বাংলাদেশে প্রথম শেয়ার মার্কেটের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণকারী কোম্পানি "স্টক বাংলাদেশ লিমিটেড" এর 'বেসিক টেকনিক্যাল এ্যানালাইসিস' এক্সিকিউটিভ-৭০তম ব্যাচ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৯ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং। ২দিনের এই কোর্সটি চলবে শুক্র ও শনিবার সকাল ৯.৩০ ঘটিকা থেকে সন্ধ্যা ৭.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত। কোর্স ফি- ৮০০০ টাকা। কোর্স শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। পরিবর্তনশীল শেয়ার বাজার সম্পর্কে জানতে আপনাকেও আপডেটেড হওয়াটা জরুরী। মার্কেট সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করুন, কাঙ্খিত মুনাফা অর্জন করুন। রেজিষ্ট্রেশন করতে কল করুন- ০১৯২৯ ৯১ ২৮ ৭৮, অথবা বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
News Details
‘কৃষি যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে ঋণপ্রাপ্তি আরো সহজ করতে হবে’

স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭২ সালের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যশস্যের উৎপাদন প্রায় চার গুণ বেড়েছে। প্রতিবছর উৎপাদিত হচ্ছে তিন কোটি ৮০ লাখ টনেরও বেশি খাদ্যশস্য। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষি খাতে বার্ষিক ৪ থেকে ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে এ খাত থেকে কিছু রপ্তানি আয়ও আসতে পারে। এ ছাড়া কৃষি খাতে কর্মীপ্রতি জিডিপি ১ শতাংশ বাড়ানো গেলে দারিদ্র্য কমবে শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। গতকাল শনিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে মেটাল গ্রুপ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ : বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও আর্থিক সেবা খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এ সময় তিনি দেশের কৃষি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য কৃষকদের ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে ড. আতিউর রহমান বলেন, সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে প্রান্তিক ও গরিব কৃষকদের যন্ত্র কেনায় ভর্তুকি দিচ্ছে। বেসরকারি খাতকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়ার জন্য কৃষি যন্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ শুল্ক সুবিধা। আতিউর রহমান আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ঋণ প্রদানকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য কৃষকদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর। এমনটি করা সম্ভব হলে সেটি ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ’-এর একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত হবে বলে মনে করেন তিনি।

ভবিষ্যতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণে ব্যাংক খাতের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রসঙ্গে ড. আতিউর রহমান তিনটি প্রস্তাব রাখেন। তিনি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করতে ব্যাংক রেট ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে মোট সরবরাহকৃত ঋণের অন্তত ১০ শতাংশ মৎস চাষে দেওয়ার প্রস্তাব করেন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ ঋণের প্রস্তাব করেন। তা ছাড়া মসলা চাষি ও গাভি খামারিদের জন্য যেমন স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয়েছিল, তেমনটি কৃষির যান্ত্রিকীকরণেও করার প্রস্তাব দেন তিনি। সেমিনারে মেটাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাদিদ জামিল বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানও যদি কৃষকদের ঋণ সুবিধা প্রদানে এগিয়ে আসে তাহলে দেশে দ্রুত কৃষির আধুনিকায়ন হবে। এর ফলে দেশের দারিদ্র্য কমে আসবে এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনও বাড়বে।’

source : kalar kontho

হুমকিতে পড়তে পারে স্পিনিং খাত

দেশে বেনাপোল এবং চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সুতা আমদানি করা হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়েও সুতা আমদানি করতে। যদিও এর তীব্র বিরোধিতা করছে এ খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাঁদের আশঙ্কা এ বন্দর ব্যবহার করে অসত্য ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সুতা আমদানি হবে। এতে দেশের সাড়ে ৩ লাখ তাঁতশিল্প, দেশীয় শাড়ি, লুঙ্গি ও বস্ত্র খাতের স্পিনিং মিলগুলো হুমকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া এ বন্দর দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে তৃতীয় কোনো দেশের সুতা নেপালের সুতা বলে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানায়, নেপালে সুতার কোনো কল নেই। এমনকি ভারতের যেসব অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে সুতা আসে ওই অঞ্চলগুলো বাংলাবান্ধা সীমান্তের একবারে বিপরীতমুখী অবস্থানে। এ ছাড়া অবকাঠামোহীন এই স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি করার কথা বলে একটি অসাধু মহল বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। যেন দেশের তৈরি পোশাক খাতের নিয়মিত প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক অর্থনীতি ও স্পিনিংশিল্প হুমকির মুখে পড়ে। জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে নেপাল থেকে বাংলাবান্ধা স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতি নিয়ে একটি সভা হয়। ওই সভায় বস্ত্র খাতের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ ও বিটিএমএর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা নেপালে যেহেতু সুতা তৈরি হয় না, এমনকি কোনো স্পিনিং মিল নেই তাই বাংলাবান্ধা দিয়ে সুতা আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই বলে মত দেন। এ ছাড়া সুতা আমদানিকারকদের পরিবহন খরচ ও সময় বেশি লাগবে। এদিকে একই সভায় বাংলাবান্ধার শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা রিজভী আহমেদ জানান, বন্দর দিয়ে সুতা আমদানির মতো প্রয়োজনীয় জনবল, পণ্যের গুদামজাত করা ও সুতা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার নেই। ফলে ওই সভায় সুতা আমদানিতে এ বন্দর ব্যবহারের প্রয়োজন নেই এমন সিদ্ধান্ত হলেও ফের বিষয়টি নিয়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানায় এনবিআর। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন একটি দুষ্টচক্র এর মধ্যে কাজ করছে। তাই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন হবেন।

এরই মধ্যে সময় চেয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে সুতা ও বস্ত্র খাতের সংগঠন বিটিএমএ। জানতে চাইলে বস্ত্র খাতের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সহসভাপতি মো. আলী খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, নেপালে কোনো সুতার কল না থাকলেও নেপাল থেকে সুতা আমদানির জন্য দেশের সর্বশেষ স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতির জন্য এনবিআর খাতসংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে আমরা সুতা আমদানির জন্য বাংলাবান্ধা বন্দরের প্রয়োজন নেই; বোঝাতে সক্ষম হলেও এনবিআর ফের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সভা করে। তাই আমাদের আশঙ্কা হয় দেশের সুতা ও বস্ত্র খাত নিয়ে একটি অসাধু মহল ষড়যন্ত্র করছে। এর ফলে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে সুতা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেশের বস্ত্র খাতকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতের ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বৈঠকে থাকার কথা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। এনবিআরের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বৈঠকে থাকার কথা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আমাদের চিঠি দিলে আমরা বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএকে তাদের মতামত জানাতে চিঠি দিই। এরই মধ্যে তারা নেপাল থেকে সুতা আমদানির বিষয়টি প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে।

এ ছাড়া আমরাও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হোক এমনটা চাই না। নেপালের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনাই ছিল এর মূল কারণ। এ ছাড়া এ ব্যাপারে এখনো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ব্যবসায়ীদের এ ব্যাপারে শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে। বিটিএমএ সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর সুতার চাহিদা আছে ১৪ লাখ টন। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় ১০ লাখ টন। আমদানি করা সুতা চীন, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত থেকে আসে। এর অর্ধেকই আসে ভারত থেকে। উদ্যোক্তারা মনে করেন সরকারের নীতি সহায়তা পেলে কিছু উচ্চ মূল্যের সুতা ছাড়া বাকিটুকুও দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। বিটিএমএ দেশের বেসরকারি খাতের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের স্পিনিং উইভিং ডায়িং-প্রিন্টিং এবং ফিনিশিংয়ের একটি বড় খাত। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৫০টি স্পিনিং মিল আছে। এসব কারখানার স্পিন্ডেল ক্ষমতা ১১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন। এর বিপরীতে সুতা উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে দুই হাজার ৫৯০ মিলিয়ন কেজি, যা প্রায় মোট চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া স্পিনিং খাতে ছয় থেকে সাত লাখ শ্রমিক সরাসরি জড়িত।

ঢাকা থেকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বর্তমানে সুতা আমদানি করা হয়। ঢাকা থেকে বেনাপোলের দূরত্ব মাত্র ২৩৩ কিলোমিটার। অন্যদিকে বাংলাবান্ধা সীমান্ত প্রায় ৪৬৪ কিলোমিটার। এর ফলে আমদানিকারকদের পরিবহন খরচ দিগুণ হারে বাড়বে। বেনাপোল থেকে পণ্য সংগ্রহ করা হলে ট্রাকপ্রতি ভাড়া হবে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে বাংলাবান্ধা থেকে পণ্য পরিবহনে খরচ হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। জানা যায়, দেশের সর্বশেষ সীমান্ত পঞ্চগড়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। এর বিপরীতে ভারতের কোচবিহার। বিটিএমএর মতে ভারতের কোচবিহারে কোনো সুতা কল নেই। সুতা কলগুলো মূলত মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যে। এ রাজ্যগুলো বাংলাদেশের বেনাপোলের কাছাকাছি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার যদি বেনাপোল দিয়ে সুতা আমদানিতে নিষেধ না করে তাহলে তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এর ফলে অন্য কোনো দেশ থেকেও আমাদের পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হবে। আর এতে যার সুবিধা হবে, তিনিই ওই বন্দর ব্যবহার করবেন। আর অসত্য ঘোষণায় আমদানি বন্ধ করা এবং উদ্যোক্তাদের শঙ্কার জায়গায় আস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের।

source : kalar kontho

চার পণ্যের দাম চড়া

রাজধানীর কাঁচাবাজারে চারটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এখন বাজারে গেলে এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে ক্রেতাকে বাড়তি ব্যয় করতে হবে প্রায় ২০ টাকা। বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দামও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চারটি পণ্যের দামই বেড়েছে সরবরাহে টান পড়ার কারণে। টানা বৃষ্টি শেষ হলে দর কিছুটা কমতে পারে। ডিমের দাম সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঢাকার অলিগলির খুচরা দোকানে ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৩৫-৩৬ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। কাঁচাবাজারে প্রতি ডজন ডিম ১০০-১০৫ টাকায় কেনা যাচ্ছে। দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিম কিনতে চাইলে হালিপ্রতি বাড়তি ১০ টাকা দিতে হবে। খুচরা দোকানে হাঁস ও দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেজগাঁওয়ের কলমিলতা বাজারে ডিম কিনছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, তাঁর পাঁচজনের পরিবারে এক ডজন ডিমে দুই দিন যায়।

ডিমের দাম না কমলে তাঁর খরচ বাড়বে মাসে ৬০০ টাকার মতো। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক মাস আগে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম ২২-২৬ টাকা ছিল। সে হিসেবে এখনকার দর প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। জানতে চাইলে তেজগাঁওয়ের ডিমের আড়তের ব্যবসায়ী মিজানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিগত তিন-চার বছর দেশে ডিমের দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে কম ছিল। এতে অনেক কৃষক খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন সে কারণে ডিমের সরবরাহ কম। আবার বর্ষায় হাঁসের ডিম পাড়ার হার কমে যায়। মূল্যবৃদ্ধির এটিও একটি কারণ। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫-১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ১৪০-১৪৫ টাকা ছিল।

সাধারণত পবিত্র শবে বরাত ও ঈদুল ফিতরের উৎসবের সময় বাড়তি চাহিদা তৈরি হলে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা বা তার ওপরে ওঠে। গত ঈদুল ফিতরের সময় বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০-১৭০ টাকায় উঠেছিল। এরপর তা কমে যায়। গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার খামারমালিক ও পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসিন প্রথম আলোকে বলেন, আবহাওয়া বৈরী থাকলে সাধারণ বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকে। এতে মুরগির বাজারে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়। এ কারণে এখন মুরগির দাম কিছুটা বাড়তি। বাজারে গত দুই সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়েছে। খুচরা দোকানে এখন বাছাই করা দেশি বড় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মাঝারি দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫-৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজের আড়ত নবীন ট্রেডার্সের মালিক নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। ভারতে পেঁয়াজের দামও কিছুটা বাড়তি। এ কারণে দেশের বাজারে দাম বেড়েছে। তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫-৩৬ টাকা ছিল, যা ৪৬-৪৭ টাকা হয়ে গেছে।

বর্ষাজুড়েই কাঁচা মরিচের দাম ওঠানামার মধ্যে আছে। দুই সপ্তাহ আগে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা ছিল। এরপর তা কমে ১২০ টাকায় নামে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর তা আবার বেড়ে কেজিতে ১৬০ টাকায় উঠেছে। তেজগাঁওয়ের কলমিলতা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জহির বলেন, তাঁর দোকানে শুধু কাঁচা মরিচের দরই বেশি। প্রতি আড়াই শ গ্রাম কাঁচা মরিচ তিনি ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে অন্যান্য সবজির দাম ২৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। অবশ্য কারওয়ান বাজারের সবজির আড়তে কাঁচা মরিচের দাম বেশ কম। প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। বাজারে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, আদা, গরুর মাংস ইত্যাদি পণ্যের দামে তেমন কোনো হেরফের নেই। রসুনের দাম বেশ কমেছে। কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা কমে তা ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দরও স্বাভাবিক।

source : prothom-alo

কাঁচা পাটের ব্যবসায় ভাটা

দোতলা প্রেস কারখানা ভবনের দুই পাশে বিশাল আকারের ৩৮টি গুদাম। গুদামগুলোর আয়তন সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গফুট। সেখানে যাচাই-বাছাই শেষে শ্রমিকেরা মাথায় করে পাট নিয়ে যাচ্ছেন কারখানার ওপরের তলায়। তারপর সেই পাট ওজন করে দৈতাকার প্রেস মেশিনের একটি অংশে রেখে মোটা দড়ি দিয়ে প্যাঁচানো হয়। তারপর মেশিনে চাপ প্রয়োগ করে বেল আকার দেওয়া হয়। প্রতি বেলে ১৮২ কেজি পাট থাকে। মেশিন থেকে প্রতি বেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচতলায় চলে যায়। তারপর নির্দিষ্ট ট্রলিতে করে সেগুলো আবার রপ্তানির জন্য গুদামে নিয়ে রাখা হয়। ট্রলি চালানোর জন্য পুরো কারখানা চত্বরে রয়েছে রেললাইন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীপথে কাঁচা পাট আনার জন্য কারখানার ভেতর পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর একটি চ্যানেল আছে। পাটবাহী ট্রলার কিংবা বড় নৌকা চ্যানেল দিয়ে কারখানায় আসে। নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেডের জুট বেলিং কারখানার ভেতরের চিত্র এটি। ১ জুলাই কারখানা চত্বর ঘুরে দেখা যায়, অল্প কয়েকটি গুদামে তিন-চারজন করে শ্রমিক পাট যাচাই-বাছাইয়ে কাজ করছেন। কিছু গুদাম ফাঁকা। তবে প্রেস হাউস বেশ কর্মচঞ্চল।

দুটি প্রেস মেশিনে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। গুদাম থেকে কারখানায় পাট আনতে ব্যস্ত আরও অর্ধশতাধিক শ্রমিক। সবারই পুরো শরীর পাটের সোনালি আঁশে মাখামাখি। ৩০ বছর ধরে কারখানার প্রেস মেশিন চালানোর কাজ করেন শ্রমিক মো. ইয়াসিন। তিনি বলেন, বর্তমানে কাজ কম থাকায় কারখানাটি ছয় ঘণ্টা চলছে। তবে পাটের ভরা মৌসুম আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস কারখানায় আট থেকে দশ ঘণ্টা জুট বেলিংয়ের কাজ হবে। কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট আগে কাঁচা পাট রপ্তানি করলেও বর্তমানে করে না। তাদের জুট বেলিং কারখানা চত্বরের ৩৮ গুদাম ভাড়া নিয়েছে ১২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। তারাই কুমুদিনীর প্রেস মেশিন ব্যবহার করে পাটের বেল তৈরি করে।

প্রতি বেলের জন্য গুনতে হয় ২৩৫ টাকা। জানতে চাইলে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পুরোনো কর্মকর্তা জগন্নাথ পোদ্দার বলেন, কারখানায় আগে প্রতিদিন ৮০-৮৫ হাজার মণ পাট আসত। দিন-রাত মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টা কাজ হতো। এখন সকালে চালু করলে দুপুরে বন্ধ করে দিতে হয়। এই হচ্ছে অবস্থা। তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লাখ বেল। কিন্তু ১ লাখ ২৫ থেকে ৩০ হাজার বেলের বেশি বর্তমানে হচ্ছে না। ব্যবসা মন্দা, তাই চারটি প্রেস মেশিনের মধ্যে দুটি চালানো হচ্ছে। কিছু গুদাম তুলা ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জের কাঁচা পাটের ব্যবসায় বহুদিন ধরেই মন্দা চলছে। বহির্বিশ্বে চাহিদা কমে যাওয়ায় কাঁচা পাট রপ্তানি কমে গেছে। নারায়ণগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানি কমে যাওয়ায় রপ্তানিকারকদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সরকারি সাতটি প্রেস হাউস বন্ধ। বেসরকারি পর্যায়ে সাতটি প্রেস হাউস চালু থাকলেও প্রায় সবগুলোই চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের কাঁচা পাট রপ্তানি হয়। বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ কাঁচা পাট রপ্তানি কমে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে দাঁড়ায়।

অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাংলাদেশের কাঁচা পাট রপ্তানির গন্তব্য পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, হংকং, তিউনিসিয়া, আইভরি কোস্ট, এল সালভেদর ও ফিলিপাইন। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা এলাকায় কুমুদিনীর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের আরেকটি জুট বেলিং কারখানা ছাড়াও পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ কারখানা আছে। ২ জুলাই কারখানাটিতে ঢুকতেই প্রেস হাউস চোখে পড়ল। পাশেই সারি সারি গুদাম। নদীর পাড়ে পাটবাহী ট্রলার ভেড়ার জন্য আছে নিজস্ব জেটি। কারখানা ঘুরে দেখা গেল, শ্রমিকেরা বেল করা পাট ট্রলিতে করে নিয়ে গুদামে রাখছেন। গুদামে পাটের গ্রেডিংয়ের কাজ করছেন বেশ কিছু শ্রমিক।

কারখানাটিতে চার শ শ্রমিক কাজ করেন। বর্তমানে পাটের ভরা মৌসুম না হওয়ায় কয়েকটি গুদাম গম রাখার জন্য ভাড়া দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ নিজেরাই কাঁচা পাট বেল আকারে রপ্তানি করে। নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি খুলনার দৌলতপুর, সৈয়দপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাটের ব্যবসা আছে প্রতিষ্ঠানটির। সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক হিসেবে কয়েক দফা জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পুরস্কার পেয়েছে পপুলার। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (রপ্তানি) স্বপন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ করে পাটের দাম মণপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় খুব মুশকিলে আছি। কারণ এই বাড়তি দাম তো ক্রেতারা দেবেন না। তিনি বলেন, ‘কাঁচা পাটের ব্যবসায় মন্দা চলছে। গত অর্থবছর ২ লাখ ৮৮ হাজার বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করেছি আমরা।

কিন্তু কয়েক বছর আগেও আমাদের রপ্তানি ছিল ৪-৫ লাখ বেল।’ কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের সমিতি বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) রেজিস্ট্রার কার্যালয় আছে নারায়ণগঞ্জে। সেখানে গিয়ে সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘বহির্বিশ্বে পাটের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসা পড়ে গেছে। আবার সরকারের নীতির কারণেও আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। যেমন ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাস সব ধরনের কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মন্ত্রণালয়। তখন বিদেশি অনেক ক্রেতা আমরা হারিয়েছি। তাঁরা অন্য দেশ থেকে পাট কেনায় ঝুঁকে পড়েন। চলতি বছর আবার তিন ধরনের কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।’ দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা যেসব পাট রপ্তানি করি, তা খুবই নিম্নমানের। এসব পাট দিয়ে চটের বস্তা, সুতা কিছুই তৈরি করা যায় না। তাই মন্ত্রণালয়ের উচিত রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে বরং নতুন বাজার খোঁজা। তাহলে রপ্তানি আয় বাড়বে। ব্যবসায়ীরাও বাঁচবেন।’

source : prothom-alo

ঈদে চার গন্তব্যে ইউএস বাংলার অতিরিক্ত ফ্লাইট

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে চারটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আজ শনিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি আগামী ১৭ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা থেকে যশোরে ৮টি, সৈয়দপুরে ৪টি, রাজশাহীতে ৩টি ও বরিশালে ২টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ঘরমুখী যাত্রীদের ঈদ আনন্দের পূর্ণতা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ৬টি, যশোরে ২টি, কক্সবাজারে ২টি, সৈয়দপুরে ২টি, সিলেটে ১টি, রাজশাহীতে ১টি ও বরিশালে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। অতিরিক্ত ফ্লাইটের পাশাপাশি ইউএস-বাংলা বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকায় আসা যাত্রীদের বিশেষ ভাড়া নির্ধারণ করেছে।

১৭ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী, বরিশাল, সৈয়দপুর ও যশোর থেকে ঢাকা ভ্রমণে খরচ পড়বে ১ হাজার ৯৯৯ টাকা। এ বিষয়ে তথ্যের জন্য ০১৭৭৭৭৭৭৮০০-৮০৬ ও ১৩৬০৫ নম্বরে যাত্রীরা যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্ট অথবা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের পাশাপাশি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সাতটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

source : prothom-alo

কেয়া কসমেটিকসের পরিচালকদের লাখ টাকা করে জরিমানা

যথাসময়ে আর্থিক হিসাব দাখিল না করায় কেয়া কসমেটিকসের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র ও মনোনীত পরিচালক ছাড়া) এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব সময়মতো দিতে না পারায় তিন ব্রোকারেজ হাউসকে সতর্ক করেছে কমিশন। কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্রোকারেজ হাউস তিনটি হলো ইউনিক শেয়ার ম্যানেজমেন্ট, এবি অ্যান্ড কম্পানি ও অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমন্ট লিমিটেড। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রান্তিকের হিসাব জমা দিতে না পারায় কেয়া কসমেটিকসের প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ১৮ হাজার ৫৮২ রাইট শেয়ার আবেদন বাতিল ও সতর্ক এবং ক্যাপিট্যাক পদ্মা পিএফ শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে কমিশন।

কেয়া কসমেটিকস কর্তৃপক্ষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব যথাসময়ে দাখিল না করার মাধ্যমে কমিশনের নির্দেশনা ভঙ্গ করেছে। একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কম্পানি আইন ভঙ্গ করেছে। এতে কম্পানিটির স্বতন্ত্র ও মনোনীত পরিচালক ছাড়া অন্য প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের রাইট আবেদন বাতিল : বিনিয়োগ হিসাবধারীর সম্মতি ব্যতীত সাইফ পাওয়ারটেকের সাড়ে ১৮ হাজার রাইট শেয়ার রিনানসিয়েশনের মাধ্যমে নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পেতে আবেদন করার জন্য আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট তাদের ২৫ জন বিনিয়োগকারীর পক্ষে ১৮ হাজার ৫৮২টি সাইফ পাওয়ারটেকের রাইট শেয়ারের আবেদন না করে, ওই শেয়ারগুলো বিনিয়োগ হিসাবধারীদের সম্মতি ব্যতীত রিনানসিয়েশনের মাধ্যমে নিজস্ব পোর্টফোলিওতে প্রাপ্তির আবেদন করে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কমিশনের আদেশ লঙ্ঘন করেছে। এতে শাস্তিস্বরূপ কমিশন আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ১৮ হাজার ৫৮২টি রাইট শেয়ারের আবেদন বাতিল ও আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টকে সতর্ক করেছে। ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন : ক্যাপিট্যাক পদ্মা পিএফ শরিয়াহ ইউনিটের বে-মেয়াদি ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে কমিশন। ফান্ডটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি টাকা, উদ্যোক্তার অংশ এক কোটি টাকা। বাকি ৯ কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য ররাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে উত্তোলন করা হবে। ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড অ্যামপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড, সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে ক্যাপিট্যাক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এবং ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ।

source : kalar kontho

প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানি লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১৩৯টি আইটেমের পণ্য। এর মধ্যে শুধু প্যান্ট ও টি-শার্ট থেকেই আয় হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা। গত অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানি করেই গত অর্থবছরে ১২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশ থেকে সমাপ্ত অর্থবছরে মোট জাতীয় রপ্তানির ৩৪.৫৮ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রধান পণ্য হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্য ব্যবহার্য প্যান্ট আর টি-শার্ট। কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগে যেমন এগিয়ে তেমনি রপ্তানি খাতকেও সামনে থেকে পথ দেখাচ্ছে এ দুটি পণ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রপ্তানি বন্ধ্যত্ব কাটিয়ে এবার দেশের প্রধান দুই রপ্তানি পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৬১ শতাংশ। এই এক বছরে প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানি বেড়েছে ৭৯৩ মিলিয়ন ডলার বা ছয় হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। কমপ্লাইয়েন্সড কারখানা, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজার চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারগুলো আবার সচল হওয়ার প্রভাব পড়েছে প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানিতে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্যান্ট রপ্তানি করে ছয় দশমিক ৩৮৯ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা (ডলার ৮৪ টাকা হিসেবে)। যা আগের অর্থবছরে রপ্তানি ৬ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। গতবারের মন্দাভাব কাটিয়ে টি-শার্ট রপ্তানিও বেড়েছে ৭.৩৪ শতাংশ।

সমাপ্ত অর্থবছরে টি-শার্ট রপ্তানি হয়েছে ৬ দশমিক ২৯২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৩০ মিলিয়ন ডলার বা তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেশি। দেশের তৃতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে যথারীতি নিজের অবস্থান অটুট রেখেছে জ্যাকেট। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হওয়া ৩ দশমিক ৫৪৬ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে গত অর্থবছরে জ্যাকেট রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৯৭৮ বিলিয়ন ডলার। এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশের বেশি। জাতীয় রপ্তানিতে এর পরেই আছে সোয়েটার। সোয়েটার রপ্তানি করে গত অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১৩ মিলিয়ন ডলার বেশি। তবে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো মন্দাভাব অব্যাহত আছে শার্ট রপ্তানিতে। সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে শার্ট রপ্তানি হয়েছে ২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ৪৪ মিলিয়ন ডলার কম। ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে থাকা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হঠাৎ করেই থমকে দাঁড়ায়। এ সময় এককভাবে দেশের দুই প্রধান রপ্তানিপণ্য প্যান্ট ও টি-শার্টের রপ্তানি ৪.৪১ শতাংশ কমে যায়। তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত প্যান্ট ও টি-শার্ট রপ্তানিতে ধস নামার প্রভাব পড়েছিল জাতীয় রপ্তানিতে। তবে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের হিসাবে, সেই প্যান্ট ও টি-শার্টের বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

প্যান্ট রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অর্ডার দিয়ে প্যান্ট নিচ্ছে গ্যাপ, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, জারা, এইচঅ্যান্ডএম, সিঅ্যান্ডএ, চার্লস ভোগলে, র‌্যাংলার, আমেরিকান ইগল, মিলার, ডকার্স, ওয়ালমার্ট, টম টেইলর ও ওল্ডনেভির মতো বিশ্বমানের ব্র্যান্ডগুলো। ইপিবিতে নিবন্ধিত দেশের ২৮০টি ফ্যাক্টরি থেকে এই পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানীকৃত প্যান্টের প্রধান বাজার ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র। ২০১২ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ছেলেদের প্যান্টের বাজার বাংলাদেশের দখলে। এর আগে এই বাজারটির দখল ছিল মেক্সিকোর কাছে। ফলে আর্থিক মূল্যেও যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ প্যান্ট রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। চীন, ভিয়েতনাম ও মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশ। এ ছাড়া সস্তাশ্রম আর কম উৎপাদন খরচের কারণে এইচঅ্যান্ডএম, গ্যাপ, নেক্সট, ম্যাটালন, নিউওয়েভ, ওয়ালমার্ট, জারার মতো বিশ্বখ্যাত চেনশপগুলো যেমন আছে তেমনি বিশ্বের নামি পোশাক ব্র্যান্ড জর্জিও আরমানি, হুগো বস, টমি হিলফিগার, বেন হিউসেন ও কেলভিন ক্লেইনও বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক টি-শার্ট আমদানি করে। বিজিএমইএ পরিচালক ও দেশের বৃহত্তম ডেনিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘মান বিবেচনা করলে আমরা এখনো লো-মিডিয়াম ও মিডিয়াম মানের ডেনিম উৎপাদন করছি। সবই মূলত বেসিক প্রডাক্ট।

ফ্যাশন ও প্রিমিয়াম প্রডাক্ট কম।’ তবে প্যাসিফিক জিন্সের নিজস্ব ডিজাইন করা প্রডাক্ট দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশের রপ্তানি ভবিষ্যতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বর্তমানে যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে তা যদি আরো কিছুদিন অব্যাহত থাকে তবে নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ লাভবান হবে। কারণ ট্রাম্প সরকার চীনা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বসালে স্বাভাবিকভাবে আমেরিকান ব্র্যান্ডগুলোর একটি বড় অংশ বাংলাদেশমুখী হবে।’ এ্যাবা গ্রুপের মালিকানাধীন গাজীপুরের ভিনটেজ ডেনিম অ্যাপারেলস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জিন্স প্যান্টের ডিজাইন আসলে এর ওয়াশিং কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে। কোন মানের ওয়াশ হচ্ছে তার ওপর জিন্সটির ভ্যালু অ্যাডেড হয়। বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো মানের জিন্স প্যান্ট তৈরি হয়। আমরা এখন ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে প্রথম অবস্থানে আছি। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ৩ নম্বর পজিশনে থাকলেও অচিরেই এই বাজারে আমাদের অবস্থান আরো সুসংহত হবে।’

source : kalar kontho

খাত বড়, মজুরি কম

দেশের ট্যানারিশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৮০০ টাকা। এ ছাড়া জাহাজভাঙা শিল্পে ১৬ হাজার এবং ওষুধশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার ৫০ টাকা। চলতি মাসেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানার শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি শতভাগ বৃদ্ধি করে ৮ হাজার ৩০০ টাকা ঘোষণা করেছে সরকার। মজুরির সঙ্গে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা যোগ করলে মাস শেষে বেতন-ভাতা ১৪ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ট্যানারি, জাহাজভাঙা ও ওষুধশিল্পের চেয়ে অনেক বড় এবং ব্যবসাসফল খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক। দেশের পণ্য রপ্তানির সাড়ে ৮৩ শতাংশ পোশাক খাত থেকে আসছে। তবে ৩ হাজার ৬১ কোটি ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকা রপ্তানি আয়ের এই খাতের শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি উল্লেখযোগ্য অন্য খাতের তুলনায় বেশ কম। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা। গত সপ্তাহে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভায় পোশাকশিল্পের মালিকেরা মজুরি মাত্র ১ হাজার ৬০ টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেন। সব মিলিয়ে তাঁরা মজুরি ৬ হাজার ৩০০ টাকা দিতে চান। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষ ১২ হাজার ২০ টাকা মজুরি দাবি করেছে। শ্রম মন্ত্রণালয় গত ৩১ জানুয়ারি পোশাকশিল্পের মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৬ জুলাই তৃতীয় সভায় নিজেদের মজুরি প্রস্তাব দেয় মালিক ও শ্রমিকপক্ষ। কম মজুরির প্রস্তাবের পক্ষে মালিকপক্ষ লিখিত যুক্তি দিয়েছে, প্রতিযোগী অন্য দেশের চেয়ে পোশাকশ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কম। উভয় পক্ষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশ করছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার বিকেলে শাহবাগে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ করেন। জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মালিকপক্ষ যে মজুরি প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে বড় ধরনের সমন্বয়ের সুযোগ আছে। কারণ, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। সেটি বিবেচনায় নিলে মজুরি হয় ৭ হাজার টাকা। আবার শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিলেও মজুরি অনেক বাড়বে।

তাই মালিকপক্ষের নিজেদের প্রস্তাব নতুন করে বিবেচনা করে মজুরি বোর্ডে জমা দেওয়া উচিত। সিপিডির এই গবেষক বলেন, ‘বিজিএমইএ পোশাকশ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ৪০ শতাংশ বললেও আমরা গবেষণায় দেখেছি, উৎপাদনশীলতা ৫০ শতাংশের ওপরে। সেটি ধীরে ধীরে বাড়ছে।’ অনেক খাতে মজুরি বেশি নিম্নতম মজুরি বোর্ড দেশের ৪১টি খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে। তার মধ্যে গত বছর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ট্যানারি, জাহাজভাঙা, ওষুধ, টি প্যাকেটিং, কটন টেক্সটাইলসহ ৯টি খাতের মজুরি নির্ধারণ করেছে মজুরি বোর্ড। এর মধ্যে ট্যানারিতে ১২ হাজার ৮০০, জাহাজভাঙায় ১৬ হাজার, ওষুধে ৮ হাজার ৫০, টি প্যাকেটিংয়ে সাড়ে ৮ হাজার, কটন টেক্সটাইলে ৫ হাজার ৭১০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যানারি, জাহাজভাঙা, ওষুধের মতো তুলনামূলক বড় খাত বিবেচনায় নিলে পোশাক খাতের মজুরি বেশ কম, ৫ হাজার ৩০০ টাকা। মালিকপক্ষ যে ১ হাজার ৬০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে, সেটি বাস্তবায়িত হলেও কমই থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমবিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যে প্রস্তাব মালিকপক্ষ দিয়েছে, সেটি নৈতিক কিংবা আইনি—কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবার শ্রমিকপক্ষের প্রস্তাবে শ্রমিকদের সত্যিকার চাহিদার প্রতিফলন হয়নি। তাই নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্যের উচিত শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় হিসাব করে নতুন আরেকটি প্রস্তাব দেওয়া।’ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ড গত কয়েক বছরে একেক খাতের জন্য একেক রকম মজুরি নির্ধারণ করেছে। এতে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম চাহিদা প্রায় একই। জাহাজভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পে শ্রমিকদের জন্য আলাদা করে ঝুঁকিভাতা থাকতে পারে। প্রতিযোগী দেশের তুলনায় মজুরি কম বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। আবার কম মজুরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ দ্বিতীয়। শ্রীলঙ্কার শ্রমিকেরা সবচেয়ে কম মজুরি পান, মাসিক ৬৬ মার্কিন ডলার। তারপর বাংলাদেশে ৬৮ ডলার। শ্রমিকের মজুরি সবচেয়ে বেশি তুরস্কে, ৫১৭ ডলার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।

সেই প্রতিবেদনে শীর্ষ ২০ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি উল্লেখ ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী চীনে ন্যূনতম মজুরি ১৫৫ ডলার, ভিয়েতনামে ১০০, ভারতে ৭৮ ডলার, কম্বোডিয়ায় ১২৮, পাকিস্তানে ৯৯ ডলার, ফিলিপাইনে ১৫০ ডলার। মালিকপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ট্যানারি ও জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয়। তাই সেখানে মজুরি বেশি। তা ছাড়া পোশাক খাত খুবই শ্রমঘন। ফলে সেখানে মজুরি কিছুটা কম হবে, সেটিই স্বাভাবিক।’ তিনি বলেন, গত সাড়ে চার বছরে ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। অন্যদিকে আমাদের ব্যবসার খরচ ৮-১০ শতাংশ বেড়েছে। সে জন্যই ২০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অপর প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর ৫ শতাংশ করে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও আমরা মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছি। এখন শ্রমিকেরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে শ্রমিকেরা জীবন যাপন করছেন। তাঁরা কি না খেয়ে থাকছেন?’

source : prothom-alo

জিএসকে বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে, অভিযোগ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের

বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে) কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার ‘অপচেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় বাংলাদেশ থেকে গুটিয়ে নেওয়ার জন্য তৎপরতা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উঠে আসে। তবে জিএসকে কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা পান নি। এখন বৈশ্বিকভাবেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা চলছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনে গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন সভাপতি মো. ইলিয়াছ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আজমের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট শিল্প এলাকায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসায় গুটিয়ে নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানা মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। তাদের তৎপরতার অংশ হিসেবে গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির বাংলাদেশের কারখানায় উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় কমিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ইতিমধ্যেই এ কারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার উৎপাদিত অনেক ওষুধ গুদামজাত থাকার পরও এবং বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তা বাজারজাত করা হচ্ছে না। কোম্পানিটির ওষুধ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রায় দেড় শ শ্রমিককে বিনা বেতনে বসিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের ধারণা বিদেশি পরিচালক (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যবসায় গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আজকের সংবাদ সম্মেলনে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কমিউনিকেশন রুমানা আহমেদ প্রথম আলোর কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।

রুমানা আহমেদ বলেন, এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে কারও কাছে আসেনি। বৈশ্বিকভাবেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা চলছে মাত্র। বাংলাদেশসহ ৭০টি দেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় ক্রমবর্ধমান। আর এখন এসব দেশের ব্যবসার বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। রুমানা আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে কিছু উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের সবাইকে না জানিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রুমানা আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনার পরিচালকের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা একেবারে ভ্রান্ত।

source : protom-alo

সোনা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই: অর্থমন্ত্রী

ভল্টে রক্ষিত সোনার পরিমাণ খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কমিটি গঠন করলেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সেখানে রাখা ৯৬৩ কেজি সোনার মধ্যে দূষিত মাত্র ৩ কেজি, এটা কোনো সমস্যা নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সোনা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ভল্টে রাখা সোনা নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো অনর্থক (ইউজলেস)। সচিবালয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিষয়–সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে থাকা সোনা নিয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ওই প্রতিবেদনের কোনো দরকার ছিল না। এদিকে ভল্টে রক্ষিত সোনার পরিমাণ খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেমকে প্রধান করে ছয় সদস্যের এ কমিটি ভল্টে রক্ষিত সোনার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করার সুপারিশ দেবে।

১৭ জুলাই প্রথম আলোয় ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই দিনই সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল যে সোনা ঠিকই আছে, করণিক ভুলের কারণে সোনার মান কমবেশি হয়েছে। পরের দিন ১৮ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নানও বলেছিলেন, ভল্টে রাখা সোনা নিয়ে অনিয়মের প্রতিবেদন দুনিয়া কাঁপানোভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ছয় সদস্যদের কমিটি গঠন বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠন করা কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক ভল্টে সোনা জমা দেওয়া ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সোনা গ্রহণের পদ্ধতি পর্যালোচনা। এ ছাড়া ভল্টে সোনা সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা–পদ্ধতি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করার সুপারিশ করবে এ কমিটি। ভল্টে রক্ষিত সোনা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এনবিআরের চেয়ারম্যান যে আধা সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন, তাও খতিয়ে দেখবে গঠিত কমিটি। কমিটি এ ছাড়া ভল্টের সোনা নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্য খতিয়ে দেখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ১৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদার ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহিদুল ইসলামকে নিয়ে সচিবালয়ে যে বৈঠক করেন, সেখানেই তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ নিয়ে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ভল্টে রক্ষিত সোনা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত অবস্থা জানতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভল্টে জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। অধিদপ্তর প্রতিবেদনটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এনবিআরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

source : prothom-alo