×
News Details
প্রশস্ত হলো পুঁজিবাজারে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা আসার পথ

পুঁজিবাজার রিপোর্ট: তারল্য সংকট দূর করে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি সরকারের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছিল ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকারসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। আর পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে এ তহবিল ব্যবহারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল জানতে চেয়েছিল সরকার। এর প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) প্রাতিষ্ঠানিক ব্রোকারদের (ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান) পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত তহবিলের একটি রূপরেখা অর্থমন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে আরও দশ হাজার কোটি টাকা আসার পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, সংকট কাটাতে শুধু সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগের জন্য এ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। আর এই সুবিধা ব্রোকারহাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সব মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর ফলে পুঁজিবাজারের জন্য স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব আরও একধাপ এগিয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আলোচিত তহবিলের আকার হতে পারে দশ হাজার কোটি টাকা। যার মেয়াদ হবে ৬ বছর। প্রস্তাবিত সুদের হার ৩ শতাংশ। প্রথম ২ বছর হবে গ্রেস পিরিয়ড। এ সময়ে তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে না। পরবর্তী চার বছরে তা সুদ-আসলে ফেরত দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ নভেম্বর পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটিয়ে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নেতৃস্থানীয় ৭ জন বৈঠক করেন। এরা হলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট মোঃ রকিবুর রহমান, মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছায়েদুর রহমান, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস, সিটি ব্রোকারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফফান ইউসুফ ও এআইবিএল ক্যাপিটালের পরিচালক মোঃ রেজাউর রহমান। বৈঠকে সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল সম্পর্কে জানতে চান। এরই প্রেক্ষিতেই আজ তাদের পক্ষ থেকে আলোচিত প্রস্তাবনাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ডিএসই

আগামী ২০২০ সাল “মুজিব বর্ষ” পালন উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বছরব্যাপী এ কর্মসূচি পালনের জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

সোমবার (২ ডিসেম্বর) ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের ৯৪০তম বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ডিএসই’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগ) মোঃ শফিকুর রহমান সস্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আছে, আগামী ২০২০ সাল মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। বছরব্যাপী কর্মসূচী পালনের জন্য ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেমকে আহবায়ক এবং পরিচালক মোঃ রকিবুর রহমানকে কো-আহবায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

 

কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ হলেন ডিএসই’র পরিচালক বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া, মনোয়ারা হাকিম আলী, অধ্যাপক ড. এম. কায়কোবাদ, অধ্যাপক ড. মোঃ মাসুদুর রহমান, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. হানিফ ভূইয়া, মিনহাজ মান্নান ইমন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইনচার্জ) আবদুল মতিন পাটওয়ারী।

প্রভিশন ঘাটতিতে ১৩ ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়লেও কমেছে প্রভিশন ঘাটতি। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেষে এ খাতে প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে আট হাজার ১২৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের প্রান্তিক জুনে যা ছিল ৯ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এ সময় ১৩টি ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে। এ তালিকায় রয়েছে বেসরকারি খাতের ৯টি, সরকারি খাতের তিনটি ও বিদেশি খাতের একটি ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না। এতে ওই ব্যাংকের শেয়ারে নিরুৎসাহিত হন বিনিয়োগকারীরা। এ ছাড়া যেসব ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়, তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।

 

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো প্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে, তার বেশির ভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোনো প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে সেপ্টেম্বর শেষে ৫৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা প্রভিশন রেখেছে ব্যাংকগুলো। এতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে আট হাজার ১২৯ কোটি টাকা। তবে জুন মাসের তুলনায় এক হাজার ৯০ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি কমেছে সেপ্টেম্বরে। চলতি বছরের জুন শেষে মোট প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ১১৯ কোটি টাকা।

এ সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খাতের ব্যাংকগুলোতে ছয় হাজার ৪৩৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর বেসরকারি খাতের ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি দুই হাজার ১৪৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তবে এ সময়ে বিদেশি খাতের ব্যাংকে ১৫ কোটি ও বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার প্রভিশন উদ্বৃত্ত রয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১১.৯৯ শতাংশ। তিন মাস আগে (জুন শেষে) মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, একসময় কোনো ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি থাকলে শুধু সতর্ক ও ঘাটতি মেটাতে দিকনির্দেশনা দিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সংশোধিত ব্যাংক কম্পানি আইনে কোনো ব্যাংকে টানা দুই বছর ঘাটতি থাকলে তার বড় অঙ্কের জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়েছে। এসব কারণে নানা উপায়ে প্রভিশন ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করে ব্যাংকগুলো।

ওষুধ খাতের ৫৮ ভাগ কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (মুনাফা) বেড়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৯) এই মুনাফা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

জানা গেছে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৩২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টি চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টির বা ৫৮ শতাংশের মুনাফা বেড়েছে, মুনাফা কমেছে ৬টির বা ২৫ শতাংশের, একটির মুনাফা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ৩টির বা ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে।

 

মুনাফা সর্বোচ্চ বেড়েছে ওয়াটা কেমিক্যালের। কোম্পানিটির মুনাফা ৫২ শতাংশ বেড়েছে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে কোহিনূর কেমিক্যালের। এছাড়া মুনাফা সবচেয়ে কম অর্থাৎ ৩ শতাংশ বেড়েছে একমি ল্যাবরেটরিজের। মুনাফা আগের বছরের একই সময় থেকে কমেছে ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।

 

মুনাফা সর্বোচ্চ কমেছে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের। কোম্পানিটির মুনাফা ৭৬ শতাংশ কমেছে এবং মুনাফা সবচেয়ে কম ১৪ শতাংশ কমেছে সিলকো ফার্মার। আগের বছর একই সময়ের মতো ফার্মা এইডসের শেয়ারপ্রতি মুনাফা অপরিবর্তিত রয়েছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩টির বা ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।

 

এসিআই মুনাফা থেকে লোকসানে নেমে গেছে। আগের বছরের একই সময় থেকে চলতি অর্থবছরের ৩ মাসে কোম্পানিটির লোকসান ৭১৮ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইমাম বাটন ও বেক্সিমকো সিনথেটিকসের লোকসান আগের বছর একই সময় থেকে কমেছে।

২০২০ সালে ২৪ দিন বন্ধ থাকবে পুঁজিবাজারের লেনদেন

নিয়মানুযায়ী দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুজিবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকে। সে অনুযায়ী আগামী ২০২০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে ২৪ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। আর এদিনগুলো পুঁজিবাজারে লেনদেন হবে না। তবে এর বাইরেও ঈদ বা অন্য কোনো সময় স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ ছুটির মাধ্যমে লেনদেন বন্ধ থাকতে পারে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ২০২০ সালে সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে চাঁদ দেখাসাপেক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিন দিন করে ছুটি থাকছে। এ ছাড়া অন্যান্য উৎসবে বা বিশেষ দিনে এক দিন করে ছুটি থাকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখার নির্দেশ অনুযায়ী দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ছুটির তালিকা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়।

 

ছুটির তালিকায় রয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ১ মে শ্রমিক (মে) দিবস, ৬ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমা, ২১ মে শব-ই কদর, ২২ জুন জামাতুল বিদা, ২৪, ২৫ ও ২৬ মে ঈদুল ফিতর।

বছরের দ্বিতীয় ভাগে ছুটির তালিকায় আছে ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে, ৩১ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট ঈদুল আযহা, ১১ অগাস্ট শুভ জন্মাষ্টমী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ৩০ অগাস্ট পবিত্র আশুরা, ২৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী), ৩০ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন এবং ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে।

ফের বেড়েছে ব্যাংকগুলোর ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ

বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধার আবেদন আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছে। বিষয়টির ওপর আদালতের নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণকারী এ সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (১৭ নভেম্বর) ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট-সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালার ওপর নতুন সার্কুলারটি জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্ট খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারকে বৈধ ঘোষণা করে তার মেয়াদ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর রায় দেন। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন ও আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ দিতে ৯ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে,
মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের চলতি মাসের ৩ তারিখের (নভেম্বর, ২০১৯) রায়ের আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’


সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে গৃহীত সিদ্ধান্ত হলো :- বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৫/২০১৯ এর আওতায় ঋণগ্রহিতাদের আবেদন করার সময়সীমা অত্র সার্কুলার লেটার জারির তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিন বৃদ্ধি করা হলো। ফলে পুনঃতফসিল পরবর্তীতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতেও নতুন করে ঋণ দেয়া যাবে। বিশেষ নিরীক্ষা ব্যতীত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের ঋণগ্রহিতাদের অনুকূলেও সার্কুলারে বর্ণিত সুবিধাদি দেয়া যাবে।’


ঋণগ্রহিতার নিকট হতে প্রাপ্ত ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত আবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে অনুমোদন দিতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।’

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর খেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধা গ্রহণের জন্য আবেদনের সময় শেষ হয়। ২৩ অক্টোবর সার্কুলার জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের
ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’। সাকুলারে কেউ নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে নির্ধরিত সময়ে যারা আবেদন করেছিলেন তা নিস্পত্তির জন্য এক মাস সময় বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই বর্ধিত সময় অনুযায়ী আগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পাওয়ার কথা ছিল। তবে এ সময় সুবিধাভোগীরা নতুন কোনো ঋণও নিতে না পারার কথা ছিল।’

এর আগে গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়। এতে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সরল সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ টানা ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলের নিন্দা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এরপর ২৩ অক্টোবরের ওই সার্কুলারের স্থগিতাদেশ চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদালতে একটি রিট করা হয়।

সংসদে পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, গত জুন পর্যন্ত দেশে ঋলাপী ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। এসব ঋণের মধ্যে ব্যাংকের খেলাপী ১ লাখ ৬ হাজার ৫৫ কোটি টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ৪২ কোটি টাকা।

বুধবার সংসদে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, খেলাপী ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের আলোকে খেলাপী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ১৬ হাজার ৮শ ২৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

মহিবুল রহমান মানিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকসমূহে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং কর্মপরিধি সম্পর্কে দিক-নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের ঝুঁকি মোকাবেলায় ১২ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

মো. মহিববুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে অনলাইনে সরাসরি আবেদন করে থাকে। গত ৩ নভেম্বর-১৯ পর্যন্ত ২৪৬ জন সরকারি কর্মচারী ঋণের আবেদন করলেও ১৯০ জন এ সুবিধা পেয়েছেন। আবেদনে ত্রুটি থাকায় ৫৬ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় একক আবেদনকারী কেবলমাত্র জমি ক্রয়ের জন্য কোন ঋণ সুবিধা পাবেন না। তবে, গ্রুপভিত্তিক জমি ক্রয়সহ বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

পীর ফজলুল রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার রোধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিদেশ হতে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে অর্থপাচার বিষয়ক প্রায় ৪০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কর্ফোস অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৬৩২ জন। ঢাকাসহ ২৭ কর অঞ্চলের মাধ্যমে করদাতারা কর প্রদান করছেন।

বেগম রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যমান বিও একাউন্টধারীদের মধ্যে সকল বিনিয়োগকারী একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে লেনদেন করে না। কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারী প্রায়শই লেনদেন করেন, কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারী স্বল্প ও দীর্ঘ বিরতির পর লেনদেন করেন।

তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজের মূল্যের উখান-পতন একটি স্বাভাবিক ঘটনা, এর ফলে বিনিয়োগকারীগণ স্বাভাবিক নিয়মেই লাভ-লোকসান করতে পারে।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর গত ৯ মাসে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৩ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সূচক সামান্য কমলেও লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা

প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেনদেন বেড়েছে আজ। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেনের শুরুতে উত্থান থাকলেও ২৫ মিনিট পর সেল প্রেসারে নামতে থাকে সূচক। শেষ দিকে একবার ঘুঁড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যহত হয় বাজার। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার অংকে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় অনেকটা  বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।আর আগের দিন  সোমবার লেনদেন হয়েছিলো ২৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।সে হিসাবে আজ লেনদেন বেড়েছে ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

আজ দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪৭৭৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১০৯৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ০.০৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৬৬৪ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৫৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৮টির, কমেছে ১৯৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির। আর দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৩৯২ কোটি ৫০ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবস দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৪৭৮১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১০৯০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৬৬৪ পয়েন্টে। আর ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ২৯৬ কোটি ৬৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৯৫ কোটি ৮৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

এদিকে দিন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক সিএসইএক্স ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৮২৯ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৫৪টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। আর দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে চালু হলো “বাংলা বন্ড”

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম “টাকা ডিনমিনেটেড বন্ড”, যার নাম দেয়া হয়েছে “বাংলা বন্ড”। এই বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বাজার থেকে তোলা হবে।

সোমবার লন্ডন স্টক মার্কেটে স্থানীয় সময় সকাল ৭:৫৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা টাকা বন্ডকে তালিকাভুক্ত করার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রিং দ্যা বেল নামের এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। বাংলা বন্ড চালু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ। এই বন্ড চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ আরো সহজতর হবে।

তিনি বাংলা বন্ড চালুর পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। এমনকি বাংলা বন্ড নামকরণটিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বলেও জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইএফসি এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নেনা স্টেলকোভিক, ব্রিটেনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম, বিডার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং আইএফসি ডিরেক্টররা।

এরপর লন্ডন সময় সকাল সাড়ে ৯টায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ সেমিনার রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়ার জন্য লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে চালু হয়েছে “বাংলা টাকা বন্ড”। এটি হবে একটি টাকা বন্ড। এই বন্ডের আকার হবে ১০০ কোটি ডলার। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বাজার থেকে তোলা হবে ১ কোটি মার্কিন ডলার বা ৮৪ কোটি টাকা। প্রবাসীরা ডলারে এই বন্ড কিনলেও প্রথমবারের মতো তা টাকায় রূপান্তর করে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) হবে এই বন্ডের ইস্যু ম্যানেজার।

তিনি বলেন, এটির মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘ মেয়াদী অর্থায়নের সম্ভাবনার পথ চলার একটি ধাপ শুরু হলো। যা আমাদেরকে ২০৪১ এর স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহায়তা করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই প্রথম বাংলাদেশের টাকা কোনো আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। টাকা লন্ডন স্টক মার্কেটে লেনদেন হবে। যে কেউ এই বন্ড কিনতে পারবে। ডলার দিয়ে এই বন্ড কিনতে হবে। সেই ডলার টাকায় কনভার্ট হয়ে তা বিনিয়োগ করা হবে। আইএফসি বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেছে। এই ১ বিলিয়ন ডলার “টাকা বন্ড” ছাড়ার মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ আরো বাড়বে।

বিষয়টি নিয়ে আইএফসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়ার জন্য এই বন্ড চালু করা হয়েছে। বন্ডের অর্থ ডলার থেকে টাকায় রূপান্তরের পর বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে আইএফসি।

এরই অংশ হিসেবে চালুকৃত বন্ডের মাধ্যমে গঠিত এ তহবিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী এবং অন্যতম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী “প্রাণ গ্রুপ”কে দেয়া হবে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোনো পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করছে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ আজ বাংলা বন্ডকে তাদের মূল বাজারে অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই বন্ডের মেয়াদ হবে তিন বছর। পরে তা বাড়িয়ে ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর করা হতে পারে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রথমে তিন বছর মেয়াদী রুপি বন্ড ছাড়া হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০ বছর। প্রবাসী ভারতীয়রা এই বন্ডে বিপুল হারে বিনিয়োগ করেছেন। প্রবাসে বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা বাংলা বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ২০১১ সাল থেকে এ ধরনের বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনার কথা বলে আসছিল। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকে আইএফসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার তখনই এ বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল।

এরপর আইএফসি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায়। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অর্থমন্ত্রণালয় একই বছর ৪ অক্টোবর এক চিঠিতে “বাংলা বন্ড” ছাড়ার অনুমোদনের বিষয়টি জানায়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যাচাই কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে আইএফসির ওই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

ওই কমিটির কাছে প্রাণ গ্রুপের পক্ষে এ বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব করে আইএফসি। চলতি বছরের এপ্রিলে আইএফসির প্রস্তাবে সাড়া দেয় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

এই বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, সেখান থেকে প্রাণ অ‌্যাগ্রো ও নাটোর অ‌্যাগ্রো ৮০ কোটি টাকা করে ঋণ পাবে। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ ঋণ সমান কিস্তিতে তিন ও পাঁচ বছরে তাদের পরিশোধ করতে হবে।

চার মাসে রপ্তানি কমেছে ৮ হাজার কোটি টাকা

গত বছর বাংলাদেশ রপ্তানি আয়ে ভালো করলেও চলতি বছর এ খাতে সুখবর নেই। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই-অক্টোবরে রপ্তানি আয়ে বড়ো ছন্দপতন হয়েছে। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমে গেছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।

গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলারের রপ্তানি হলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি ডলারে। অর্থাত্ গত চার মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৯৩ কোটি ডলার যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় পৌনে আট হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কমেছে ১১ দমমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হাল নাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চার মাসের মধ্যে গত তিন মাস ধরে টানা রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে সদ্য সমাপ্ত অক্টোবরে রপ্তানিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমেছে ১৭ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসেই রপ্তানি কমতির দিকে। জুলাইয়ে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হলেও এর পর রপ্তানি আয় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী মাসগুলোয় এ পরিস্থিতির ইতিবাচক অগ্রগতি না হলে তা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গার্মেন্টস শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অনেক মালিকেরই সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকই অব্যবহূত থেকে যাচ্ছে। আমার নিজের কারখানায়ও একই অবস্থা। এটি শঙ্কা তৈরি করেছে। আগামী দিনেও রপ্তানি কমতির দিকে থাকবে। অথচ এই সময়ে রপ্তানি বাড়ার কথা।

রপ্তানি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে কিছু ক্রয়াদেশ স্থানান্তর হয়ে মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন ছাড়াও গ্যাস-বিদ্যুতের দর বৃদ্ধির কারণে আমাদের উত্পাদন খরচ বেড়েছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর স্থানীয় মুদ্রা ডলারের বিপরীতে দুর্বল হওয়ায় তারা আমাদের চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক দরে অর্ডার নিতে পারছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী পোশাকের দরও কমতির দিকে। সব মিলিয়ে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রপ্তানির জন্য ডলারের আলাদা মূল্য নির্ধারণসহ সরকারের নীতি-সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। আলোচ্য সময়ে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছিল ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছর প্রায় পৌণে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিই ছিল। তবে এর পর থেকেই উলটো পথে হাঁটতে শুরু করেছে রপ্তানি।