনেরর জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে। আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামে করিডোরের বাকি অংশ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সমীক্ষা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় অনুদানে আগরতলা ও আখাউড়ার মধ্যে ১০ কিলোমিটার রুটে আরেকটি ডুয়েলগেজ লিংক স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এসব কাজের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে আখাউড়া-সিলেট সেকশনটি ডুয়েলগেজে রূপান্তরের লক্ষ্যে আলোচ্য প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চায়না রেলওয়ে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় ২০১৫ সালে। এর পর প্রকল্পের প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবনা (পিডিপিপি) তৈরি করা হয়, যা ২০১৬ সালে অনুমোদিত হয়। পরে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প বিবেচনা করে প্রকল্পটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটি মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা। মতামত জানতে চাইলে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে জিটুজি পদ্ধতিটাই সমস্যা। এ পদ্ধতি চীনের একক কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। তারাই ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে বিমান ও সড়কের প্রকল্পেও এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। ব্যয় বেশি ধরায় চীনের অর্থায়নে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরে আসতে সরকার বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। একবার এ ফাঁদে পড়লে বাংলাদেশের পক্ষে আর ওঠা সম্ভব হবে না। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানান, চীন সরকারের অর্থায়ন প্রকল্পে সে দেশের সরকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন দিয়ে আসছে। মনোনয়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানই প্রকল্প ব্যয় ও নকশা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে তাদের মতো করে ব্যয় নির্ধারণ করার সুযোগ পায় তারা।

কিন্তু একক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে দরপত্রের মাধ্যমে একাধিক দরদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করার সুযোগ চেয়ে চীন সরকারের কাছে আবেদন করেছে ইআরডি। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সুযোগ রাখা হবে। তবে কেবল নতুন প্রকল্পের জন্য এ নিয়ম কার্যকর করা হবে। যেসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হয়ে গেছে, সেসব প্রকল্পে এ সুযোগ রাখা হবে না। প্রস্তাবিত আখাউড়া-সিলেট প্রকল্পটির জন্য চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয় ২০১৬ সালে। এ অবস্থায় এ প্রকল্পে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে না। গত বৃহস্পতিবার এ প্রকল্পের ডিপিপির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্প ব্যয়সহ অন্যান্য বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে পরিকল্পনা কমিশন। জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান মো. এনায়েত হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে হলে রেলওয়েকে বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণসহ কিছু শর্ত মানতে হবে। পিইসি সভায় এসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কেবল শর্তপূরণ করে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হলেই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলকৃষ্ণ ভট্টাচার্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য মাটির দর প্রাক্কলন করা হয়েছে ঘনমিটারপ্রতি ৪৮৩ টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান ঈশ্বরদী থেকে পাবনার ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে মাটির দর ৩০৫ টাকা। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ বাবদ রাখা হয়েছে এবং মাটির একক দর ধরা হয়েছে ঘনমিটার প্রতি ৮৪৩ টাকা। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পের আওতায় ২০০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ৩৭২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ ও ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি সম্পর্কে প্রকল্প প্রস্তাবনায় কিছু বলা হয়নি। এ ছাড়াও ডিপিপিতে ৯৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা পুনর্বাসন ব্যয় রাখা হয়েছে। কিন্তু জমি ও আনুষঙ্গিক ক্ষতিপূরণ বাবদ মালিককে ৩ গুণ অর্থ পরিশোধ করা হয়। এ অবস্থায় পুনর্বাসনে আলাদা বরাদ্দ রাখার যৌক্তিকতা নেই। প্রকল্পে ১৪ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক এবং ৬২ জন স্থানীয় বিশেষজ্ঞ পরামর্শকের সংস্থান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সিনিয়র পরামর্শকের ক্ষেত্রে ২০ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং স্থানীয়দের জন্য ৪ লাখ টাকা সম্মানী প্রস্তাব করা হয়েছে। পরামর্শকের সংখ্যা এবং ব্যয় নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন আপত্তি জানিয়েছে। পরামর্শক ও ঠিকাদারকে বিলম্বে অর্থ পরিশোধের জন্য ডি-লে পেমেন্ট হিসাবে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ডিপিপিতে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে প্রকল্প শুরুর আগেই ডি-লে পেমেন্টের সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা অযৌক্তিক। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় বৈদেশিক সফরে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

source : somokal

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে ১.৩ শতাংশ

চলতি বছর প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে কমল খাদ্যপণ্যের দাম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানায়, গত জুন মাসে আগের মাসের চেয়ে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে ১.৩ শতাংশ। বিশ্ববাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ থেকেই খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে। যদিও সামনের দিনগুলোতে উৎপাদন কমবে এমন আভাস রয়েছে। জুন মাসে এফএওর খাদ্যপণ্য সূচক ছিল গড়ে ১৭৩.৭ পয়েন্ট। গম, ভুট্টা, ভোজ্য তেল ও সয়াবিন পণ্যের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় সার্বিকভাবে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে। এফএও পূর্বাভাসে জানায়, গত মাসে সব খাদ্যশস্যের দাম ৩.৭ শতাংশ কমেছে। বাণিজ্য উদ্বেগের কারণে ভুট্টা ও গমের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যদিও চালের দাম বেড়েছে। গত মাসে ভোজ্য তেলের দাম ৩ শতাংশ কমে ২৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়েছে। বিশেষ করে পাম তেল, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেইজিংসহ অন্যান্য অংশীদারদের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ঘটনায় কৃষিপণ্যে এর প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে সয়াবিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কৃষিপণ্যের দাম কমেছে। গত মাসে দুগ্ধপণ্যের দাম ০.৯ শতাংশ এবং মাংসের দাম ০.৩ শতাংশ কমেছে বলে জানায় এফএও। এর বিপরীতে চিনির দাম বেড়েছে ১.২ শতাংশ। ব্রাজিলে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় টানা ছয় মাস চিনির দাম কমার পর গত মাসে বাড়ল। এফএও জানায়, চলতি মৌসুমে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে দুই হাজার ৫৮৬ মিলিয়ন টন, যা ২০১৭ সালের রেকর্ড উৎপাদনের চেয়ে ৬৪.৫ মিলিয়ন টন বা ২.৪ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ মৌসুমে বিশ্বে খাদ্যশস্য ভোগ হবে দুই হাজার ৬৪১ মিলিয়ন টন। খাদ্যশস্য উৎপাদনের চেয়ে ভোগ বেশি হওয়ায় মজুদ প্রায় ৭ শতাংশ কমবে এ বছর। যদিও গত পাঁচ বছর টানা বেড়েছিল খাদ্যশস্যের মজুদ। এফএও ওয়েবসাইট।

source : kalar kontho