×
News Details
এটা মূলত মজুরি কমানোর প্রস্তাব

পোশাকশ্রমিকদের জন্য মালিকপক্ষ যে মজুরি প্রস্তাব করেছে, তা মূলত কমানোরই প্রস্তাব। বিগত মজুরিকাঠামোর সময় বলা হয়েছিল, প্রতিবছর মজুরি ৫ শতাংশ হারে বাড়বে। সে হিসাবে এখন শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার ৪০০ টাকার মতো হয়। মালিকপক্ষের প্রস্তাবে তা ৬ হাজার ৩৬০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। মালিকদের প্রস্তাব মেনে নিলে অন্যান্য গ্রেডে মজুরি আরও কমবে। মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাবের মাধ্যমে শ্রমিকদের সঙ্গে মূলত তামাশা করল। এর মাধ্যমে তাঁদের উসকানি দেওয়া হলো, যাতে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয় এবং মালিকপক্ষ সরকারকে বিভ্রান্ত করতে পারে। নিম্নতম মজুরি বোর্ড কোনো দর-কষাকষির জায়গা নয়। মালিকপক্ষ এক প্রস্তাব দেবে, শ্রমিকপক্ষ এক প্রস্তাব দেবে, তারপর দর-কষাকষির মাধ্যমে তারা একমত হয়ে ৪০ লাখ শ্রমিকের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, বিষয়টি সে রকম নয়। নিম্নতম মজুরি বোর্ড শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্পের সামর্থ্য, অন্যান্য খাতের মজুরি ইত্যাদি অনেক কিছু বিবেচনা করে মজুরি নির্ধারণ করবে। এ জন্য সেখানে একজন অর্থনীতিবিদ নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

আমি আশা করব, এসব বিষয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে ঘোষিত মজুরি বিবেচনায় নিয়ে পোশাক খাতের মজুরি নির্ধারণ করা হবে। আমাদের গবেষণা অনুযায়ী, এখন একটি পরিবারের জীবন ধারণের জন্য ১৬ হাজার টাকার বেশি প্রয়োজন হয়। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষ কী বিবেচনায় ১২ হাজার টাকা মজুরির প্রস্তাব দিয়েছে, তা জানা নেই। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নিম্নতম মজুরি ১৬ হাজার টাকার বেশি দাবি করেছে। পোশাক খাতে শ্রমিকদের কাজের চাপ বেশি। এ খাতের সামর্থ্য বেশি। পাশাপাশি পোশাক খাতের মজুরি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পোশাক খাতের মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

source : prothom-alo

আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই : ড. আতিউর রহমান

সামষ্টিক অর্থনৈতিক সাফল্য অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই আর্থিক খাতে বহু কষ্টের পর যে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে' বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। আজ ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনটির উদ্দেশ্য ছিলো সরকারি ও অন্যান্য কমকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের গল্পটি কেবল উন্মোচিত হতে শুরু হয়েছে, সামনে আরও অনেক ইতিবাচক রূপান্তর হবে। তাঁর মতে ১৯৭২ সালে মাত্র ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি থেকে খুব অল্প সময়েই বাংলাদেশের ৪৩-তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে (যার আকার প্রায় ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রকৃত অর্থেই প্রেরণাদায়ক। তার চেয়েও অবাক করা বিষয় হলো, অর্থনীতির তিনটি খাতেই, অর্থাৎ শিল্প, সেবা ও কৃষিতে- ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন ঘটতে দেখা গেছে। ফলে গত এক দশকে মাথাপিছু আয় বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনার পাশপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পুষ্টি খাতসহ সকল ক্ষেত্রেই সামাজিক উন্নয়নের সূচকগুলোতে অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে। আর তাই আমাদের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরে। এই অংক দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই অভাবনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে সরকারের সুচিন্তিত উন্নয়ন নীতির কারণে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভূক্তির কৌশলও এখানে সহায়ক হয়েছে।

এই নীতি-কৌশলের মূল জোর ছিলো- ১) উচ্চ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সকল নাগরিকের অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করা, ২) সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ, এবং ৩) আত্মনির্ভরশীলতার পাশাপাশি বেসরকারি অংশীজনের সাথে যুগপৎ কাজ করার প্রত্যয়ে। একই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর ২০ লক্ষ মধ্যম বা উচ্চ আয়ের মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। এদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৫,০০০ মার্কিন ডলারের বেশি। এসব মানুষ ভোক্তা হিসেবে ব্র্যান্ডের পণ্যের উপর আস্থাশীল এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। তাই তারা বাজারে উচ্চ মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা প্রত্যাশা করেন। ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৩৩টি নগর এলাকা থাকবে যেগুলোর প্রতিটিতে এমন মধ্যম বা উচ্চ আয়ের মানুষের সংখ্যা হবে অন্তত তিন লক্ষ। বর্তমানে এমন শহরের সংখ্যা দশটি। কাজেই বাংলাদেশের বিনিয়োগকারিদের এই নতুন বাজারের কথা মাথায় রেখে নিজেদের ব্যবসার কৌশল ঠিক করতে হবে। ড. আতিউর বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন: প্রতি বছর ১৬ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, কয়লা ও গ্যাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের মজুদ শেষ হয়ে আসা, রপ্তানি আয়ের জন্য গার্মেন্ট খাতের ওপর একক নির্ভরশীলতা, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে অবকাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি ও নগরাঞ্চলে সুশাসন কঠিন হয়ে ওঠা। আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি এসব চ্যালেজ্ঞগুলোকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এই প্রেক্ষাপটে আমাদের অবশ্যই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশ, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহায়তা জোরদার করা, উৎপাদনশীল এবং টেকসই কৃষি, গার্মেন্ট শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ, নিজস্ব বাজারের উপযোগী পণ্য উৎপাদন এবং যে কোন মূল্যে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখায় মনোনিবেশ করতে হবে বলে অভিমত দেন ড. আতিউর। পাশাপাশি আমাদের এমন অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে হবে যা হবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল, যেখানে মূখ্য ভ‚মিকায় থাকবে বেসরকারি খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ওপর থাকবে বিশেষ মনযোগ, এবং সর্বস্তরে থাকবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ই-কমার্সের ব্যাপক ব্যবহার। সর্বোপরি সরকারের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যেন দক্ষতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়, যাতে করে সবাই শেখার সুযোগ পায় আর উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অংশ গ্রহণ করতে পারে।

source : Ittfaq

ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ২০ টাকা করার দাবি শ্রমিকপক্ষের

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য ১২ হাজার ২০ টাকা নিম্নতম মজুরি প্রস্তাব করেছেন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি। অন্যদিকে মালিকপক্ষ প্রস্তাব করেছেন মাত্র ৬ হাজার ৩৬০ টাকা। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের তৃতীয় সভায় আজ সোমবার মজুরি প্রস্তাব করেন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বেগম শামছুন্নাহার ভূঁইয়া এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. সিদ্দিকুর রহমান। রাজধানীর তোপখানা রোডে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে আজকের সভায় সভাপতিত্ব করেন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। শ্রমিকপক্ষের প্রস্তাবিত ১২ হাজার ২০ টাকা মোট মজুরির মধ্যে মূল মজুরি ৭ হাজার ৫০ টাকা, মূল মজুরির ৪০ শতাংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়া ২ হাজার ৮২০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার টাকা, যাতায়াত ভাতা ৫০০ টাকা এবং টিফিন ভাতা ৬৫০ টাকা আছে। এ ছাড়া ৬ নম্বর গ্রেডে ১২ হাজার ৯৩০ টাকা, ৫ নম্বর গ্রেডে ১৩ হাজার ৯১০ টাকা, ৪ নম্বর গ্রেডে ১৪ হাজার ৯১০ টাকা, ৩ নম্বর গ্রেডে ১৬ হাজার ১৫০ টাকা, ২ নম্বর গ্রেডে ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা এবং ১ নম্বর গ্রেডে ২১ হাজার ৫০ টাকা প্রস্তাব করেন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি।

এ ছাড়া পোশাক কারখানায় কর্মচারীদের জন্য সর্বনিম্ন ১১ হাজার ৯৫০ টাকা মজুরি প্রস্তাব করেন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বেগম শামছুন্নাহার ভূঁইয়া। একই সঙ্গে মূল মজুরির ওপর প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করেন তিনি। এ ছাড়া শ্রমিক ও কর্মচারী উভয়ের জন্য ২টি উৎসব ভাতা এবং মূল মজুরি ২০ শতাংশ হিসেবে বৈশাখী ভাতার প্রস্তাব করেন শ্রমিক প্রতিনিধি। অন্যদিকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি পোশাক শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি ৬ হাজার ৩৬০ টাকা প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে মূল মজুরি ৩ হাজার ৬০০ টাকা, মূল মজুরির ৪০ শতাংশ হারে বাসা ভাড়া ১ হাজার ৪৪০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৩০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ২৪০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ৭৮০ টাকা।

সব মিলিয়ে বর্তমানের চেয়ে ২০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে মালিকপক্ষ। তারা ৬ নম্বর গ্রেডের জন্য ৬ হাজার ৭৫২ টাকা ৫ নম্বর গ্রেডের জন্য ৭ হাজার ১৭৬ টাকা, ৪ নম্বর গ্রেডের জন্য ৭ হাজার ৬০৪ টাকা, ৩ নম্বর গ্রেডের জন্য ৭ হাজার ৯৮৩ টাকা প্রস্তাব করেছে। তবে ১ এবং ২ নম্বর গ্রেডের জন্য কোনো মজুরি প্রস্তাব করেনি মালিকপক্ষ। মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে খুব শিগগিরই আমরা মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শেষ করব। তবে গতকাল রোববার মজুরি বোর্ডের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

source : prothom-alo

এখনই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে

নতুন অর্থবছর শুরু হয়ে গেছে। চাইলে আপনি এখনই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে পারবেন। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আয়কর অধ্যাদেশে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা জেনে নিতে হবে। ১ জুলাই থেকে আয়কর বিবরণী জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। তা চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। সাধারণত করদাতারা শেষ মুহূর্তে গিয়ে রিটার্ন জমা দিতে বেশি উৎসাহ দেখান। বিশেষ করে, আয়কর মেলা তো জনারণ্যে পরিণত হয়। শেষ দিকে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেক ভুলভ্রান্তি হতে পারে। হাতে পাঁচ মাস সময় থাকলেও করদাতারা এখনই রিটার্ন জমার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এ জন্য সংগ্রহ করতে হবে নানা কাগজপত্র। এবার আপনি রিটার্ন জমা দেবেন ২০১৭-১৮ আয়বর্ষের। অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আপনি যে আয় করেছেন, সেটির ওপর ভিত্তি করেই রিটার্ন জমা দিতে হবে। করযোগ্য আয় থাকলে ন্যূনতম তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া মোটরগাড়ি, ফ্ল্যাট কিংবা গৃহসম্পত্তি থাকলে বার্ষিক রিটার্নের সঙ্গে সম্পদ বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক। এবার জেনে নেওয়া যাক, এবারের বাজেটে কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো অনুসরণ করেই বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। করমুক্ত আয়সীমা আগের মতোই আড়াই লাখ টাকায় বহাল রাখা হয়েছে। এর মানে, কোনো ব্যক্তির আয় যদি বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তাঁকে রিটার্ন জমা দিয়ে কর দিতে হবে।

২০১৭ সালের জুলাই থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত হিসাব করে দেখুন, আপনি কত আয় করলেন। তবে এবার যে পরিবর্তনটি এসেছে, তা হলো করদাতার যদি কোনো প্রতিবন্ধী সন্তান থাকে, তাহলে আরও ৫০ হাজার টাকা আয় করলেও কর দিতে হবে না। বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এবার আরেকটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বেতন যদি ১৮ হাজার টাকার বেশি হয়, তবে রিটার্ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি চাকরিজীবীদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কোন কোন কর্মী রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তা প্রতিবছর এপ্রিল মাসের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিতে হবে। এমনকি কর্মীদের বেতন-ভাতা থেকে উৎসে কর হিসেবে কত টাকা কেটে রাখা হয়েছে, তা–ও জানাতে হবে। এসব শর্ত না মানলে ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিরীক্ষা করা হবে। রিটার্ন ফরম পূরণ ও হিসাব–নিকাশ করার সময় মনে রাখতে হবে, এবার পারকুইজিট সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, মোবাইল ফোনের বিলসহ বিভিন্ন ভাতা পান চাকরিজীবীরা। এই ভাতার একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করমুক্ত। আগে পৌনে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত ছিল। এখন তা সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এর ফলে চাকরিজীবীরা গত এক বছরে এসব খাতে ভাতা বাবদ আরও পৌনে এক লাখ বেশি পেলেও চিন্তা নেই, কর দিতে হবে না। সারচার্জের ক্ষেত্রে এবার ধনী করদাতাদের করের হিসাব বদলে গেছে। কোনো করদাতার যদি নিজের নামে দুটি গাড়ি থাকে কিংবা সিটি করপোরেশন এলাকায় আট হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট বা গৃহসম্পত্তি থাকে, তাহলে সারচার্জ আরোপিত হবে। ওই করদাতা যত কর দেবেন, এর ওপর ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে। উবার, পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি দিলে অবশ্যই গাড়ির মালিককে রিটার্ন জমা দিতে হবে। এটি এই বাজেটের নতুন উদ্যোগ। কোনো চাকরিজীবী বা করদাতার যদি গৃহসম্পত্তি থেকে আয় থাকে, তা–ও করের মধ্যে পড়বে। মূলত বাড়িভাড়ার আয়ই এখানে বেশি প্রযোজ্য। তবে গৃহসম্পত্তির মোট আয় থেকে এনবিআর অনুমোদিত নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বাড়িঘর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, দারোয়ানের বেতন, সিটি করপোরেশন বা পৌরকর বাদ দিতে হবে। চেক লিস্ট শুধু আয়কর ও সম্পদ বিবরণীর ফরম পূরণ করে দিলেই হবে না।

আয় কিংবা বিনিয়োগ করে কর রেয়াতের বিপরীতে বেশ কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এ জন্য যেসব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে সেগুলোর অন্যতম হলো, বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌরকরের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনি সম্পদের বিক্রয় কিংবা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট। কর রেয়াত নিতে চাইলে বেশ কিছু কাগজপত্র লাগবে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, জীবনবিমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ, ভবিষ্য–তহবিলে চাঁদার সনদ, ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (ডিপিএস) চাঁদার সনদ, কল্যাণ তহবিলে চাঁদা ও গোষ্ঠী বিমার কিস্তির সনদ, জাকাত তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন; অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ন্যূনতম কর যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা, ৪ হাজার টাকা ও ৩ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে।

source : prothom-alo

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড

ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল’। সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল-এর সেই ভুতুড়ে কাণ্ড বাস্তবেও ঘটে। আর তা ঘটেছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকেই। ছিল সোনা, হয়ে গেছে মাটি। জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। গত জানুয়ারিতে কমিটি শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয়। গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়। পরিদর্শন দল ভল্টে রাখা সোনার যাচাই-বাছাই শেষে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। তার মধ্যে প্রথম পর্যবেক্ষণ ছিল একটি সোনার চাকতি ও আংটি নিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) সোনা পায়। আংটিতে পায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ সোনা (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট)। ধারণা করা হচ্ছে ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, ভল্টে থাকা সোনার চাকতি এবং আংটি পরীক্ষার পর দেখা গেল এগুলো সোনার নয়, অন্য ধাতুর মিশ্রনে তৈরি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিদর্শন দল প্রতিটি রসিদের অনুকূলে জমা হওয়া সোনা যাচাই করেছে। তাতে দেখা গেছে, সোনার অলংকার এবং সোনার বারে ক্যারেটের তারতম্য করা হয়েছে। ২৪ থেকে ২০ ক্যারেটের ৯৬০ কেজি সোনার বেশির ভাগের ক্ষেত্রে ভল্টে ১৮ ক্যারেট হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। কম ক্যারেটে নথিভুক্ত থাকায় নিলাম বা অন্য উপায়ে বিক্রির সময় অতিরিক্ত ক্যারেটের বিপরীতে প্রাপ্য টাকা থেকে সরকার বঞ্চিত হবে। সোনার ক্যারেটের তারতম্য ঘটানোর কারণে সরকারের ১ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৬ টাকা ৬৭ পয়সা ক্ষতির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ক্যারেটের তারতম্য হলে সোনার দামের কী পার্থক্য হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্বাহী কমিটির সদস্য দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ক্যারেটের মাধ্যমে সোনার মান নির্ধারিত হয়। আর মান অনুসারে সোনার দাম কমবেশি হয়। ২২ ক্যারেট বা ২১ ক্যারেটের সোনা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনার দামে বড় অঙ্কের পার্থক্য আছে। শুল্ক গোয়েন্দা, কাস্টমসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক সোনা নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়।

কাস্টম হাউসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যখন সোনা জমা রাখা হয়, তখন ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্বর্ণকার দিয়ে পরীক্ষা করে সোনার মান নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংক, এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই সব সোনা মান নির্ধারণপূর্বক ব্যাংক গ্রহণ করে রসিদ দেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এ-সম্পর্কিত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বিষয়টি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এটি অকল্পনীয়। যারা কাস্টডিয়ান, তাদের হাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিস্মিতই হতে হয়। ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘ব্যাংকে কাজ করার সূত্রে আমি জানি, এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকেন হাতে গোনা কয়েকজন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে যে তথ্য এসেছে, সে তথ্য থেকে ঘটনার সময় যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব বের হয়ে আসবে। ঘটনাটিকে ছোট ভাবার কারণ নেই। ভল্টের মতো উচ্চ গুরুত্বের জায়গায় এমন অনিয়মকে গুরুত্ব না দিলে আরও বড় ঘটনা ঘটতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আধা-সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সামনাসামনি অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়ও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশীষ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর মেইলে লিখিত প্রশ্ন পাঠালে নয় দিনেও তিনি জবাব দেননি। পরে তাঁর সঙ্গে আবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই অবহিত করার মতো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’ দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আশা করি বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদন্ত করবে এবং সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেবে। কী কী প্রক্রিয়ায় এটা করা হয়েছে, কারা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে, সেটা বের করা তাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংক এটা করতে না পারলে তাদের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে, তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

source : prothom-alo

ভারত এখন ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুসারে ভারত এখন পৃথিবীর ষষ্ঠ অর্থনৈতিক শক্তি। এই স্থানে উঠে আসতে দেশটি ইউরোপের একাধিক দেশকে পেছনে ফেলেছে। সম্প্রতি আইএমএফের প্রকাশিত তালিকা অনুসারে ভারতের জিডিপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫৯৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরে দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, চলতি বছরের প্রথমার্ধে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এক দশকের মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দ্বিগুণ হয়েছে। আইএমএফের তথ্যানুসারে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, ভারত চলতি অর্থবছরে বিশ্বের দ্রুততম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজের স্থান ধরে রাখবে। ফেব্রুয়ারিতে ভারত এ ক্ষেত্রে চীনকেও অতিক্রম করে গেছে।

চীনের প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেলেও ভারতের প্রবৃদ্ধির চাকা দ্রুত ছুটতে থাকবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তাঁরা আশা করছেন, খুব দ্রুতই ভারত যুক্তরাজ্যকে ছাপিয়ে বিশ্বের পঞ্চম অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠবে। আর ভারতের এই উল্লম্ফনের মূল চালিকাশক্তি হলো উৎপাদন ও ভোক্তাব্যয়। ভারতের জনসংখ্যা ১৩৪ কোটি। একসময় ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হবে। যেখানে বিশ্বব্যাংকের তালিকায় সপ্তম স্থানে থাকা ফ্রান্সের জনসংখ্যা মাত্র ৬ কোটি ৭০ লাখ। অর্থাৎ ভারতের জনসংখ্যা ফ্রান্সের প্রায় ১৯ গুণ বেশি। সে কারণে ভারতের মানুষের জীবনমান ওই সব দেশের মানুষের মতো নয়। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, ডলার ও স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হারের ভিত্তিতে জিডিপির যে হিসাব করা হয় তাতে নিম্ন আয়ের দেশের অর্থনীতির মূল চিত্র পাওয়া যায় না, যেখানে আবার মুদ্রার মানও কম।

বাস্তবতা হলো, বিনিময় হারের বিবেচনায় ভারত এখনো নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। দেশটির বর্তমান মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারের কিছু কম। এটি ৪ হাজার ৫০০ ডলার অতিক্রম করলেই কেবল ভারত মধ্যম আয়ের দেশ হতে পারবে, তার আগে নয়। ওখানে যেতে গেলে তাকে অনেকটা পথ পেরোতে হবে। আর উচ্চ আয়ের দেশ হতে গেলে মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি হতে হবে। অর্থনীতিবিদেরা হিসাব করে দেখিয়েছেন, মধ্য আয়ের দেশ হতে গেলে আগামী এক দশক বা অন্তত ২০২০-এর দশকের শেষভাগ পর্যন্ত ভারতের মাথাপিছু আয় প্রতিবছর ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তে হবে। কিন্তু ব্রাজিল, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মধ্য আয়ের শ্রেণিতে আছে।

আবার এমনও হতে পারে যে তারা আদৌ উচ্চ আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হতে পারবে না। এদিকে মোদি সরকারের আমলে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর অনেকেই ভারতীয় অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে ভারতীয় অর্থনীতি অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে। তারপর জিএসটি নিয়েও অনেক জল ঘোলা হয়েছে। কিন্তু সেই আশঙ্কা অমূলক প্রমাণ করে ভারতীয় অর্থনীতির গতি বেড়েছে। আইএমএফের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিজেপি সেই তত্ত্ব অস্বীকার করার সুযোগ পেয়ে গেল। এই তালিকায় সবার ওপরে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার সম্পদের পরিমাণ ১৯ দশমিক ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার। তার পরে ১২ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে চীন। আর ৪ দশমিক ৮৭ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে জাপান। ভারতের আগে রয়েছে আরও দুটি দেশ, জার্মানি ও ইংল্যান্ড। তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান ৪০ নম্বরে।

source : prothom-alo

ঋণে ৯% সুদহার কার্যকর করতে হবে

ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হলেও কোনো কোনো ব্যাংক এখনো তা কার্যকর করেনি। এটি কার্যকর করা না হলে অনেক ব্যবসায়ীই অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেলাপি হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাঁদের অনেকে অসৎ আছে। অনেকে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধায় পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করছে। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু কোনো সৎ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা বন্ধ করা যাবে না। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জাতীয় রপ্তানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। তাঁদের এসব বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি ও সুসংহত করায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৬২টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি দেওয়া হয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প্রতিবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি দেয় শীর্ষ রপ্তানিকারকদের। রপ্তানিকারক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে রপ্তানিতে আরো উৎসাহিত করতে সরকার এ স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। প্রতি খাতে সর্বাধিক রপ্তানির জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ ট্রফি দেওয়াসহ ৩২টি খাতে ৩টি করে মোট ৯৭টি ট্রফি দেওয়া হয়। তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৮টি খাতে ৬২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জাতীয় রপ্তানি ট্রফি অর্জন করেছে। এর মধ্যে স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে ২৮টি প্রতিষ্ঠান। রৌপ্য ট্রফি ২০টি ও ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে ১৪ প্রতিষ্ঠান। কয়েকটি খাতে আবেদন জমা পড়েনি।

আর কয়েকটি খাতে যেসব আবেদন জমা পড়েছিল সেগুলো ট্রফির জন্য বিবেচিত হয়নি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বরের পর অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। সম্প্রতি ব্রাসেলসে সাসটেইনেবিলিটি কম্প্যাক্টের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অন্যান্য পক্ষ (ইইউ, আইএলও) অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের মেয়াদ আরো বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। আর বাড়ানো যাবে না। আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৩০ ডিসেম্বরের পর মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল (আরসিসি) এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। অনেক ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন সেখানে। শ্রমিক নিরাপত্তা, ভবনের নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে। আবার গিন ফ্যাক্টরিও বাড়ছে। রানা প্লাজা ধসের পর কোনো পোশাক কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশের পোশাক খাতের অগ্রগতিতে অনেকেই ঈর্ষান্বিত। যে কারণে অনেক ষড়যন্ত্র আছে। আগামী বছর থেকে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্যও রপ্তানি ট্রফি দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এখন খুবই জরুরি। চামড়া, প্লাস্টিক, ওষুধ খাত যতটা ভালো করার কথা, ততটা করতে পারছে না। এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। সরকার বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহও বাড়বে। তবে জ্বালানির দাম কী হবে—তা স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তা থেকে বের হতে চান। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ কী হবে, তা ব্যবসায়ীরা আগাম ধারণা পেতে চান। তিনি বলেন, ব্যবসা খাতে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে সে বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তারা হালনাগাদ তথ্য জানেন না। কাস্টমসও হালনাগাদ নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অনেকে অসৎ আছে। অনেকে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা নিয়ে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করছে। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু সৎ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কেন বন্ধ হবে? তিনি বলেন, সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক ব্যাংক তা করেনি। এটা নিশ্চিত করা না হলে অনেকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেলাপি হয়ে পড়বেন।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। সরকারকে অবশ্যই বেসরকারি খাতকে সহযোগিতা করতে হবে। স্বর্ণপদক পেয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান : ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য খাতভিত্তিক রপ্তানিতে ২৮টি প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে। সব খাতের মধ্যে সেরা রপ্তানিকারক হিসেবে স্বর্ণপদক পেয়েছে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকস। আবার খাতভিত্তিক রপ্তানিতেও এ কম্পানি স্বর্ণ ট্রফি অর্জন করেছে। এ ছাড়া এ কে এম নিটওয়্যার, ফকির নিটওয়্যারস, কামাল ইয়ার্ন, এনভয় টেক্সটাইল, নোমান টেরিটাওয়েল, জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস, পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ, আকিজ জুট মিলস, এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও পিকার্ড বাংলাদেশ পেয়েছে স্বর্ণ ট্রফি। আরো রয়েছে বে ফুট ওয়্যার, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং, প্রাণ ডেইরি, রাজধানী এন্টারপ্রাইজ, কারুপণ্য রংপুর, বেঙ্গল প্লাস্টিক, শাইনপুকুর সিরামিকস, ইউনিগ্লোরি সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, বিআরবি কেবল, বিএসআরএম স্টিলস, স্কয়ার ফার্মা, সার্ভিস ইঞ্জিন, আরএম ইন্টারলাইনিংস, মনট্রিমস লিমিডেট, গাজী এন্টারপ্রাইজ ও ফেক্সিনকো। রৌপ্যপদক পেয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান : ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে ২০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে হা-মীম গ্রুপের রিফাত গার্মেন্টস, জিএসএম কম্পোজিট নিটিং, বাদশা টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এসিএস টেক্সটাইল, মীনহার সি ফুডস, বাবুল জুট ট্রেডিং, জনতা জুট মিলস, ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিন, আর এম এম এম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ, ফুটবেড ফুটওয়্যার, হেরিটেজ এন্টারপ্রাইজ, প্রাণ অ্যাগ্রো, ক্যাপিটাল এন্টারপ্রাইজ, ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রডাক্টস, ডিউরেবল প্লাস্টিক, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, প্যাসিফিক জিন্স ও ইউনিগ্লোরি পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং।

ব্রোঞ্জ পেয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান : ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪ প্রতিষ্ঠান ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনন্ত অ্যাপারেলস, স্কয়ার ফ্যাশন, সুফিয়া কটন মিলস, হামজা টেক্সটাইলস, কুলিয়ারচর সি ফুড (কক্সবাজার), দ্য গোল্ডেন ফাইবার ট্রেড সেন্টার, এবিসি ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ, আকিজ ফুটওয়্যার, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং, ময়মনসিংহ অ্যাগ্রো, বিডি ক্রিয়েশন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ভিনেটড ডেনিম স্টুডিও এবং জাবের অ্যান্ড জোবায়ের অ্যাকসেসরিজ। প্রাণ গ্রুপ জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য রপ্তানিতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ—তিনটি ট্রফিই পেয়েছে গ্রুপটি। সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক হিসেবে টানা ১৪ বার সেরা রপ্তানিকারকের পদক পেল এই শিল্পগোষ্ঠী। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘আমাদের ব্র্যান্ডের ওপর বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের আস্থা রাখার জন্য এসব পদক পাওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রাণ সব সময় ক্রেতাদের চাহিদানুয়ায়ী পণ্য তৈরি করে থাকে। সেরা রপ্তানিকারক পদক প্রাপ্তিতে আমরা গর্বিত।’

source : kalar kontho

ঋণের সঙ্গে প্রচারেও থাকবে চীন

এত দিন অনেকটা নীরবে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ঋণ দিয়ে গেছে চীন। ঋণের সঙ্গে ঠিকাদারি করেই ক্ষান্ত ছিল দেশটি। তবে সে অবস্থান পাল্টাতে শুরু করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি। ঢাকার চীনা দূতাবাস সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দুই দেশের সরকার পর্যায়ে যেসব প্রকল্প বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হবে, তা এককভাবে বাংলাদেশ সরকার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারবে না। প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে অবশ্যই চীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত ২১ মার্চ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) একটি নোট ভারবাল পাঠিয়ে ঢাকার চীন দূতাবাস থেকে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রকল্প পাঁচটি হলো দেশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লাট, ন্যাশনাল আইসিটি ইনফ্রা-নেটওয়ার্ক ফর বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট (ধাপ-৩), কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে মাল্টিলেন টানেল নির্মাণ ও বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রকল্প। ওই নোট ভারবালে চীনা দূতাবাস জানতে চায় যে এসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রস্তুতি আছে কি না। ওই চিঠি পাওয়ার পর ইআরডির কর্মকর্তারা একটি আন্ত মন্ত্রণালয় সভা ডাকে। সেখানে এসব প্রকল্পের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় জানা যায় যে ওই চারটি প্রকল্পের বেশির ভাগেরই ভিত্তিপ্রস্তর এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থাপন করেছেন। তখন ইআরডি চীনা দূতাবাসকে জানায় যে এসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর প্রধানমন্ত্রী স্থাপন করেছেন, তাই নতুন করে একই প্রকল্পের আবারও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো দরকার নেই। ইআরডির ওই বক্তব্য জানার পর চীনের তরফ থেকে জানানো হয় যে দুই দেশের সহায়তায় বাংলাদেশে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, চীনকে না জানিয়ে ভবিষ্যতে ওই সব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা যাবে না। বাংলাদেশে চীনের অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি ইআরডির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত জাং ঝুর একটি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইআরডি। তাতে চীনা সহায়তায় বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পর্কে এসব তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বেশির ভাগই চীনের ঋণে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব প্রকল্পে অর্থায়নও হচ্ছে চীন থেকে ঋণ নিয়ে। চীনা ঋণে বাংলাদেশের দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। কারণ, চীনা অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে চীনা কম্পানিকেই কাজ দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণসহ বিভিন্ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন না করে ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় বিআরআই এবং বিবিআইএনএর গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান চীনা ঋণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নাম বলতে চাই না, এমন একটি জায়গা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে আমি এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) বা ভারত সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিতে বেশি পছন্দ করব।’ ইআরডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে চলমান ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন প্রকল্প পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে চীনা দূতাবাস। এর মধ্যে একটি হলো ঢাকার পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রকল্প। কয়েক বছর ধরে আলোচনা হলেও এ প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ার দুটি প্রধান কারণ জানিয়েছে চীন। এর একটি হলো প্রকল্প বাস্তবায়নের পর অব্যবহৃত যেসব স্টিল ও উপকরণ থাকবে, সেগুলো কী হবে—তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। অন্যটি হলো—এখনো প্রকল্পটির নীল নকশা প্রণয়ন করতে পারেননি প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক জানান, সংশোধিত নকশায় টানেলের অ্যালাইনমেন্ট বা বিন্যাস পরিবর্তন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ডেপুটি কমিশনার অফিসে পাঠানো হয়েছে। চীনা পক্ষ জানায় যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প এলাকায় প্রায় ১০০ ধরনের যন্ত্র আনা হচ্ছে, সেগুলো রাখতে আরো বেশি জমির দরকার হবে। চীনা পক্ষ জমি অধিগ্রহণ দ্রুততর সময়ে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানায়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন স্থাপন’ প্রকল্পের মহেশখালীতে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য চট্টগ্রামে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। মাতারবাড়ীতে ১ ও ৩ নম্বর জেটি নির্মাণ ও এক্সেস রোড নির্মাণকাজও চলছে। এ প্রকল্পের জন্য ঋণ কার্যকর করার ঘোষণা পেতে দেরি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে বলে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। চীনা এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিও সে সময় উপস্থিত ছিলেন। পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের প্রকল্প পরিচালক জানান, জমি অধিগ্রহণে সমস্যার কারণে পাইপলাইন স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। চীনা পক্ষ জানায় যে আগামী সেপ্টেম্বর শেষে ঠিকাদার সরকারের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করবে। তখন চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান যে আগামী নভেম্বর মাসেই এই ঋণের মেয়াদ শেষ হবে। তাই এই সময়ের মধ্যেই সব কিছু সম্পন্ন করতে হবে।

ডিপিডিসির আওতাভুক্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প মূল্যায়ন ও নথিপত্র বিনিময়ে আরো তিন-চার মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে চীনা এক্সিম ব্যাংক। প্রকল্পটি যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা যায় সে জন্য আগেই খসড়া ঋণ চুক্তি চেয়েছে ঋণদাতা ব্যাংকটি। একই অবস্থা পিজিসিবির পাওয়ার গ্রিড শক্তিশালীকরণ প্রকল্পেরও। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ছয়টি পূর্ণাঙ্গ স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য চীনা ঋণ পেতে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইআরডির কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। ইআরডি তা চীনা দূতাবাসকে দিয়েছে। দূতাবাস তাদের কর্তৃপক্ষকে পাঠাবে। রবিবার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ প্রসঙ্গে বলেছেন, চীনের সহযোগিতায় ছয়টি বিভাগীয় শহরে ছয়টি পূর্ণাঙ্গ টিভি স্টেশন হবে। দুই মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে চুক্তি হবে। এখন জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার প্রকল্প’ সম্পর্কে চীনা দূতাবাস বলেছে, এ প্রকল্প কোথায় বাস্তবায়ন হবে, তা আগে চিহ্নিত করতে হবে। এটি হলে চীন সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখবে। আর সরকার যদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী না হয়, সে ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে তা জানাতে বলে দূতাবাস। এ ছাড়া, ‘মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট প্রকল্প’ সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায় যে প্রকল্প তৈরির কাজ শিগগিরই শেষ হবে। এ প্রকল্পের ‘হ্যান্ডওভার’ অনুষ্ঠান আয়োজনে মন্ত্রণালয়কে প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করে দূতাবাস। ‘দ্য হাইব্রিড রাইস টেকনিক্যাল কো-অপারেশন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করবে চীন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চীনা কম্পানিটি প্রকল্প তৈরির কাজ শেষ করেছে। প্রকল্প মূল্যায়ন ও পরিদর্শন করতে একটি প্রতিনিধিদল ১৪-১৯ মার্চ বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। এ প্রকল্প নিয়ে একটি হ্যান্ডওভার অনুষ্ঠান আয়োজন করতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে চীন। চীনা ইকোনমিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি পাটকলগুলো আধুনিকায়নে এখনো অর্থায়ন করেনি চীন। চীনা পক্ষ জানিয়েছে, প্রেফারেন্সিয়াল বায়াস্ড ক্রেডিট বা চড়া সুদের ঋণ নিলে অল্প সময়ের মধ্যে তা নিশ্চিত করবে বাংলাদেশকে। আরো ১২টি প্রকল্প রয়েছে যেগুলোতে অর্থায়নের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি চীন। ইআরডি আশা করছে, ২০১৮ সালের মধ্যে না পেলেও ২০১৯ সালে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করবে দেশটি।

source : kalar kontho

BD’s position drops in global innovation index

The position of Bangladesh in the latest global index of innovation has dropped by two steps. The country ranked 116th among 126 countries in the Global Innovation Index (GII)-2018 which is co-published by Cornell University, INSEAD and World Intellectual Property Organisation (WIPO). In the last index, released in 2017, Bangladesh was ranked 114th among 127 countries. This year Bangladesh is also positioned as the bottom ranked country in South Asia. India ranked as 57th, a moderate improvement from 60th position in the last year while ranking of Pakistan also improved from 113rd to 109th. Sri Lanka ranked 88th while Nepal positioned as 108th innovative country in the world this year.

Switzerland retained its number-one spot in the index followed by the Netherlands, Sweden, the United Kingdom, Singapore, United States of America, Finland, Denmark, Germany and Ireland. China broke into the world's top 20 most-innovative economies for the first time as it ranked 17th in the latest GII. The GII ranks 126 economies based on 80 indicators, ranging from intellectual property filing rates to mobile-application creation, education spending and scientific and technical publications, according to a press statement of WIPO.

source : Financial Express

রড উৎপাদনে টনপ্রতি ব্যয় কমবে ৭০ টাকা!

বাজারে নির্মাণ উপকরণ রডের দাম সামান্যই কমেছে। পণ্যটির দাম যেখানে প্রতি টন ৫২ হাজার থেকে বেড়ে ৭০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছিল, তা এখন ৬৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি টন রডের দাম ১৮ হাজার টাকা বেড়েছিল। সেখানে গত দুই মাসে দাম কমেছে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। আগামী শীতে নির্মাণকাজের মৌসুম শুরু হলে রডের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে মনে করেন ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তারা। এদিকে এই নির্মাণ উপকরণের দাম কমাতে বাজেটে দুটি কাঁচামালে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এতে দামে তেমন প্রভাব পড়বে না।

কারণ, শুল্কছাড়ের ফলে টনপ্রতি রডের উৎপাদন ব্যয় মাত্র ৫০-৭০ টাকা কমতে পারে। দেশে চলতি বছরের শুরুতে রডের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। গত এপ্রিলে বিভিন্ন কোম্পানির ৬০ গ্রেডের প্রতি টন রডের দাম ৭০ হাজার টাকার ওপরে এবং ৪০ গ্রেডের দাম ৬৩-৬৪ হাজার টাকায় উঠেছিল। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দাবি ছিল, কাঁচামালের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকঋণের সুদের উচ্চহার এবং চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে বিলম্বই রডের মূল্যবৃদ্ধির কারণ। বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ খাতের রাসায়নিক ফেরো এলয়ের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ কমিয়েছেন। অন্যদিকে স্পঞ্জ আয়রনের সুনির্দিষ্ট শুল্ক টনপ্রতি ২০০ টাকা কমিয়ে ৮০০ টাকা করেছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো-রিরোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আনোয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাজেটে ইস্পাত খাতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ফেরো এলয়ের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমানোয় উৎপাদন খরচ টনপ্রতি ৫০-৭০ টাকা কমতে পারে। স্পঞ্জ আয়রনের সুনির্দিষ্ট শুল্ক কমানোর কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, এটি সাফটা চুক্তির আওতায় ভারত থেকে বিনা শুল্কে আমদানি করা হয়। তিনি বলেন, ‘বাজেটে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামও তেমন কমেনি।’ বর্ষা শেষে নির্মাণ মৌসুম শুরু হলে নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা বাড়বে। এতে রডের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে মনে করেন মানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, প্রতি টন রডের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় এখন ৭৩-৭৪ হাজার টাকা। তাই চাহিদা বাড়লে উৎপাদনকারীরা লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

গত এপ্রিলে রডের দাম যখন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন রড উৎপাদন খরচের একটি হিসাব তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে প্রতি টন রডের উৎপাদন খরচ ছিল ৫৭ হাজার ৭৫৮ টাকা। এদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কারণে গ্যাসের দাম বাড়লে রডের উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মো. মাসাদুল আলম বলেন, প্রতি টন রডে গ্যাসের দাম বাবদ ব্যয় হয় ৭ হাজার টাকার মতো। এখন শিল্পে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৭ টাকা। নতুন যেসব সংযোগ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রতি ইউনিটের দাম ১৪ টাকা ৯০ পয়সা ধরা হচ্ছে। এতে প্রতি টন রডের উৎপাদন ব্যয় ৭ হাজার টাকার মতো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

source : prothom-alo