News Details
পুঁজিবাজারে লেনদেন ২০ মাসে সর্বনিম্ন

পুঁজিবাজারে সূচকের পতন চলছেই। মঙ্গলবারও (২৪ ডিসেম্বর) তার ব্যতিক্রম হয়নি। এদিন কৃত্রিমভাবে সূচককে টেনে তোলার চেষ্টা করা হলেও দিনশেষে পতন ঠেকানো যায়নি। এ নিয়ে চলতি মাসে লেনদেন হওয়া ১৬ দিনের মধ্যে ১২ দিনই বাজার ছিল নিম্নমুখী। অব্যাহত দরপতনে প্রতিদিনই পুঁজি হারাচ্ছেন সব ধরনের বিনিয়োগকারী। পাশাপাশি আর্থিক ও শেয়ার লেনদেন কমে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্রোকারেজ হাউজগুলো।

 

এদিকে, পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের পিছনে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, দেশের অর্থনীতির সার্বিক প্রভাব এবং বাজার মনিটরিং জোরালো না হওয়াকে দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, পুঁজিবাজারে যেভাবে প্রতিদিনই দরপতন হচ্ছে তার যৌক্তিক কোনো কারণ জানা নেই। তবে দেশের সার্বিক অর্থনীতি বিশেষ করে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ শেয়ারের দাম ফান্ডামেন্টালের চেয়েও কম।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ডিএসইতে সূচকের পাশাপাশি কমেছে আর্থিক ও শেয়ার লেনদেনও। দিনশেষে ডিএসইতে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এটি আগের ২০ মাসের মধ্যে একদিনে সর্বনিম্ন লেনদেন। এর আগে চলতি বছরের ২৫ মার্চ ডিএসইতে ২২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। ওইদিনের মধ্যে মঙ্গলবার ডিএসইতে সর্বনিম্ন আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

 

মঙ্গলবার ডিএসইতে ৩৫৩ টি কোম্পানির ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৯ হাজার ৩৬০ টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১২ টির, কমেছে ১৭৯ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬০ টির দাম।

দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৩৯০ পয়েন্টে নেমে আসে। এটি ২০১৬ সালের ২৬ শে জুনের পর একদিন সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২০১৬ সালের ২৬ জুন ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৪ হাজার ৩৮০ পয়েন্ট। এদিন ডিএসই শরিয়া সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৯৮৫ পয়েন্ট, ডিএসইএ-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৩০টি কোম্পানির ৩৮ লাখ ২৩ হাজার ৩৪২টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ১১৭ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬ টির কোম্পানির শেয়ারের দাম।

দিনশেষে সিএসইতে ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ১২ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৩৭২ পয়েন্টে নেমে আসে।

বাণিজ্য চুক্তির সংবাদে চাঙা এশিয়ার পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আশ্রয়ন-৩ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পসহ মোট ৯ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ২২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, এর পুরোটাই বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

 

তিনি বলেন, জেটি নির্মাণ, জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের জন্য আবাসন ভবন ও কালভার্ট নিমার্ণসহ বেশ কিছু বিষয় নতুন করে যুক্ত হওয়ায় আশ্রয়ন-৩ প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। প্রথম বার সংশোধনী করা এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে ৭৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আজ একনেক সভায় এই অর্থের অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

তিনি জানান, প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এখন মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরে এক লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিকদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বনায়ন করা এবং দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা।

 

মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিরও ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এজন্য তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আরবি, ফারসি, জাপানি, স্পানিশসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার বিষয়ে আরও জোর দেওয়ার কথা বলেছেন।

বড় পতনে সূচক: বিনিয়োগকারীদের অস্তিত না থাকলে কাকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী?

পুঁজিবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজার কত নিচে যেতে পারে আমি দেখতে চাই’ বলে চলতি বছরের ২৮ মার্চ জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছিলেন, এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। আপনারা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখবেন। আমার ওপর বিশ্বাস রাখবেন। বাজারের ইনডেক্স (সূচক) কত হবে তা আমি বলব না। ইনডেক্স ঠিক করে দেবে অর্থনীতি। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত ‘বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা কনফারেন্সে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, আমরা সবাইকে বিজয়ী করব। প্রধাানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করব এবং যারা বিনিয়োগ করবে তাদের বিজয়ী করব। এই বাজারে আমরা কেউ কারও শত্রু নয়। সবাই বন্ধু।’ তিনি যেদিন এসব কথা বলছিলেন সেদিনও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকে অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৫০৫ পয়েন্টে। যদিও এর আগে ২৪ জানুয়ারি ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ৯৫০ পয়েন্ট। ওখান থেকে টানা পতনে যখন ওই অবস্থানে নামে তখনই এমন সব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। আর আজ সেই সূচক নেমে এসেছে ৪ হাজার ৪১৯ পয়েন্টে। যদিও ওই দিন থেকেই বন্ধুর দিকে তাকিয়েই টানা পতন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। বড় পতনের মাধ্যমে তলানীর রেকর্ড প্রতিনিয়তই গুণছেন তারা। তারা বলছেন, আর কত পতন দেখতে চান আমাদের মন্ত্রী মহোদয়? আর পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের যদি কোন অস্তিতই না থাকে, তাহলে তিনি কাকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারের অযৌক্তিক দর পতনে সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অথচ অর্থনীতি এগিয়েছে, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। আর পুঁজিবাজার করে সাড়ে তিন বছরের সর্বনিম্ন পতনের রেকর্ড। ফলে বাজার কেন পড়ছে এবং আর কত পড়বে তা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও সম্প্রতিক বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু সেগুলোও অনুকূলে যায়নি বিনিয়োগকারীদের। সব মিলিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তাদের ফর্মূলায় কোন কাজ না হওয়ায় তাদের নেওয়া কোনো পদক্ষেপেই আর বিশ্বাস করেন না কেউ। তারপরও যেন বিএসইসি সঙ্কট নিরসনের কোনো উপায় বের করতে পারেনি।

এদিকে, আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনে শেষ হয় লেনদেন। এদিন ভিন্ন চিত্র থাকলেও পরবর্তীতে সৃষ্ট বিক্রয় চাপে টানা নামতে থাকে সূচক। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। আর টাকার অংকেও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। দিনশেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৭৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪৪১৯ পয়েন্টে। এর আগে ২০১৬ সালের ২৭ জুন সূচকটি অবস্থান করছিল ৪ হাজার ৪১২ পয়েন্টে। সে হিসাবে ৪২ মাস বা ৩ বছর ৫ মাস ২১ দিনের মধ্যে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক সর্বনিম্ন অবস্থানে চলে এসেছে।

আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯৯৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৫০৮ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৫টির, কমেছে ২৭৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির। আর দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ২৮১ কোটি ৫৬ লাখ ২২ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবস দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৪৪৯৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১০১৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১৫৩৮ পয়েন্টে। আর ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ৩০৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ২৪ কোটি ৯৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, দিন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ১৪৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮ হাজার ১৫১ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৩০টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৫টির, কমেছে ১৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির। আর দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

পুঁজিবাজারে ভরসা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা

পতন থেকে বের হতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। প্রায় প্রতিদিনই বাজার খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমতে কমতে ৪ হাজার ৫১৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই বড় পতন হয়েছে। লেনদেন কমেছে প্রায় ৩২ শতাংশ। পতনের বাজারে মোটা অঙ্কের বাজার মূলধনও হারিয়েছে ডিএসই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি ভরসা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের ভরসা দেওয়ার মতো কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ডিএসই-এর কোনও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে খারাপ ও দুর্বল কোম্পানি বাজারে আসছে, অথচ ঠেকানো যাচ্ছে না। দুর্নীতি বছরের পর বছর ধরে চলছে। বছরের পর বছর লোকসান গুনছে ব্রোকারেজ হাউসগুলো। লোকসান গুনছেন বিনিয়োগকারীরা।

তিনি বলেন, যেসব নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের দেখার কথা, তারা দেখছেন না। বাজারে সুশাসন বলতে কিছুই নেই। যে কারণে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আসছে না। ভরসা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউজের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট এখনও কাটেনি। তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির একটা প্রভাব এই বাজারে পড়ছে হয়তো।

তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদের হার বেশি হওয়ায় সবাই ব্যাংকেই টাকা রাখছে। পুঁজিবাজারের দিকে আসছে না। একই কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও হচ্ছে না।

তিনি উল্লেখ করেন, এখন প্রত্যেকটি শেয়ারের মূল্যই আকর্ষণীয়। এখন শেয়ার কেনার সময়। বাজারের প্রতি আস্থা ফিরলে বা বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনা শুরু করলে এই পতনের বাজারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে বাজার অব্যাহতভাবে পতন হওয়ায় ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীই এখন হতাশ ও ক্ষুব্ধ। পতন ঠেকাতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করতে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় অঙ্কের মূলধন হারানোর পাশাপাশি সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৭৭টির। আর ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।

এদিকে পতনের বাজারে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ তিন শ’ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪৬২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এছাড়া ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৫৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট।

আগের সপ্তাহে এই সূচকটি কমেছিল ৬০ দশমিক ১০ পয়েন্ট । অর্থাৎ দুই সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক হারালো ২১৭ পয়েন্ট। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৩১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, এই বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে টানা পতন শুরু হয়। বছরজুড়েই পতনের এ ধারা থেকে বের হতে পারেনি পুঁজিবাজার। গত নভেম্বরের কিছু দিন কিছুটা চাঙাভাব এলেও ডিসেম্বরের শুরুতেই আবারও হোঁচট খায় পুঁজিবাজার।

পতন ঠেকাতে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের সঙ্গে বসতে চায় ডিএসই

পুঁজিবাজারে চলমান সংকট থেকে উত্তোরণ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ।

 

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ডিএসই’র ৯৪১তম বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ডিএসই’র বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাসেম।

ডিএসই’র প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পুঁজিবাজার পরিস্থিতি এবং তার টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবে ডিএসই। আজ ডিএসই ৯৪১তম বোর্ড সভায় চলমান বাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কবে, কখন, কোথায় বৈঠকে বসা হবে সে দিনক্ষণ নির্ধারণ করার জন্য সময় চেয়ে অর্থমন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠাবে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। আর এ দায়িত্ব পালন করতে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশস্ত হলো পুঁজিবাজারে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা আসার পথ

পুঁজিবাজার রিপোর্ট: তারল্য সংকট দূর করে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি সরকারের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছিল ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকারসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। আর পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে এ তহবিল ব্যবহারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল জানতে চেয়েছিল সরকার। এর প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) প্রাতিষ্ঠানিক ব্রোকারদের (ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান) পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত তহবিলের একটি রূপরেখা অর্থমন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে আরও দশ হাজার কোটি টাকা আসার পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, সংকট কাটাতে শুধু সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগের জন্য এ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। আর এই সুবিধা ব্রোকারহাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সব মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর ফলে পুঁজিবাজারের জন্য স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব আরও একধাপ এগিয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আলোচিত তহবিলের আকার হতে পারে দশ হাজার কোটি টাকা। যার মেয়াদ হবে ৬ বছর। প্রস্তাবিত সুদের হার ৩ শতাংশ। প্রথম ২ বছর হবে গ্রেস পিরিয়ড। এ সময়ে তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে না। পরবর্তী চার বছরে তা সুদ-আসলে ফেরত দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ নভেম্বর পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটিয়ে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নেতৃস্থানীয় ৭ জন বৈঠক করেন। এরা হলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট মোঃ রকিবুর রহমান, মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছায়েদুর রহমান, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস, সিটি ব্রোকারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফফান ইউসুফ ও এআইবিএল ক্যাপিটালের পরিচালক মোঃ রেজাউর রহমান। বৈঠকে সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল সম্পর্কে জানতে চান। এরই প্রেক্ষিতেই আজ তাদের পক্ষ থেকে আলোচিত প্রস্তাবনাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ডিএসই

আগামী ২০২০ সাল “মুজিব বর্ষ” পালন উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বছরব্যাপী এ কর্মসূচি পালনের জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

সোমবার (২ ডিসেম্বর) ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের ৯৪০তম বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ডিএসই’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগ) মোঃ শফিকুর রহমান সস্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আছে, আগামী ২০২০ সাল মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। বছরব্যাপী কর্মসূচী পালনের জন্য ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেমকে আহবায়ক এবং পরিচালক মোঃ রকিবুর রহমানকে কো-আহবায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

 

কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ হলেন ডিএসই’র পরিচালক বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া, মনোয়ারা হাকিম আলী, অধ্যাপক ড. এম. কায়কোবাদ, অধ্যাপক ড. মোঃ মাসুদুর রহমান, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. হানিফ ভূইয়া, মিনহাজ মান্নান ইমন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইনচার্জ) আবদুল মতিন পাটওয়ারী।

প্রভিশন ঘাটতিতে ১৩ ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়লেও কমেছে প্রভিশন ঘাটতি। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেষে এ খাতে প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে আট হাজার ১২৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের প্রান্তিক জুনে যা ছিল ৯ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এ সময় ১৩টি ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে। এ তালিকায় রয়েছে বেসরকারি খাতের ৯টি, সরকারি খাতের তিনটি ও বিদেশি খাতের একটি ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না। এতে ওই ব্যাংকের শেয়ারে নিরুৎসাহিত হন বিনিয়োগকারীরা। এ ছাড়া যেসব ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়, তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।

 

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো প্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে, তার বেশির ভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোনো প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে সেপ্টেম্বর শেষে ৫৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা প্রভিশন রেখেছে ব্যাংকগুলো। এতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে আট হাজার ১২৯ কোটি টাকা। তবে জুন মাসের তুলনায় এক হাজার ৯০ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি কমেছে সেপ্টেম্বরে। চলতি বছরের জুন শেষে মোট প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ১১৯ কোটি টাকা।

এ সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খাতের ব্যাংকগুলোতে ছয় হাজার ৪৩৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর বেসরকারি খাতের ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি দুই হাজার ১৪৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তবে এ সময়ে বিদেশি খাতের ব্যাংকে ১৫ কোটি ও বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার প্রভিশন উদ্বৃত্ত রয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১১.৯৯ শতাংশ। তিন মাস আগে (জুন শেষে) মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, একসময় কোনো ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি থাকলে শুধু সতর্ক ও ঘাটতি মেটাতে দিকনির্দেশনা দিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সংশোধিত ব্যাংক কম্পানি আইনে কোনো ব্যাংকে টানা দুই বছর ঘাটতি থাকলে তার বড় অঙ্কের জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়েছে। এসব কারণে নানা উপায়ে প্রভিশন ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করে ব্যাংকগুলো।

ওষুধ খাতের ৫৮ ভাগ কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (মুনাফা) বেড়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৯) এই মুনাফা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

জানা গেছে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৩২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টি চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টির বা ৫৮ শতাংশের মুনাফা বেড়েছে, মুনাফা কমেছে ৬টির বা ২৫ শতাংশের, একটির মুনাফা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ৩টির বা ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে।

 

মুনাফা সর্বোচ্চ বেড়েছে ওয়াটা কেমিক্যালের। কোম্পানিটির মুনাফা ৫২ শতাংশ বেড়েছে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে কোহিনূর কেমিক্যালের। এছাড়া মুনাফা সবচেয়ে কম অর্থাৎ ৩ শতাংশ বেড়েছে একমি ল্যাবরেটরিজের। মুনাফা আগের বছরের একই সময় থেকে কমেছে ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।

 

মুনাফা সর্বোচ্চ কমেছে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের। কোম্পানিটির মুনাফা ৭৬ শতাংশ কমেছে এবং মুনাফা সবচেয়ে কম ১৪ শতাংশ কমেছে সিলকো ফার্মার। আগের বছর একই সময়ের মতো ফার্মা এইডসের শেয়ারপ্রতি মুনাফা অপরিবর্তিত রয়েছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩টির বা ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।

 

এসিআই মুনাফা থেকে লোকসানে নেমে গেছে। আগের বছরের একই সময় থেকে চলতি অর্থবছরের ৩ মাসে কোম্পানিটির লোকসান ৭১৮ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইমাম বাটন ও বেক্সিমকো সিনথেটিকসের লোকসান আগের বছর একই সময় থেকে কমেছে।

২০২০ সালে ২৪ দিন বন্ধ থাকবে পুঁজিবাজারের লেনদেন

নিয়মানুযায়ী দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুজিবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকে। সে অনুযায়ী আগামী ২০২০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে ২৪ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। আর এদিনগুলো পুঁজিবাজারে লেনদেন হবে না। তবে এর বাইরেও ঈদ বা অন্য কোনো সময় স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ ছুটির মাধ্যমে লেনদেন বন্ধ থাকতে পারে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ২০২০ সালে সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে চাঁদ দেখাসাপেক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিন দিন করে ছুটি থাকছে। এ ছাড়া অন্যান্য উৎসবে বা বিশেষ দিনে এক দিন করে ছুটি থাকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখার নির্দেশ অনুযায়ী দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ছুটির তালিকা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়।

 

ছুটির তালিকায় রয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ১ মে শ্রমিক (মে) দিবস, ৬ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমা, ২১ মে শব-ই কদর, ২২ জুন জামাতুল বিদা, ২৪, ২৫ ও ২৬ মে ঈদুল ফিতর।

বছরের দ্বিতীয় ভাগে ছুটির তালিকায় আছে ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে, ৩১ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট ঈদুল আযহা, ১১ অগাস্ট শুভ জন্মাষ্টমী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ৩০ অগাস্ট পবিত্র আশুরা, ২৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী), ৩০ অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন এবং ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে।