×
News Details
ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে। সাথে সার্বিক মূল্য আয় অনুপাতও (পিই রেশিও) বেড়েছে।

আগের সপ্তাহের চেয়ে পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৩.০২ পয়েন্টে। যা সপ্তাহ শেষে ১৩.৩৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.৩২ পয়েন্ট বা ২.৪৬ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৭.৩৫ পয়েন্টে।

এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ১৭.৬৯ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ১৩.৬৩ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৭.৬৭ পয়েন্টে,

প্রকৌশল খাতের ১৪.০৩ পয়েন্টে, বীমা খাতের ১৩.৪২ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ২৩.৬৭ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ১৬.৪৫ পয়েন্টে, চামড়া খাতের ২০.৯৯ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ২৬.২৪ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৭.৭৫ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১৮.২৩

পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ২০.৯৬ পয়েন্টে, পেপার খাতের ২৮.০৭ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৩.৫০ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ১৫.০৪ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ২০.০৫ পয়েন্টে এবং পাট খাতের পিই ৪৪২.৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

পুঁজিবাজার

সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার পুঁজি ফিরে পেলেন বিনিয়োগকারীরা

তিন দিন উত্থান আর দু’দিন সূচক পতনের মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহে (২২-২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে।

এর ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে থেমে থেমে সাড়ে আট মাস ধরে চলা দরপতনের পর পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিদায়ী সপ্তাহে মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগের ফলে দুই পুঁজিবাজারে সূচক, লেনদেন ও বেশির ভাগ শেয়ারের দামও বেড়েছে। আর তাতে বিনিয়োগাকারীদের মূলধন অর্থাৎ পুঁজি বাড়ল সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের পুঁজি বেড়েছে ৭ হাজার ৫৬৪ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮০৮ টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের পুঁজি বেড়েছে ৭ হাজার ৮৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। অথচ অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পরও এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর বিনিয়োগকারীদের পুঁজি কমেছিল ৪৪১ কোটি টাকার বেশি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের বৈঠকে পুঁজিবাজারের স্বার্থে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

তার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বাজারে তারল্য সংকট কাটাতে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে অর্থের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে “ফোর্স সেল” কমেছে এবং গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিটিআরসির সমঝোতা হচ্ছে এমন খবরে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তাতে গ্রামীণফোনের পাশাপাশি ব্রাক ব্যাংকসহ পুরো ব্যাংক খাতের শেয়ারে দাম বেড়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু বড় বড় কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সপ্তাহের শুরুতে অর্থাৎ রোববার ও সোমবার পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছে।

তবে তারপর দু’দিন পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে। আবার সপ্তাহের শেষ দিন সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। তাতে ডিএসইর প্রধান সূচক ১১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার পয়েন্টে কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি গেল সপ্তাহে ডিএসইর অন্য দুই সূচকও বেড়েছে।

আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৫২টির, কমেছে ৭৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এর আগের সপ্তাহে দাম বেড়েছিল ৮৩টির, কমেছিল ২৩৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

দেশের অপর পুঁজিবাজার সিএসইর প্রধান সূচক ৩২৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৯টির, কমেছে ৮৯টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এর আগের সপ্তাহে দাম বেড়েছিল ৭৯টির, কমেছিল ২০৩টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ২৪ কোম্পানির শেয়ারের দাম। তাতে বিনিয়োগকারীরা সিএসইতে ১০৯ কোটি ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪ টাকা লেনদেন করেছে।

 

 

 

শেয়ারনিউজ

সহজে ব্যবসা সূচকে শীর্ষ ২০-এ বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা সহজে ব্যবসা সূচকে উন্নতির তালিকায় শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

ব্যবসার সম্প্রসারণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলস্বরূপ এ স্বীকৃতি মিলেছে।

আগামী ২৪ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে সেরা ব্যবসাবান্ধব দেশের মূল তালিকা। এর আগেই এ তালিকায় শীর্ষে থাকা ২০টি দেশের নাম প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

সহজে ব্যবসা সূচকের মাধ্যমে কোনো দেশে ব্যবসা করা কতটা সহজ, তা প্রকাশ পায়। মোটা দাগে ১০টি ভিত্তির ওপরে বিশ্বব্যাংক ডুয়িং বিজনেসের র‍্যাঙ্কিং করে।

এগুলো হলো ব্যবসা শুরুর অনুমোদন, ভবন নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুৎ–সংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া।

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নামের আদ্যাক্ষর অনুসারে প্রকাশিত দেশগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।

বিদ্যুৎ-সংযোগ ও ঋণপ্রাপ্তির দিক থেকেও বাধা কমেছে।

দেশে নতুন কোম্পানি নিবন্ধনে খরচ কমেছে। ডিজিটাল সনদ পেতে কোনো ফি দিতে হচ্ছে না। শেয়ার ক্যাপিটালের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন ফিও কমানো হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ পেতে জামানত কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে, এ খাতের জনবল বৃদ্ধি ও ডিজিটালকরণে বিনিয়োগ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) কার্যক্রমের আওতা বেড়েছে। সেখানে এখন যেকোনো পরিমাণের ঋণের পাঁচ বছরের তথ্য সহজেই পাওয়া যায়।

বিশ্ব ব্যাংকের এ প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের পাশাপাশি সহজ ব্যবসা সূচকে উন্নতি করা অন্য দেশগুলো হচ্ছে-

চীন, ভারত, পাকিস্তান, আজারবাইজান, বাহরাইন, জিবুতি, জর্ডান, কেনিয়া, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, কাতার, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান, টোগো, উজবেকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ

পুঁজিবাজারে আসতে কাজ করছে সব বিমা কোম্পানি

 

তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে সব বিমা কোম্পানি কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন।

এরই মধ্যে ৭/৮টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে আবেদন করেছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে বিআইএ-এর সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান শেখ কবির হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিআইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হামিদ, ভাইস প্রেডিডেন্ট মনিরুল আলম, কার্যনিবার্হী সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, পি কে রায় ও আদিবা রহমান।

শেখ কবির হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তিন মাসের মধ্যে সব বিমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারের আসার নির্দেশনা দিয়েছেন।

তা না হলে এসব বিমা কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারেই আমরা লাইফ-নন লাইফ সব বিমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার জন্য কাজ করছি। এরই মধ্যে ৭/৮টি কোম্পানি আবেদন করেছে।

বাকিগুলো ৩ মাসের মধ্যে আবেদন করবে, যোগ করেন বিআইএ’র সভাপতি।

এক প্রশ্নের জবাবে পি কে রায় বলেন, বিমা খাতে আস্থা সঙ্কট রয়েছে। আমরা ইমজে সঙ্কট দূর করতে কাজ করছি। আগের তুলনায় বেশি করে ক্লেইম দিচ্ছি।

নতুন নতুন পণ্য আনার চেষ্টা করছি। আশা করছি এ খাত সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিমা খাত ইমেজ সঙ্কটে রয়েছে। আধুনিক ও যুগোপযোগী পণ্যের অভাবও রয়েছে। এসব কারণে জিডিপিতে বিমার অংশগ্রহণ মাত্র দশমিক ৫০ শংতাশ।

যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অবদান ১২ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ৭ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।

 

 

 

শেয়ারনিউজ

 

পুঁজিবাজারের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নয়: ডেপুটি গভর্নর

পুঁজিবাজারে উত্থান-পতনে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা অযৌক্তিক বলে মনে করেন ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, “যখনই শেয়ারবাজারের পতন হয় তখনই ধরে নেওয়া হয় যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অথবা তাদের দিক থেকে যে ধরনের সার্পোট দেওয়ার কথা, তা করা হয় না। বিশেষ করে নীতি-নির্ধারকরা অনেক সময় আমাদের দিকে আঙুল তোলে।

“পুঁজিবাজারের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নয়।”

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন মনিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, “তা সত্ত্বেও আমরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাপিটাল মার্কেটের জন্য বিভিন্ন নীতি-কৌশল নিয়েছি। তারপরেও কিন্তু সেটা সেভাবে রেসপন্স করেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইচ্ছা-আগ্রহ সবক্ষেত্রে থাকে, কিন্তু সবকিছু তো তার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে না।”

পুঁজিবাজার নিয়ে অসন্তোষ এখন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের (ফাইল ছবি)পুঁজিবাজার নিয়ে অসন্তোষ এখন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের (ফাইল ছবি)
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তার সফলতা সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন মনিরুজ্জামান।

“কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি-কৌশল একটা দিয়ে দিতে পারে, কিন্তু এটার সফলতা নির্ভর করছে যারা বাস্তবায়ন করছেন, তাদের উপর।”

এই আলোচনা অনুষ্ঠানে “ওপেনিং নিউ ব্রাঞ্চেস অব ব্যাংক : রেশনালিটি অ্যান্ড রিয়ালিটি” শীর্ষক মূল প্রবন্ধে বিআইবিএমের অধ্যাপক মহিউদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন “যথেষ্ট পরিণত”।

অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে আরও মানুষের ব্যাংক সেবার আওতায় আনার উপর জোর দেন তিনি।

অধ্যাপক মহিউদ্দিন বলেন, এজন্য এলাকা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শাখা আরও বাড়াতে হবে।

“আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্যাংকের গ্রাহকদের চাহিদারও পরিবর্তন হচ্ছে। এখন নতুন নতুন উৎপাদনের ক্ষেত্র আবিষ্কার করছে উদ্যোক্তারা। এসব গ্রাহকের চাহিদা বোঝা এবং সেই অনুযায়ী অর্থায়ন করতে ব্যাংকগুলোরও আরও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”

 

শেয়ারনিউজ

হুমকিতে পড়তে পারে স্পিনিং খাত

দেশে বেনাপোল এবং চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সুতা আমদানি করা হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়েও সুতা আমদানি করতে। যদিও এর তীব্র বিরোধিতা করছে এ খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাঁদের আশঙ্কা এ বন্দর ব্যবহার করে অসত্য ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সুতা আমদানি হবে। এতে দেশের সাড়ে ৩ লাখ তাঁতশিল্প, দেশীয় শাড়ি, লুঙ্গি ও বস্ত্র খাতের স্পিনিং মিলগুলো হুমকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া এ বন্দর দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে তৃতীয় কোনো দেশের সুতা নেপালের সুতা বলে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানায়, নেপালে সুতার কোনো কল নেই। এমনকি ভারতের যেসব অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে সুতা আসে ওই অঞ্চলগুলো বাংলাবান্ধা সীমান্তের একবারে বিপরীতমুখী অবস্থানে। এ ছাড়া অবকাঠামোহীন এই স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি করার কথা বলে একটি অসাধু মহল বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। যেন দেশের তৈরি পোশাক খাতের নিয়মিত প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক অর্থনীতি ও স্পিনিংশিল্প হুমকির মুখে পড়ে। জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে নেপাল থেকে বাংলাবান্ধা স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতি নিয়ে একটি সভা হয়। ওই সভায় বস্ত্র খাতের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ ও বিটিএমএর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা নেপালে যেহেতু সুতা তৈরি হয় না, এমনকি কোনো স্পিনিং মিল নেই তাই বাংলাবান্ধা দিয়ে সুতা আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই বলে মত দেন। এ ছাড়া সুতা আমদানিকারকদের পরিবহন খরচ ও সময় বেশি লাগবে। এদিকে একই সভায় বাংলাবান্ধার শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা রিজভী আহমেদ জানান, বন্দর দিয়ে সুতা আমদানির মতো প্রয়োজনীয় জনবল, পণ্যের গুদামজাত করা ও সুতা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার নেই। ফলে ওই সভায় সুতা আমদানিতে এ বন্দর ব্যবহারের প্রয়োজন নেই এমন সিদ্ধান্ত হলেও ফের বিষয়টি নিয়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানায় এনবিআর। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন একটি দুষ্টচক্র এর মধ্যে কাজ করছে। তাই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন হবেন।

এরই মধ্যে সময় চেয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে সুতা ও বস্ত্র খাতের সংগঠন বিটিএমএ। জানতে চাইলে বস্ত্র খাতের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সহসভাপতি মো. আলী খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, নেপালে কোনো সুতার কল না থাকলেও নেপাল থেকে সুতা আমদানির জন্য দেশের সর্বশেষ স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতির জন্য এনবিআর খাতসংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে আমরা সুতা আমদানির জন্য বাংলাবান্ধা বন্দরের প্রয়োজন নেই; বোঝাতে সক্ষম হলেও এনবিআর ফের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সভা করে। তাই আমাদের আশঙ্কা হয় দেশের সুতা ও বস্ত্র খাত নিয়ে একটি অসাধু মহল ষড়যন্ত্র করছে। এর ফলে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে সুতা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেশের বস্ত্র খাতকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতের ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বৈঠকে থাকার কথা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বৈঠকে থাকার কথা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আমাদের চিঠি দিলে আমরা বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএকে তাদের মতামত জানাতে চিঠি দিই। এরই মধ্যে তারা নেপাল থেকে সুতা আমদানির বিষয়টি প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে।

এ ছাড়া আমরাও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হোক এমনটা চাই না। নেপালের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনাই ছিল এর মূল কারণ। এ ছাড়া এ ব্যাপারে এখনো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ব্যবসায়ীদের এ ব্যাপারে শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে। বিটিএমএ সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর সুতার চাহিদা আছে ১৪ লাখ টন। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় ১০ লাখ টন। আমদানি করা সুতা চীন, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত থেকে আসে। এর অর্ধেকই আসে ভারত থেকে। উদ্যোক্তারা মনে করেন সরকারের নীতি সহায়তা পেলে কিছু উচ্চ মূল্যের সুতা ছাড়া বাকিটুকুও দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। বিটিএমএ দেশের বেসরকারি খাতের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের স্পিনিং উইভিং ডায়িং-প্রিন্টিং এবং ফিনিশিংয়ের একটি বড় খাত। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৫০টি স্পিনিং মিল আছে। এসব কারখানার স্পিন্ডেল ক্ষমতা ১১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন। এর বিপরীতে সুতা উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে দুই হাজার ৫৯০ মিলিয়ন কেজি, যা প্রায় মোট চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া স্পিনিং খাতে ছয় থেকে সাত লাখ শ্রমিক সরাসরি জড়িত।

ঢাকা থেকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বর্তমানে সুতা আমদানি করা হয়। ঢাকা থেকে বেনাপোলের দূরত্ব মাত্র ২৩৩ কিলোমিটার। অন্যদিকে বাংলাবান্ধা সীমান্ত প্রায় ৪৬৪ কিলোমিটার। এর ফলে আমদানিকারকদের পরিবহন খরচ দিগুণ হারে বাড়বে। বেনাপোল থেকে পণ্য সংগ্রহ করা হলে ট্রাকপ্রতি ভাড়া হবে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে বাংলাবান্ধা থেকে পণ্য পরিবহনে খরচ হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। জানা যায়, দেশের সর্বশেষ সীমান্ত পঞ্চগড়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। এর বিপরীতে ভারতের কোচবিহার। বিটিএমএর মতে ভারতের কোচবিহারে কোনো সুতা কল নেই। সুতা কলগুলো মূলত মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যে। এ রাজ্যগুলো বাংলাদেশের বেনাপোলের কাছাকাছি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার যদি বেনাপোল দিয়ে সুতা আমদানিতে নিষেধ না করে তাহলে তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এর ফলে অন্য কোনো দেশ থেকেও আমাদের পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হবে। আর এতে যার সুবিধা হবে, তিনিই ওই বন্দর ব্যবহার করবেন। আর অসত্য ঘোষণায় আমদানি বন্ধ করা এবং উদ্যোক্তাদের শঙ্কার জায়গায় আস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের।

source : kalar kontho

চার পণ্যের দাম চড়া

রাজধানীর কাঁচাবাজারে চারটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এখন বাজারে গেলে এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে ক্রেতাকে বাড়তি ব্যয় করতে হবে প্রায় ২০ টাকা। বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দামও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চারটি পণ্যের দামই বেড়েছে সরবরাহে টান পড়ার কারণে। টানা বৃষ্টি শেষ হলে দর কিছুটা কমতে পারে। ডিমের দাম সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঢাকার অলিগলির খুচরা দোকানে ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৩৫-৩৬ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। কাঁচাবাজারে প্রতি ডজন ডিম ১০০-১০৫ টাকায় কেনা যাচ্ছে। দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিম কিনতে চাইলে হালিপ্রতি বাড়তি ১০ টাকা দিতে হবে। খুচরা দোকানে হাঁস ও দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেজগাঁওয়ের কলমিলতা বাজারে ডিম কিনছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, তাঁর পাঁচজনের পরিবারে এক ডজন ডিমে দুই দিন যায়।

ডিমের দাম না কমলে তাঁর খরচ বাড়বে মাসে ৬০০ টাকার মতো। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক মাস আগে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম ২২-২৬ টাকা ছিল। সে হিসেবে এখনকার দর প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। জানতে চাইলে তেজগাঁওয়ের ডিমের আড়তের ব্যবসায়ী মিজানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিগত তিন-চার বছর দেশে ডিমের দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে কম ছিল। এতে অনেক কৃষক খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন সে কারণে ডিমের সরবরাহ কম। আবার বর্ষায় হাঁসের ডিম পাড়ার হার কমে যায়। মূল্যবৃদ্ধির এটিও একটি কারণ। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫-১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ১৪০-১৪৫ টাকা ছিল।

সাধারণত পবিত্র শবে বরাত ও ঈদুল ফিতরের উৎসবের সময় বাড়তি চাহিদা তৈরি হলে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা বা তার ওপরে ওঠে। গত ঈদুল ফিতরের সময় বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০-১৭০ টাকায় উঠেছিল। এরপর তা কমে যায়। গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার খামারমালিক ও পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসিন প্রথম আলোকে বলেন, আবহাওয়া বৈরী থাকলে সাধারণ বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকে। এতে মুরগির বাজারে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়। এ কারণে এখন মুরগির দাম কিছুটা বাড়তি। বাজারে গত দুই সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়েছে। খুচরা দোকানে এখন বাছাই করা দেশি বড় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মাঝারি দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫-৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজের আড়ত নবীন ট্রেডার্সের মালিক নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। ভারতে পেঁয়াজের দামও কিছুটা বাড়তি। এ কারণে দেশের বাজারে দাম বেড়েছে। তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫-৩৬ টাকা ছিল, যা ৪৬-৪৭ টাকা হয়ে গেছে।

বর্ষাজুড়েই কাঁচা মরিচের দাম ওঠানামার মধ্যে আছে। দুই সপ্তাহ আগে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা ছিল। এরপর তা কমে ১২০ টাকায় নামে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর তা আবার বেড়ে কেজিতে ১৬০ টাকায় উঠেছে। তেজগাঁওয়ের কলমিলতা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জহির বলেন, তাঁর দোকানে শুধু কাঁচা মরিচের দরই বেশি। প্রতি আড়াই শ গ্রাম কাঁচা মরিচ তিনি ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে অন্যান্য সবজির দাম ২৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। অবশ্য কারওয়ান বাজারের সবজির আড়তে কাঁচা মরিচের দাম বেশ কম। প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। বাজারে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, আদা, গরুর মাংস ইত্যাদি পণ্যের দামে তেমন কোনো হেরফের নেই। রসুনের দাম বেশ কমেছে। কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা কমে তা ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দরও স্বাভাবিক।

source : prothom-alo

কাঁচা পাটের ব্যবসায় ভাটা

দোতলা প্রেস কারখানা ভবনের দুই পাশে বিশাল আকারের ৩৮টি গুদাম। গুদামগুলোর আয়তন সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গফুট। সেখানে যাচাই-বাছাই শেষে শ্রমিকেরা মাথায় করে পাট নিয়ে যাচ্ছেন কারখানার ওপরের তলায়। তারপর সেই পাট ওজন করে দৈতাকার প্রেস মেশিনের একটি অংশে রেখে মোটা দড়ি দিয়ে প্যাঁচানো হয়। তারপর মেশিনে চাপ প্রয়োগ করে বেল আকার দেওয়া হয়। প্রতি বেলে ১৮২ কেজি পাট থাকে। মেশিন থেকে প্রতি বেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচতলায় চলে যায়। তারপর নির্দিষ্ট ট্রলিতে করে সেগুলো আবার রপ্তানির জন্য গুদামে নিয়ে রাখা হয়। ট্রলি চালানোর জন্য পুরো কারখানা চত্বরে রয়েছে রেললাইন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীপথে কাঁচা পাট আনার জন্য কারখানার ভেতর পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর একটি চ্যানেল আছে। পাটবাহী ট্রলার কিংবা বড় নৌকা চ্যানেল দিয়ে কারখানায় আসে। নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেডের জুট বেলিং কারখানার ভেতরের চিত্র এটি। ১ জুলাই কারখানা চত্বর ঘুরে দেখা যায়, অল্প কয়েকটি গুদামে তিন-চারজন করে শ্রমিক পাট যাচাই-বাছাইয়ে কাজ করছেন। কিছু গুদাম ফাঁকা। তবে প্রেস হাউস বেশ কর্মচঞ্চল।

দুটি প্রেস মেশিনে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। গুদাম থেকে কারখানায় পাট আনতে ব্যস্ত আরও অর্ধশতাধিক শ্রমিক। সবারই পুরো শরীর পাটের সোনালি আঁশে মাখামাখি। ৩০ বছর ধরে কারখানার প্রেস মেশিন চালানোর কাজ করেন শ্রমিক মো. ইয়াসিন। তিনি বলেন, বর্তমানে কাজ কম থাকায় কারখানাটি ছয় ঘণ্টা চলছে। তবে পাটের ভরা মৌসুম আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস কারখানায় আট থেকে দশ ঘণ্টা জুট বেলিংয়ের কাজ হবে। কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট আগে কাঁচা পাট রপ্তানি করলেও বর্তমানে করে না। তাদের জুট বেলিং কারখানা চত্বরের ৩৮ গুদাম ভাড়া নিয়েছে ১২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। তারাই কুমুদিনীর প্রেস মেশিন ব্যবহার করে পাটের বেল তৈরি করে।

প্রতি বেলের জন্য গুনতে হয় ২৩৫ টাকা। জানতে চাইলে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পুরোনো কর্মকর্তা জগন্নাথ পোদ্দার বলেন, কারখানায় আগে প্রতিদিন ৮০-৮৫ হাজার মণ পাট আসত। দিন-রাত মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টা কাজ হতো। এখন সকালে চালু করলে দুপুরে বন্ধ করে দিতে হয়। এই হচ্ছে অবস্থা। তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লাখ বেল। কিন্তু ১ লাখ ২৫ থেকে ৩০ হাজার বেলের বেশি বর্তমানে হচ্ছে না। ব্যবসা মন্দা, তাই চারটি প্রেস মেশিনের মধ্যে দুটি চালানো হচ্ছে। কিছু গুদাম তুলা ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জের কাঁচা পাটের ব্যবসায় বহুদিন ধরেই মন্দা চলছে। বহির্বিশ্বে চাহিদা কমে যাওয়ায় কাঁচা পাট রপ্তানি কমে গেছে। নারায়ণগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানি কমে যাওয়ায় রপ্তানিকারকদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সরকারি সাতটি প্রেস হাউস বন্ধ। বেসরকারি পর্যায়ে সাতটি প্রেস হাউস চালু থাকলেও প্রায় সবগুলোই চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের কাঁচা পাট রপ্তানি হয়। বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ কাঁচা পাট রপ্তানি কমে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে দাঁড়ায়।

অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাংলাদেশের কাঁচা পাট রপ্তানির গন্তব্য পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, হংকং, তিউনিসিয়া, আইভরি কোস্ট, এল সালভেদর ও ফিলিপাইন। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা এলাকায় কুমুদিনীর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের আরেকটি জুট বেলিং কারখানা ছাড়াও পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ কারখানা আছে। ২ জুলাই কারখানাটিতে ঢুকতেই প্রেস হাউস চোখে পড়ল। পাশেই সারি সারি গুদাম। নদীর পাড়ে পাটবাহী ট্রলার ভেড়ার জন্য আছে নিজস্ব জেটি। কারখানা ঘুরে দেখা গেল, শ্রমিকেরা বেল করা পাট ট্রলিতে করে নিয়ে গুদামে রাখছেন। গুদামে পাটের গ্রেডিংয়ের কাজ করছেন বেশ কিছু শ্রমিক।

কারখানাটিতে চার শ শ্রমিক কাজ করেন। বর্তমানে পাটের ভরা মৌসুম না হওয়ায় কয়েকটি গুদাম গম রাখার জন্য ভাড়া দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ নিজেরাই কাঁচা পাট বেল আকারে রপ্তানি করে। নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি খুলনার দৌলতপুর, সৈয়দপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাটের ব্যবসা আছে প্রতিষ্ঠানটির। সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক হিসেবে কয়েক দফা জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পুরস্কার পেয়েছে পপুলার। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (রপ্তানি) স্বপন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ করে পাটের দাম মণপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় খুব মুশকিলে আছি। কারণ এই বাড়তি দাম তো ক্রেতারা দেবেন না। তিনি বলেন, ‘কাঁচা পাটের ব্যবসায় মন্দা চলছে। গত অর্থবছর ২ লাখ ৮৮ হাজার বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করেছি আমরা।

কিন্তু কয়েক বছর আগেও আমাদের রপ্তানি ছিল ৪-৫ লাখ বেল।’ কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের সমিতি বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) রেজিস্ট্রার কার্যালয় আছে নারায়ণগঞ্জে। সেখানে গিয়ে সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘বহির্বিশ্বে পাটের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসা পড়ে গেছে। আবার সরকারের নীতির কারণেও আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। যেমন ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাস সব ধরনের কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মন্ত্রণালয়। তখন বিদেশি অনেক ক্রেতা আমরা হারিয়েছি। তাঁরা অন্য দেশ থেকে পাট কেনায় ঝুঁকে পড়েন। চলতি বছর আবার তিন ধরনের কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।’ দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা যেসব পাট রপ্তানি করি, তা খুবই নিম্নমানের। এসব পাট দিয়ে চটের বস্তা, সুতা কিছুই তৈরি করা যায় না। তাই মন্ত্রণালয়ের উচিত রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে বরং নতুন বাজার খোঁজা। তাহলে রপ্তানি আয় বাড়বে। ব্যবসায়ীরাও বাঁচবেন।’

source : prothom-alo

ঈদে চার গন্তব্যে ইউএস বাংলার অতিরিক্ত ফ্লাইট

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে চারটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আজ শনিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি আগামী ১৭ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা থেকে যশোরে ৮টি, সৈয়দপুরে ৪টি, রাজশাহীতে ৩টি ও বরিশালে ২টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ঘরমুখী যাত্রীদের ঈদ আনন্দের পূর্ণতা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ৬টি, যশোরে ২টি, কক্সবাজারে ২টি, সৈয়দপুরে ২টি, সিলেটে ১টি, রাজশাহীতে ১টি ও বরিশালে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। অতিরিক্ত ফ্লাইটের পাশাপাশি ইউএস-বাংলা বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকায় আসা যাত্রীদের বিশেষ ভাড়া নির্ধারণ করেছে।

১৭ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী, বরিশাল, সৈয়দপুর ও যশোর থেকে ঢাকা ভ্রমণে খরচ পড়বে ১ হাজার ৯৯৯ টাকা। এ বিষয়ে তথ্যের জন্য ০১৭৭৭৭৭৭৮০০-৮০৬ ও ১৩৬০৫ নম্বরে যাত্রীরা যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্ট অথবা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের পাশাপাশি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সাতটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

source : prothom-alo

কেয়া কসমেটিকসের পরিচালকদের লাখ টাকা করে জরিমানা

যথাসময়ে আর্থিক হিসাব দাখিল না করায় কেয়া কসমেটিকসের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনোনীত পরিচালক ছাড়া) এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব সময়মতো দিতে না পারায় তিন ব্রোকারেজ হাউসকে সতর্ক করেছে কমিশন। কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্রোকারেজ হাউস তিনটি হলো ইউনিক শেয়ার ম্যানেজমেন্ট, এবি অ্যান্ড কম্পানি ও অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমন্ট লিমিটেড। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রান্তিকের হিসাব জমা দিতে না পারায় কেয়া কসমেটিকসের প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ১৮ হাজার ৫৮২ রাইট শেয়ার আবেদন বাতিল ও সতর্ক এবং ক্যাপিট্যাক পদ্মা পিএফ শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে কমিশন।

কেয়া কসমেটিকস কর্তৃপক্ষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব যথাসময়ে দাখিল না করার মাধ্যমে কমিশনের নির্দেশনা ভঙ্গ করেছে। একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কম্পানি আইন ভঙ্গ করেছে। এতে কম্পানিটির স্বতন্ত্র ও মনোনীত পরিচালক ছাড়া অন্য প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের রাইট আবেদন বাতিল : বিনিয়োগ হিসাবধারীর সম্মতি ব্যতীত সাইফ পাওয়ারটেকের সাড়ে ১৮ হাজার রাইট শেয়ার রিনানসিয়েশনের মাধ্যমে নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পেতে আবেদন করার জন্য আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট তাদের ২৫ জন বিনিয়োগকারীর পক্ষে ১৮ হাজার ৫৮২টি সাইফ পাওয়ারটেকের রাইট শেয়ারের আবেদন না করে, ওই শেয়ারগুলো বিনিয়োগ হিসাবধারীদের সম্মতি ব্যতীত রিনানসিয়েশনের মাধ্যমে নিজস্ব পোর্টফোলিওতে প্রাপ্তির আবেদন করে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কমিশনের আদেশ লঙ্ঘন করেছে। এতে শাস্তিস্বরূপ কমিশন আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ১৮ হাজার ৫৮২টি রাইট শেয়ারের আবেদন বাতিল ও আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টকে সতর্ক করেছে। ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন : ক্যাপিট্যাক পদ্মা পিএফ শরিয়াহ ইউনিটের বে-মেয়াদি ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে কমিশন। ফান্ডটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি টাকা, উদ্যোক্তার অংশ এক কোটি টাকা। বাকি ৯ কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য ররাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে উত্তোলন করা হবে। ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড অ্যামপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড, সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে ক্যাপিট্যাক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এবং ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ।

source : kalar kontho