×
News Details
প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানি লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১৩৯টি আইটেমের পণ্য। এর মধ্যে শুধু প্যান্ট ও টি-শার্ট থেকেই আয় হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা। গত অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানি করেই গত অর্থবছরে ১২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশ থেকে সমাপ্ত অর্থবছরে মোট জাতীয় রপ্তানির ৩৪.৫৮ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রধান পণ্য হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্য ব্যবহার্য প্যান্ট আর টি-শার্ট। কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগে যেমন এগিয়ে তেমনি রপ্তানি খাতকেও সামনে থেকে পথ দেখাচ্ছে এ দুটি পণ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রপ্তানি বন্ধ্যত্ব কাটিয়ে এবার দেশের প্রধান দুই রপ্তানি পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৬১ শতাংশ। এই এক বছরে প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানি বেড়েছে ৭৯৩ মিলিয়ন ডলার বা ছয় হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। কমপ্লাইয়েন্সড কারখানা, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজার চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারগুলো আবার সচল হওয়ার প্রভাব পড়েছে প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানিতে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্যান্ট রপ্তানি করে ছয় দশমিক ৩৮৯ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা (ডলার ৮৪ টাকা হিসেবে)। যা আগের অর্থবছরে রপ্তানি ৬ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। গতবারের মন্দাভাব কাটিয়ে টি-শার্ট রপ্তানিও বেড়েছে ৭.৩৪ শতাংশ।

সমাপ্ত অর্থবছরে টি-শার্ট রপ্তানি হয়েছে ৬ দশমিক ২৯২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৩০ মিলিয়ন ডলার বা তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেশি। দেশের তৃতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে যথারীতি নিজের অবস্থান অটুট রেখেছে জ্যাকেট। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হওয়া ৩ দশমিক ৫৪৬ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে গত অর্থবছরে জ্যাকেট রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৯৭৮ বিলিয়ন ডলার। এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশের বেশি। জাতীয় রপ্তানিতে এর পরেই আছে সোয়েটার। সোয়েটার রপ্তানি করে গত অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১৩ মিলিয়ন ডলার বেশি। তবে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো মন্দাভাব অব্যাহত আছে শার্ট রপ্তানিতে। সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে শার্ট রপ্তানি হয়েছে ২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ৪৪ মিলিয়ন ডলার কম। ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে থাকা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হঠাৎ করেই থমকে দাঁড়ায়। এ সময় এককভাবে দেশের দুই প্রধান রপ্তানিপণ্য প্যান্ট ও টি-শার্টের রপ্তানি ৪.৪১ শতাংশ কমে যায়। তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানিতে ধস নামার প্রভাব পড়েছিল জাতীয় রপ্তানিতে। তবে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের হিসাবে, সেই প্যান্ট ও টি-শার্টের বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

প্যান্ট রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অর্ডার দিয়ে প্যান্ট নিচ্ছে গ্যাপ, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, জারা, এইচঅ্যান্ডএম, সিঅ্যান্ডএ, চার্লস ভোগলে, র‌্যাংলার, আমেরিকান ইগল, মিলার, ডকার্স, ওয়ালমার্ট, টম টেইলর ও ওল্ডনেভির মতো বিশ্বমানের ব্র্যান্ডগুলো। ইপিবিতে নিবন্ধিত দেশের ২৮০টি ফ্যাক্টরি থেকে এই পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানীকৃত প্যান্টের প্রধান বাজার ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র। ২০১২ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ছেলেদের প্যান্টের বাজার বাংলাদেশের দখলে। এর আগে এই বাজারটির দখল ছিল মেক্সিকোর কাছে। ফলে আর্থিক মূল্যেও যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ প্যান্ট রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। চীন, ভিয়েতনাম ও মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশ। এ ছাড়া সস্তাশ্রম আর কম উৎপাদন খরচের কারণে এইচঅ্যান্ডএম, গ্যাপ, নেক্সট, ম্যাটালন, নিউওয়েভ, ওয়ালমার্ট, জারার মতো বিশ্বখ্যাত চেনশপগুলো যেমন আছে তেমনি বিশ্বের নামি পোশাক ব্র্যান্ড জর্জিও আরমানি, হুগো বস, টমি হিলফিগার, বেন হিউসেন ও কেলভিন ক্লেইনও বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক টি-শার্ট আমদানি করে। বিজিএমইএ পরিচালক ও দেশের বৃহত্তম ডেনিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘মান বিবেচনা করলে আমরা এখনো লো-মিডিয়াম ও মিডিয়াম মানের ডেনিম উৎপাদন করছি। সবই মূলত বেসিক প্রডাক্ট।

ফ্যাশন ও প্রিমিয়াম প্রডাক্ট কম।’ তবে প্যাসিফিক জিন্সের নিজস্ব ডিজাইন করা প্রডাক্ট দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশের রপ্তানি ভবিষ্যতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বর্তমানে যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে তা যদি আরো কিছুদিন অব্যাহত থাকে তবে নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ লাভবান হবে। কারণ ট্রাম্প সরকার চীনা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বসালে স্বাভাবিকভাবে আমেরিকান ব্র্যান্ডগুলোর একটি বড় অংশ বাংলাদেশমুখী হবে।’ এ্যাবা গ্রুপের মালিকানাধীন গাজীপুরের ভিনটেজ ডেনিম অ্যাপারেলস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জিন্স প্যান্টের ডিজাইন আসলে এর ওয়াশিং কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে। কোন মানের ওয়াশ হচ্ছে তার ওপর জিন্সটির ভ্যালু অ্যাডেড হয়। বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো মানের জিন্স প্যান্ট তৈরি হয়। আমরা এখন ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে প্রথম অবস্থানে আছি। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ৩ নম্বর পজিশনে থাকলেও অচিরেই এই বাজারে আমাদের অবস্থান আরো সুসংহত হবে।’

source : kalar kontho

খাত বড়, মজুরি কম

দেশের ট্যানারিশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৮০০ টাকা। এ ছাড়া জাহাজভাঙা শিল্পে ১৬ হাজার এবং ওষুধশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার ৫০ টাকা। চলতি মাসেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানার শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি শতভাগ বৃদ্ধি করে ৮ হাজার ৩০০ টাকা ঘোষণা করেছে সরকার। মজুরির সঙ্গে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা যোগ করলে মাস শেষে বেতন-ভাতা ১৪ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ট্যানারি, জাহাজভাঙা ও ওষুধশিল্পের চেয়ে অনেক বড় এবং ব্যবসাসফল খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক। দেশের পণ্য রপ্তানির সাড়ে ৮৩ শতাংশ পোশাক খাত থেকে আসছে। তবে ৩ হাজার ৬১ কোটি ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকা রপ্তানি আয়ের এই খাতের শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি উল্লেখযোগ্য অন্য খাতের তুলনায় বেশ কম। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা। গত সপ্তাহে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভায় পোশাকশিল্পের মালিকেরা মজুরি মাত্র ১ হাজার ৬০ টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেন। সব মিলিয়ে তাঁরা মজুরি ৬ হাজার ৩০০ টাকা দিতে চান। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষ ১২ হাজার ২০ টাকা মজুরি দাবি করেছে। শ্রম মন্ত্রণালয় গত ৩১ জানুয়ারি পোশাকশিল্পের মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৬ জুলাই তৃতীয় সভায় নিজেদের মজুরি প্রস্তাব দেয় মালিক ও শ্রমিকপক্ষ। কম মজুরির প্রস্তাবের পক্ষে মালিকপক্ষ লিখিত যুক্তি দিয়েছে, প্রতিযোগী অন্য দেশের চেয়ে পোশাকশ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কম। উভয় পক্ষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশ করছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার বিকেলে শাহবাগে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ করেন। জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মালিকপক্ষ যে মজুরি প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে বড় ধরনের সমন্বয়ের সুযোগ আছে। কারণ, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। সেটি বিবেচনায় নিলে মজুরি হয় ৭ হাজার টাকা। আবার শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিলেও মজুরি অনেক বাড়বে।

তাই মালিকপক্ষের নিজেদের প্রস্তাব নতুন করে বিবেচনা করে মজুরি বোর্ডে জমা দেওয়া উচিত। সিপিডির এই গবেষক বলেন, ‘বিজিএমইএ পোশাকশ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ৪০ শতাংশ বললেও আমরা গবেষণায় দেখেছি, উৎপাদনশীলতা ৫০ শতাংশের ওপরে। সেটি ধীরে ধীরে বাড়ছে।’ অনেক খাতে মজুরি বেশি নিম্নতম মজুরি বোর্ড দেশের ৪১টি খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে। তার মধ্যে গত বছর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ট্যানারি, জাহাজভাঙা, ওষুধ, টি প্যাকেটিং, কটন টেক্সটাইলসহ ৯টি খাতের মজুরি নির্ধারণ করেছে মজুরি বোর্ড। এর মধ্যে ট্যানারিতে ১২ হাজার ৮০০, জাহাজভাঙায় ১৬ হাজার, ওষুধে ৮ হাজার ৫০, টি প্যাকেটিংয়ে সাড়ে ৮ হাজার, কটন টেক্সটাইলে ৫ হাজার ৭১০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যানারি, জাহাজভাঙা, ওষুধের মতো তুলনামূলক বড় খাত বিবেচনায় নিলে পোশাক খাতের মজুরি বেশ কম, ৫ হাজার ৩০০ টাকা। মালিকপক্ষ যে ১ হাজার ৬০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে, সেটি বাস্তবায়িত হলেও কমই থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমবিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যে প্রস্তাব মালিকপক্ষ দিয়েছে, সেটি নৈতিক কিংবা আইনি—কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবার শ্রমিকপক্ষের প্রস্তাবে শ্রমিকদের সত্যিকার চাহিদার প্রতিফলন হয়নি। তাই নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্যের উচিত শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় হিসাব করে নতুন আরেকটি প্রস্তাব দেওয়া।’ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ড গত কয়েক বছরে একেক খাতের জন্য একেক রকম মজুরি নির্ধারণ করেছে। এতে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম চাহিদা প্রায় একই। জাহাজভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পে শ্রমিকদের জন্য আলাদা করে ঝুঁকিভাতা থাকতে পারে। প্রতিযোগী দেশের তুলনায় মজুরি কম বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। আবার কম মজুরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ দ্বিতীয়। শ্রীলঙ্কার শ্রমিকেরা সবচেয়ে কম মজুরি পান, মাসিক ৬৬ মার্কিন ডলার। তারপর বাংলাদেশে ৬৮ ডলার। শ্রমিকের মজুরি সবচেয়ে বেশি তুরস্কে, ৫১৭ ডলার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।

সেই প্রতিবেদনে শীর্ষ ২০ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি উল্লেখ ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী চীনে ন্যূনতম মজুরি ১৫৫ ডলার, ভিয়েতনামে ১০০, ভারতে ৭৮ ডলার, কম্বোডিয়ায় ১২৮, পাকিস্তানে ৯৯ ডলার, ফিলিপাইনে ১৫০ ডলার। মালিকপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ট্যানারি ও জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয়। তাই সেখানে মজুরি বেশি। তা ছাড়া পোশাক খাত খুবই শ্রমঘন। ফলে সেখানে মজুরি কিছুটা কম হবে, সেটিই স্বাভাবিক।’ তিনি বলেন, গত সাড়ে চার বছরে ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। অন্যদিকে আমাদের ব্যবসার খরচ ৮-১০ শতাংশ বেড়েছে। সে জন্যই ২০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অপর প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর ৫ শতাংশ করে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও আমরা মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছি। এখন শ্রমিকেরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে শ্রমিকেরা জীবন যাপন করছেন। তাঁরা কি না খেয়ে থাকছেন?’

source : prothom-alo

জিএসকে বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে, অভিযোগ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের

বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে) কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার ‘অপচেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় বাংলাদেশ থেকে গুটিয়ে নেওয়ার জন্য তৎপরতা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উঠে আসে। তবে জিএসকে কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা পান নি। এখন বৈশ্বিকভাবেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা চলছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনে গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন সভাপতি মো. ইলিয়াছ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আজমের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট শিল্প এলাকায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসায় গুটিয়ে নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানা মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। তাদের তৎপরতার অংশ হিসেবে গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির বাংলাদেশের কারখানায় উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় কমিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ইতিমধ্যেই এ কারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার উৎপাদিত অনেক ওষুধ গুদামজাত থাকার পরও এবং বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তা বাজারজাত করা হচ্ছে না। কোম্পানিটির ওষুধ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রায় দেড় শ শ্রমিককে বিনা বেতনে বসিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের ধারণা বিদেশি পরিচালক (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যবসায় গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আজকের সংবাদ সম্মেলনে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কমিউনিকেশন রুমানা আহমেদ প্রথম আলোর কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।

রুমানা আহমেদ বলেন, এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে কারও কাছে আসেনি। বৈশ্বিকভাবেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা চলছে মাত্র। বাংলাদেশসহ ৭০টি দেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় ক্রমবর্ধমান। আর এখন এসব দেশের ব্যবসার বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। রুমানা আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে কিছু উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের সবাইকে না জানিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রুমানা আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনার পরিচালকের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা একেবারে ভ্রান্ত।

source : protom-alo

সোনা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই: অর্থমন্ত্রী

ভল্টে রক্ষিত সোনার পরিমাণ খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কমিটি গঠন করলেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সেখানে রাখা ৯৬৩ কেজি সোনার মধ্যে দূষিত মাত্র ৩ কেজি, এটা কোনো সমস্যা নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সোনা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ভল্টে রাখা সোনা নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো অনর্থক (ইউজলেস)। সচিবালয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিষয়–সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে থাকা সোনা নিয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ওই প্রতিবেদনের কোনো দরকার ছিল না। এদিকে ভল্টে রক্ষিত সোনার পরিমাণ খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেমকে প্রধান করে ছয় সদস্যের এ কমিটি ভল্টে রক্ষিত সোনার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করার সুপারিশ দেবে।

১৭ জুলাই প্রথম আলোয় ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই দিনই সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল যে সোনা ঠিকই আছে, করণিক ভুলের কারণে সোনার মান কমবেশি হয়েছে। পরের দিন ১৮ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নানও বলেছিলেন, ভল্টে রাখা সোনা নিয়ে অনিয়মের প্রতিবেদন দুনিয়া কাঁপানোভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ছয় সদস্যদের কমিটি গঠন বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠন করা কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক ভল্টে সোনা জমা দেওয়া ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সোনা গ্রহণের পদ্ধতি পর্যালোচনা। এ ছাড়া ভল্টে সোনা সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা–পদ্ধতি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করার সুপারিশ করবে এ কমিটি। ভল্টে রক্ষিত সোনা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এনবিআরের চেয়ারম্যান যে আধা সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন, তাও খতিয়ে দেখবে গঠিত কমিটি। কমিটি এ ছাড়া ভল্টের সোনা নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্য খতিয়ে দেখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ১৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদার ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহিদুল ইসলামকে নিয়ে সচিবালয়ে যে বৈঠক করেন, সেখানেই তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ নিয়ে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ভল্টে রক্ষিত সোনা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত অবস্থা জানতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভল্টে জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। অধিদপ্তর প্রতিবেদনটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এনবিআরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

source : prothom-alo

সোনা নিয়ে পদক্ষেপে অর্থমন্ত্রীর ফেরার অপেক্ষা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থমন্ত্রী ফেরার ‘পরদিনই’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে সোনায় ‘গোলমাল’ নিয়ে ‘ব্রিফ’ করে পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। RELATED STORIES ভল্টের সোনা কারসাজি সরকারি লুটের আলামত: মোশাররফ সব সোনা ঠিক আছে, ঘরেই আছে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী সোনায় হেরফের হয়নি, হয়েছে ইংরেজি-বাংলায় ভুল: বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রাতে আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেশে ফেরার কথা রয়েছে উল্লেখ করে সোমবারই তারা আলোচনার বসতে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সে রোববার এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা শীর্ষ পর্যায় থেকে আমাকে আশ্বস্ত করেছে, ব্যাংকে রক্ষিত আমাদের সম্পদ সব ঠিক আছে। তবে একটা কথা যেহেতু উঠেছে, এটাকে আমরা পর্যালোচনা করব, দেখব।

“আজকে (রোববার) বোধহয় অর্থমন্ত্রী দেশে আসবেন...কাল তার সাথে বসে ব্রিফ করব...ব্রিফ করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।” অর্থমন্ত্রী ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ইফেক্টিভ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন’ শিরোনামে এক আন্তর্জাতিক কর্মশালায় যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠার প্রেক্ষাপটে মান্নান বলেন, “যদি কেঁচো খুঁড়তে যেয়ে সাপ বের হয়, আমরা ডিল করব। “আমরা নিজের ধারণা এটাকে আরও পর্যালোচনা করা উচিত, এরপর তদন্ত হবে কি না তা পর্যালোচনার পর বের হয়ে আসবে।” টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) আয়োজনে এই আলোচনা সভা শেষে এ মন্তব্য করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল।

ভল্টে সোনা হেরফের প্রসঙ্গে ডেপুটি গভর্নর সাংবাদিকদের বলেন, “অর্থমন্ত্রী এটাকে পর্যালোচনা করে দেখবেন, কোনও দোষ আছে কি না দেখা হবে, যদি দোষ খুঁজে পাওয়া যায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনো হেরফের হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “সোনা যদি আপনি সরাতে চান তাহলে সোনার বদলে সোনা রাখবেন না, অন্য কিছু রাখবেন। ২২ বদলিয়ে ১৮ রাখবেন না। তারপরও পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হবে।” শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে দৈনিক প্রথম আলোতে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে ভল্টের সোনা নিয়ে অভিযোগটি সামনে আসে। ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে।

জমা দেওয়ার সময় যা ৮০ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, দুই বছর পর তা পরীক্ষা করে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ সোনা পাওয়া গেছে। আর ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক বছরের বেশি সময় অনুসন্ধান করে তারা ওই অনিয়ম পেয়েছেন। বিষয়টি এনবিআরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, যাতে তারা অনিয়মে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে পারে।” তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা সোনায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হোসেন এবং ভল্টের দায়িত্বে থাকা কারেন্সি অফিসার আওলাদ হোসেন চৌধুরী দাবি করেন, ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনো ধরনের হেরফের হয়নি; শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ যেভাবে রেখেছিল, সেভাবেই আছে। আওলাদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রুটি বলতে যা আছে, নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি-বাংলার ভুল। এর বাইরে অন্য ত্রুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই।”

source : bangla.bdnews24

অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে

ইউরোপের বাইরে এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়ছে। এর মধ্যে ভারতের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আর এশিয়ার বাজারগুলোতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার মতো অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশের পোশাক খাতের কারখানার মান উন্নয়ন, উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের শক্ত প্রতিশ্রুতির ফলে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, পোশাক রপ্তানিতে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। সেই বাজারেই বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের দেশটিতে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ডলার। এর আগের বছর ছিল ১২ কোটি ডলারের একটু বেশি। বড় অঙ্কের রপ্তানি হয়েছে জাপান ও কোরিয়াতেও। সব মিলিয়ে এশিয়ার ২০টি দেশ থেকে আয় হয়েছে ২১২ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১৮৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া প্রধান দুই বাজারের বাইরে অপ্রচলিত বাজার থেকে আয় হয়েছে ৪৬৭ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ৪২৪ কোটি ডলার। এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের পোশাক খাতের বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব কারখানা হয়েছে। উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে চায়না, ভারত, জাপানসহ এশিয়ার দেশগুলোতে আমাদের বাজার বাড়ছে। আগে আমাদের অন্যতম বাজার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক খাতের নতুন বাজারগুলোতে বেশ সুখবর ছিল। এ সময় অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। ভারতের স্থানীয় বাজারে বিশাল চাহিদা ও অশুল্ক বাধা দূর হওয়া এবং নিজের প্রয়োজেন এসব বাধা শিথিলায়নের ফলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন ২০০৫ সালের পর কোটামুক্ত হলো বাংলাদেশ তখন তার সক্ষমতা অন্বেষণ করতে থাকে। ফলে ইউরোপ এবং আমেরিকায় সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাড়াতে থাকে। পোশাকের জন্য জাপানের বাজার সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও শিল্পমুক্ত সুবিধার সুবাদে এ বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।’ একই সঙ্গে জাপানের মতো বাজারে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যের পোশাকের বাজার ধরতে শুরু করেছে। এ ছাড়া জাপানি ক্রেতারা আমাদের কারখানাগুলোতে অতি সতর্কতার সঙ্গে তাদের পোশাকগুলো তৈরি করে। এদিকে পোশাক খাতের নতুন সম্ভাবনার বাজার হিসেবে দেখা দিয়েছে লাতিন আমেরিকারও বাজার। পোশাকের বাজার বাড়ছে ব্রাজিল, চিলি এবং মেক্সিকোর মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনৈতিক দেশগুলোতে। তবে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে রপ্তানি ও যোগাযোগ বাড়াতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যোগাযোগ। ড. নাজনীন বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে একসময় যোগাযোগের তেমন কোনো সুযোগ ছিল না।

এমনকি প্রথম ২০০৯ সালে ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাস হয়। এর পর থেকে আমাদের ব্যবসায়ীরা তাদের বাজার অন্বেষণে ওই সব দেশে যায়। ধীরে ধীরে ব্রাজিল, চিলি এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি হতে থাকে। আর এ সুফল এখন পাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকের খাতের ব্যবসায়ীরা।’ বিকেএমইএ সাবেক প্রথম সহসভাপতি এ এইচ আসলাম সানি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক খাত অনেকটা নতুন রূপে তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট কারখানা বন্ধ হলেও অনেক বড় কারখানা হয়েছে। এগুলো আকারে ও প্রযুক্তির দিক দিয়েও কয়েক গুণ বড়। এ ছাড়া চায়না মৌলিক পোশাক তৈরির থেকে পিছিয়ে পড়লে এসব কার্যাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোতে যাওয়ার কথা থাকলে অবকাঠানো, শ্রমিকের দক্ষতা এবং ভাবমূর্তি ভালো না হওয়ায় ওই সব দেশে যায়নি।’

source: kalar kontho

অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে

ইউরোপের বাইরে এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়ছে। এর মধ্যে ভারতের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আর এশিয়ার বাজারগুলোতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার মতো অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশের পোশাক খাতের কারখানার মান উন্নয়ন, উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের শক্ত প্রতিশ্রুতির ফলে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, পোশাক রপ্তানিতে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। সেই বাজারেই বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের দেশটিতে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ডলার। এর আগের বছর ছিল ১২ কোটি ডলারের একটু বেশি। বড় অঙ্কের রপ্তানি হয়েছে জাপান ও কোরিয়াতেও। সব মিলিয়ে এশিয়ার ২০টি দেশ থেকে আয় হয়েছে ২১২ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১৮৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া প্রধান দুই বাজারের বাইরে অপ্রচলিত বাজার থেকে আয় হয়েছে ৪৬৭ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ৪২৪ কোটি ডলার। এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের পোশাক খাতের বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব কারখানা হয়েছে। উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে চায়না, ভারত, জাপানসহ এশিয়ার দেশগুলোতে আমাদের বাজার বাড়ছে। আগে আমাদের অন্যতম বাজার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক খাতের নতুন বাজারগুলোতে বেশ সুখবর ছিল। এ সময় অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। ভারতের স্থানীয় বাজারে বিশাল চাহিদা ও অশুল্ক বাধা দূর হওয়া এবং নিজের প্রয়োজেন এসব বাধা শিথিলায়নের ফলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন ২০০৫ সালের পর কোটামুক্ত হলো বাংলাদেশ তখন তার সক্ষমতা অন্বেষণ করতে থাকে। ফলে ইউরোপ এবং আমেরিকায় সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাড়াতে থাকে। পোশাকের জন্য জাপানের বাজার সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও শিল্পমুক্ত সুবিধার সুবাদে এ বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।’ একই সঙ্গে জাপানের মতো বাজারে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যের পোশাকের বাজার ধরতে শুরু করেছে। এ ছাড়া জাপানি ক্রেতারা আমাদের কারখানাগুলোতে অতি সতর্কতার সঙ্গে তাদের পোশাকগুলো তৈরি করে। এদিকে পোশাক খাতের নতুন সম্ভাবনার বাজার হিসেবে দেখা দিয়েছে লাতিন আমেরিকারও বাজার। পোশাকের বাজার বাড়ছে ব্রাজিল, চিলি এবং মেক্সিকোর মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনৈতিক দেশগুলোতে। তবে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে রপ্তানি ও যোগাযোগ বাড়াতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যোগাযোগ। ড. নাজনীন বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে একসময় যোগাযোগের তেমন কোনো সুযোগ ছিল না।

এমনকি প্রথম ২০০৯ সালে ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাস হয়। এর পর থেকে আমাদের ব্যবসায়ীরা তাদের বাজার অন্বেষণে ওই সব দেশে যায়। ধীরে ধীরে ব্রাজিল, চিলি এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি হতে থাকে। আর এ সুফল এখন পাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকের খাতের ব্যবসায়ীরা।’ বিকেএমইএ সাবেক প্রথম সহসভাপতি এ এইচ আসলাম সানি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক খাত অনেকটা নতুন রূপে তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট কারখানা বন্ধ হলেও অনেক বড় কারখানা হয়েছে। এগুলো আকারে ও প্রযুক্তির দিক দিয়েও কয়েক গুণ বড়। এ ছাড়া চায়না মৌলিক পোশাক তৈরির থেকে পিছিয়ে পড়লে এসব কার্যাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোতে যাওয়ার কথা থাকলে অবকাঠানো, শ্রমিকের দক্ষতা এবং ভাবমূর্তি ভালো না হওয়ায় ওই সব দেশে যায়নি।’

source: kalar kontho

দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির সুবিধা এনবিআরের নজরদারিতে

দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির আওতায় কর সুবিধা গ্রহণ করে বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সব ব্যাংককে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্স’ শাখার সনদ নিতে হবে। সম্প্রতি এনবিআরের এক পত্রের আলোকে দেশের সব ব্যাংককে এ নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের ৩৩টি দেশের দ্বৈত করারোপ পরিহার চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ সমঝোতার ভিত্তিতে করের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে। এই সুবিধা নিয়ে ওই সব দেশের প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে তাদের অর্জিত অর্থ নিজ দেশে পাঠানোর সময় হ্রাসকৃত হারে উেস কর পরিশোধ করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত করের হার বা উেস কর কর্তন ছাড়াই বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে দ্বৈত করারোপণ চুক্তির আওতায় কী পরিমাণ কর কর্তন আইনসংগত এ সম্পর্কিত এনবিআরের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন নেওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে।

এমতাবস্থায় জাতীয় রাজস্বের স্বার্থে ব্যাংকগুলো কর্তৃক বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তি বা বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট শাখার প্রত্যয়নপত্র ছাড়া দ্বৈত করারোপণ পরিহার চুক্তির সুবিধা না দেওয়ার বিষয়টি কঠোর নজরদারি ও পরিবীক্ষণের আওতায় আনা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি। বিষয়টি উল্লেখ করে গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি পত্র দেয় এনবিআর। ওই পত্রের আলোকে গতকাল সোমবার এক সার্কুলার জারি করে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয়ে পাঠায় বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ।

source : kalar kontho

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র পদে বদল

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুখপাত্র দেবাশিস চক্রবর্তীকে সরিয়ে সিরাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দুজনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা মুখপাত্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে রক্ষিত সোনার বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি নির্বাহী পরিচালক দেবাশিস চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ, লিখিত প্রশ্ন জমা দেওয়ার পরও তিনি প্রথম আলোকে যথাযথ কোনো মন্তব্য দেননি। নতুন মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে আজ রোববার বিকেলেই এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

source : prothhom-alo

দেশি গরুতেই চাহিদা মিটবে

দেশি গরুতেই এ বছর ঈদুল আজহার চাহিদা মিটবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে কোরবানির বাজারে ওঠানোর জন্য খামারে হৃষ্টপুষ্ট হওয়া গরু-মহিষের সংখ্যা প্রায় ২৯ লাখ ১০ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, গত বছর ঈদুল আজহায় দেশে ১ কোটি ৪ লাখ পশু জবাই হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ছিল গরু-মহিষ। বাকি ৫৮ লাখ ৯১ হাজার ছিল ছাগল-ভেড়া। এ বছর ঈদুল আজহায় জবাই হওয়া পশুর সংখ্যা ৫ শতাংশ বাড়লেও গরু-ছাগলের অভাব হবে না বলে আশা করছে অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ বি এম খালেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মোট প্রস্তুত পশুর মধ্যে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭১ লাখ ছাগল-ভেড়া ও প্রায় ৩২ হাজার উট-দুম্বা। গরু-মহিষের মধ্যে প্রায় ২৯ লাখ ১০ হাজার হৃষ্টপুষ্ট। বাকি ১৫ লাখ ৪৬ হাজার অনুৎপাদনশীল বা বয়স্ক। গত বছর হৃষ্টপুষ্ট গরু-মহিষের সংখ্যা ছিল ৩৩ লাখ। তিনি আরও বলেন, এ বছর ছাগল-ভেড়ার মধ্যে হৃষ্টপুষ্ট ১৮ লাখ ২৬ হাজার এবং অনুৎপাদনশীল ৫২ লাখ ৭৩ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, এ বছর ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়ার জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার গবাদিপশু রয়েছে।

এদিকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রোববার জানিয়েছে, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবের সভাপতিত্বে ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির হাটে ভেটেরিনারি-সেবাসংক্রান্ত’ এক সভা হয়। সেখানে জানানো হয় যে এ বছর পশুর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ছোট হাটে অন্তত ১টি, বড় হাটে ২টি করে এবং ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে ৪টি মেডিকেল টিম থাকবে। রাজধানীর প্রতিটি টিমে ১ জন ভেটেরিনারি সার্জন, ১ জন টেকনিক্যাল কর্মী (ভিএফএ/ইউএলএ) এবং ১ জন করে শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্নি ভেটেরিনারি সার্জন থাকবেন। গত বছর সারা দেশের ২ হাজার ৩৬২টি পশুর হাটে মোট ১ হাজার ১৯৩টি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত বছরের মতো এ বছরও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গবাদিপশুর খামারগুলোতে স্বাস্থ্যহানিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ল্যাবরেটরি-পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ও হরমোনজাতীয় ওষুধের বিক্রয় ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব দ্রব্য চোরাইপথে আসা বন্ধে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করা, ময়লা বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলা এবং কোরবানির আগে-পরে ঢাকা সিটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

source : prothom-alo