×
News Details
ব্রেক্সিটের পর বৃটেনের কাছে জিএসপি প্লাস চায় বাংলাদেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বাণিজ্য সুবিধা হিসেবে যুক্তরাজ্যের কাছে জিএসপি ( অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা) প্লাস সুবিধা চায় বাংলাদেশ। এজন্য দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার (২২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসায় বাংলাদেশে সফররত বৃটিশ পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য (এমপি) রোশনারা আলীর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বৃটেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশের রপ্তানিতে তৃতীয় বৃহত্তম বাজার বৃটেন। বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বৃটেনকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া ‘এভ্রিথিংস বাট আর্মস অর্থাৎ ইবিএ’ এর আওতায় বাংলাদেশ বৃটেনের কাছ থেকে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে। বৃটেনে দিন দিন বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। ‘বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবার (ব্রেক্সিট) পর বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য আরো বাড়বে। বাংলাদেশ এবিষয়ে বৃটেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে উভয় দেশের বাণিজ্য প্রায় চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আরো বাড়ানো সম্ভব।

বৃটেনও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।’ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে। তখন আর জিএসপি সুবিধা থাকবে না। এজন্য বাংলাদেশ বৃটেনের কাছ থেকে জিএসপি প্লাস বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাশা করছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। এ সময় বৃটিশ এমপি রোশনারা আলী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ বৃটেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে বৃটেন খুশি। আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার। বৃটিশ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ‘সেখানে বাংলাদেশের তৈরি অনেক পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। উভয় দেশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অনেক বৃদ্ধি করা সম্ভব।’ এজন্য প্রয়োজনীয় বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়েছেন তিনি।

source : banglanews24

‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

উৎপাদনহীন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পাশাপাশি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা দুর্বল এবং স্বল্প মূলধনী কোম্পানি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। গত সপ্তাহে মডার্ন ডাইং ও রহিমা ফুড লিমিটেডকে তালিকাচ্যুত করার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) এবং চলতি সপ্তাহের রোববার (২২ জুলাই) দুই কার্যদিবস দেখা গেছে, ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের একদিকে ছিলো ক্রেতা সংকট। অন্যদিকে শেয়ারগুলোর দামও কমছে পাল্লা দিয়ে। আর তার বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী মোস্তফা ইকবাল বাংলানিউজকে বলেন, জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া যে কোনো সময় এসব কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর বন্ধ হয়ে গেলেই আমার পুরো টাকা জলে যাবে। জেনে শুনে কেন এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবো? তিনি বলেন, ভাগ্যিস আমার হাতে থাকা রহিমা ফুডের ৫ হাজার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছিলাম। না হলে আজ কাগজ নিয়ে পথে পথে ঘুরতে হতো। আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘জাঙ্ক শেয়ার’ থেকে বিনিয়োগকারীরা ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগে ফিরছেন, এটা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি কমবে। বাজারে কমবে কারসাজি, বাড়বে আস্থা। এটি বাজারের জন্য আমূল পরিবর্তন। এটি আরো আগেই হওয়া উচিৎ ছিলো। ডিএসইর তথ্য মতে, উৎপাদনহীন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাক‍ায় মডার্ন ডাইং ও রহিমা ফুডকে তালিকাচ্যুত করা হয় গত বুধবার (১৮ জুলাই)। এরপর দিন বৃহস্পতিবার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা ১৪টি কোম্পানিতে ক্রেতা সংকট ছিলো। এদিন দাম কমার শীর্ষে ছিলো এই ক্যাটাগরির প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছিলো মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ারের।

শেয়ারটির দাম কমেছিলো ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এরপর যথাক্রমে মেঘনা পেটের শেয়ারের দাম কমেছিলো ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, সমতা লেদার ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, হাক্কানি পাল্প ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, দুলামিয়া কটন ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ, ইউনাইটেড এয়ার ৯ দশমিক ০১ শতাংশ, অলটেক্স ৯ দশমিক ০১ শতাংশ ও জিলবাংলা সুগার ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। এছাড়াও ঢাকা ডাইং, এমারেল্ড ওয়েল, বিডি অটোকারস, সিএনএ টেক্সটাইল, কেঅ্যান্ডকিউ, নর্দান জুটের শেয়ারের দাম কমেছিলো ব্যাপক হারে। একই অবস্থায় লেনদেন হয়েছে নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার। এদিনও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত ৪৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের, আর দাম বেড়েছে মাত্র ৭টি কোম্পানির শেয়ারের।

অন্যদিকে লেনদেন অপরিবর্তিত ও লেনদেন হয়নি ১টি করে কোম্প‍ানির শেয়ারের। তার বিপরীতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১২৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে দাম কমার শীর্ষে ছিলো- ইমাম বাটন, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, ইউনাইটেড এয়ার, জুট স্পিনিং, মেঘনা পেট, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন, শ্যামপুর সুগার, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও ঢাকা ডাইং। এই কোম্পানিগুলোর সবগুলোই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বাংলানিউজকে বলেন, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ডিএসই। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও পুঁজিবাজারের কারসাজিরোধে এরইমধ্যে দু’টিকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব কোম্পানি উৎপাদনে নেই, ভবিষ্যতেও এসব কোম্পানি উৎপাদনে আসার সুযোগ নেই তাদেরকে পুঁজিবাজারে রাখা হবে না। কারণ এসব কোম্পানির শেয়ারের কারসাজি হয়। শেয়ারের দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। আর বিনিয়োগকারীরাও লোভে পড়ে বিনিয়োগ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, জাঙ্ক শেয়ারের দাম কমছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ করছেন না। এ দু’টোই পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। তার মানে হলো সম্প্রতি ডিএসই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছেছে। এই সিদ্ধান্ত আরো আগে নিলে পুঁজিবাজারে জন্য আরো ভাল হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ কিংবা অদূর ভবিষ্যতে উৎপাদন চালু হওয়ার সুযোগ নেই, সেইসব কোম্পানিকে দ্রুত ডিলিস্টেড করা উচিৎ।

source : bangla news24

চামড়া রপ্তানি বাড়াতে গবাদি পশু আমদানির অনুমতি

চামড়াশিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে গবাদি পশু আমদানির অনুমতি ও পশুপালনে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন চামড়াশিল্প মালিকরা। ঢাকার হাজারীবাগ থেকে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে সব ট্যানারি স্থানান্তর হলে উৎপাদনক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে চার গুণেরও বেশি হবে। তাই এ ব্যাপারে এখনই সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন। সঠিকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২১ সাল নাগাদ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন রপ্তানিকারকরা। বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হচ্ছে। সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে সব ট্যানারি স্থানান্তর হলে উৎপাদনক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে চার গুণেরও বেশি হবে। চামড়া শিল্প নগরীতে আধুনিক ক্যাপিটাল মেশিনারিজ স্থাপন করা হচ্ছে। এ জন্য যে পরিমাণ কাঁচা চামড়া প্রয়োজন হবে, তা দেশীয় গবাদি পশু থেকে পাওয়া সহজ হবে না। এ অবস্থায় প্রায় ৯০০ মিলিয়ন বর্গফুট কাঁচা চামড়া বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সাভারে ট্যানারি শিল্প নগরী গড়ে ওঠায় উৎপাদনক্ষমতা বেড়েছে তিন গুণ। এখন ট্যানারিশিল্পে কাঁচামাল সংকট দেখা দিচ্ছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বাড়াতে হলে দেশের অভ্যন্তরে গবাদি পশুর উৎপাদন-পালন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি গবাদি পশু এবং কাঁচা চামড়া আমদানি সহজ করতে হবে। অন্যথায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে না। তিনি আরো বলেন, দেশের ট্যানারিগুলো কোরবানির ঈদের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। সারা বছর তেমন বেশি কাঁচা চামড়া পাওয়া যায় না। ট্যানারিশিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবাদি পশু আমদানির প্রয়োজন হবে। এতে দেশে গবাদি পশুর মাংসের চাহিদাও পূরণ হবে। দেশে গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে কাঁচামাল (কাঁচা চামড়া) সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সংকট থেকে অতি দ্রুত উত্তরণের জন্য প্রয়োজনে গবাদি পশু আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি উঠেছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।

পাশাপাশি গবাদি পশু পালনের উপযুক্ত নীতিমালা গ্রহণ ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিতকরণে সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। চামড়াশিল্প মালিকরা জানান, দেশের দ্বিতীয় রপ্তানি আয়ের খাত চামড়া সেক্টর থেকে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছিল প্রায় এক হাজার ২৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী পাঁচ বছরে এই আয় পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে এই সেক্টরের শিল্পদ্যোক্তারা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এখন চামড়া রপ্তানি কমলেও জুতা ও অন্যান্য চামড়াজাত দ্রব্যের রপ্তানি বেড়ে চলেছে। চামড়াশিল্প মালিকরা আরো জানান, এরই মধ্যে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে অবকাঠামো ও কারিগরি উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই খাতে আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে পরিবেশবান্ধব চামড়াশিল্প গড়ে উঠবে বলে আশা করেন শিল্প মালিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিল্প মালিক বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চামড়াশিল্প টিকে আছে। এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। শতভাগ রপ্তানিমুখী এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ বাংলাদেশ ফিনিস লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুট ওয়ার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এম আবু তাহের কালের কণ্ঠকে বলেন, বিভিন্ন কারণে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করতে এই খাতে ভর্তুকি প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। চামড়া রপ্তানিকারকরা জানান, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে মোট রপ্তানির পরিমাণ ২২.০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৮০.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়।

source: kalar kontho

Indian business delegation meets BD apparel exporters

A team of Indian business delegates on Saturday attended a business-to-business (B2B) meeting with Bangladeshi apparel exporters with a view to strengthening trade relationship, especially in textile sector, between Bangladesh and India. A 25-member delegation of Indian exporters of yarn and fabric led by Ujwal Lahoti, Chairman of the Cotton Textiles Export Promotion Council of India and Tseten Nordon Cargyal, Head of Chancery of the Indian High Commission to Bangladesh attended the meeting at BGMEA complex as part of the delegation's four-day business tour in Bangladesh. Presiding over the meeting, Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association (BGMEA) President Siddiqur Rahman said, as well as having many geographic advantages, Bangladesh and India share a long border and a number of custom ports. But the trade relationship between the two countries has not yet achieved the desired result so far, he said, reports UNB. The trade between Bangladesh and India is growing every year.

Because of duty free export of Ready Made Garments (RMG) products, export to India last year was US$279 million which was only US$96 million five years ago, said the BGMEA president. "India is a highly potential market for us because of the population. Global brands and retailers are also opening their stores in India" he said adding that, "Moreover we import most of our cotton, fabrics and other materials from India to produce garments here." He also said, there are some challenges including lack of capacity in the land custom ports, especially in Petrapole and non-payment issues, which are the major barriers. Claiming that there are huge potential of collaboration between the two countries, he said, the Bangladesh and India need to work on the issues to build stronger trade relation. Tseten Nordon Cargyal said, India-Bangladesh relationship has grown exceptionally in the past few years.

Bangladesh's garments export to India has increased. Half of India's export to Bangladesh comprises of raw materials and machinery used by Bangladeshi industries, specially the garment industries, she said adding that, this meeting will create more scopes of business interaction between the two countries. While large scale investments are taking place since the last few years, Bangladesh is an important trading partner of India, said Ujwal Lahoti, Chairman of the Cotton Textiles Export Promotion Council of India. There is a need of extending ties between the textile exporters and suppliers of Bangladesh and India, said Ujwal. In the programme, Md Nasir, Vice President of BGMEA (Finance) also spoke among others.

source : Financial Express

Costs of opening superstores in BD among highest in the region

The costs of opening up a single superstore in Bangladesh are at least four times as much as those of neighbouring countries, according to an analysis. Businesses have to spend as high as Tk 45 million for opening up a 4,000 square feet superstore. The opening of similar-size superstores in Sri Lanka and Indonesia costs Tk 11 million. The Bangladesh Supermarket Owners Association (BSOA) prepared the analysis to present it to the chairman of the National Board of Revenue (NBR). In a presentation, the association members identified three major challenges for the superstore business in Bangladesh. The challenges include, opening up a new mall and its forced shut down, uneven VAT scenario in the market, and harassment in the name of food safety. In a letter, BOSA president and managing director of Rahimafrooz Superstores Limited Niaz Rahim said trade VAT at a rate of 4.0 per cent is discriminatory as it is applicable only to superstore businesses.

"The annual sale of superstores has slipped by 15 per cent in the last six months. Common people are being discouraged to buy things from super shops due to uneven VAT situation," he said. Already, consumers' right protection directorate also warned the superstores that charging VAT on MRP (maximum retail price) is a violation of consumers' right protection act, he added. During fiscal year 2006-09, the rate of VAT for superstores was up to 2.0 per cent. The government revised the rate upward to 4.0 per cent during FY 2012-14. During FY 2014-15, the VAT rate was brought down to 2.0 per cent before raising it to 4.4 per cent during FY 2015-16.

The association president demanded either reduction of VAT to 2.0 per cent or imposition of 1.0 per cent VAT on all retail businesses to address such discrimination. In the analysis, it gave a comparison of uneven VAT scenario between the supermarket and four small groceries. The amount of payable VAT is Tk 56,000 in a month for four small stores. This compared with Tk 1.2 million for a single supermarket. On the anti-adulteration campaign, the association said different government agencies conduct food safety or formalin-free drive movement in the supermarkets causing unusual harassments. Such drives in other countries are conducted by a particular agency of that country. The US Food and Drug Administration (FDA), Food Standards Agency (FSA), Food safety and Standards Authority of India (FSSAI) in India conduct such drives and set policy for the businesses. In 1999, the government gave approval for opening up supermarket in Bangladesh.

The first supermarket was PQS, which was acquired by Agora. According to the BSOA, some 160 supermarkets are running their operations all over the country. Of the stores, some six outlets of Agora, out of 10, are incurring losses. Meena Bazar is also experiencing losses in 16 of its 18 stores. Nandan has only one store active out of four. Shawpno is operating 47 stores, the highest of its rivals. Out of these outlets, a total of 35 are in the red. Talking to the FE, BSOA general-secretary Md Zakir Hossain said there is a need for a policy for salvaging the country's superstore business. "We are incurring losses and facing uneven competition for discriminatory fiscal policy," he said. The government should pay due attention to develop the sector, he added.

source : Financial Express

জনতা ব্যাংকে আবারও বড় ঋণ কেলেঙ্কারি

জনতা ব্যাংকে আবারও বড় ঋণ কেলেঙ্কারি। এবার ভুয়া রপ্তানি নথিপত্র তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এভাবে সরকারের নগদ সহায়তা তহবিল থেকে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা নিয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ। অপকর্মে সহায়তা করার পাশাপাশি ক্রিসেন্ট গ্রুপকে অর্থায়নও করেছে জনতা ব্যাংক। ক্রিসেন্টের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। বিদেশে রপ্তানির ১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা আটকা রয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রুপটি সরকারি ব্যাংক ও সরকারের তহবিল থেকে মাত্র পাঁচ বছরেই নিয়ে নিয়েছে ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। ২০১৩ সাল থেকে এসব অনিয়মের শুরু। খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, গ্রাহক তিনভাবে এর সুবিধা ভোগ করেছেন। রপ্তানি বিলের টাকা বিদেশে রেখে দিয়েছেন। ব্যাংক সেই বিল কিনে গ্রাহককে নগদ টাকা দিয়েছে। আবার এসব রপ্তানির বিপরীতে সরকার থেকে নগদ সহায়তাও নিয়েছে গ্রাহক। জনতা ব্যাংক ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখার মাধ্যমে এত সব জালিয়াতি হয়েছে। শাখাটির মোট ঋণের ৯৮ শতাংশই এ গ্রুপের কাছে আটকা। যার সবই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ক্রিসেন্ট গ্রুপের পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। জনতা ব্যাংকের নিজস্ব অনুসন্ধান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে ব্যাংক ও গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।

এর আগে এক গ্রাহককেই নিয়ম লঙ্ঘন করে জনতা ব্যাংকের ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার ঋণ ও ঋণসুবিধা দেওয়ার খবর দিয়েছিল প্রথম আলো। আবারও একই ব্যাংকের নতুন এক কেলেঙ্কারির খবর মিলল। যেভাবে জালিয়াতি কাগজে-কলমে ক্রিসেন্ট গ্রুপ চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করেছে হংকং ও ব্যাংককে। সেই রপ্তানি বিল ক্রয় করে গ্রুপটিকে নগদে টাকা দিয়েছে ব্যাংক। এখন রপ্তানির টাকা ফেরত আসছে না। ব্যাংক চাপ দেওয়ায় মাঝে মাঝে কিছু অর্থ আসছে দুবাই থেকে। যদিও আমদানিকারক দেশ থেকেই টাকা আসার কথা। তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সরকার থেকে নেওয়া নগদ সহায়তার টাকা দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছে গ্রুপটি। জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখায় গ্রাহক বলতে ক্রিসেন্ট গ্রুপ একাই। শাখাটির মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ছয় প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের ঋণ ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ব্যাংকের রক্ষিত মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি কোনো গ্রুপকে অর্থায়ন করা যায় না। কিন্তু ব্যাংকটির শাখা থেকে ঋণ হিসেবে গেছে মূলধনের ৫৫ শতাংশ। ক্রিসেন্ট গ্রুপের ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ, রূপালী কম্পোজিট লেদার, লেক্সকো লিমিটেড, গ্লোরী এগ্রোর কর্ণধার এম এ কাদের। আর রিমেক্স ফুটওয়্যার নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তাঁর ভাই এম এম আজিজ। রপ্তানির টাকা ফেরত না আসার বিষয়ে গ্রুপটির কর্ণধার এম এ কাদের ১৭ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, হাজারীবাগ থেকে সময়মতো ট্যানারি স্থানান্তর না করায় কারখানার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এ কারণে সময়মতো চামড়া রপ্তানি করা যায়নি। ফলে ১ হাজার ২০০ কোটির বেশি টাকা বিদেশে আটকে আছে। চেষ্টা চলছে টাকা ফিরিয়ে আনার। এ জন্য দেড়-দুই বছর সময় লাগবে। এম এ কাদের আরও জানান, হংকংয়ের প্রতিষ্ঠান চামড়া নিয়ে অন্য দেশে বিক্রি করেছে। এ জন্য অন্য দেশ থেকে টাকা আসছে। তা ছাড়া তাঁর ভাই কোনোভাবে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। আগে নামে ছিল, এখন বাবার পুরো ব্যবসা তিনি একাই দেখভাল করেন। এত টাকা গেল কোথায় গ্রুপটির রপ্তানির ৫৭৭টি বিলের টাকা দেশে ফেরত আসেনি। যার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ১ হাজার ২৯৫ কোটি। এসব রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনেছে হংকং ও থাইল্যান্ডের ৯টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় আছেন বাংলাদেশিরা। আবার পণ্য হংকংয়ে পাঠানো হলেও রপ্তানি বিল পাঠানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমদানি করা এসব প্রতিষ্ঠান ভুয়া। রপ্তানি ভর্তুকির টাকা অবৈধ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দুবাইয়ে নিয়ে ফেরত এনেছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ। এদিকে, ব্যাংকটির ইমামগঞ্জ শাখার ভোল্টের সীমা ৩ কোটি টাকা। এ জন্য গ্রাহকের হিসাবে যাওয়া টাকা উত্তোলনে ব্যবহার করা হতো প্রধান কার্যালয়ের পাশের স্থানীয় শাখাকে। সব অর্থই নগদে তুলে নিয়েছে গ্রাহক। এসব টাকার একটা অংশ গেছে শেয়ারবাজার, স্পিনিং মিল ও আবাসন প্রতিষ্ঠানে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ইমামগঞ্জ শাখায় ৮১ কোটি টাকা জমা হলে সেদিনেই বেসরকারি খাতের আরেকটি ব্যাংকের সাতমসজিদ রোড শাখার ক্রিসেন্ট গ্রুপের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এ হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে এইমস অ্যান্ড গ্রামীণ ওয়ানের শেয়ার কেনা হয়। এ ছাড়া ইমামগঞ্জ শাখা থেকে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্রাহকের হিসাব থেকে কয়েক দফায় টাকা গেছে দুটি স্পিনিং মিল, একটি বিমা কোম্পানি, একটি শেয়ার লেনদেনকারী কোম্পানি ও সাতটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। এম এ কাদের এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রপ্তানি সহায়তা ও ব্যাংকের টাকা দিয়ে সাভারে ১৩টি কোম্পানি করেছি। কোনো টাকা অপচয় করিনি। আমাকে একটু সময় দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। নগদ টাকা দিয়ে চামড়া কেনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেওয়া হয়েছে, এর সবই ব্যবসায়িক। কোথাও দোকান করতে টাকা দেওয়া হয়েছে, কিছু টাকা শেয়ারেও গেছে। দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন আবদুস সালাম। তাঁর মেয়াদেই সবচেয়ে বড় অনিয়ম হয়। ১৫ জুলাই তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সময়ে রপ্তানির বেশির ভাগ টাকা ফেরত এসেছে। ২০০ কোটি টাকার মতো বাকি আছে। মেয়াদের শেষ সময়ে হজে থাকাকালে ও মেয়াদের পরে যেসব রপ্তানি হয়েছে, তা নিয়েই সমস্যা হয়েছে। শাখা ব্যবস্থাপক নিজেই এসব অপকর্ম করেছেন।’ তাঁর সময়ে রপ্তানি বিল শাখার দায়িত্বে ছিলেন ডিএমডি মোহাম্মদ ফখরুল আলম। গত ১২ জুন ফখরুল আলমকে কৃষি ব্যাংকে বদলি করে সরকার। ৪ জুলাই কৃষি ব্যাংকে নিজ কার্যালয়ে বসে ফখরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যা কিছু হয়েছে, সবই শাখার কর্মকর্তারা করেছেন।

আমি শুধু পর্ষদ ও এমডির নির্দেশনা পালন করেছি।’ ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে জনতা ব্যাংকের এমডির দায়িত্বে আব্দুছ ছালাম আজাদ। চলতি মাসে একাধিক দিন এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এই প্রতিবেদক। সবশেষ ১৫ জুলাই তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমস্যা হলো রপ্তানি বিলের অর্থ দেশে আসছে না। টাকা আনতে সংশ্লিষ্ট শাখা গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দায়ের সবই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাত ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ বছর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। আর ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে চেয়ারম্যান হন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান। গত ৭ ডিসেম্বর তাঁর মেয়াদ শেষ হয়। ১৫ জুলাই প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এসব তো পর্ষদে আসে না। এমডি, ডিএমডি পর্যায়েই বিল কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এসবের কিছুই আমি জানি না।’ তাঁদের সময়ে ব্যাংকের পর্ষদ সদস্য ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক নাগিবুল ইসলাম ওরফে দীপু, টাঙ্গাইলের কালিহাতী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবলীগ নেতা আবু নাসের প্রমুখ। ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার কর্মকর্তারাও এর সুবিধা পেয়েছেন। শাখার কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের চিত্র পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০১৫-১৭ সালে শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে থাকা রেজাউল করিমের ব্যাংক হিসাবে বেতন-ভাতার বাইরে ৬০ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলনের চিত্র পাওয়া গেছে। ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক জালিয়াতির মাধ্যমে ক্রিসেন্ট গ্রুপকে সহায়তা করার দায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে ১০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে জনতা ব্যাংক। জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে আর নগদ সহায়তার ৪০৮ কোটি টাকা কেটে সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখার বৈদেশিক ব্যবসার লাইসেন্স (এডি লাইসেন্স) স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সামগ্রিক বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এসব অনিয়মের মূল কারণ হলো, আগের দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া। বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠছে।

source : prothom-alo

সোনার দাম ভরিতে কমছে ১১৬৬ টাকা

বিশ্ববাজারে সোনার দর কমায় দেশের বাজারে সোনার দর প্রতি ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা পর্যন্ত কমাচ্ছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। তবে সনাতন পদ্ধতির সোনা ও রুপার দাম কমছে না। নতুন দর কাল শুক্রবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে। জুয়েলার্স সমিতি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনার দর কমানোর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। দর হ্রাস পাওয়ায় কাল শুক্রবার থেকে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনা ৪৮ হাজার ৬৩৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৬ হাজার ৩৬৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪১ হাজার ২৯১ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি আগের মতোই থাকছে, অর্থাৎ ২৭ হাজার ৫৮৬ টাকা।

কইভাবে রুপার ভরি ১ হাজার ৫০ টাকায় অপরিবর্তিত থাকছে। আজ পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৪৯ হাজার ৮০৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৭ হাজার ৫৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪২ হাজার ৪৫৭ টাকায় বিক্রি হয়। ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা দাম কমছে। সর্বশেষ গত ২১ জুন সোনার ভরির দর ১ হাজার ১৬৭ টাকা হ্রাস করেছিল জুয়েলার্স সমিতি। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ২৭১ মার্কিন ডলার। এরপর গত এক মাসে ধারাবাহিকভাবে সোনার দর কমেছে।

আজ রাত আটটায় প্রতি আউন্স সোনার দর ছিল ১ হাজার ২১৭ ডলার। জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়াল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী সোনা ও রুপা বিক্রয়ের অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে স্বর্ণ নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

source : prothom-alo

আর্থিক খাতে আস্থার সংকট দূর করতে কাজ করবে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল

আর্থিক খাতে আস্থার সংকট দূর করতে কাজ করবে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হবে। আজ শুক্রবার রাজধানীতে ‘আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির ধারণাগত কার্যপ্রণালি’ শীর্ষক সেমিনারে এফআরসির চেয়ারম্যান সি কিউ কে মোস্তাক আহমেদ এ কথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। সি কিউ কে মোস্তাক আহমেদ বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য আর্থিক খাতে বিরাজমান অব্যবস্থাপনা দূর করা। এফআরসি একই লক্ষ্যে কাজ করবে। প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ এনে এফআরসি এ কাজ সম্পন্ন করবে।

এফআরসির কাজের ধরন বর্ণনা করে তিনি বলেন, এফআরসির সিদ্ধান্ত এককভাবে নেবে না। আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করাই এফআরসির একমাত্র লক্ষ্য। অনেক প্রতিষ্ঠান হিসাব নিরীক্ষায় আন্তর্জাতিক মান মানছে না বলেও মন্তব্য করেন মোস্তাক আহমেদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনের তুলনামূলক চিত্রের ব্যবহার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের সদস্য সাব্বির আহমেদ, একনাবিক অ্যান্ড কোম্পানির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের সদস্য মো. রোকুনোজ্জামান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

source : prothom-alo

পাখা মেলছে বিমান ড্রিমলাইনারে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে আগামী মাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭। মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের তৈরি এই উড়োজাহাজের প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। নতুন এ উড়োজাহাজের নাম দেওয়া হয়েছে আকাশবীণা। বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন এ উড়োজাহাজ তাদের যাত্রীসেবার মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এ উড়োজাহাজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পথ সুগম হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি গন্তব্যে ও নতুন বেশ কিছু গন্তব্যে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে আবার যাত্রীসেবা শুরুর পরিকল্পনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আকাশবীণা ছাড়াও আগামী এক বছরের মধ্যে আরও তিনটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের বহরে যোগ হবে। এগুলোর নামকরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাকি তিনটি ড্রিমলাইনারের নাম হলো হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস। এর মধ্যে হংসবলাকা বিমানবহরে যোগ দেবে আগামী নভেম্বরে। আর গাঙচিল ও রাজহংস ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৮ সালে। তৎকালীন সরকার এ জন্য বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ২১০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করে। এ চুক্তির মাধ্যমে তিনটি মডেলের ১০টি উড়োজাহাজ বিমানকে সরবরাহ করছে বোয়িং। চুক্তি অনুযায়ী ইতিমধ্যে বোয়িং থেকে ৪টি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও ২টি ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে। এখন অপেক্ষা বাকি চারটি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের। ড্রিমলাইনার ৭৮৭ হলো বোয়িংয়ের চতুর্থ প্রজন্মের যাত্রীবাহী বিমান। এটি বেশ হালকা ও ৭৬৭ মডেল উড়োজাহাজের চেয়ে ২০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী। যাত্রীদের জন্য এ উড়োজাহাজে আছে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সংযোগ, টিভি দেখা ও টেলিফোনে কথা বলার মতো সুবিধা। বিমানের ড্রিমলাইনার ৭৮৭ উড়োজাহাজে মোট ২৭১টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস ও ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের। এসব আসন ১৮০ ডিগ্রি বাঁকিয়ে বিছানার মতো করা যাবে। একটি আসন থেকে আরেকটি পুরোপুরি আলাদা থাকবে। বোয়িং থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের ব্যবহার শুরু হয়। এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ১ হাজার ৩৭৭টি ড্রিমলাইনার বিক্রি করা হয়েছে। আরও ৬৫০টির ক্রয় আদেশ রয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রিমলাইনারে চড়ে যাত্রীরা সহজে ক্লান্ত হবেন না। কারণ, এ উড়োজাহাজে রয়েছে তুলনামূলক বড় জানালা, প্রশস্ত কেবিন, মুড লাইট ইত্যাদি সুবিধা। ৭৮৭ উড়োজাহাজে আছে চার প্যানেলবিশিষ্ট উইন্ডশিল্ড, শব্দরোধী শেভরন ইত্যাদি। এতে উড়োজাহাজের ভেতরে শব্দ আসে খুব কম। ইন্টারনেট ও ফোন করার সুবিধা ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে যাত্রীরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ফ্লাইটে ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবহার ও ফোনকল করার মতো সুবিধা পাবেন। ওয়াইফাই ইন্টারনেট হবে থ্রিজি গতিসম্পন্ন। বিমান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাত্রীদের বিনা মূল্যে ২০ মেগাবাইট ইন্টারনেট ডেটাও দেওয়া হবে। বিবিসি, সিএনএনসহ ৯টি টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি দেখা যাবে এ উড়োজাহাজে।

যাত্রীদের ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এই সেবা দিতে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্যানাসনিক এভিয়েশন করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান। প্যানাসনিক ২৫টি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডেটা সেবা দেওয়ার কাজ করবে। এ উড়োজাহাজে আরও থাকছে বিশ্বমানের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম (আইএফই)। এর মাধ্যমে ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার হিট চলচ্চিত্র, বিভিন্ন ঘরানার সংগীত, ভিডিও গেম, অনলাইন কেনাকাটার সুবিধা, ক্রেডিট কার্ডে মূল্য পরিশোধ, ডিউটি ফ্রি শপসহ বিনোদনের নানা আয়োজন। কারিগরি বৈশিষ্ট্য মডেল ও কনফিগারেশনভেদে একেকটি বোয়িং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের দাম ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার থেকে ২০ কোটি ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। ড্রিমলাইনারের জানালাগুলো এখন পর্যন্ত নির্মিত সব বিমানের মধ্যে বৃহত্তম। উড়োজাহাজটির একেকটি জানালা ১৯ ইঞ্চি লম্বা, যা অন্য উড়োজাহাজের জানালা থেকে ৬৫ শতাংশ বেশি বড়। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি ১৮৬ ফুট লম্বা। এর দুই পাখার প্রশস্ততা ১৯৭ ফুট। গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে যন্ত্রাংশের সংখ্যা ২৩ লাখ। একবার তেল ভর্তির পর উড়োজাহাজটি একটানা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারে। চালু হবে নতুন রুট ড্রিমলাইনার ৭৮৭ উড়োজাহাজটি ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ বিমানের হয়ে নিয়মিত চলাচল করবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ২৭১ জন যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর যাবে। এরপর একই দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা ফিরে আসবে। এরপর সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে উড়োজাহাজটি। এ জন্য টিকিট বিক্রিও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে বেশ কয়েকটি নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা করছে বিমান। এ প্রসঙ্গে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ প্রথম আলোকে বলেন, এই বিমান দিয়ে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় শুরু করার পথ সুগম হবে। খুব দ্রুত চীনের গুয়াংজু, শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও মালদ্বীপের মালেতে এ উড়োজাহাজ দিয়ে নতুন ফ্লাইট চালু হয়ে যাবে। এ ছাড়া হংকং, নয়াদিল্লি, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও ইতালির রোমেও ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশি পাইলটে চলবে ড্রিমলাইনার বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭ উড়োজাহাজ দেশি পাইলটদের দিয়েই পরিচালনা করা হবে। এ জন্য ১৪ জন পাইলটকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য। এর উড্ডয়ন প্রক্রিয়া প্রায় পুরোটাই বোয়িং ৭৭৭-এর সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা। এ জন্য ৭৭৭-এর পাইলটেরা কোনো রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই ড্রিমলাইনার চালাতে পারবেন। নতুন প্রযুক্তির উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ১১২ জন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারকে সিঙ্গাপুরে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উড়োজাহাজের জন্য কেবিন ক্রুদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফার্নবরাতে আকাশবীণা বিমানের প্রথম ড্রিমলাইনার আকাশবীণা উড়োজাহাজটি এখন যুক্তরাজ্যে রয়েছে। সেখানে এভিয়েশন খাতের মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক প্রদর্শনী ফার্নবরা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার শোতে উড়োজাহাজটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শনী শেষে উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বোয়িং কারখানায় ফিরে যাবে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী ২০ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি প্রতিনিধিদলের কাছে সরবরাহ করা হবে আকাশবীণা। লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা কম এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দূরপাল্লার অভিজাত গন্তব্যের জন্য আদর্শ উড়োজাহাজ হলো ড্রিমলাইনার। কিন্তু এখন বিমানের যেসব আন্তর্জাতিক গন্তব্য চালু আছে, সেগুলোতে ব্যবহারের জন্য ড্রিমলাইনার ৭৮৭ আদর্শ নয়। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপানের বিভিন্ন শহরে ফ্লাইট চালানোর জন্যই এসব উড়োজাহাজ কেনা হয়েছে। কিন্তু এ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যে প্রস্তুতি বিমানের থাকা দরকার ছিল, সেটা করা হয়নি। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গন্তব্যে এসব ব্যয়বহুল উড়োজাহাজ চালানো হলে তা বিমানের জন্য ব্যবসায়িক দিক থেকে লাভজনক হবে না।

source : prothom-alo

কর কমলেও আস্থা সংকট!

তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে করপোরেট কর কমিয়েছে সরকার। কর কমায় কম্পানির মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাবে উপকৃত হবে বিনিয়োগকারী। প্রত্যক্ষ প্রভাব না থাকলেও বিনিয়োগকারীরাই পরোক্ষ ফল পাবে এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। তবে করপোরেট করে ছাড় পেলেও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতে সাম্প্রতিক সংকটে আস্থাহীন বিনিয়োগকারী। পুঁজিবাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে শেয়ার বিক্রির চাপ। সঞ্চয় বা আমানতে উচ্চ সুদহারে শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছাড়ছে অনেকে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত সাধারণ কম্পানির কর ব্যবধান ১০ শতাংশ। তালিকাভুক্ত হলে ২৫ শতাংশ আর বাইরে থাকলে কর ৩৫ শতাংশ, যা অপরিবর্তিত। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ২০১৩ সালে সরকার অনুমোদিত ব্যাংক, বীমা ও প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হলে কর ৩৭.৫ শতাংশ। আর অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৪০ শতাংশ। গত অর্থবছরে তালিকাভুক্ত এই খাতের কম্পানির কর ছিল ৪০ শতাংশ ও অ-তালিকাভুক্ত কম্পানির ছিল ৪২.৫ শতাংশ। তবে আগামী অর্থবছরে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন অপারেটর পাবলিকলি ট্রেডেড ৪০ শতাংশ আর অ-তালিকাভুক্ত ৪৫ শতাংশ। আগের বছরও করহার একই ছিল। বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনৈতির উন্নতির বিষয় তুলে ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার ভূমিকা রাখছে।

শিল্প-কারখানা স্থাপন ও সম্প্রসারণে পুঁজির চাহিদা পুরণে দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী মাধ্যম পুঁজিবাজার। দেশের পুঁজিবাজার অবকাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে এখন অর্থনীতিকে সাপোর্ট দিতে সম্পূর্ণভাবেই প্রস্তুত। প্রয়োজন শুধু নতুন পণ্য ও ভালো কম্পানির শেয়ারের জোগান। তবে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নেওয়ার মতো কিছু নেই। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাজেটে সরকারের সদিচ্ছার বিষয়টিও প্রতিফলিত হয়নি, কিন্তু আগের বছর পুঁজিবাজার নিয়ে পৃথক প্যারা সংযুক্ত ছিল, যাতে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতামত ছিল। সূত্র বলছে, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২.৫ শতাংশ করপোরেট কর ছাড়ের সুবিধায় তালিকাভুক্ত কম্পানির বিনিয়োগকারী উপকৃত হবে। কিন্তু ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ খেলাপি ঋণের প্রভাব পড়ে বিনিয়োগকারীর ঘাড়েই। বছর শেষে ব্যাংকের মুনাফা কমে যায়, এতে লভ্যাংশও কমে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণের ১০.৭৮ শতাংশ। এই খেলাপি ঋণ এ যাবত্কালের সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা ওই সময় পর্যন্ত মোট বিতরণ করা ঋণের ৯.৩১ শতাংশ।

এদিকে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধের সংকটমূলক মুদ্রানীতিতে লাগাম ঋণ ঠেকাতে ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমালে ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দেয়। ঘাটতি অর্থ পূরণে ব্যাংক উচ্চহারে আমানত নেওয়া শুরু করলে সুদের হার এক ডিজিট ডিঙ্গিয়ে ডাবল ডিজিট হয়। উচ্চ সুদের ঋণে বিনিয়োগ থমকে যাওয়ার শঙ্কায় সিআরআর কমিয়ে ১০-১২ হাজার কোটি টাকার জোগান দেওয়া হলেও এখনো অস্থিরতা কাটেনি। ব্যাংক মালিকরা সুদের হার এক অঙ্কের নিচে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সুদের হারও বেশ চড়া। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাজেটে করপোরেট কর ছাড় দেওয়া প্রসঙ্গে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে নানামুখী সংকটে জর্জরিত ব্যাংক খাত উন্নতি হবে। কিন্তু খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতের বিনিয়োগকারীর আস্থা সংকট দেখা দিয়েছে। কর ছাড়ে পুঁজিবাজারে সম্ভাবনার সৃষ্টি হলেও বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতায় সেটির প্রতিফলন হচ্ছে না। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের ২০১৭ সালের সমন্বিত আর্থিক হিসাবে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের মধ্যে ১৬টির মুনাফা হ্রাস পেয়েছে। ২০১৭ সালে ১৪টি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। তবে ১৫টি ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের বোনাস বা স্টক লভ্যাংশ দিয়ে নিজেদের ক্যাটাগরি টিকিয়েছে। মুনাফার সবটুকুই নিজেদের হাতে রেখে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীর কোনো ফল আসেনি।

অন্যদিকে ব্যাংক আমানতে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারের মূলধন তুলে নেওয়ায় অনেকে সঞ্চয়ে ফিরছে। এতে শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বড় কম্পানির মধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধনই বেশি। বাজার মূলধনের প্রায় অর্ধেকই এই তিন খাতের। কাজেই এই খাত প্রভাবিত হলে পুঁজিবাজারেও বড় প্রভাব পড়ে। এবার তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংক, ২৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আর ৪৭টি ইনস্যুরেন্স বা বীমা ২.৫ শতাংশ হারে কর ছাড় পাচ্ছে, যা আগামী অর্থবছরের হিসাবে কম্পানির মুনাফায় প্রভাব ফেলবে। বিনিয়োগকারীদের বেশি লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে সরাসরি কোনো উপকার না হলেও পরোক্ষাভাবে উপকৃত হবে বিনিয়োগকারীরাই। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করপোরেট কর ছাড়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক কিন্তু এই ছাড়ের অর্থ বিনিয়োগকারীদের দেবে কি না সেটা কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার বিষয়। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়া ও তারল্য সংকটে ব্যাংক খাতে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়ছেই। করপোরেট কর ছাড়ে বিনিয়োগকারীর জন্য সুখবরই তবে যদি কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকে।’ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক কম্পানিগুলোর জন্য ২.৫% করপোরেট কর কমানোর সুবিধা সব লিস্টেড কম্পানির জন্য প্রদান করতে হবে।

ক্রমান্বয়ে ভবিষ্যতে লিস্টেড এবং নন-লিস্টেড কম্পানির করপোরেট করহারের ব্যবধান বর্ধিতকরণেরও সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করপোরেট কর ছাড়ের ঘোষণার পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই করহার পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য মনে হয় দেয়নি। কর কম দিলে ব্যাংক খাতের লাভ। নতুন কম্পানি বাজারে আনা ও গতিশীল করতে সব কম্পানিরই করপোরেট করে ছাড় দিতে হবে। আর তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কম্পানির কর ব্যবধান বৃদ্ধি করতে হবে।’ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তে ব্যাংক ও আর্থিক খাত চাঙ্গা হবে। বিনিয়োগকারীরা সরাসরি কোনো উপকার না পেলেও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

source : kalar kontho