×
News Details
ফের বেড়েছে ব্যাংকগুলোর ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ

বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধার আবেদন আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছে। বিষয়টির ওপর আদালতের নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণকারী এ সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (১৭ নভেম্বর) ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট-সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালার ওপর নতুন সার্কুলারটি জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্ট খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারকে বৈধ ঘোষণা করে তার মেয়াদ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর রায় দেন। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন ও আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ দিতে ৯ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে,
মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের চলতি মাসের ৩ তারিখের (নভেম্বর, ২০১৯) রায়ের আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’


সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে গৃহীত সিদ্ধান্ত হলো :- বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৫/২০১৯ এর আওতায় ঋণগ্রহিতাদের আবেদন করার সময়সীমা অত্র সার্কুলার লেটার জারির তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিন বৃদ্ধি করা হলো। ফলে পুনঃতফসিল পরবর্তীতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতেও নতুন করে ঋণ দেয়া যাবে। বিশেষ নিরীক্ষা ব্যতীত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের ঋণগ্রহিতাদের অনুকূলেও সার্কুলারে বর্ণিত সুবিধাদি দেয়া যাবে।’


ঋণগ্রহিতার নিকট হতে প্রাপ্ত ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত আবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে অনুমোদন দিতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।’

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর খেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধা গ্রহণের জন্য আবেদনের সময় শেষ হয়। ২৩ অক্টোবর সার্কুলার জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের
ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’। সাকুলারে কেউ নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে নির্ধরিত সময়ে যারা আবেদন করেছিলেন তা নিস্পত্তির জন্য এক মাস সময় বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই বর্ধিত সময় অনুযায়ী আগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পাওয়ার কথা ছিল। তবে এ সময় সুবিধাভোগীরা নতুন কোনো ঋণও নিতে না পারার কথা ছিল।’

এর আগে গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়। এতে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সরল সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ টানা ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলের নিন্দা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এরপর ২৩ অক্টোবরের ওই সার্কুলারের স্থগিতাদেশ চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদালতে একটি রিট করা হয়।

সংসদে পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, গত জুন পর্যন্ত দেশে ঋলাপী ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। এসব ঋণের মধ্যে ব্যাংকের খেলাপী ১ লাখ ৬ হাজার ৫৫ কোটি টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ৪২ কোটি টাকা।

বুধবার সংসদে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, খেলাপী ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের আলোকে খেলাপী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ১৬ হাজার ৮শ ২৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

মহিবুল রহমান মানিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকসমূহে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং কর্মপরিধি সম্পর্কে দিক-নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের ঝুঁকি মোকাবেলায় ১২ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

মো. মহিববুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে অনলাইনে সরাসরি আবেদন করে থাকে। গত ৩ নভেম্বর-১৯ পর্যন্ত ২৪৬ জন সরকারি কর্মচারী ঋণের আবেদন করলেও ১৯০ জন এ সুবিধা পেয়েছেন। আবেদনে ত্রুটি থাকায় ৫৬ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় একক আবেদনকারী কেবলমাত্র জমি ক্রয়ের জন্য কোন ঋণ সুবিধা পাবেন না। তবে, গ্রুপভিত্তিক জমি ক্রয়সহ বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

পীর ফজলুল রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার রোধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিদেশ হতে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে অর্থপাচার বিষয়ক প্রায় ৪০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কর্ফোস অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৬৩২ জন। ঢাকাসহ ২৭ কর অঞ্চলের মাধ্যমে করদাতারা কর প্রদান করছেন।

বেগম রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যমান বিও একাউন্টধারীদের মধ্যে সকল বিনিয়োগকারী একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে লেনদেন করে না। কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারী প্রায়শই লেনদেন করেন, কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারী স্বল্প ও দীর্ঘ বিরতির পর লেনদেন করেন।

তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজের মূল্যের উখান-পতন একটি স্বাভাবিক ঘটনা, এর ফলে বিনিয়োগকারীগণ স্বাভাবিক নিয়মেই লাভ-লোকসান করতে পারে।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর গত ৯ মাসে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৩ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সূচক সামান্য কমলেও লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা

প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেনদেন বেড়েছে আজ। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেনের শুরুতে উত্থান থাকলেও ২৫ মিনিট পর সেল প্রেসারে নামতে থাকে সূচক। শেষ দিকে একবার ঘুঁড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যহত হয় বাজার। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার অংকে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় অনেকটা  বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।আর আগের দিন  সোমবার লেনদেন হয়েছিলো ২৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।সে হিসাবে আজ লেনদেন বেড়েছে ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

আজ দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪৭৭৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১০৯৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ০.০৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৬৬৪ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৫৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৮টির, কমেছে ১৯৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির। আর দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৩৯২ কোটি ৫০ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবস দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৪৭৮১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১০৯০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৬৬৪ পয়েন্টে। আর ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ২৯৬ কোটি ৬৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৯৫ কোটি ৮৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

এদিকে দিন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক সিএসইএক্স ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৮২৯ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৫৪টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। আর দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে চালু হলো “বাংলা বন্ড”

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম “টাকা ডিনমিনেটেড বন্ড”, যার নাম দেয়া হয়েছে “বাংলা বন্ড”। এই বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বাজার থেকে তোলা হবে।

সোমবার লন্ডন স্টক মার্কেটে স্থানীয় সময় সকাল ৭:৫৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা টাকা বন্ডকে তালিকাভুক্ত করার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রিং দ্যা বেল নামের এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। বাংলা বন্ড চালু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ। এই বন্ড চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ আরো সহজতর হবে।

তিনি বাংলা বন্ড চালুর পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। এমনকি বাংলা বন্ড নামকরণটিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বলেও জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইএফসি এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নেনা স্টেলকোভিক, ব্রিটেনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম, বিডার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং আইএফসি ডিরেক্টররা।

এরপর লন্ডন সময় সকাল সাড়ে ৯টায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ সেমিনার রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়ার জন্য লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে চালু হয়েছে “বাংলা টাকা বন্ড”। এটি হবে একটি টাকা বন্ড। এই বন্ডের আকার হবে ১০০ কোটি ডলার। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বাজার থেকে তোলা হবে ১ কোটি মার্কিন ডলার বা ৮৪ কোটি টাকা। প্রবাসীরা ডলারে এই বন্ড কিনলেও প্রথমবারের মতো তা টাকায় রূপান্তর করে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) হবে এই বন্ডের ইস্যু ম্যানেজার।

তিনি বলেন, এটির মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘ মেয়াদী অর্থায়নের সম্ভাবনার পথ চলার একটি ধাপ শুরু হলো। যা আমাদেরকে ২০৪১ এর স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহায়তা করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই প্রথম বাংলাদেশের টাকা কোনো আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। টাকা লন্ডন স্টক মার্কেটে লেনদেন হবে। যে কেউ এই বন্ড কিনতে পারবে। ডলার দিয়ে এই বন্ড কিনতে হবে। সেই ডলার টাকায় কনভার্ট হয়ে তা বিনিয়োগ করা হবে। আইএফসি বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেছে। এই ১ বিলিয়ন ডলার “টাকা বন্ড” ছাড়ার মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ আরো বাড়বে।

বিষয়টি নিয়ে আইএফসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়ার জন্য এই বন্ড চালু করা হয়েছে। বন্ডের অর্থ ডলার থেকে টাকায় রূপান্তরের পর বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে আইএফসি।

এরই অংশ হিসেবে চালুকৃত বন্ডের মাধ্যমে গঠিত এ তহবিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী এবং অন্যতম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী “প্রাণ গ্রুপ”কে দেয়া হবে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোনো পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করছে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ আজ বাংলা বন্ডকে তাদের মূল বাজারে অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই বন্ডের মেয়াদ হবে তিন বছর। পরে তা বাড়িয়ে ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর করা হতে পারে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রথমে তিন বছর মেয়াদী রুপি বন্ড ছাড়া হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০ বছর। প্রবাসী ভারতীয়রা এই বন্ডে বিপুল হারে বিনিয়োগ করেছেন। প্রবাসে বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা বাংলা বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ২০১১ সাল থেকে এ ধরনের বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনার কথা বলে আসছিল। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকে আইএফসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার তখনই এ বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল।

এরপর আইএফসি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায়। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অর্থমন্ত্রণালয় একই বছর ৪ অক্টোবর এক চিঠিতে “বাংলা বন্ড” ছাড়ার অনুমোদনের বিষয়টি জানায়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যাচাই কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে আইএফসির ওই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

ওই কমিটির কাছে প্রাণ গ্রুপের পক্ষে এ বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব করে আইএফসি। চলতি বছরের এপ্রিলে আইএফসির প্রস্তাবে সাড়া দেয় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

এই বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, সেখান থেকে প্রাণ অ‌্যাগ্রো ও নাটোর অ‌্যাগ্রো ৮০ কোটি টাকা করে ঋণ পাবে। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ ঋণ সমান কিস্তিতে তিন ও পাঁচ বছরে তাদের পরিশোধ করতে হবে।

চার মাসে রপ্তানি কমেছে ৮ হাজার কোটি টাকা

গত বছর বাংলাদেশ রপ্তানি আয়ে ভালো করলেও চলতি বছর এ খাতে সুখবর নেই। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই-অক্টোবরে রপ্তানি আয়ে বড়ো ছন্দপতন হয়েছে। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমে গেছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।

গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলারের রপ্তানি হলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি ডলারে। অর্থাত্ গত চার মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৯৩ কোটি ডলার যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় পৌনে আট হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কমেছে ১১ দমমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হাল নাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চার মাসের মধ্যে গত তিন মাস ধরে টানা রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে সদ্য সমাপ্ত অক্টোবরে রপ্তানিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমেছে ১৭ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসেই রপ্তানি কমতির দিকে। জুলাইয়ে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হলেও এর পর রপ্তানি আয় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী মাসগুলোয় এ পরিস্থিতির ইতিবাচক অগ্রগতি না হলে তা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গার্মেন্টস শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অনেক মালিকেরই সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকই অব্যবহূত থেকে যাচ্ছে। আমার নিজের কারখানায়ও একই অবস্থা। এটি শঙ্কা তৈরি করেছে। আগামী দিনেও রপ্তানি কমতির দিকে থাকবে। অথচ এই সময়ে রপ্তানি বাড়ার কথা।

রপ্তানি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে কিছু ক্রয়াদেশ স্থানান্তর হয়ে মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন ছাড়াও গ্যাস-বিদ্যুতের দর বৃদ্ধির কারণে আমাদের উত্পাদন খরচ বেড়েছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর স্থানীয় মুদ্রা ডলারের বিপরীতে দুর্বল হওয়ায় তারা আমাদের চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক দরে অর্ডার নিতে পারছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী পোশাকের দরও কমতির দিকে। সব মিলিয়ে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রপ্তানির জন্য ডলারের আলাদা মূল্য নির্ধারণসহ সরকারের নীতি-সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। আলোচ্য সময়ে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছিল ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছর প্রায় পৌণে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিই ছিল। তবে এর পর থেকেই উলটো পথে হাঁটতে শুরু করেছে রপ্তানি।

পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে নতুন প্রদক্ষেপ নিলো সরকার

দর পতন ও বিক্রয় চাপের মধ্যে দিয়ে চলছে পুঁজিবাজারের কার্যক্রম। ব্যাংকগুলোর অর্থছাড় থেকে শুরু করে আইসিবিকে প্রনোধণার অর্থও দিয়েছে সরকার। কিন্তু তার পরেও গতি ফিরছে না পুঁজিবাজারে। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে নতুন আদেশ জারি করেছে সরকার।

এবার পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ওপর স্ট্যাম্প ডিউটি কমিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি ২ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) অফিস আদেশ জারি করছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, স্ট্যাম্প অ্যাক্ট, ১৮৯৯ তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ট্রাস্ট চুক্তিপত্র নিবন্ধনের উপর আরোপিত স্ট্যাম্প ডিউটি ২ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

তবে এটি অনধিক ১০ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি:

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (৬ নভেম্বর) সূচক বেড়ে শেষ হয়েছে এদিনের লেনদেন কার্যক্রম। এদিন, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫০ পয়েন্ট। গত কার্যদিবস মঙ্গলবার বেড়েছিল ২৫ পয়েন্ট।

এছাড়া, এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে হয়েছিল ৩০৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সুতরাং এক কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা।

ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক বেড়ে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ১৩ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক ১১ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে ২০ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ২৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ২৯ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১১টায় সূচক আরও ৩১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। বেলা সাড়ে ১১টায় সূচক ৩৭ পয়েন্ট বাড়ে এবং বেলা ১২টায় সূচক ২৩ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১টায় সূচক বাড়ে ২৭ পয়েন্ট, বেলা ২টায় সূচক ৪৪ পয়েন্ট বাড়ে এবং বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৭৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৬৫৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৯ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২২১টির, কমেছে ৮১টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বুধবার দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে ডিএসই’র শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- ন্যাশনাল টিউবস, ব্র্যাক ব্যাংক, জেনেক্সিল, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স, ভিএফএসটিডিএল, স্কয়ার ফার্মা, সিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, ফার্মা এইড এবং সোনারবাংলা ইনস্যুরেন্স।

সিএসই

অন্যদিকে, লেনদেন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ৭৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই-৩০ সূচক ১১৫ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৭৪৯ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ১৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৪৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিন দাম বাড়ার ভিত্তিতে সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- সমরিতা হাসপাতাল, সলভো কেমিক্যাল, এইচআর টেক্সটাইল, ড্যাফোডিল কম্পিউটার, বিপিএমএল, সমতা লেদার, মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনারবাংলা ইনস্যুরেন্স, হাক্কানী পাল্প এবং ইনটেক অনলাইন।

পুঁজিবাজার নিয়ে আশার কথা শোনালেন দুই বিশ্লেষক

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন দুই বাজার বিশ্লেষক শাকিল রিজভী এবং অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

শাকিল রিজভী বলেছেন, বাজারে যে টানা দরপতন হচ্ছিল সেটা আর হবে না। মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন পর বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তকে পুঁজিবাজারের জন্য “সুখবর” হিসেবে দেখছেন।

মন্দা এবং অস্থির পুঁজিবাজারে গত অক্টোবর মাসের ২২ দিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬৫ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ হারিয়েছে। তবে রোববার নভেম্বর মাসের প্রথম লেনদেনে এই সূচক ৩০ পয়েন্টের মতো বেড়েছে।

বাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোকে “ইতিবাচক” মন্তব্য করে ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “বাজারে টানা যে দরপতন হচ্ছিল, সেটা আপাতত বন্ধ হয়েছে। এখন আর ক্রমাগত পতন হবে না। বাড়বে-কমবে এমনটা হবে।”

“ভয় পেয়ে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছিল। সে কারণে সূচকের পতন হচ্ছিল।সেটি এখন বন্ধ হবে।”

শাকিল রিজভীশাকিল রিজভী কেনো এমনটা মনে করছেন- এ প্রশ্নের উত্তরে শাকিল বলেন, “তারল্য সংকটের পাশাপাশি যে সব কোম্পানির বছর জুন মাসে শেষ হয়েছে তারা যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল সেগুলো খারাপ ছিল। অর্থাৎ ঔ কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ দেয়নি। সে কারণে পুঁজিবাজারে প্রায় টানা দরপতন হয়েছে।”

“যেহেতু জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ঘোষণা শেষ হয়ে গেছে।এখন ডিসেম্বরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্য কোম্পানির হিসাব বছর শেষ হবে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে সেগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা আসবে। তার আগে পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের সম্ভাবনা নেই।”

“এখন আর আগের মত সূচক কমার সম্ভাবনা নেই; ৫০ পয়েন্ট বাড়বে, ২০ পয়েন্ট কমবে- এভাবেই হয়তো সূচক ইতিবাচক ধারার দিকে যাবে। যে সব কোম্পানির শেয়ারের দাম একটু বেশি বেড়েছিল সেগুলো কিন্তু কমে এখন সঠিক অবস্থায় এসেছে। এই অবস্থা থেকে আরও নিচের দিকে নামার সম্ভাবনা একবারেই কম। অন্য কোম্পানির দর কমতে কমতে একেবারে নিচে নেমে এসেছে।”

“দেখে-শুনে এই বাজারে শেয়ার কিনলে ভালো মুনাফা আসবে। বিনিয়োগকারীরা সেই সুযোগটা নিতে বাজারমুখি হবেন বলে আমার মনে হয়।”

অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) উদ্বৃত্ত হওয়া বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য “একটি সুখবর” বলে মনে করছেন আরেক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

অধ্যাপক মিজানুর রহমানঅধ্যাপক মিজানুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স) ঘাটতি (ঋণাত্মক) ছিল।এটিকে তারল্য সংকটের একটি পরিমাপক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুঁজিবাজারে যে দরপতন তার একটি কারণ ছিল এই তারল্য সংকট।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত হওয়ায় বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা-এ প্রশ্নের উত্তরে মিজানুর রহমান বলেন, “এর ইতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়তে আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। এটা ছয় মাসের আগে বলা যাবে না। তবে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স পজিটিভ হওয়া পুঁজিবাজারের জন্য একটি সুখবর।”

আমদানি কমায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ; যা অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা- তা নিয়ে সংশ্রয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের এই দুই মাসে উদ্বৃত্তের বদলে এই সূচকে ৭০ লাখ ডলার ঘাটতি (ঋণাত্মক) ছিল।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য বা ব্যালেন্স অফ পেমেন্টে ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বড় ঘাটতি (ঋণাত্মক) নিয়ে শেষ হয়েছিল গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর।

বিদেশিরা ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার বেশি বিক্রি করেছেন

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের প্রথম পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়ের বিপরিতে ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার বেশি বিক্রি করেছেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

 

সূত্র মতে, আলোচ্য সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৩ হাজার ৩০৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। অন্যদিকে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি এই দুই মাসে পুঁজিবাজারের প্রতি বিদেশিদের বেশ আগ্রহ থাকলেও এরপরের মাস থেকেই আগ্রহ কমতে থাকে।

 

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদেশিরা ৪৯৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৩২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। জানুয়ারি মাসে বিদেশিরা বিক্রির চেয়ে ক্রয় বেশি করেছিল ১৭৫ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৮৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ২৬৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ বিক্রির চেয়ে কেনার পরিমাণ বেড়েছিল ৩২৩ কোটি টাকা।

 

মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৪৯৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কেনার চেয়ে বেশি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ১২৪ কোটি টাকা। এরপরের মাসে এপ্রিল মাসে ২৫৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৪১১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কেনার চেয়ে বেশি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ১৫৪ কোটি টাকা।

মে মাসে ৩২০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৩৮৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কেনার চেয়ে বেশি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ৬৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। জুন মাসে ২৯৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৩০৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কেনার চেয়ে বেশি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

জুলাই মাসে ৩০৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৪৭৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কেনার চেয়ে বেশি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ১৬৫ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে ১৭৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কেনার চেয়ে বেশি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ১০২ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বর মাসে ২৫৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৩১৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কেনার চেয়ে বেশি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া গত মাসে অর্থাৎ অক্টোবর মাসে ২৩২ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৩২৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কেনার চেয়ে বেশি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ৯৭ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারে দুষ্টচক্রের আনাগোনা বেড়েছে: সিপিডি (ভিডিও)

পুঁজিবাজারে দুষ্টচক্রের আনাগোনা বেড়েছে। এর ফলে ক্রমাগতভাবে সূচকের পতন হচ্ছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, অর্থসংকট পুঁজিবাজারের মূল সমস্যা নয়। মূলত দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কাঠামো এবং করপোরেট সুশাসনের অভাব পুঁজিবাজারের প্রধান সমস্যা।

 

রবিবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সিপিডি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশেষ ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান ও খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুঁজিবাজারে দুষ্টচক্রের আনাগোনা বেড়েছে। এর ফলে ক্রমাগতভাবে পতন হচ্ছে সূচকের। দুর্বল আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব), অস্বচ্ছ বার্ষিক প্রতিবেদন, বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার) অ্যাকাউন্টের অপর্যাপ্ত স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম অস্থিতিশীল করে তুলেছে পুঁজিবাজারকে। এসব সমস্যা সমাধানে কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার বিকল্প নেই। এছাড়া নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করছে কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে বলা হয়, আমাদের সামনে সব সময় ২৭ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু প্রকৃত চিত্র আসলে ভিন্ন। বর্তমানে পুঁজিবাজারের মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৬৬ লাখের বেশি। প্রতিবছর যে হারে বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ছে সে হারে বিনিয়োগ বাড়ছে না। সুতরাং নতুন নতুন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এই সমস্যা সমাধানে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য টিআইএন নম্বর (কর শনাক্তকারী নম্বর), জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেয় সিপিডি।

রোববার মতিঝিল ছাড়ছে ডিএসই

 

দীর্ঘদিনের ঠিকানা মতিঝিল ছেড়ে রোববার (৩ নভেম্বর) থেকে রাজধানীর নিকুঞ্জে নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করবে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ইতোমধ্যে মতিঝিলের অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নকুঞ্জের ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডিএসইর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

সূত্রটি বলছে, নিকুঞ্জের নিজস্ব ভবনে গেলেও ডিএসইর কয়েকটি বিভাগের কার্যক্রম আরও কিছুদিন মতিঝিলের অফিসে হবে। এর মধ্যে ট্রেনিং ও প্রকাশনা বিভাগ আরও ১৫ দিনের মতো মতিঝিলে থাকবে। আর আইটি বিভাগ এক বছরের মতো মতিঝিলে থাকবে। এই কয়টি বিভাগ ছাড়া বাকিগুলো রোববার থেকে নিকুঞ্জের নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম চালাবে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালে চার কোটি টাকায় রাজধানীর খিলক্ষেত-নিকুঞ্জ এলাকায় (বিমানবন্দর সড়কের পাশে) চার বিঘা জমি বরাদ্দ পায় ডিএসই। এই জমির ওপরেই ডিএসইর নিজস্ব ১৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

 

ডিএসইর ২০১১-২০১২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহুতল ভবনটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা ছিল ১৩২ কোটি টাকার বেশি। নকশা অনুযায়ী- ভবনের আয়তন ৭ লাখ ৪১ হাজার ১০৯ বর্গফুট। ভূগর্ভস্থ তিনতলা কার পার্কিংয়ের স্থান বাদে মূল ভবন হবে ১৩ তলা।

এর প্রথম দুই তলায় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সাব-স্টেশন, লবি, মিডিয়া সেন্টারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থাকার কথা রয়েছে। চতুর্থ তলা ডিএসইর অফিসের জন্য বরাদ্দ রাখা। পঞ্চম তলা থেকে ১১ তলায় ব্রোকারেজ হাউস ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থাকবে।

 

অডিটরিয়ামের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ তলার কিছু অংশ ও ১৩ তলা। ভবনে ওঠা-নামায় যাত্রীবাহী লিফটের সঙ্গে থাকবে একটি কার্গো লিফট।

২০০৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ। ওই বছর ২৮ মার্চ ডিএসইর তৎকালীন সভাপতি শাকিল রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।