×
News Details
উন্নয়নের জন্য সমবায়ের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমবায়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে যুগোপযোগী সমবায় ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে সমবায়ের মাধ্যমেই আমাদের দেশের উন্নয়ন করতে পারবো।

এজন্য দক্ষ সমবায়ীদের প্রশিক্ষণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “সমবায়ের কাজে যারা দক্ষ তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং সৎভাবে তারা যেন কাজ করে সেই বিষয়ে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।”

“ইনশাল্লাহ, তবেই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে সক্ষম হব,” যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪৮ তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০১৯ উদযাপন এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। খবর বাসসের

তার সরকার “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এর মাধ্যমে মহিলাদের সুদবিহীন, জামানতবিহীন, দীর্ঘ মেয়াদী ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।”

সমবায় ভবন নির্মাণ এবং সমবায় অধিদপ্তরের সদর কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যন্ত সকল কার্যালয়কে আইসিটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে অনলাইনে কেনা-বেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই অনলাইনে পন্য কেনা-বেচা ও বাজারজাতকরণের বিষয়টির উদ্বোধন করেন বলেও জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশের জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপু অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক এবং মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সিনিয়র সচিব, সচিব সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং সারাদেশ থেকে আগত সমবায়ীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। চলতি বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- “বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন।”

অনুষ্ঠানে ২০১৮ সালের জাতীয় সমবায় পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনা পর্বের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সমবায়ীদের জন্য অনলাইনে পন্য কেনা-বেচা ও বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করেন এবং অনুষ্ঠানস্থলে সমবায়ীদের স্থাপিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

সমবায় অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশের কৃষি, মৎস্য চাষ, পশু পালন, দুগ্ধ উৎপাদন, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, আবাসন, পুঁজি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার সমবায় সমিতি রয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ। এ সকল সমবায় সমিতির মোট কার্যকরি মূলধনের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সমবায়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ।

দেশের বিদ্যমান সমবায় আইনকে যুগোপযোগীকরণ এবং সমবায় ব্যাংককে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও ভাষণে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

চামড়া খাতে প্রণোদনা আরও ৫ বছর

চামড়াজাত পণ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জনে আগামী ৫ বছর এ খাতে আর্থিক প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৩য় বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো-২০১৯-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। চামড়া খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে এলএফএমইএবি এবং সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এই “সোর্সিং শো-র আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প থেকে কাঙ্খিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আর্থিক প্রণোদনা আরও অন্তত আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাভারে চামড়া শিল্প নগরীর বর্ধিত প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মান ও এলডব্লিউজি সনদ অর্জন উপযোগী কম্পোজিট চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার কারখানা গড়ে তোলার জন্য কমপক্ষে ১৫০ একর জায়গা বরাদ্দ দেব এবং ইতোমধ্যে আমরা সে জায়গা দেখেছি।”

তিনি বলেন, “সকল রপ্তানি খাতের জন্য সমান সুযোগ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। যে সব বৈষম্যমূলক প্রতিবন্ধকতা আছে তা দূর করা হবে।”

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন এবং লেদার ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশর (এলএফএমইএবি) সভাপতি সাইফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ক্রেতাগণ, চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের চামড়া শিল্পের অগ্রগতি নিয়ে একটি ভিজ্যুয়াল পেজেন্টেশনও পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী আলোচনা পর্ব শেষে বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন এবং স্টল ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার চামড়াজাত দ্রব্য ও পাদুকা রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বিশ্বের আমদানিকারকদের যোগাযোগ ঘটানোর জন্য “ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি” উপর জোর দিচ্ছে।

ফলে, চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার শিল্প গত এক দশকে পাট ও পাটজাত পণ্যকে রপ্তানি আয়ে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের খাত হিসেবে পরিণত হয়েছে। এখন এ খাতের আয় তৈরি পোশাকের পরেই জায়গা করে নিয়েছে, যোগ করেন তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, গত অর্থবছরে চামড়া খাত থেকে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। আমাদের ক্রমবর্ধমান কাঁচা চামড়া সরবরাহের পুরোটাই ফিনিশড প্রোডাক্ট তৈরি করে রফতানি করতে পারলে আমরা অনায়াসে ২০২২ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করতে সক্ষম হব।

১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের উন্নয়ন এবং দারিদ্র বিমোচনের মাধ্যমে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই এবং সেজন্য মানবসম্পদ উন্নয়নকে আমরা গুরুত্ব দেই।”

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বনির্ভরতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন আমরা তা বাস্তবায়নের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হবে ২০২১ সালে। আর ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। আমরা এরই মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি, ৩য় বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো-২০১৯-আয়োজন এ খাতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বিদেশী ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে বিশেষ করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের শিল্পে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগে যে কোন দেশের চাইতে বেশি লাভবান হবেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার সময়ই জাতির পিতা আশাবাদী ছিলেন যে, আমাদের কৃষিজাত পণ্য চা, পাট এবং চামড়া শিল্পকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বাণিজ্যের শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে। একইসঙ্গে শক্তিশালী হবে কৃষিখাত। লাভবান হবেন বাংলার কৃষক। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থেমে যায়। পাট, চামড়া শিল্পে ধস নেমে আসে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের প্রায় সাড়ে ১০ বছরের শাসনামলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খন্ডচিত্র তুলে ধরে বলেন, “২০০৫-০৬ অর্থবছরে আমাদের রপ্তানি আয় যেখানে ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল তা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে আমদানি ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বর্তমানে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে আমাদের বিনিয়োগ ছিল জিডিপি”র ২৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর পরিমাণ হয়েছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ।

শেখ হাসিনা বলেন, “আইএমএফ-এর সর্বশেষ জিডিপির র‌্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশ পিপিপির ভিত্তিতে বিশ্বের ২৯তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ।”

তিনি বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০৯ মার্কিন ডলারে। প্রকৃতপক্ষে তা প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছে গেছে। আমরা স্বল্পনোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে গ্রাজুয়েশর পেয়েছি, যা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর থেকে বেশিই হয়তো আমরা অর্জনে সক্ষম হব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সরকার প্রধান বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে এখন উন্নয়নের বিস্ময়। কারণ এই প্রশ্নটা অনেকেই আমাকে সবসময় করেন যে, এই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা কিভাবে এই উন্নয়নটা করলাম।”

গত নির্বাচনী ইশতিহারে তাঁর দল আওয়ামী লীগ রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে উল্লেখ করে দলটির সভাপতি বলেন, এ লক্ষ্যে রপ্তানি নীতি ২০১৮-২০২১ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ অর্থবছরে ৩৬টি পণ্যে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তাসহ অন্যান্য নীতি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে রপ্তানিতে আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

“২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৪ বিলিয়ন ডলার” উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,“আমার দৃঢ় বিশ্বাস রপ্তানির এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এবং রপ্তানির বহুমুখীকরণ করতে পারলে আমাদের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা ২০২১ সালে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।”

বিনিয়োগ, ব্যবসা পরিচালনা ও রপ্তানি বাণিজ্যকে সহজ এবং গতিশীল করতে তাঁর সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সুবিধা-সম্বলিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা প্রতিষ্ঠা করছি। যার মধ্যে ১২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বেশকিছু শিল্প-কলকারখানা সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।”

তিনি বলেন, তার সরকার দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কৃষি জমির সুরক্ষা করে এই রপ্তানি অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা একাধিক টার্মিনাল ও নতুন নৌ-বন্দর স্থাপনের কাজ শুরু করেছি। আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা আমরা সৃষ্টি করেছি।”

“সরকারের গত দুই মেয়াদে প্রণোদনা এবং নীতি সহায়তায় পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য কারখানার প্রসার ঘটেছে এবং বিনিয়োগে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে” উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, “এখন এই খাতের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ আসছে পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য থেকে।”

তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং চামড়া শিল্পের আধুনিকায়নে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে আধুনিক শিল্প নগরীতে এই শিল্প স্থানান্তরেও সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের আকার, পণ্যের সমাহার এবং বিপণন সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত চারটি খাতের উন্নয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক্সপোর্ট কম্পেটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। যার মধ্যে চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প অন্যতম।”

শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, “২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে চামড়া ও ফুটওয়্যাত শিল্পের সঙ্গে জড়িত সকলে এগিয়ে আসবেন।”

বিদেশে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টিতে তার সরকার সবসময় সক্রিয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সবধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকেও সম্ভব সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস।

ক্যাসিনোর মতো পুঁজিবাজারেও শুদ্ধি অভিযান চান বিনিয়োগকারী

পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ক্যাসিনোর মতো পুঁজিবাজারে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে মোট ২১টি দাবি উপস্থাপন করা হয়।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ বলেন, অব্যাহত দর পতনে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত পুঁজি হারাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে বাজারের সার্বিক প্রেক্ষাপট, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে একটি স্মারক লিপি পেশ করি। কিন্তু পুঁজিবাজারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আজও ফিরে আসেনি।

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিবি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বেশ কিছু অসাধু কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট পুঁজিবাজার ধসের মূল কারণ।

এছাড়া সেকেন্ডারী মার্কেটের আদলে বা সমান্তরালে অনৈতিক প্লেসমেন্ট বাণিজ্য ও দুর্বল কোম্পানির আইপিওতে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সর্বশান্ত করা হয়েছে।

এমন পরিস্থতিতে পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত দুর্নীতিবাজ ও অসাধু ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মেধাবী ও যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ক্যাসিনো মার্কেটের মতো বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিবি ও বিভিন্ন ইস্যু ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

দাবিগুলো হলো:

০১. বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনসহ সকল কমিশনারদের অপসারণ করে সৎ, মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিশন পুন:গঠন করতে হবে।

০২. পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ক্যাসিনো মার্কেটের মতো বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিবি ও বিভিন্ন ইস্যু ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

০৩. বাইব্যাক আইন পাশ করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইস্যুমুল্যের নিচে অবস্থান করা শেয়ারগুলো নিজ নিজ কোম্পানিকে ইস্যুমুল্যে শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে।

০৪. পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আগামী ৩ বছর পর্যন্ত সকল ধরণের আইপিও, রাইট শেয়ার ইস্যু বন্ধ করতে হবে। প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।

০৫. বুক বিল্ডিং পদ্ধতি, ডাইরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।

০৬. ২ সিসি আইনের বাস্তবায়ন করতে যে সকল কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে ২%, সম্মিলিতভাবে ৩০% শেয়ার নেই, ঐ সকল উদ্যোক্তা পরিচালক ও কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ধারণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

০৭. কোম্পানি আইনে কোথাও জেড ক্যাটাগরি এবং ওটিসি মার্কেটের কথা উল্লেখ নেই। তাই শেয়ারের কোন বিভাজন করা যাবে না। ওটিসি মার্কেটে যে সকল কোম্পানি নিয়মিত এজিএম করে এবং ডিভিডেন্ড দেয় তাদেরকে মূল মার্কেটে ফেরত আনতে হবে। যে সকল কোম্পানি এজিএম করে না, কোম্পানি বন্ধ আছে, সেই সকল কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে হবে।

০৮. কোম্পানির ব্যবসা ভালো থাকা সত্ত্বেও যে সকল কোম্পানি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে, সে সকল কোম্পানিকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

০৯. কোন কোম্পানিকে ডি-লিস্টিং করা যাবে না। সম্প্রদি ডি লিস্টিং হওয়া মডার্ন ডাইং ও রহিমা ফুড কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

১০. কোন কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ে ডিভিডেন্ড ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যেই এজিএম করতে হবে। দুই আড়াই মাস পরে নয়। পৃথিবীর কোন দেশেই দুই আড়াই মাস পরে এজিএম করার নিয়ম নেই।

১১. পুঁজিবাজার উন্নয়নের স্বার্থে বহুজাতিক লাভজনক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তানের মতো বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বিনিয়োগের ৪৯% পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ করতে হবে। কারণ বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের কোম্পানির স্বল্প কিছু শেয়ার (২০-২৫%) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে ৩০০ থেকে ৪০০% ডিভিডেন্ড দিয়ে এদেশের অর্থ বিদেশি কোম্পানিগুলো লুন্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছে। এই লুন্ঠন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।

১২. পুঁজিবাজারের প্রাণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে বাজারে সক্রিয় করে তাদের সঞ্চিত অর্থের ৮০% পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে।

১৩. যে সমস্ত কোম্পানি তার মূলধন সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজারে আসবে ঐ সমস্ত কোম্পানিকে পেইডআপ ক্যাপিটালের ৪০% পর্যন্ত আইপিও অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। তাদের কোম্পানি প্লেসমেন্ট শেয়ারের টাকা কোন প্রকারেই কোম্পানির পেইডআপ ক্যাপিটাল হিসেবে দেখাতে পারবে না এবং কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার একমাস পূর্বে কোম্পানির প্রসপেক্টাস সমস্ত ব্রোকারেজ হাউজ, ডিএসই,সিএসইতে পাঠাতে হবে। সাংবাদিকদের এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদামাত্র কোম্পানি প্রসপেক্টাস দিতে বাধ্য থাকবে।

১৪. পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধির জন্য সহজশর্তে অর্থাৎ ৩% সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। যা আইসিবি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ও ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে ৫% হারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোন হিসাবে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।

১৫. খন্দকার ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী শেয়ারবাজর লুন্ঠনকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

১৬. ঢাকা এক্সচেঞ্জের বিপরীতে বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ নামে বিকল্প স্টক এক্সচেঞ্জ করতে হবে।

১৭. বিনিয়োগকারীদের “বিনিয়োগ নিরাপত্তা আইন” অতিদ্রুত প্রণয়ন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

১৮. বাজারের ভয়াবহ পতনে ২০১০-২০১১ সাল পর্যন্ত যে সকল বিনিয়োগকারীরা অসুস্থ হয়ে, হার্টঅ্যাটাক করে আত্মহুতি দিয়েছে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

১৯. পুঁজিবাজারের এই ক্রান্তিলগ্নে মার্জিন ঋণে জর্জরিত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য এই মুহূর্তে মার্জিন ঋণের আওতাভুক্তদের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

২০. ফোর্স সেল বন্ধ করতে হবে। ইতিপূর্বে অর্থ মন্ত্রনালয় ও বিএসইসির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত যে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ কর্তৃক ফোর্স সেল ও ট্রিগার সেলের শিকার হয়েছেন সে সমস্ত বিনিয়োগকারীর কোডে বিক্রিকৃত মূল্যে শেয়ার ক্রয় করে দিতে হবে।

২১. পুঁজি হারিয়ে নি:স্ব ৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারীদের জীবন মান রক্ষা ও পুঁজিবাজার রক্ষার যৌক্তিক আন্দোলন করতে গিয়ে “বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ” এর নেতাকর্মী বিনিয়োগকারীদের ওপর গ্রেফতার, হামলা, মামলা, গোয়েন্দা নজরদারী এবং মুচলেকা নেওয়াসহ সব রকমের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। যা অদ্যাবধি বলবৎ অবস্থায় রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের চোখে জল আনলো ৫ কোম্পানি

 

সূচকের উত্থান পতনে নিয়মিত পুঁজি হারাচ্ছে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। তাই, ডিভিডেন্ড গেইনিংয়ের প্রত্যাশায় লোকসানের মধ্যেও বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু মুনাফায় থাকলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি চার কোম্পানি। পাশাপাশি এক সময়ের ব্যবসা সফল আরএন স্পিনিংও নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

 

বিনিয়োগকারীরা বলেন, লোকসানি কোম্পানি ডিভিডেন্ড দিবে না এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বছরান্তে মুনাফায় থাকলেও বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড প্রদান না করা স্বেচ্ছাচারিতা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত এসব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পুনঃঅডিট করা।

বিনিয়োগকারী আনিসউজ্জামান বলেন, নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা কোম্পানিগুলো প্রত্যেকটিই ২০১০ সালের পর তালিকাভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একটি কোম্পানি রাইট শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করেছে। আইপিও এবং রাইট শেয়ারের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণে জন্য অর্থ তুলে কোম্পানিটি কোন খাতে ব্যয় করেছে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত।এসব কোম্পানির কারণেই বিএসইসি’র বর্তমান পর্ষদ সুনাম হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, তালিকাভুক্তি ও রাইটের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের পর কি এমন হলো তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রায় ২০টি কোম্পানি রোববার (২৭ অক্টোবর) ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫ টি কোম্পানি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এতে করে বিনিয়োগকারীদের চোখে নতুন করে জল আনলো কোম্পানিগুলো।

সালভো কেমিক্যাল লিমিটেড:

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্রখাতের সালভো কেমিক্যাল লিমিটেড ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোন প্রকার ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬১ টাকা। এছাড়া শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) ২.৩৮ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ১২.১৫ টাকা।

কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১২ ডিসেম্বর সকাল ১০.৩০টায় এজিবি কলোনী, মতিঝিল, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিডি থাই:

সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি। সর্বশেষ অর্থবছরে (২০১৮-২০১৯) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৫৬ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ২৭ টাকা ৩৬ পয়সা।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ নভেম্বর।

জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেড

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্রখাতের জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেড ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোন প্রকার ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা যায়, সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৩ টাকা। এছাড়া শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) ১.৪৬ টাকা (নেগেটিভ) এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ১১.৮৯ টাকা।

কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২১ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় ফ্যাক্টরী প্রাঙ্গণ, আশুলিয়া, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

খান বার্দাস পিপি ওভেন ব্যাগ লিমিটেড

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খান বার্দাস পিপি ওভেন ব্যাগ লিমিটেড ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোন প্রকার ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, সমাপ্ত অর্থবছরে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.২৫ টাকা। আগের বছরের একই সময় কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৭২ টাকা।

৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে (এনএভি) ১২.৬৪ টাকা। আগের বছর একই সময় কোম্পানিটির এনএভি হয়েছিল ১২.৫৩ টাকা।

সমাপ্ত বছরের কোম্পানিটির নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিপিএস) হয়েছে ০.৯৩ টাকা।

আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেড:

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্রখাতের আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেড ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোন প্রকার ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১৫.৪৭ টাকা। এছাড়া শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) ১.১০ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ১.২১ টাকা।

কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২২ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১ টায় লালমাই, কোটবাড়ি, কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক্সপার্টের প্যানেলের প্রতিবদেনে সস্তুষ্ট হলেই আইপিও অনুমোদন

বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরামর্শে দেশের শীর্ষস্থানীয় অডিট ফার্মগুলোর সমন্বয়ে “আইপিও এক্সপার্ট প্যানেল” করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এই প্যানেলের প্রতিবেদন দেখে সন্তুষ্ট হলে নতুন করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করবে বিএসইসি।

বৃহস্পতিবার বিএসইসির সঙ্গে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ডিএসই ব্রোকারের্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতির অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী পাইলাইনে থাকা কোম্পানির আইপিও অনুমোদনে কঠোর হচ্ছে বিএসইসি। কোম্পানির প্রসপেক্টাস গভীরভাবে দেখভালের জন্য ডিএসইকে নতুন করে
এক্সপার্ট প্যানেল’ গঠনের পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি। এক্সপার্টের প্যানেলের প্রতিবদেন দেখে সস্তুষ্ট হলেই নতুন করে আইপিওর অনুমোদন দেয়া হবে।

জরুরি বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, খোন্দকার কামালুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ, সাইফুর রহমান, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান, শরীফ আতাউর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন, মো. হানিফ ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক মাসুদুর রহমান, ডিবিএর সভাপতি মো. শাকিল রিজভী অংশ নেন।

বৈঠকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, বাজারের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ডিএসইর পরিচালকরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পরিস্থিতিতে কমিশন বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। একই সঙ্গে, বাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিএসইসি ও ডিএসই একযোগে সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করে।

এ বিষয়ে ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, কমিশনের সঙ্গে আজ একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বাজারে আস্থা ফিরে পাবে। বাজারে এখন বিনিয়োগাকরীদের মধ্যে শুধু হাহাকার, বাজারে অব্যাহত পতনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ওপর চূড়ান্তভাবে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে বিনিয়োগকারীরা। সর্বোপরি বাজারে সার্বিক বিষয় সম্পর্কে বিএসইসিকে অবহিত করেছি। কমিশন এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে।

সাম্প্রতিক সময়ে যে সমস্ত আইপিও বাজারে এসেছে, সেসব কোম্পানির প্রসপেক্টাস ও আর্থিক প্রতিবেদনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম আস্থা নেই। কারণ এই ইস্যুগুলো আইপিওতে আসার আগে প্রসপেক্টাসে যে তথ্য উপাত্ত ছিল তালিকাভুক্তির পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে চরম আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনতিবিলম্বে গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত হাতে থাকা কোম্পানিগুলোর আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠিন ও কঠোরতর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়-বলে ডিএসইর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সভায় রকিবুর রহমান, শরীফ আতাউর রহমান, অধ্যাপক মাসুদুর রহমান এবং শাকিল রিজভী আইপিও এবং আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরলে বিএসইসি জানায়, তারাও এসব অনিয়মের বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করেছেন। কোম্পানিগুলোর আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে আরও গভীর পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।

এজন্য কমিশন ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সহযোগিতা চেয়ে ডিএসই বোর্ডকে একটি আইপিও পর্ববেক্ষণ প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেয়। এ বিষয়ে ইমন বলেন, ডিএসইর পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদের সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় অডিট ফার্মগুলোর সমন্বয়ে ডিএসই একটি আইপিও “এক্সপার্ট প্যানেল” গঠন করবে। আইপিওতে আসার জন্য ডিএসইতে জমা করা প্রসপেক্টাসগুলো এই প্যানেলের কাছে পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। তাদের দেয়া পর্যবেক্ষণ যাচাই করে বিএসইসি আইপিওর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে।

ইমন জানান, ডিএসইতে নতুন আইপিওর লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রথম দিন ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় দিন তার ওপর ৫০ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার আরোপের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তারপর থেকে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন হবে। এ বিষয়ে কমিশন পরবর্তী আইপিও থেকে এ হারে সার্কিট ব্রেকার আরোপের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

ডিএসইর পরিচালকদের অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন জানায়, আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও প্লেসমেন্টধারী যদি একই ব্যক্তি হয়, সেক্ষেত্রে প্রমাণ সাপেক্ষে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে ১ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর লক ইন (নিষেধাজ্ঞা) আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত দিনে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এই নিময় প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়াও ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ কোনো প্রসপেক্টাসে অসঙ্গতি বা সন্দেহজনক তথ্য পেলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ডিএসই তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন তদন্তের অনুমোদন দেবে।

ডিএসইর পরিচালকরা আইপিও ও রাইট শেয়ার অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশনের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষেতে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইপিওর কর্মকাণ্ড কিছু সংখ্যক ইস্যু ম্যানেজার ও অডিট ফার্মের বৃত্তে আটকে আছে, যা বাজারের জন্য সুস্থ লক্ষণ নয়। বর্তমানে ৫০-এর অধিক মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ৩৭টি নিবন্ধিত অডিট ফার্ম থাকা সত্ত্বেও হাতেগোনা কয়েকটি ফার্মই আইপিওর কাজ করছে।

কমিশন জানায়, নিবন্ধিত থাকা সত্ত্বেও যারা আইপিও আনতে পারছে না তাদেরকে সতর্ক করা হবে, প্রয়োজনে লাইসেন্সও বাতিল করা হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন অডিট ফার্মের ওয়ার্কিং পার্টনারের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে।

নতুন জনবল পাচ্ছে বিএসইসি

 

জনবল কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি)। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সংস্থাটিতে ১৮০টি নতুন পদ সৃজন করার অনুমতি দিয়েছে। এসব পদে জনবল নিয়োগ হওয়ার পর সংস্থাটির জনবল দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যাবে।

অর্থমন্ত্রণালয় ও বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন জনবল কাঠামোর অনুমোদন দিয়ে গত ১৬ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএসইসির বিদ্যমান পদের অতিরিক্ত সৃষ্ট ২০৫টি পদের বিপরীতে ১৮০ পদে জনবল নিয়োগের জন্য একটি চিঠি ইস্যু করে। এ দিনই ই-মেইলে বিএসইতে চিঠির সফটকপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর গত বৃহস্পতিবার পাঠানো হয় এর হার্ড কপি।


যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন গণমাধ্যমকে নতুন জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অনুমোদিত পদগুলোতে জনবল নিয়োগ হওয়ার পর বিএসইসির সক্ষমতা অনেক বাড়বে। বাজার ও অর্থনীতির উন্নয়নে সংস্থাটি আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।

 

উল্লেখ, নতুন সৃজিত বিভিন্ন পদের মধ্যে নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকের ২টি করে পদ রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটিতে ৯জন নির্বাহী পরিচালক ও ১৪ জন পরিচালক রয়েছেন। সম্পূর্ণ নতুনভাবে সৃজন করা হয়েছে অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকের পদ। নতুন কাঠামোতে অতিরিক্ত পরিচালকের ২৪টি ও যুগ্ম পরিচালকের ২৯টি পদ রয়েছে।

উপ-পরিচালকের বিদ্যমান ২৫টি পদের বিপরীতে নতুন করে আরও ৪১টি পদন সৃজন করা হয়েছে। সংস্থাটিতে নতুন করে একজন জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ সহকারী পরিচালক নিয়োগ করা হবে ৫০ জন। বর্তমানে সংস্থাটিতে সহকারী পরিচালকের ৩৫টি পদ রয়েছে। বর্তমানে বিএসইসির জনবল সংখ্যা মাত্র ১৬৪ জন।

গত কয়েক বছরে বাজারের আকার, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিসহ মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বাড়লেও এর জনবল বাড়ানো হয়নি।

 

ফলে বিশাল এই বাজার নিয়ন্ত্রণে বিএসইসিকে হিমসিম খেতে হয়েছে। এত স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে প্রায় দেড় হাজার প্রতিষ্ঠান দেখভাল করা ছিল অনেক দুরূহ। পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে বিএসইসির নতুন অর্গানোগ্রাম বা জনবল কাঠামো অনুমোদন ও নতুন পদে লোক নিয়োগে বিএসইসির দেওয়া একটি প্রস্তাবনা গত ৭ বছর ধরে ঝুলে ছিল। পরে এ প্রস্তাবনাকে মন্ত্রণালয় থেকে ওই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

 

একপর্যায়ে বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শরণাপন্ন হন। আর তাতেই শেষ পর্যন্ত জট খুলে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তিনি এবং একাধিক কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদ্বির করেছেন।

বিনিয়োগ ঝুঁকি আরও কমেছে পুঁজিবাজারে

 

বিদায়ী সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) আরও ১.৪০ শতাংশ কমেছে।

ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি আরও কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১২.৯০ পয়েন্টে। যা সপ্তাহ শেষে ১২.৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.১৮ পয়েন্ট বা ১.৪০ শতাংশ কমেছে।

 

সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৭.৪৭ পয়েন্টে। এছাড়া বস্ত্র খাতের ১২.৭৩ পয়েন্টে,

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৭.৯১ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৩.০৭ পয়েন্টে, বীমা খাতের ১৩.৬ পয়েন্টে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ১৯.৪৯ পয়েন্টে,

বিবিধ খাতের ২০.৪৬ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ১৫.৩৫ পয়েন্টে, চামড়া খাতের ১৯.৮৫ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ২৩.৫৪ পয়েন্টে,

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১০.৮৮ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১৬.৬০ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ২২.১৯ পয়েন্টে, পেপার খাতের ২৪.১৬ পয়েন্টে,

টেলিযোগাযোগ খাতের ১১.৯৩ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ১৩.৬২ পয়েন্টে,

সিরামিক খাতের ১৮.৮৯ পয়েন্টে এবং পাট খাতের পিই ৪০৮.৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ক্ষুধা সূচকে পেছালেও ভারত-পাকিস্তানের ওপরে বাংলাদেশ

 

বিশ্ব ক্ষুধা সূচক প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। মঙ্গলবার প্রকাশিত সূচকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ গত বছরের চেয়ে দুই পেছালেও ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ১১৭টি দেশের মধ্যে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। গত ছিল ৮৬তম।

সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। তবে নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে আছে।

প্রসঙ্গত, গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) তৈরি হয়েছে চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি বিচার করে।

 

এগুলো হলো-অপুষ্টির হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম ওজনের শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার।

গবেষণা সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। মোট স্কোর গতবারের ২৬.১ থেকে কমে হয়েছে ২৫.৮। তার পরও বাংলাদেশ বৈশ্বিক অবস্থানে দুই ধাপ পিছিয়েছে কারণ অন্যদের উন্নতি ঘটছে আরও দ্রুত গতিতে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। ১৭.১ স্কোর নিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান সূচকের ৬৬ নম্বরে। ৩৩.৮ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা আফগানিস্তানের অবস্থান সূচকের ১০৮ নম্বরে।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে এগিয়ে থাকা অর্থনীতি ভারতের এই সূচকে পিছিয়ে থাকার মূল কারণ বিপুল জনসংখ্যা। খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক উন্নতি অব্যাহত রাখলেও জনসংখ্যার বিপুল বিস্তারের তুলনায় তার গতি ধীর।

 

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শিশুর প্রতিদিনের গ্রহণ করা খাদ্যের পুষ্টিমান গড়ে ১৮০০ কিলোক্যালরির কম হলে বিষয়টিকে ক্ষুধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ক্ষুধা সূচক বলছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ অপুষ্টির শিকার। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৪ দশমিক ৪ শতাংশের উচ্চতার তুলনায় ওজন কম। একই বয়সী শিশুদের ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর ওজন বয়সের অনুপাতে কম এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

তিন ইস্যুতে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

 

টানা ছয় কার্যদিবস দরপতনের পর তিন ইস্যুতে দেশের দুই পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। তিনটি ইস্যুর মধ্যে একটি হলো- পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেনের পদত্যাগের গুজব।

বাকি দুটি হলো- ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) বিনিয়োগের খবর এবং ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরু করেছে।

এ তিন ইস্যুতে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ১১০ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বেড়েছে ২৪২ পয়েন্ট। পাশাপাশি বেড়েছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সূচক ও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারে দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের পুঁজি অর্থাৎ বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ হাজার ৭৭৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। যে খাতে চলতি বছরে ২৪ জানুয়ারির পর থেকে সোমবার পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারিয়েছে ৬৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ব্রোকারেজ হাউজ এবং বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে টানা চারদিন দরপতনের পর চলতি সপ্তাহের প্রথম দু’দিন রবি ও সোমবার পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। বাজারে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে দরপতনের দায়ে বিএসইসি
র চেয়ারম্যান পদত্যাগ করছেন।

অন্যদিকে আইসিবি সোমবার (১৪ অক্টোবর) ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা বাজার থেকে ২শ’ কোটি টাকার শেয়ার কিনবে। ২শ’ কোটি টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক আইসিবিকে দিয়েছে। মঙ্গলবার আইসিবি সেই টাকা বিনিয়োগ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন।

এছাড়াও পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে আসতে শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। এ লক্ষ্যে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়ে গেছে।

ফলে টানা ছয় কার্যদিবস পর দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান হলো। ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, আস্থা ও তারল্য সংকটে তলানিতে ঠেকেছে দেশের পুঁজিবাজার। ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে অনেক কম। সার্বিকভাবে ডিএসইর পিই রেশিও এখন ১২-তে অবস্থান করছে। ২০১০ সালের ধসের পরও এত নিচে নামেনি। এখান থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে এরই মধ্যে সোমবার (১৪ অক্টোবর) বেসরকারি সিটি ব্যাংক ৫০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। ব্যাংকটি নিজস্ব ও সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের পোর্টফোলিওতে এই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

বর্তমানে সিটি ব্যাংকের মতো আরও ১৫টি ব্যাংকের রেপোর অর্থ নেয়ার সক্ষমতা রয়েছে। সিটি ব্যাংক সেই অর্থ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। বাকি ব্যাংকগুলো এ অর্থ নিয়ে বিনিয়োগ করলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

গত ২২ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে রেপোর আওতায় ব্যাংকগুলোকে তহবিল সুবিধা দিতে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করার সুযোগ রাখে।

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ ছাড় শুরু

 

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে অর্থ সরবারহ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার বেসরকারি সিটি ব্যাংককে ৫০ কোটি টাকার তহবিল ছাড় দিয়েছে। ব্যাংকটি নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ অর্থ পুঁজিবাজারে আসছে এটা ভালো খবর। ফলে বাজারে বিনিয়োগ বাড়বে, তারল্য সংকট কমবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা ফিরবে। তবে ১৫টির মতো ব্যাংক রেপোর অর্থ নেয়ার সক্ষমতা থাকলেও মাত্র একটি ব্যাংক এ অর্থ নিচ্ছে। এটা খুবই সামান্য। সবগুলো ব্যাংক এ অর্থ নিয়ে বিনিয়োগ করলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

তহবিলের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য রেপোর আওতায় তহবিল চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে বেসরকারি সিটি ব্যাংক। যাচাই-বাছাই করে ৫০ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর আজ (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তহবিল অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ব্যাংকটি আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই তহবিলের অর্থ নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ অর্থ বাজারে কী প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পুঁজিবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর অর্থ আসছে এটা ভালো খবর। এটা বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। এটাকে আমরা স্বগত জানাই। ১৫টির মতো ব্যাংকের রেপোর অর্থ নেয়ার সক্ষমতা থাকলেও মাত্র একটি ব্যাংক এ অর্থ নিচ্ছে।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য মুদ্রাবাজার সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকখাতে এখন অর্থ সংকট চলছে, যার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। এটি দূর করতে হলে মুদ্রাবাজার সংস্কার করতে হবে। গত ১০-১২ বছরে মুদ্রাবাজারে কোনো সংস্কার হয়নি। কোনো সমস্যা হলেই সার্কুলার জারি করছে। বছরের পর বছর সার্কুলার দিয়ে চলেছে। এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাই মুদ্রাবাজার সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রতি আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। কারণ আমানত না বাড়াতে পারলে ব্যাংকের তারল্য সংকট দূর হবে না বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপোর আওতায় প্রাপ্ত তহবিল ব্যাংকটি নিজে সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পাশাপাশি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দেবে। এজন্য ব্যাংক ও তাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সিটি ব্রোকারেজের নামে দুটি পৃথক বিও অ্যাকাউন্টও খুলেছে।

এর আগে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে রেপোর আওতায় ব্যাংকগুলোকে তহবিল সুবিধা দিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়, সার্কুলার জারির তারিখ থেকে আগামী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়।

সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সরকারকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে ধারণ করা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে রেপোর মাধ্যমে তহবিল নিতে পারবে। ওই তহবিল ব্যাংক নিজে বিনিয়োগের পাশাপাশি তার সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে ঋণ দিতে পারবে।

এই তারল্য যাতে পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ হয়, সেজন্য ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারিকে পৃথক বিও হিসেব খুলতে হবে। ব্যাংকসমূহের অতিরিক্ত তারল্য হতে ট্রেজারি বন্ড বা বিল রেপোর মাধ্যমে এই তারল্য সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন রেখে তারল্য সুবিধা নিতে পারবে ব্যাংক। এর অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তার অতিরিক্ত ট্রেজারি বন্ড ও বিলের বাজার মূল্যের ৯৫ শতাংশ অর্থ রেপোর আওতায় নিতে পারবে। আর এ তহবিলের অর্থ ব্যাংকগুলো ২৮ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৮৫ শতাংশই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে আছে। এই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে রাখা অর্থের একটা অংশ বিকল্পভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে এ সার্কুলার জারি করা হয়।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত নিলে সাড়ে ৮১ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। বাকি সাড়ে ১৮ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। মূলত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এমন বিধান রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। সাড়ে ১৮ টাকার মধ্যে সাড়ে ৫ টাকা নগদে সংরক্ষণ করতে হয়। যাকে ব্যাংকিং ভাষায় সিআরআর বা নগদ জমার হার বলে। বাকি ১৩ টাকা সম্পদ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। আর এটাকে ব্যাংকিং ভাষায় এসএলআর বলে। এ সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড।