×
News Details
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ ছাড় শুরু

 

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে অর্থ সরবারহ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার বেসরকারি সিটি ব্যাংককে ৫০ কোটি টাকার তহবিল ছাড় দিয়েছে। ব্যাংকটি নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ অর্থ পুঁজিবাজারে আসছে এটা ভালো খবর। ফলে বাজারে বিনিয়োগ বাড়বে, তারল্য সংকট কমবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা ফিরবে। তবে ১৫টির মতো ব্যাংক রেপোর অর্থ নেয়ার সক্ষমতা থাকলেও মাত্র একটি ব্যাংক এ অর্থ নিচ্ছে। এটা খুবই সামান্য। সবগুলো ব্যাংক এ অর্থ নিয়ে বিনিয়োগ করলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

তহবিলের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য রেপোর আওতায় তহবিল চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে বেসরকারি সিটি ব্যাংক। যাচাই-বাছাই করে ৫০ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর আজ (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তহবিল অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ব্যাংকটি আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই তহবিলের অর্থ নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ অর্থ বাজারে কী প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পুঁজিবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর অর্থ আসছে এটা ভালো খবর। এটা বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। এটাকে আমরা স্বগত জানাই। ১৫টির মতো ব্যাংকের রেপোর অর্থ নেয়ার সক্ষমতা থাকলেও মাত্র একটি ব্যাংক এ অর্থ নিচ্ছে।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য মুদ্রাবাজার সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকখাতে এখন অর্থ সংকট চলছে, যার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। এটি দূর করতে হলে মুদ্রাবাজার সংস্কার করতে হবে। গত ১০-১২ বছরে মুদ্রাবাজারে কোনো সংস্কার হয়নি। কোনো সমস্যা হলেই সার্কুলার জারি করছে। বছরের পর বছর সার্কুলার দিয়ে চলেছে। এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাই মুদ্রাবাজার সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রতি আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। কারণ আমানত না বাড়াতে পারলে ব্যাংকের তারল্য সংকট দূর হবে না বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপোর আওতায় প্রাপ্ত তহবিল ব্যাংকটি নিজে সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পাশাপাশি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দেবে। এজন্য ব্যাংক ও তাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সিটি ব্রোকারেজের নামে দুটি পৃথক বিও অ্যাকাউন্টও খুলেছে।

এর আগে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে রেপোর আওতায় ব্যাংকগুলোকে তহবিল সুবিধা দিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়, সার্কুলার জারির তারিখ থেকে আগামী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়।

সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সরকারকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে ধারণ করা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে রেপোর মাধ্যমে তহবিল নিতে পারবে। ওই তহবিল ব্যাংক নিজে বিনিয়োগের পাশাপাশি তার সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে ঋণ দিতে পারবে।

এই তারল্য যাতে পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ হয়, সেজন্য ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারিকে পৃথক বিও হিসেব খুলতে হবে। ব্যাংকসমূহের অতিরিক্ত তারল্য হতে ট্রেজারি বন্ড বা বিল রেপোর মাধ্যমে এই তারল্য সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন রেখে তারল্য সুবিধা নিতে পারবে ব্যাংক। এর অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তার অতিরিক্ত ট্রেজারি বন্ড ও বিলের বাজার মূল্যের ৯৫ শতাংশ অর্থ রেপোর আওতায় নিতে পারবে। আর এ তহবিলের অর্থ ব্যাংকগুলো ২৮ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৮৫ শতাংশই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে আছে। এই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে রাখা অর্থের একটা অংশ বিকল্পভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে এ সার্কুলার জারি করা হয়।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত নিলে সাড়ে ৮১ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। বাকি সাড়ে ১৮ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। মূলত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এমন বিধান রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। সাড়ে ১৮ টাকার মধ্যে সাড়ে ৫ টাকা নগদে সংরক্ষণ করতে হয়। যাকে ব্যাংকিং ভাষায় সিআরআর বা নগদ জমার হার বলে। বাকি ১৩ টাকা সম্পদ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। আর এটাকে ব্যাংকিং ভাষায় এসএলআর বলে। এ সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ২ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি

 

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি পাঁচ ব্যাংকের কাছে দুই হাজার কোটি টাকা চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন বাংলাদেশ (আইসিবি)। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সরকারি পাঁচ ব্যাংকের কাছে ২০০ কোটি করে মোট এক হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরও এক হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো এ টাকা দিলে আমরা তা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে।

 

২০০ কোটি টাকা করে যে পাঁচ ব্যাংকের কাছে অর্থ চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বিডিবিএল। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আইসিবি মেয়াদি আমনত হিসেবে এ টাকা নিতে চায়।

এদিকে পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে সম্প্রতি বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও টানা দরপতন চলছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছি লেনদেন খরা। ফলে প্রতিনিয়ত বিনয়োগ করা পুঁজি হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও তারল্য সংকের কারণে বাজারে এমন দুরবস্থা বিরাজ করছে। বাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়ানো গেলে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

এর আগে, পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে অর্থ সরবারহের বিষয়ে বংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনের পর বাজারে সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে সপ্তাহ না ঘুরতেই আবার পতনের মধ্যে ফিরে যায় পুঁজিবাজর। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া প্রতিটি কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে।

 

এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের জন্য সরকারি ব্যাংকের কাছে আইসিবির টাকা চাওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজর সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আইসিবি টাকা পেল এবং সেই টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে বাজারে তারল্য বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে।

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ডিবিএ) সভাপতি মো. শাকিল রিজভী বলেন, আইসিবির টাকা চাওয়ার বিষয়টি ভালো সংবাদ। দুই হাজার কোটি টাকা কম না। এ টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হলে কিছুটা হলেও তারল্য বাড়াবে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বড়বে। তবে আইসিবিকে অবশ্যই ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে হবে।

 

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, আইসিবি টাকা পেলে এবং সেই টাকা সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করলে বাজারের জন্য ভালো। কিন্তু আইসিবি যদি টাকা পাওয়ার পর সেই টাকা আইপিও অথবা প্লেসমেন্টে বিনিয়োগ করে তাবে তা বাজারের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। তাই আইসিবি যাতে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

 

ডিএসইর ওই সদস্য আরও বলেন, এর আগেও আইসিবি বাজারে বিনিয়োগের জন্য তহবিল পেয়েছে। কিন্তু আমাদের ধারণা, সেই টাকা সঠিকভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হয়নি। যে কারণে বাজারের সমস্যাও কাটেনি। তবে আশার কথা, সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়েছেন, আইসিবিকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে। এটা যদি সত্য হয় তাহলে আশা করা যায় সামনে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে “ভি-নেক্সট” আনল ডিএসই

 

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে 'ভি-নেক্সট' নামে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম চালু করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

সোমবার রাতে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন এর উদ্বোধন করেন।

“ভি-নেক্সট” অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি কোম্পানি ও প্রকল্পগুলোর সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের বিনিয়োকারীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হবে।

 

ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মিলিত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ডিএসইর কৌশলগত চুক্তির আওতায় ইস্যুয়ার ও যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি অনলাইন প্লাটফর্ম হচ্ছে “ভি-নেক্সট” প্লাটফর্ম।

 

বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানি বা প্রকল্পের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৩৯টি দেশের বিনিয়োগকারীরা ভি-নেক্সট প্লাটফর্মে নিবন্ধিত হয়েছেন।

এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত কোম্পানির পাশাপাশি অতালিকাভুক্ত কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করতে পারবেন।

 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএফপি-বি প্রোগ্রামের টিম লিডার ফয়সাল হোসাইন,

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মতিন পাটোয়ারী, ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ

ডিএসই থেকে রাজস্ব বাড়ল ৭ কোটি টাকা

 

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকারও বেশি। এর আগের মাসে ছিল ঠিক উল্টো চিত্র। সে মাস অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় আগস্ট মাসে সরকারের রাজস্ব আয় কমেছিল প্রায় ৭ কোটি টাকা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদায়ী মাসে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগের ফলে কয়েকদিন সূচকের উত্থান হয়েছে। ফলে আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে লেনদেন বেড়েছে।

 

আর তাতে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। তবে সরকার এ খাত থেকে আরও বেশি রাজস্ব পেত বলে মনে করেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে মন্দা অব্যাহত থাকায় লেনদেনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ে এ ভাটা পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্রোকারেজ হাউজগুলো বন্ধ করে দিতে হবে।

 

ডিএসইর তথ্য মতে, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনা-বেচা বাবদ লেনদেন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৯ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

এর আগের মাস আগস্টে এখান থেকে সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছিল ৮ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩৯ টাকা। আর সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ১৬ হাজার ২৭০ কোটি টাকা।

জুলাইয়ে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৫ টাকা। অর্থাৎ জুলাই থেকে আগস্টে সরকার ১১ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২১৬ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।

 

দুই ধরনের লেনদেনের মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজের বিনিয়োগকারীদের লেনদেন থেকে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। অন্যদিকে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ কোটি ১৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৭২ টাকা। সব মিলে ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এর আগের মাসে দুই ধরনের লেনদেনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন থেকে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৭১ হাজার ৮৭৪ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছিল। অন্যদিকে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছিল ৯২ লাখ ৯১ হাজার ৭৬৫ টাকা। সব মিলে ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ

সপ্তাহজুড়ে বোর্ড সভার ঘোষণা দিয়েছে যে ৭ কোম্পানি

 

সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত৭ কোম্পানি পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিগুলোর সভায় ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত এবং ৩১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সমাপ্ত সময়ের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকাশ করা হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বস্ত্র খাতের এনভয় টেক্সটাইলের বোর্ড সভা ১২ অক্টোবর, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

 

ওষুধ ও রসায়ন খাতের সিলভা ফার্মাসিটিক্যালসে বোর্ড সভা ১৬ অক্টোবর, বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

বস্ত্র খাতের ফারইস্ট নিটিংয়ের বোর্ড সভা ১০ অক্টোবর, বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

বীমা খাতের সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ১২ অক্টোবর, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সমাপ্ত সময়ের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকাশ করা হবে।

 

ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের বোর্ড সভা ৯ অক্টোবর, বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

টেলিযোগাযোগ খাতের বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের বোর্ড সভা ১০ অক্টোবর, বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

 

প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ ল্যাম্পস লিমিটেডের বোর্ড সভা ৯ অক্টোবর, বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ

স্টক এক্সচেঞ্জে যোগ্য লোক নেই- হেলাল উদ্দিন নিজামী

স্টক এক্সচেঞ্জ খুঁড়িয়ে চলছে। এখানে যোগ্য লোক নেই। স্টক এক্সচেঞ্জে করপোরেট গভর্ন্যান্স ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সেটি দেখার সময় এসেছে।

কমিশনের সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জ তাল মেলাতে পারছে না।

 

বাজারের প্রতি স্টেকহোল্ডারদের যে দায়িত্ব রয়েছে সেটি ঠিকমতো পরিপালন করা হচ্ছে না।

কমিশনকে শুধু সূচক উঠা-নামার মধ্য‌ে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী।

শনিবার (০৫ অক্টোবর) রাজধানীতে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির কমপ্লায়েন্স অফিসারদের নিয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) “করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড” সংক্রান্ত আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেন, শেয়ারের দর কেন বাড়ে বা কেন কমে এগুলো দেখার দায়িত্ব কি কমিশনের? আমাদের সূচকের মধ্য‌ে আটকে রাখা হয়েছে।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যে কাজ করা হয়েছে তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। কমিশনের যে জনবল সংকট রয়েছে তা কেটে যাবে। আজ যারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এবার এজিএম পার্টিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোম্পানি সচিবদের উদ্দেশ্য‌ে বিএসইসির কমিশনার বলেন, কোম্পানি সচিবরা কোম্পানির নয় বরং পরিচালকদের পিএস হিসেবে কাজ করছে। এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ইন্টারেস্ট থাকে না বলে জানান কমপ্লায়েন্স অফিসাররা। যে কারনে তারা শুধুমাত্র বোর্ড মিটিংয়ে আসেন এবং ফি নিয়ে চলে যান। তাই কোম্পানির উন্নয়নে স্বতন্ত্র পরিচালকদের শক্তিশালী করা দরকার বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ

করপোরেট সংস্কৃতি থেকে বের হতে স্বতন্ত্র পরিচালকদেরকে আহ্বান

 

পুঁজিবাজারের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর অর্থাৎ স্বতন্ত্র পরিচালকদের করপোরেট সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদস্য হেলাল উদ্দিন নিজামী।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী ও সরকারের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টরদের রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না। তারা সঠিকভাবে দায়িত্বপালন করতে পারলে কোম্পানিগুলোতেই করপোরেট গভর্ন্যান্স গড়ে উঠবে।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে “দ্যা রুল অব ইন্ডিপেন্ডন্ট ডিরেক্টরস টু প্রটেক্ট দ্যা ইন্টারেস্ট অব মনিটরি শেয়ারহোল্ডারস” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর পর্ষদের ক্ষমতা এখনো পারিবারিক সদস্যদের হাতে রয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকরা এখনো তাদের ক্ষমতা পুরোপুরি আরোপ করতে পারছেন না। বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কেম্পানিগুলোর পর্ষদে মাত্র ২০ শতাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক রয়েছেন। অথচ ভারতসহ সারাবিশ্বে পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা আরও বেশি। ফলে তারা কোম্পানির অডিট রিপোর্টসহ বিভিন্ন বিষয় দেখার কথা থাকলেও দেখতে পারছেন না। বরং অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। কিন্তু তারা কমিশনের সঙ্গে কথাও বলছেন না। আমি আহ্বান জানাচ্ছি, স্বতন্ত্র পরিচালকরা কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। সমস্যাগুলো জানাবেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।

 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি আব্দুল মতিন পাটোয়ারী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, বিএসইসির নির্বাহী সদস্য মো. সাইফুর রহমানসহ বিএসইসি ও ডিএসইর কর্মকর্তারা।

বিএসইসির কমিশনার বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মত অন্তত ৩ হাজার কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাড়ে ৩শ’ কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এখনো কোম্পানিগুলো দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকে যাচ্ছে। ৫ বছর অর্থাৎ দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকে বিনিয়োগ করলেই তা দেশের অর্থনীতির জন্য বিপদজনক ছাড়া কিছু না। এটা পরিহার করতে হবে। দেশি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

 

এছাড়াও ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোকে পরিচালকদের কোটা পরিচালনা করতে হবে। অনেকগুলো কোম্পানির এখনো ওয়েসবাইট নেই, তাদের শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন নিজামী।

অর্থমন্ত্রীর বরাত দিয়ে যা বললেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বরাত দিয়ে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন বলেছেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য যা যা করার দরকার তার সবকিছু করবে সরকার। কয়েক মাসের মধ্যে সরকারি লাভজনক একাধিক ভালো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে।

 

তিনি জানান, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে। মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির সমস্যার সমাধান হবে।

সোমবার বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিএসইসির কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী এবং স্বপন কুমার বালা উপস্থিত ছিলেন।

 

খায়রুল হোসেন বলেন, আমি যখন এখানে বসে ছিলাম তখন অর্থমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন- বাজার উন্নয়নের জন্য যা যা করতে হয় আমরা সবপ্রকার চেষ্টা করবো। আপনি যেহেতু একটি ফাংশনের মধ্যে আছেন সবাইকে জানিয়ে দেন। বাজারে ইনডেক্স (সূচক) শুধু পজেটিভ হলে হবে না। বাজারের টার্নওভার (লেনদেন) যেন অনেক বড় হয়, সবার ভেতরে যেন একটা আস্থার সৃষ্টি হয়, আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়েছি।

 

তিনি বলেন, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের যে ভূমিকা..., আইসিবির বন্ডের ২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেখা গেল বিনিয়োগকারীদের যে টাকা দেয়ার কথা তার ৫০ শতাংশ দিয়েছে, বাকি ৫০ শাতংশ ডিবেঞ্চারে লোন হিসেবে দিয়েছে। আমরা তাদের জবাবদিহির আওতায় আনবো। ফান্ড জমা হবে। সেই ফান্ড বাজারকে সাপোর্ট না দিয়ে, অন্য গার্মেন্টস কোম্পানিকে দেবেন- এগুলো করা যাবে না। বিডিবিএলের (বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড) মাধ্যমে কীভাবে বাজারকে সচল রাখা যায়, সে ব্যবস্থা আমরা করবো।

 

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন- বীমার থেকে সরকারি লাভজনক কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সেই লাভজনক কোম্পানি শিগগির আপনারা দেখতে পাবেন। কয়েক মাসের মধ্যে দুই-একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসবে।

মোবাইল অপারেটর রবির বিষয়েও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে খায়রুল বলেন, রবি ও গ্রামীণফোনের যে সমস্যা তার সমাধান হয়ে যাবে। রবি আমাদের সঙ্গে বসেছে। প্রথমে ওরা বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে চেয়েছিল। আমরা বলেছি, ফেস ভ্যালুতে আসতে। কারণ, বাজারে যদি আপনি ফেস ভ্যালুতে না আসেন, তাহলে বিনিয়োগকারী কিছুই পাবে না। আপনাদের ব্যালেন্স সিট এখনও ওতো শক্তিশালী নয়। ওরা এতেও রাজি হয়েছে।

আগামী বছরের জুনের আগেই শেয়ারবাজরে অনেকগুলো নতুন নতুন পণ্য আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে যখন বিনিয়োগকারীর অল্টারনেটিভ চয়েজ বেড়ে যাবে, তখন বিনিয়োগকারীর লসের মাত্রা কমে যাবে। বাজারের গভিরতা বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়বে। আমরা সেই দিনের প্রতিজ্ঞা করছি। আশা করি, আগামী জুনের আগেই অনেক নতুন প্রোডাক্ট আমরা বাজারে দেখতে পারবো।

 

বিনিয়োগ শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, টেকনিক্যাল এনালাইসিসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা এসেছে। কয়েক বছর আগে আমাদের দেশে যে টেকনিক্যাল এনালাইসিস করা হতো, আপনি আমেরিকাতে যান, দেখবেন ধরণ ও সফটওয়্যারে ভিন্নতা এসেছে। তাই প্রত্যেকটি সময়ে বিনিয়োগ শিক্ষা ছাড়া উপায় নেই।

 

 

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ

অনলাইনে জানানো যাবে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অভিযোগ

পুঁজিবাজারে বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে অনলাইন মডিউল চালু করেছে

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সোমবার বিএসইসি কার্যালয়ে এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

এসময় বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী, ড. স্বপন কুমার বালা,

নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আল, ফরহাদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

কাস্টমার কমপ্লেইন্ট অ্যাড্রেস মডিউল (সিসিএএম) নামে তৈরি করা এই সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।

এর ফলে বিনিয়োগকারীরা বিএসইসির ওয়েবসাইটের এই উইন্ডোতে প্রবেশ করে সহজেই অনলাইনে ফরম পূরণের মাধ্যমে যেকোনো অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ

পুঁজিবাজার চাঙ্গায় তৎপর সরকার: আসছে আরও ছাড়

পতনে ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজার ভালো করতে তৎপর হয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বাজারের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুঁজিবাজার ভালো করতে বিভিন্ন খাতে আরও ছাড় দেয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদে ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে মহাধস ঘটে। এর আগে ১৯৯৬ সালের ধসের সময়ও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। যে কারণে আবার যাতে বাজারে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সরকার খুবই তৎপর। যেকোনো উপায়ে সরকার পুঁজিবাজার ভালো করতে চায়।

 

এরই অংশ হিসেবে সরকারের ওপর মহলের নির্দেশে সম্প্রতি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক এ বাজার শক্তিশালী করতেই হবে।

অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের পর ওপর মহলের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকের ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) বড়ানো হয়। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব পোর্টফোলিওতে সরাসরি বিনিয়োগ অথবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে অর্থ সরবারহের সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিরও আভাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

 

পুঁজিবাজার ভালো করতে সাম্প্রতিক সময়ে নেয়া এসব পদক্ষেপে সুফলও মিলতে শুরু করেছে। পতন কাটিয়ে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে পুঁজিবাজার। বেড়েছে লেনদেনের গতি। বাজার মূলধনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত সপ্তাহে দুই কার্যদিবস বড় উত্থানের দেখা মিলেছে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার ওপরে। প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে ১১২ পয়েন্টের ওপরে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার যে বাজার ভালো করতে খুবই তৎপর তা সাম্প্রতিক সময়ের পদক্ষেপগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নেয়া পদক্ষেপগুলোর কারণে বাজারে তারল্য বাড়বে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিক পুঁজিবাজারে। তবে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ এমন পরিস্থিতিতে কারসাজি চক্র মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা চালাবে। সে কারণে বিনিয়োগকারীদের দুর্বল কোম্পানি পরিহার করে মৌলভিত্তি-সম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে হবে।

 

এ প্রসঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, সম্প্রতি পুঁজিবাজার ভালো করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকের এডিআর বাড়ানো এবং রেপোর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়বে। এতে বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার ভালো করতে ব্যাংক থেকে যে হারে অর্থছাড় দেয়া হচ্ছে তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা ভেবে দেখা উচিত। কারণ ব্যাংকগুলো এখন এমনিতেই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকের টাকা পুঁজিবাজারে নিয়ে গেলে ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়বে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক খাতে সংকট বাড়তে পারে। তাই এডিআর বাড়িয়ে এবং রেপোর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ করে সাময়িক সংকট কাটানো গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদের জন্য ভালো হবে না।

বখতিয়ার হাসান বলেন, পুঁজিবাজারে বর্তমানে যে সংকট তার মূল কারণ ভালো কোম্পানি না আসা। সম্প্রাতিক সময়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে তার বেশির ভাগেরই অবস্থা ভালো না। কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে গেছে। আবার উচ্চ প্রিমিয়াম নেয়া অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের নিচে। তাই বাজার ভালো করতে দুর্বল কোম্পানি বাদ দিয়ে ভালো ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে বকেয়া পাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে গ্রামীণফোনের বিরোধ দেখা দেয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারের ধরাবাহিক দরপতন হয়। এতে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম সম্মিলিতভাবে কমে যায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকার ও কোম্পানির দ্বন্দ্বে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। টাকার অংকে যা ১৫ হাজার কোটি।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল ফলিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিজের কক্ষে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করে অর্থমন্ত্রী বলন, গ্রামীণফোন একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, তারা তাদের কথা বলছে। আমরা আমাদের দাবি করেছি। আমরা যদি বিরোধে জড়িয়ে থাকি তবে অনেক সময় চলে যাবে। এটা তাদের ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আমাদের রাজস্ব প্রবৃদ্ধিকেও বাধাগ্রস্ত করবে। আমরা কয়েক দিন থেকেই আলাপ-আলোচনা করছিলাম। তাদের সঙ্গে একটা সমাধানে আসা উচিত। সমাধানটি একটি
উইন উইন সিচুয়েশন’ থেকে হবে। আমরাও হারব না তারাও হারবে না।

 

অর্থমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পরের কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে বড় ধরনের উত্থান হয়। এটি পরবর্তীতেও অব্যাহত থাকে। ফলে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পর ছয় কার্যদিবসে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম সম্মিলিতভাবে বেড়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা।

ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, আমি আশা করি সম্প্রতি যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে।পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে। তবে এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে আইপিও ও প্লেসমেন্ট শেয়ারের বিষয়ে যেসব পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে তাও বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে কারসাজির বিরুদ্ধে বিএসইসি সম্প্রতি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাও চলমান রাখতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারল্য ও আস্থা বাড়লে অবশ্যই পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে। তবে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে। হুজুগে পড়ে যেনতেন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। দাম বাড়ছে দেখে লোভে পড়ে দুর্বল “জেড” গ্রুপের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যাবে না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো ভালো কোম্পানি বাছাই করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা সচেতন না হলে বাজার শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে না।

 

ডিএসইর অপর এক সদস্য বলেন, গ্রামীণফোন নিয়ে সরকার অকারণে জলঘোলা করেছে। গ্রামীণফোনের সঙ্গে সরকারের বিরোধের কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কারণ গ্রামীণফোন পুঁজিবাজারের সব থেকে বড় মূলধনের কোম্পানি। এর শেয়ারের মূল্য উঠা-নামা সূচকের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

“গ্রামীণফোনর কাছ থেকে বকেয়া পাওনা আদায়ে সরকার যত কড়া হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম তত কমেছে। ফলে সার্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এখন আলোচনার মাধ্যমে গ্রামীণফোনের কাছ থেকে পাওনা আদায় করা হবে অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক পুঁজিবাজারে। সরকারের উচিত ছিল আরও আগে এমন পদক্ষেপ নেয়া’- মন্তব্য করেন ডিএসইর ওই সদস্য।

 

 

 

 

শেয়ারনিউজ