×
News Details
সোনা নিয়ে পদক্ষেপে অর্থমন্ত্রীর ফেরার অপেক্ষা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থমন্ত্রী ফেরার ‘পরদিনই’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে সোনায় ‘গোলমাল’ নিয়ে ‘ব্রিফ’ করে পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। RELATED STORIES ভল্টের সোনা কারসাজি সরকারি লুটের আলামত: মোশাররফ সব সোনা ঠিক আছে, ঘরেই আছে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী সোনায় হেরফের হয়নি, হয়েছে ইংরেজি-বাংলায় ভুল: বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রাতে আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেশে ফেরার কথা রয়েছে উল্লেখ করে সোমবারই তারা আলোচনার বসতে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সে রোববার এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা শীর্ষ পর্যায় থেকে আমাকে আশ্বস্ত করেছে, ব্যাংকে রক্ষিত আমাদের সম্পদ সব ঠিক আছে। তবে একটা কথা যেহেতু উঠেছে, এটাকে আমরা পর্যালোচনা করব, দেখব।

“আজকে (রোববার) বোধহয় অর্থমন্ত্রী দেশে আসবেন...কাল তার সাথে বসে ব্রিফ করব...ব্রিফ করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।” অর্থমন্ত্রী ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ইফেক্টিভ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন’ শিরোনামে এক আন্তর্জাতিক কর্মশালায় যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠার প্রেক্ষাপটে মান্নান বলেন, “যদি কেঁচো খুঁড়তে যেয়ে সাপ বের হয়, আমরা ডিল করব। “আমরা নিজের ধারণা এটাকে আরও পর্যালোচনা করা উচিত, এরপর তদন্ত হবে কি না তা পর্যালোচনার পর বের হয়ে আসবে।” টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) আয়োজনে এই আলোচনা সভা শেষে এ মন্তব্য করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল।

ভল্টে সোনা হেরফের প্রসঙ্গে ডেপুটি গভর্নর সাংবাদিকদের বলেন, “অর্থমন্ত্রী এটাকে পর্যালোচনা করে দেখবেন, কোনও দোষ আছে কি না দেখা হবে, যদি দোষ খুঁজে পাওয়া যায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনো হেরফের হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “সোনা যদি আপনি সরাতে চান তাহলে সোনার বদলে সোনা রাখবেন না, অন্য কিছু রাখবেন। ২২ বদলিয়ে ১৮ রাখবেন না। তারপরও পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হবে।” শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে দৈনিক প্রথম আলোতে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে ভল্টের সোনা নিয়ে অভিযোগটি সামনে আসে। ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে।

জমা দেওয়ার সময় যা ৮০ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, দুই বছর পর তা পরীক্ষা করে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ সোনা পাওয়া গেছে। আর ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক বছরের বেশি সময় অনুসন্ধান করে তারা ওই অনিয়ম পেয়েছেন। বিষয়টি এনবিআরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, যাতে তারা অনিয়মে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে পারে।” তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা সোনায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হোসেন এবং ভল্টের দায়িত্বে থাকা কারেন্সি অফিসার আওলাদ হোসেন চৌধুরী দাবি করেন, ভল্টে রক্ষিত সোনায় কোনো ধরনের হেরফের হয়নি; শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ যেভাবে রেখেছিল, সেভাবেই আছে। আওলাদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রুটি বলতে যা আছে, নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি-বাংলার ভুল। এর বাইরে অন্য ত্রুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই।”

source : bangla.bdnews24

অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে

ইউরোপের বাইরে এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়ছে। এর মধ্যে ভারতের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আর এশিয়ার বাজারগুলোতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার মতো অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশের পোশাক খাতের কারখানার মান উন্নয়ন, উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের শক্ত প্রতিশ্রুতির ফলে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, পোশাক রপ্তানিতে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। সেই বাজারেই বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের দেশটিতে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ডলার। এর আগের বছর ছিল ১২ কোটি ডলারের একটু বেশি। বড় অঙ্কের রপ্তানি হয়েছে জাপান ও কোরিয়াতেও। সব মিলিয়ে এশিয়ার ২০টি দেশ থেকে আয় হয়েছে ২১২ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১৮৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া প্রধান দুই বাজারের বাইরে অপ্রচলিত বাজার থেকে আয় হয়েছে ৪৬৭ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ৪২৪ কোটি ডলার। এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের পোশাক খাতের বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব কারখানা হয়েছে। উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে চায়না, ভারত, জাপানসহ এশিয়ার দেশগুলোতে আমাদের বাজার বাড়ছে। আগে আমাদের অন্যতম বাজার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক খাতের নতুন বাজারগুলোতে বেশ সুখবর ছিল। এ সময় অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। ভারতের স্থানীয় বাজারে বিশাল চাহিদা ও অশুল্ক বাধা দূর হওয়া এবং নিজের প্রয়োজেন এসব বাধা শিথিলায়নের ফলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন ২০০৫ সালের পর কোটামুক্ত হলো বাংলাদেশ তখন তার সক্ষমতা অন্বেষণ করতে থাকে। ফলে ইউরোপ এবং আমেরিকায় সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাড়াতে থাকে। পোশাকের জন্য জাপানের বাজার সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও শিল্পমুক্ত সুবিধার সুবাদে এ বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।’ একই সঙ্গে জাপানের মতো বাজারে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যের পোশাকের বাজার ধরতে শুরু করেছে। এ ছাড়া জাপানি ক্রেতারা আমাদের কারখানাগুলোতে অতি সতর্কতার সঙ্গে তাদের পোশাকগুলো তৈরি করে। এদিকে পোশাক খাতের নতুন সম্ভাবনার বাজার হিসেবে দেখা দিয়েছে লাতিন আমেরিকারও বাজার। পোশাকের বাজার বাড়ছে ব্রাজিল, চিলি এবং মেক্সিকোর মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনৈতিক দেশগুলোতে। তবে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে রপ্তানি ও যোগাযোগ বাড়াতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যোগাযোগ। ড. নাজনীন বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে একসময় যোগাযোগের তেমন কোনো সুযোগ ছিল না।

এমনকি প্রথম ২০০৯ সালে ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাস হয়। এর পর থেকে আমাদের ব্যবসায়ীরা তাদের বাজার অন্বেষণে ওই সব দেশে যায়। ধীরে ধীরে ব্রাজিল, চিলি এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি হতে থাকে। আর এ সুফল এখন পাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকের খাতের ব্যবসায়ীরা।’ বিকেএমইএ সাবেক প্রথম সহসভাপতি এ এইচ আসলাম সানি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক খাত অনেকটা নতুন রূপে তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট কারখানা বন্ধ হলেও অনেক বড় কারখানা হয়েছে। এগুলো আকারে ও প্রযুক্তির দিক দিয়েও কয়েক গুণ বড়। এ ছাড়া চায়না মৌলিক পোশাক তৈরির থেকে পিছিয়ে পড়লে এসব কার্যাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোতে যাওয়ার কথা থাকলে অবকাঠানো, শ্রমিকের দক্ষতা এবং ভাবমূর্তি ভালো না হওয়ায় ওই সব দেশে যায়নি।’

source: kalar kontho

অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে

ইউরোপের বাইরে এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়ছে। এর মধ্যে ভারতের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আর এশিয়ার বাজারগুলোতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার মতো অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশের পোশাক খাতের কারখানার মান উন্নয়ন, উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের শক্ত প্রতিশ্রুতির ফলে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, পোশাক রপ্তানিতে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। সেই বাজারেই বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের দেশটিতে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ডলার। এর আগের বছর ছিল ১২ কোটি ডলারের একটু বেশি। বড় অঙ্কের রপ্তানি হয়েছে জাপান ও কোরিয়াতেও। সব মিলিয়ে এশিয়ার ২০টি দেশ থেকে আয় হয়েছে ২১২ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১৮৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া প্রধান দুই বাজারের বাইরে অপ্রচলিত বাজার থেকে আয় হয়েছে ৪৬৭ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ৪২৪ কোটি ডলার। এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের পোশাক খাতের বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব কারখানা হয়েছে। উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে চায়না, ভারত, জাপানসহ এশিয়ার দেশগুলোতে আমাদের বাজার বাড়ছে। আগে আমাদের অন্যতম বাজার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক খাতের নতুন বাজারগুলোতে বেশ সুখবর ছিল। এ সময় অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। ভারতের স্থানীয় বাজারে বিশাল চাহিদা ও অশুল্ক বাধা দূর হওয়া এবং নিজের প্রয়োজেন এসব বাধা শিথিলায়নের ফলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন ২০০৫ সালের পর কোটামুক্ত হলো বাংলাদেশ তখন তার সক্ষমতা অন্বেষণ করতে থাকে। ফলে ইউরোপ এবং আমেরিকায় সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বাড়াতে থাকে। পোশাকের জন্য জাপানের বাজার সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও শিল্পমুক্ত সুবিধার সুবাদে এ বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।’ একই সঙ্গে জাপানের মতো বাজারে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যের পোশাকের বাজার ধরতে শুরু করেছে। এ ছাড়া জাপানি ক্রেতারা আমাদের কারখানাগুলোতে অতি সতর্কতার সঙ্গে তাদের পোশাকগুলো তৈরি করে। এদিকে পোশাক খাতের নতুন সম্ভাবনার বাজার হিসেবে দেখা দিয়েছে লাতিন আমেরিকারও বাজার। পোশাকের বাজার বাড়ছে ব্রাজিল, চিলি এবং মেক্সিকোর মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনৈতিক দেশগুলোতে। তবে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে রপ্তানি ও যোগাযোগ বাড়াতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যোগাযোগ। ড. নাজনীন বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে একসময় যোগাযোগের তেমন কোনো সুযোগ ছিল না।

এমনকি প্রথম ২০০৯ সালে ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাস হয়। এর পর থেকে আমাদের ব্যবসায়ীরা তাদের বাজার অন্বেষণে ওই সব দেশে যায়। ধীরে ধীরে ব্রাজিল, চিলি এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি হতে থাকে। আর এ সুফল এখন পাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকের খাতের ব্যবসায়ীরা।’ বিকেএমইএ সাবেক প্রথম সহসভাপতি এ এইচ আসলাম সানি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক খাত অনেকটা নতুন রূপে তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট কারখানা বন্ধ হলেও অনেক বড় কারখানা হয়েছে। এগুলো আকারে ও প্রযুক্তির দিক দিয়েও কয়েক গুণ বড়। এ ছাড়া চায়না মৌলিক পোশাক তৈরির থেকে পিছিয়ে পড়লে এসব কার্যাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোতে যাওয়ার কথা থাকলে অবকাঠানো, শ্রমিকের দক্ষতা এবং ভাবমূর্তি ভালো না হওয়ায় ওই সব দেশে যায়নি।’

source: kalar kontho

দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির সুবিধা এনবিআরের নজরদারিতে

দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির আওতায় কর সুবিধা গ্রহণ করে বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সব ব্যাংককে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্স’ শাখার সনদ নিতে হবে। সম্প্রতি এনবিআরের এক পত্রের আলোকে দেশের সব ব্যাংককে এ নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের ৩৩টি দেশের দ্বৈত করারোপ পরিহার চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ সমঝোতার ভিত্তিতে করের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে। এই সুবিধা নিয়ে ওই সব দেশের প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে তাদের অর্জিত অর্থ নিজ দেশে পাঠানোর সময় হ্রাসকৃত হারে উেস কর পরিশোধ করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত করের হার বা উেস কর কর্তন ছাড়াই বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে দ্বৈত করারোপণ চুক্তির আওতায় কী পরিমাণ কর কর্তন আইনসংগত এ সম্পর্কিত এনবিআরের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন নেওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে।

এমতাবস্থায় জাতীয় রাজস্বের স্বার্থে ব্যাংকগুলো কর্তৃক বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তি বা বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট শাখার প্রত্যয়নপত্র ছাড়া দ্বৈত করারোপণ পরিহার চুক্তির সুবিধা না দেওয়ার বিষয়টি কঠোর নজরদারি ও পরিবীক্ষণের আওতায় আনা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি। বিষয়টি উল্লেখ করে গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি পত্র দেয় এনবিআর। ওই পত্রের আলোকে গতকাল সোমবার এক সার্কুলার জারি করে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয়ে পাঠায় বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ।

source : kalar kontho

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র পদে বদল

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুখপাত্র দেবাশিস চক্রবর্তীকে সরিয়ে সিরাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দুজনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা মুখপাত্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে রক্ষিত সোনার বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি নির্বাহী পরিচালক দেবাশিস চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ, লিখিত প্রশ্ন জমা দেওয়ার পরও তিনি প্রথম আলোকে যথাযথ কোনো মন্তব্য দেননি। নতুন মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে আজ রোববার বিকেলেই এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

source : prothhom-alo

দেশি গরুতেই চাহিদা মিটবে

দেশি গরুতেই এ বছর ঈদুল আজহার চাহিদা মিটবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে কোরবানির বাজারে ওঠানোর জন্য খামারে হৃষ্টপুষ্ট হওয়া গরু-মহিষের সংখ্যা প্রায় ২৯ লাখ ১০ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, গত বছর ঈদুল আজহায় দেশে ১ কোটি ৪ লাখ পশু জবাই হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ছিল গরু-মহিষ। বাকি ৫৮ লাখ ৯১ হাজার ছিল ছাগল-ভেড়া। এ বছর ঈদুল আজহায় জবাই হওয়া পশুর সংখ্যা ৫ শতাংশ বাড়লেও গরু-ছাগলের অভাব হবে না বলে আশা করছে অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ বি এম খালেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মোট প্রস্তুত পশুর মধ্যে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭১ লাখ ছাগল-ভেড়া ও প্রায় ৩২ হাজার উট-দুম্বা। গরু-মহিষের মধ্যে প্রায় ২৯ লাখ ১০ হাজার হৃষ্টপুষ্ট। বাকি ১৫ লাখ ৪৬ হাজার অনুৎপাদনশীল বা বয়স্ক। গত বছর হৃষ্টপুষ্ট গরু-মহিষের সংখ্যা ছিল ৩৩ লাখ। তিনি আরও বলেন, এ বছর ছাগল-ভেড়ার মধ্যে হৃষ্টপুষ্ট ১৮ লাখ ২৬ হাজার এবং অনুৎপাদনশীল ৫২ লাখ ৭৩ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, এ বছর ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়ার জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার গবাদিপশু রয়েছে।

এদিকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রোববার জানিয়েছে, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবের সভাপতিত্বে ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির হাটে ভেটেরিনারি-সেবাসংক্রান্ত’ এক সভা হয়। সেখানে জানানো হয় যে এ বছর পশুর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ছোট হাটে অন্তত ১টি, বড় হাটে ২টি করে এবং ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে ৪টি মেডিকেল টিম থাকবে। রাজধানীর প্রতিটি টিমে ১ জন ভেটেরিনারি সার্জন, ১ জন টেকনিক্যাল কর্মী (ভিএফএ/ইউএলএ) এবং ১ জন করে শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্নি ভেটেরিনারি সার্জন থাকবেন। গত বছর সারা দেশের ২ হাজার ৩৬২টি পশুর হাটে মোট ১ হাজার ১৯৩টি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত বছরের মতো এ বছরও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গবাদিপশুর খামারগুলোতে স্বাস্থ্যহানিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ল্যাবরেটরি-পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ও হরমোনজাতীয় ওষুধের বিক্রয় ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব দ্রব্য চোরাইপথে আসা বন্ধে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করা, ময়লা বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলা এবং কোরবানির আগে-পরে ঢাকা সিটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

source : prothom-alo

সুযোগ নেই মোবাইল কোম্পানির

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মুঠোফোনে আর্থিক সেবা প্রদানের জন্য অংশীদার হতে পারছে না মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও)। এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে শতকরা ৫১ ভাগের মালিকানা থাকবে ব্যাংকের হাতে এবং সেবাটি ব্যাংকের নেতৃত্বেই চলবে। বাকি ৪৯ শতাংশ অংশের মালিকানায় আসতে পারবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ অন্যরা। এমন বিধান রেখে এমএফএস সেবার জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এ নীতিমালার অনুমোদন দেয়। শিগগির তা পরিপালনের জন্য প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নতুন নীতিমালা করার পরও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় আসার সুযোগ পাচ্ছে না গ্রামীণফোন ও রবির মতো মোবাইল অপারেটররা। তবে এসব অপারেটরের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করেই চলবে সেবাটি। এর আগে ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো এ-সংক্রান্ত নীতিমালা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নীতিমালায় ব্যাংকের পাশাপাশি ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকেও এ সেবা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ওই নীতিমালার পর কয়েকটি অপারেটর আর্থিক সেবা চালু করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপের মুখে তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই তারা এ সেবার মালিকানায় অংশগ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছিল। দেশজুড়ে ২০১১ সালে চালু হওয়া এ সেবার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে বর্তমানে। এ সেবার আওতায় সারা দেশে দৈনিক ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে। শুধু লেনদেন নয়, পরিষেবা বিল পরিশোধ, কেনাকাটা, প্রবাসী আয় সংগ্রহসহ আরও নানা সুবিধা মিলছে এ সেবায়। এর ফলে ব্যাংকের টাকা স্থানান্তর (টিটি) সেবা প্রায় বন্ধের উপক্রম। আর মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরা টাকা পাঠাতে পারছে নিমেষেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অপারেটররা এ সেবায় নেতৃত্ব দিলেও বাংলাদেশে এ মডেল চালু করা উপযুক্ত হবে না। কারণ, আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে। আর মোবাইল অপারেটরদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রণ কমিশন। নীতিমালায় বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকের নেতৃত্বে এ সেবার মালিকানার অংশীদারে ব্যাংকবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অন্যদের হাতে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার থাকতে পারবে। এ সেবায় প্রযুক্তিগত বৈচিত্র্য আনতে পারবে—এমন প্রতিষ্ঠানকে এমএফএসের অংশীদারে আনার আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৮টি ব্যাংক এমএফএস সেবা প্রদান করছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’। এরপরই ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সেবা ‘রকেট’। গত মে পর্যন্ত এ সেবায় নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ৬ কোটি ১৩ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় গ্রাহক ২ কোটি ২৯ লাখ। এসব সেবা দিতে কাজ করছেন ৮ লাখ ২০ হাজার ৩৫৩ জন এজেন্ট। গত মে মাসে এ সেবার আওতায় ৩২ হাজার ৮২২ কোটি টাকার লেনদেন হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, মুঠোফোন অপারেটরদের এ সেবায় অংশীদার করলে ঝুঁকি বাড়ত। কারণ, তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নয়। আর্থিক ব্যবস্থাপনা সব সময়ই ব্যাংকের হাতে থাকা উচিত।

source : prothom-alo

ব্যাংকের শীর্ষ ১০ খেলাপির তথ্য নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়

সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের শীর্ষ ১০ জন ঋণ খেলাপির তথ্যসহ ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর উদ্যোগ ও ঋণ অনিয়মে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনূসুর রহমানকে চিঠি দিয়ে দ্রুত এসব তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। চিঠিতে দেশের ব্যাংকগুলোর মূলধন, পরিশোধিত মূলধন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সংখ্যা ও তাদের নাম-পরিচয়, ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ও মোট খেলাপি ঋণ সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছেন তিনি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে অপর এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এসব বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছরে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে ঘটে যাওয়া ঋণ অনিয়ম, মালিকানা পরিবর্তন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সরকারও এসব ঘটনায় সমালোচিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে সরকার ব্যাংক খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিতে চায়।

বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ঋণ অনিয়মে সম্পৃক্তদের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তারই অংশ হিসেবে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, এ জন্য অপর এক চিঠিতে ঋণ গ্রহীতাদের পরিচয়, ঋণদাতার বিবরণ, ঋণের পরিমাণ ও শর্তাবলি, ঋণ জামানতের তথ্য এবং বকেয়া ঋণের আসল ও সুদের হিসাব জানতে চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে অর্থমন্ত্রী সরকারি ব্যাংকের শীর্ষ ১০০ খেলাপির তালিকা জাতীয় সংসদে প্রকাশ করেন। এবার সব ব্যাংকের তথ্য চাইলেন তিনি। এর আগে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে এবং সমস্যা সমাধানে একটি 'ব্যাংক কমিশন' গঠনের কথা কয়েকবার বলেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেট পেশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সরকারের সময়ে কমিশন গঠন করা হচ্ছে না বলে জানিয়ে দেন। তবে কমিশন গঠনের জন্য কাগজপত্রসহ সবকিছু প্রস্তুত করে যাবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি। গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক খাত আলোচনার মধ্যে রয়েছে।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়া নতুন কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় আয়ের থেকে বেশি, দুটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ব্যাপক পরিবর্তনও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ফারমার্স ব্যাংক কেলেংকারি ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। কয়েক বছর আগে থেকে বেসিক ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক আলোচনায় রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জনতা ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বাজেট থেকে মূলধন সরবরাহ করতে হচ্ছে। দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি খাতের মোট ৫৬টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে মন্দমানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৩ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে মন্দমানের বাইরে সন্দেহজনক মানে রয়েছে ৫ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। আর নিম্নমানে রয়েছে ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা। এর বাইরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। এসব ঋণ বিবেচনায় নিলে মোট খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। ব্যাপক এই খেলাপি ঋণের বড় অংশই আটকে আছে শীর্ষ খেলাপিদের কাছে।

source : somokal

BD RMG industry now 'one of the safest' for workers

The global apparel brands and retailers are placing higher volume of work orders to the compliant garment factories in Bangladesh, a top official of the US-based VF Corporation said on Sunday. "The ready-made garment (RMG) industry of Bangladesh has transformed over the last five years. It has now become one of the safest for workers in the world," said Sean Cady, vice president, global supply chain and responsible sourcing of VF Corporation. "Our sourcing from Bangladesh has increased significantly, but the number of factories is low. That means business is coming to the better and safer factories," he noted. Mr Cady, also a board member of the Alliance for Bangladesh Worker Safety, was speaking at a press conference in a city hotel. He also said the Alliance has reiterated its previous stance of not extending its tenure after next January.

The organisation will hand over its ongoing safety responsibilities to a transparent and credible monitoring authority. Mr. Cady stressed the need for maintaining the strong reputation of 'Made in Bangladesh' that has been achieved following the work of the Accord, the Alliance and the National Action Plan. "It is critically important for the international buyers to have confidence that the label 'Made in Bangladesh' is supportive for all workers," he noted. The Alliance organised the conference on the transition landmark of 'Amader Kotha', a helpline for workers, to an independent initiative expanding its access to millions of more workers. Other board members of the Alliance - Tapan Chowdhury, managing director of Square Textiles Ltd, Jan Saumweber, senior vice president - responsible sourcing of Walmart, Dana Veeder, associate general counsel legal of Gap, among others, were present at the conference. Responding to a query, Alliance executive director Jim Moriarty said: "The Alliance will not be here after January first of next year.

Its work is finished, and we haven't asked for extension." The platform is negating with government and factory owners to set up an independent body or entity to monitor the post remediation activities to maintain safe workplace, he added. 'Amader Kotha', the confidential helpline of workers and established by Alliance, will become an independent initiative this month. It will have the ability to expand its services beyond the factories under the Alliance, he announced. The helpline has empowered thousands of RMG workers to report issues of concern anonymously and without fear of retribution, he noted. Mr. Moriarty hoped that the initial corrective action plans in the Alliance-listed factories will be completed by the end of this year. The Alliance wants to transfer its factory safety and worker empowerment initiatives to an independent safety monitoring organisation, managed in partnership with credible local partners, he also said.

Replying to another question, Mr Moriarty said remediation in the factories under the National Action Plan is a challenge for the Remediation Coordination Cell (RCC). The RCC is not in a stage to monitor the safety standards in the factories listed under the western retailers' platforms - the Accord and the Alliance. It will be busy with remedial works in the factories under national initiative. He feared that if any untoward accident takes place in the RMG sector, it might be in the factories under national initiative and not in the factories under the Accord and the Alliance.

source : Financial Express

ভারতীয় মোটরসাইকেলের বৃহত্তম আমদানিকারক এখন বাংলাদেশ

বাংলাদেশের অর্র্থনীতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেলের চাহিদা বেড়েই চলেছে। আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের বাইক আমদানিও বাড়ছে দেশে। ভারতে বিশ্বের সর্বাধিক মোটরসাইকেল তৈরি হয়। ভারতের বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়। আর বাংলাদেশের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় নির্মাতারাও রপ্তানি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ভারতের ২০১৮ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল আমদানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারতীয় মোটরসাইকেলের সবচেয়ে বড় বাজার বাংলাদেশ, যার পরেই রয়েছে শ্রীলংকা। এর আগে ২০১৬ অর্থবছরে ভারত থেকে প্রায় ১৩ কোটি ডলারের মোটরসাইকেল আমদানি করে বাংলাদেশ। বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ভারতের প্রধান মোটরসাইকেল রপ্তানিকারক হিরো ও বাজাজ।

মোটরসাইকেল রপ্তানিতে ভারতের এ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে এ দুটি প্রতিষ্ঠানই। এর মধ্যে হিরো মোটর কর্পোরেশন বাড়তি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্প গড়েছে। এজন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠান নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি প্রতিষ্ঠান গড়েছে তারা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে দেড় লাখ ইউনিট মোটরসাইকেল তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শুধু মোটরসাইকেলই নয়, ভারতীয় গাড়ি ও ট্রাকের অন্যতম বড় বাজার বাংলাদেশ। ২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৩ কোটি ডলারের ভারতীয় ট্রাক আমদানি করে। ভারতের টাটা মোটরস বাংলাদেশে নিটল মটরসের সঙ্গে দেশে যৌথভাবে সংযোজন শিল্প স্থাপন করেছে। এছাড়া ভারতের অশোক লেল্যান্ডও বাংলাদেশে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোজন শিল্প স্থাপন করেছে।

সূত্র : বিজনেস-স্ট্যান্ডার্ড